-
লাইব্রেরির বারান্দায় অপরিচিত পুরুষটিকে দেখে ইন্তিহা যেন এক মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল। এমন বৃষ্টির মধ্যে এই অচেনা পুরুষ এখানে কেন, সেটা বুঝে উঠতে পারছে না সে…। ইন্তিহার থেকে কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে থাকা মানব এবার সরাসরি তাকাল ওর চোখের দিকে। আর এতেই ওর শরীরের রক্তপ্রবাহে যেন আচমকা এক বিদ্যুৎ তরঙ্গ খেলে গেল। পুরুষ মানুষ যে এতটা সুন্দর হয়, সেটা ওর কল্পনাতেও ছিল না। পুরুষটি এবার তার বড় বড় চুলগুলো থেকে বৃষ্টির পানি ঝাড়তে লাগল। ইন্তিহা যেন রোবটের মতো স্তব্ধ হয়ে দেখতে লাগল সেই মোহনীয় দৃশ্য। কিছুক্ষণ পর পুরুষটি এগিয়ে এল কয়েক পা। একটা নীল রঙের নোটবুক রাখল পাশে থাকা টেবিলের ওপর। শেষ একবার চাইল ইন্তিহার পানে। তারপর নিঃশব্দে, একদম কোনো বাক্যালাপ ছাড়াই ত্যাগ করল লাইব্রেরির বারান্দা। লোকটা দূরে একবারে অদৃশ্য হওয়ার আগ পর্যন্ত ইন্তিহা চোখ সরাল না সেদিক থেকে। যেন কোনো অদৃশ্য ঘোরের মধ্যে বন্দি হয়ে গেছে সে।
. . .
“এই নিয়ে ৩৭টা ভালো ভালো প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে তুমি। একদমই অকারণে। বললাম তোমার কোনো পছন্দ থাকলে বলো, আমরা সেখানেই তোমাকে বিয়ে দেব। কিন্তু তুমি তো এমন কিছুও বলছ না। তুমি আসলে কী চাইছ, সেটা একটু স্পষ্ট করে বলবে কি?”
বাবার কথায় ইন্তিহা মাথা নিচু করে চুপ থাকল। যা সে সবসময়ই করে। এই প্রশ্নটাই যেন অবান্তর ওর নিকট। কিন্তু আসিফ সাহেব যেন আজ নাছোড়বান্দা। মেয়ের মুখ থেকে স্পষ্ট কিছু না শুনে থামবেনই না। এমন নয় যে উনারা ওর পছন্দ-অপছন্দকে গুরুত্ব দেন না, বরং ওর পছন্দ অনুযায়ীই হচ্ছে সব। কিন্তু গত ২ বছর ধরে যত প্রস্তাবই আসছে, পাত্রের ছবি দেখার পরই ও না করে দেয়। এমন না যে ছেলেগুলো দেখতে অসুন্দর বা খারাপ, বরং স্বাভাবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে চিন্তা করলে তারা প্রত্যেকেই সুদর্শন বলা যায়। তবুও ইন্তিহার রাজি না হওয়াটা আশ্চর্যের ব্যাপার বৈকি!
“তুমি কি কিছু লুকাচ্ছ আমাদের থেকে? এমন কিছু হয়ে থাকলে নির্দ্বিধায় বলো। আমি কিছুই মনে করব না। তবুও এভাবে চুপ করে থেকো না। কিছু তো বলবে নাকি?”
