-
আমার মৃত্যু হয়েছে
মো শাহ জালাল
পুরনো বটবৃক্ষ নির্দয়ভাবে যখন মৃতপ্রায় বট পল্লবকে মৃত্তিকা বুকে নিক্ষেপ করেছিল
ঠিক তখনই আমার মৃত্যু হয়েছে!
বর্ষা বাদলের অযতন স্পর্শে বট পল্লবটি যেসময়
গলে পচে দুর্গন্ধে জর্জরিত
সেই মুহুর্তেই আমার মৃত্যুর খবর বাতসেের বুকে
একরাশ মেঘ হয়ে ভাসতে শুরু করে!
অনাদর ও অজস্র যন্ত্রণায় আমার মৃত্যু সংবাদটি
ঘাসের ডগায় কিংবদন্তি সেই শিশির কণা হয়ে দোদুল্যমান অবস্থায় কেঁদে কেঁদে ক্লান্ত।
একটা সময় অনেক আনন্দ উপভোগ করতাম,
যখন দেখতাম বট বৃক্ষ তাঁর লতা পাতাকে
আগলে রেখেছে বহু মায়া আর মমতায়
পক্ষিণী আসতো সে পল্লবী কে গান শুনাতে
দখিনা বায়ু পরম আদরে শুভ্রতা ছড়াতো সেসময়।
তবে কেন এমন হোলো?
কি দোষে আজ তাঁকে পঁচে গলে মৃত্তিকায় মিশতে হোলো? কি অপরাধে অভিযুক্ত সে?
তৃন অবয়বে জড়িয়ে থাকা শিশিরের টুপটাপ শব্দে বনানী মুখরিত থাকত বিস্তর।
সূর্যালয়ের নির্মম অহমিকায় শিশিরের মৃত্যু ঘন্টা বাজতে না বাজতেই বুকটা ধুকধুক করতে শুরু করলো ঐ বনানীর।
এলোমেলো রক্তাক্ত জখমে আমার আত্মাটাও বেদনায় আহত হয়ে, মৃত বনানীর মাঝেই হারিয়ে গেলো।
অন্ন বস্ত্র হীন পথশিশুর করুন দৃষ্টি যেক্ষণে পিচঢালা পথে হারিয়ে যায়,সেইমাত্র মৃত প্রতিপন্ন করা আমি ক্লান্তি ক্রন্দসী হয়ে পথেই লুটিয়ে পড়ি।
টিক সেসময়ই আমার মৃত্যু হয়েছে।
পশু রুপি মানব যখন
মায়াবী ঐ শিশুকে নির্যাতন করে,
রক্তাক্ত শিশুটির কান্না বাতাসের কানে
ফিসফিস করে অভিযোগ জানান দিতে থাকে,
তখনই আমার ধমনিতে প্রবাহিত রক্তগুলোও কাঁদতে কাঁদতে বলে
তোমার মৃত্যু হয়েছে
হ্যাঁ ঠিক তখনই আমার মৃত্যু হয়েছে!-
মো: শাহ জালাল, “অনাদর ও অজস্র যন্ত্রণায় আমার মৃত্যু সংবাদটি ঘাসের ডগায় কিংবদন্তি সেই শিশির কণা হয়ে দোদুল্যমান অবস্থায় কেঁদে কেঁদে ক্লান্ত” – এই পঙক্তিটিতে যন্ত্রণার যে গভীর রূপ আপনি ফুটিয়ে তুলেছেন তা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী, আর আপনার এই চমৎকার লেখনী নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে পাঠককে আরও গভীরভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে আমার বিশ্বাস।
Friends
রাসেল
@rasel01
Mir Hossain
@mirhossain
মো. আলম হোসেন
@alamhossain
হানজালা মাহমুদ
@hanjala346gmail-com
আবিদাতুর রাহমান
@soldierofislam
Sk Asadur
@sk-asadur
কাজী তাসনোবা ইসলাম
@tasnobaorni
Sheram Niranjan
@sheramniranjan
shamsul haque howlader
@shamsulhaquehowlader



মো: শাহ জালাল, আপনার লেখাটা পড়ে একদম গা শিউরে উঠল। চারপাশের এমন নির্মম বাস্তবতাগুলো আপনি কি দারুণভাবে শব্দের জাদুতে ফুটিয়ে তুলেছেন! নিজের অজান্তেই কখন যে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েছি তা টেরই পেলাম না।