-
তবে কী লাভ?
চোখের পলকেই বয়স ফুরিয়ে যায়।
একদিন হঠাৎ আয়নায় তাকিয়ে বুঝতে পারি—যে মানুষটা এতদিন ভবিষ্যতের জন্য দৌড়াচ্ছিল, তার বর্তমানটা কোথায় যেন হারিয়ে গেছে।
জীবন আসলে খুব ছোট। অথচ আমরা এমনভাবে বাঁচি, যেন আমাদের হাতে অসীম সময় আছে। আজ যা বলতে পারতাম, কাল বলব। আজ যা করতে পারতাম, একদিন করব। আজ যার পাশে দাঁড়াতে পারতাম, পরে দাঁড়াব। কিন্তু জীবন অপেক্ষা করতে জানে না। সময় কারও জন্য থেমে থাকে না।
তাই প্রশ্ন জাগে—
যদি নিজের জন্য একটু সময় বের করতেও অন্যের অনুমতির প্রয়োজন হয়, তবে সেই জীবনেরই বা কী লাভ?
যদি প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভাবতে হয়—”মানুষ কী বলবে?”, তবে আমরা কি সত্যিই নিজের জীবন বাঁচছি, নাকি অন্যের চোখে গ্রহণযোগ্য একটি চরিত্র অভিনয় করছি?
সবচেয়ে কঠিন কারাগার লোহার তৈরি নয়; মানুষের ভয়, সংকোচ আর অন্যের মতামতের ভেতরেই সেই কারাগার তৈরি হয়।
যদি প্রতিদিন শুধু দায়িত্ব পালন করতে করতে একদিন নিজের স্বপ্নের মুখটাই ভুলে যাই, তবে এত ব্যস্ততারই বা কী অর্থ?
সেই স্বপ্নেরই বা কী মূল্য, যা সকালে ঘুম ভাঙার পর আমাদের উঠে দাঁড়াতে শেখায় না?
স্বপ্ন শুধু চোখে দেখার জন্য নয়। স্বপ্ন এমন হওয়া উচিত, যা ক্লান্ত শরীরেও নতুন শক্তি এনে দেয়।
যে স্বপ্ন মানুষকে বদলে দেয় না, সে শুধু কল্পনা; জীবন বদলানোর নামই স্বপ্ন।
অর্থ দরকার। সম্মানও দরকার। কিন্তু যদি সেই অর্থের জন্য নিজের শান্তি বিক্রি করে দিতে হয়, যদি সেই সম্মানের জন্য নিজের সত্যিকারের মুখ লুকিয়ে রাখতে হয়, তবে সেই অর্জনেরই বা কী লাভ?
কারণ—
অর্থ দিয়ে বাড়ি কেনা যায়, কিন্তু ঘর নয়।
দামি বিছানা কেনা যায়, কিন্তু নিশ্চিন্ত ঘুম নয়।
হাজার পরিচিত মানুষ পাওয়া যায়, কিন্তু একজন আপন মানুষ কেনা যায় না।যে ছাদের নিচে প্রতিদিন ভয় নিয়ে বাঁচতে হয়, সেখানে দেয়াল আছে, ঘর নেই।
যে সম্পর্কে নিজের কান্না লুকিয়ে রাখতে হয়, সেখানে পরিচয় আছে, ভালোবাসা নেই।
যেখানে নিজেকে ছোট করে রাখতে হয়, সেখানে বেশিদিন থাকা মানে ধীরে ধীরে নিজের অস্তিত্বকে হারিয়ে ফেলা।
মানুষের জীবনে সবচেয়ে বড় ক্ষতি টাকা হারানো নয়।
সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো—নিজেকে হারিয়ে ফেলা।
এমন অনেক মানুষ আছে, যাদের সব আছে, তবুও তারা সুখী নয়।
আবার এমন মানুষও আছে, যাদের খুব বেশি কিছু নেই, কিন্তু তারা শান্তিতে ঘুমায়।
পার্থক্যটা সম্পদে নয়, পার্থক্যটা জীবনের অর্থ খুঁজে পাওয়ায়।
সুখ কোনো গন্তব্য নয়; সুখ হলো এমন একটি জীবন, যেখানে নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয় না।
আমরা প্রায়ই ভবিষ্যতের জন্য এত বেশি বাঁচি যে বর্তমানকে হারিয়ে ফেলি।
একদিন যখন ফিরে তাকাই, তখন দেখি—
অনেক টাকা জমেছে,
অনেক পরিচয় হয়েছে,
অনেক কাজ করেছি,
কিন্তু নিজের জন্য বাঁচা হয়নি।তখন প্রশ্ন আসে—
এত কিছুর পরও যদি মনে হয়, “আমি তো সত্যিকারের জীবনই বাঁচিনি”, তবে এত অর্জনেরই বা কী লাভ?