মায়ের কথাতেও ইন্তিহার মাঝে কোনো হেলদোল দেখা গেল না। মাথা নিচু করেই রইল সে। এদিকে আসিফ সাহেব এবার আর নিজেকে সংযত রাখতে পারলেন না। খুব ঠান্ডা স্বরে বললেন,
“আগামীকাল পাত্রপক্ষ তোমাকে দেখতে আসবে। এরপর আমি আর কোনো কথা শুনতে চাচ্ছি না। বি প্রিপেয়ার্ড।”
অতঃপর নিঃশব্দে ঘর ত্যাগ করলেন তিনি। আমেনা বেগমও স্বামীর পিছু পিছু চলে গেলেন বাইরে। এদিকে তারা যাওয়ার সাথে সাথেই ইন্তিহার গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ল এক ফোঁটা অশ্রুবিন্দু। নত মস্তকে ক্রন্দনরত রমণীর আর বলা হলো না, “বাবা, আমি উনি বাদে ভিন্ন কারও সামনে যেতে পারব না।” বলা হলো না, “৫ বছর আগে কোনো এক শ্রাবণের রাতে তাকে আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম। শুধু একটা স্বপ্নের জের ধরেই আমি তার জন্য অপেক্ষার জাল বুনে যাচ্ছি।” বলা হলো না যে, “তোমার মেয়ে খুব বোকা, জানো? স্বপ্নে দেখা এক পাষাণ পুরুষের জন্য সে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছে। তোমাদের অবাধ্য হয়েছে।” কিছুই বলা হলো না। শুধু নিঃশব্দ রাতগুলো তার এমন বিরহের সাক্ষী রইল। আর কিছু ডায়েরির পাতা। ইন্তিহা চোখ মুছে উঠে ড্রয়ার থেকে ডায়েরিটা বের করল। নীল রঙের একটা ডায়েরি, ওপরে একটা গোলাপি লাভ আঁকা। ডায়েরির পাতা উল্টে ২৮ নম্বর পেজে এসে ওর হাত থেমে গেল। আজ থেকে প্রায় ৫ বছর আগেরই এই লেখাটি। কোনায় সেদিনের তারিখটি জ্বলজ্বল করছে।
১৪ই জুন, ২০২৩
“আজকে একটা অদ্ভুত ধরনের স্বপ্ন দেখেছি। ঠিক অদ্ভুত বললে ভুল হবে, খুব ভয়ংকর ধরনের। লোকটাকে লাইব্রেরির বারান্দায় প্রথমবার আমার দিকে তাকাতে দেখে স্বপ্নের মধ্যেই যেন আমার বুকের মাঝে ধক্ করে উঠল। এত হৃদয়কাড়া সুপুরুষ আমি প্রথমবার দেখেছি। আর উনার চাহনি, আমি ভুলতে পারছি না কিছুতেই। তবে নীল নোটবুকটা খুঁজতে আমি খুব সকালেই গিয়েছিলাম লাইব্রেরিতে। কিন্তু পাইনি কিছুই। খুব করে খুঁজেছি, তবুও কিছু পাইনি। আমার মনে হচ্ছে তিনি আমাকে কিছু একটা জানাতে চান। নইলে চেনা নেই জানা নেই, এই অপরিচিত পুরুষকে স্বপ্নে কেন দেখব আমি!”
এর পরের অনেকগুলো পেজ ফাঁকা। আরেকটা পেজে তারিখ দেওয়া:
১৯ই জুলাই,২০২৩
“আমি বোধহয় উনাকে হৃদয় দিয়ে ফেলেছি! নইলে এখনো ভুলতে পারছি না কেন তাকে? সেদিনের পর তো আর স্বপ্নেও আসেন না তিনি। তবুও তার কথা মনে কেন পড়বে? আচ্ছা, আমি কি তবে প্রেমে পড়লাম? কি আশ্চর্য! এই অচেনা এক পুরুষের প্রেমে পড়লাম আমি! যার বাস্তব অস্তিত্বও আমি জানি না?”
৮ই সেপ্টেম্বর ২০২৩
“আমি আজকেও উনাকে স্বপ্নে দেখেছি! তবে তিনি আজ আমার সামনে আসেননি। লাইব্রেরির ভেতরে আমার থেকে উল্টো দিকে ফিরে বই পড়ছিলেন উনি। মুখ না দেখলেও বলে দিতে পারি উনি সেই পুরুষটিই। উনার হাতের উল্টো পিঠে একটা কাটা দাগ আছে, যেটা আমি সেদিনও খেয়াল করেছিলাম। আমি একদমই ভাবিনি তাকে আবারও দেখতে পাব। আমি আজকে খুব খুব হ্যাপি।”
ঠাস করে ডায়েরিটা বন্ধ করে ফেলল ইন্তিহা। ডায়েরিটা নিয়ে বারান্দায় গেল। সাথে টেবিলের ওপর থেকে ম্যাচবক্সটা নিতে ভুলল না!
. . .
সকাল থেকে বাড়িতে কাজের তোড়জোড় চলছে। কেউ ঘরদোর গোছাচ্ছে, কেউ উঠোন ঝাড় দিচ্ছে। এদিকে রান্নাঘরে চলছে বাহারি পদের রান্নার আয়োজন। ইন্তিহা সবার অগোচরে চুপিচুপি লাইব্রেরিতে গেল একবার। গত ৫ বছরে কারণে-অকারণে লাইব্রেরিতে ইন্তিহার আসা-যাওয়া আশ্চর্যজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাসার সবাই এই নিয়ে আলোচনা কম করেনি। ইন্তিহা সবসময় বলে এসেছে যে ও বই পড়া শুরু করেছে, তাই। কিন্তু যেই মেয়ে পড়াশোনার কথা শুনলেই জ্বর আসে, সে কিনা লাইব্রেরি থেকে প্রতিদিন বই এনে পড়বে—এ কথাও কি বিশ্বাসযোগ্য!
লাইব্রেরিতে অযথাই কিছুক্ষণ ঘুরেফিরে আসার কথা থাকলেও, সেদিন ঘটল এক আশ্চর্যজনক ঘটনা। স্বপ্নে দেখা সেই টেবিলের ওপর একটা নীল নোটবুক পড়ে রয়েছে। ইন্তিহা যেন নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিল না। ভাবল হয়তো স্বপ্নই দেখছে। তবুও টেবিলের কাছাকাছি গেল সে। নোটবুকটা বেশ পুরোনো ধাঁচের। চারপাশের কিছু অংশ পোড়া, পোকায় খাওয়া। ইন্তিহার হাত কাঁপছিল নোটবুকটা নিতে গিয়ে। সেটা হাতে নিয়ে উল্টানোর সাহস পেল না আর। তবে কেউ দেখার আগেই সেটা ওড়নার নিচে লুকিয়ে ত্যাগ করল লাইব্রেরির বারান্দা।
নিজের ঘরে এসে দরজা বন্ধ করে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস নিল সে। অতঃপর ওড়নার নিচ থেকে বের করল অতি কাঙ্ক্ষিত নোটবুকখানা। উত্তেজনায় হাত-পা কাঁপছে তার। অন্য কিছুর দিকে তাকানোর যেন ফুরসত নেই তার।
“তোর হাতে এইটা কী রে?”
বড় ভাইয়ার কণ্ঠে চমকে উঠল সে। বিছানার ওপর ওর বড় ভাই বসে আছে, এতক্ষণ একবারের জন্যও খেয়াল করেনি। হাত থেকে নোটবুকটা মেঝেতে পড়ে যেতেই ওর হুঁশ ফিরল যেন। দ্রুত সেটা উঠিয়ে নিয়ে বলল,
“কিছু না তো! আমার নোটবই এটা। আর তুমি কখন আসলে? আম্মু বলল তুমি নাকি আসবে না?”
একনাগাড়ে পুরো কথাটা শেষ করে দম ছাড়ল সে। কিন্তু ভাইয়ের সন্দেহপ্রবণ চাহনির দিকে তাকিয়ে ভয়ে জমে যেতে লাগল যেন। হাসিব এবার কয়েক পা এগিয়ে এসে দাঁড়াল। বোনের মুখ দেখে যা বোঝার বুঝে গেছে সে।
“দেখি তো কিসের নোট?”
ইন্তিহা আর কোনো কথা না বলেই ভাইয়ের হাতে দিয়ে দিল নোটবুকটা। ভাইয়ের সামনে মুখের ওপর কথা বলার সাহস নেই যে! হাসিব নোটবুকটা উল্টেপাল্টে দেখল। কিন্তু ভেতরে কিছুই লেখা নেই, একটা শব্দও না। শুধু পুরাতন পোড়া পৃষ্ঠাগুলো একটার সাথে আরেকটা লেগে আছে।
“এই তোর নোট? এটা তো একটা পোড়া নোটবই। এটা দিয়ে কী করছিলি তুই?”
ইন্তিহা কিছু না বলে মাথা নিচু করে রইল। হাসিব একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বোনের দিকে তাকিয়ে বলল,
“কিছু জিজ্ঞেস করলে এমন মাথা নিচু করে থাকার স্বভাব তোর আর গেল না। আচ্ছা শোন, আম্মু বলল তুই নাকি বিয়েতে রাজি হচ্ছিস না? এখনো এমন করছিস কেন বল তো? বয়স বাড়ছে তোর। এমন করলে কীভাবে হবে বল তো? আমাদেরও তো দায়িত্ব আছে নাকি? তুই যদি এখনো না বুঝিস কীভাবে হবে?”