শেষ পর্যন্ত মানুষ তার ব্যাংক ব্যালেন্স নিয়ে পৃথিবী ছেড়ে যায় না।
সে রেখে যায় কিছু স্মৃতি, কিছু ব্যবহার, কিছু ভালোবাসা, আর কিছু অপূর্ণতা।
তাই এমন জীবন বেছে নাও, যেখানে সফল হওয়ার আগে মানুষ হওয়া যায়।
এমন সম্পর্ক গড়ো, যেখানে দুর্বল হওয়াও নিরাপদ।
এমন স্বপ্ন দেখো, যা শুধু তোমাকে নয়, তোমার চারপাশের মানুষকেও আলো দেয়।
আর এমনভাবে বাঁচো, যেন একদিন জীবন শেষ হওয়ার আগে অন্তত নিজের কাছে বলতে পারো—
“আমি সবার মতো বাঁচিনি, আমি আমার মতো বেঁচেছি।”
কারণ শেষ পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হবে না—
“তুমি কত বছর বেঁচেছিলে?”
প্রশ্ন হবে—
“যে বছরগুলো বেঁচেছিলে, সেগুলো কি সত্যিই তোমার নিজের ছিল?”
✍🏻 রুবেল রানা (সনেট)
২৪ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার#Rubelranasonet
#রুবেল_রানা_সনেট2 Comments
শূন্যতা থেকে যার যাত্রা শুরু,তার সমাপনীও শূন্যতাই, তবু বস্তু মোহে অভ্যস্ত মন শুধুই শূন্যতাই ভয় পাই
রুবেল রানা সনেট

Md Rubel Rana
জীবনকে বোঝার চেষ্টা, মানুষকে পড়ার চেষ্টা, আর শব্দের ভেতর সত্য খোঁজার এক অবিরাম যাত্রা।
রুবেল রানা সনেট
আমি রুবেল রানা সনেট। কুষ্টিয়া সদর, বড় আইলচারা গ্রামে জন্ম।
আমি লিখি মানুষ, ভালোবাসা, বিচ্ছেদ, একাকিত্ব ও অস্তিত্বের সেইসব প্রশ্ন নিয়ে—যেগুলোর উত্তর খুঁজতে গিয়ে মানুষ কখনো নিজের কাছেই ফিরে আসে।
আমার কাছে লেখা শুধু শব্দ নয়;
এটি নিজের ভেতরের অন্ধকারকে চিনে নেওয়ার একটি চেষ্টা।
— রুবেল রানা সনেট
Friends
সোনাই এ আই
@sonai_ai
Abul Hasan Tuhen
@abulhasantuhen
Diponkor Sharma Partho
@parthodip218
Ashaduzzaman-Khokon
@ashaduzzaman-khokon
শরীফ খান
@sharifkhan
identity client service
@identityclientservice
Md shohag rana
@shohag9011
BONI AMIN
@boniamin
রিফায়াত নিগার
@refayat-nigar

লেখাটা পড়তে পড়তে থেমে যেতে হলো কয়েকবার, প্রতিটি কথা ভীষণ সত্যি আর একদম বুকের ভেতর গিয়ে লাগলো!