ইন্তিহা কিছু বলল না। শুধু মাথা নেড়ে মৌন সম্মতি জানাল। হাসিব চলে যেতেই ও পাগলের মতো নোটবুকটা উল্টেপাল্টে দেখতে লাগল। সবগুলো পৃষ্ঠা উল্টে দেখল, কিছু নেই। কোথাও কিছু লেখা নেই। ও আবার দেখল, বারবার দেখল, কিছুই পেল না। হতাশ হয়ে নোটবুকটা ড্রয়ারে রেখে ঘর ছেড়ে বেরিয়ে গেল।
বিশাল এক জমিদার বাড়ি। মোটামুটি পুরাতন ধাঁচের। ইন্তিহার দাদার আমলের ধরা হলেও এটা তৈরি করেছেন ওর বড় আব্বু, মানে দাদার বাবা। দোতলাবিশিষ্ট বাড়িটির পিছন দিকে বাগান আর পুকুর। বাগানের সামনের দিকে একটা বিশাল দোতলা লাইব্রেরি ঘর। সামনে খোলা বারান্দায় গোটা কয়েক সিমেন্টের ঢালাই করা চেয়ার পাতা, আর দেয়াল ঘেঁষে চন্দন কাঠের একটা পুরাতন টেবিল।
মেহমানদের আসতে আসতে প্রায় দুপুর গড়াল। আসিফ সাহেব তাদের এগিয়ে আনতে গিয়েছিলেন সেই পৌনে ১২টার দিকে। এখন ঘড়ির কাঁটায় কাটকাট ৩টা বাজে। ড্রয়িংরুমে মেহমানদের দুপুরের খাবারদাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইন্তিহার সেসব দিকে ধ্যান নেই। ও নিজের রুমের বারান্দায় দাঁড়িয়ে পিছনের বাগানের মাঝে ভীষণ দর্পে দাঁড়িয়ে থাকা লাইব্রেরি ভবনটার দিকে তাকিয়ে আছে একদৃষ্টে। কত বৃষ্টির সময়ে সে লাইব্রেরির বারান্দায় বসে ছিল অকারণে! গত ৫ বছরে এমন কোনো দিন ছিল না যে সে লাইব্রেরিতে একবারের জন্যও যায়নি। অসুস্থ শরীর নিয়েও লুকিয়ে একবার সেখানে গিয়ে দেখে আসত। না তো কোনো নোটবুকের সন্ধান পেত, আর না তো…
কিন্তু নোটবুক পেয়েও যে এমন কিছু হবে, ভাবনায়ও আসেনি ওর। কিছু তো থাকা উচিত ছিল, অন্তত একটা শব্দ! ও নিজেকে বুঝ দিল হয়তো এটা অন্য কারও নোটবুক। কেউ হয়তো লাইব্রেরিতে পেয়ে এখানে অবহেলায় রেখে গেছে। কিন্তু পরক্ষণেই আবার মনে হয়, তাহলে স্বপ্নে দেখা দৃশ্যের সাথে হুবহু মিলবে কেন! আপাতত আর কিছু ভাবতে চাইছে না ও। কিছুক্ষণ আগেই আমেনা বেগম তাড়া দিয়ে গেলেন তৈরি হওয়ার জন্য। কাঠের আলমারি থেকে খয়েরি রঙের বোরকা আর একটা স্কার্ফ বের করল। আমেনা বেগমের দেওয়া খয়েরি রঙের শাড়িটা বিছানার ওপর পড়ে আছে। সেদিকে একবার তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে রেডি হতে শুরু করল সে। এখনি হয়তো মা এসে কিছুক্ষণ কথা শুনিয়ে যাবে, তবে এতে ওর কিছুই যায় আসে না। ও নিজের মতো রেডি হয়ে স্কার্ফে পিন দিতে দিতে মুচকি হাসল একবার। কোনো মানে নেই সেই হাসির। হয়তো আছে! হয়তো নিজের প্রতি একরাশ উপহাস মেখে ছিল সেই হাসিতে।
“তুমি কি কখনোই আমার কথা শুনবে না, ইন্তিহা? দেখতে এসেছে তোমাকে, এখানেও পর্দা করার কি আদেও কোনো প্রয়োজন আছে? শাড়িটা পরলে কি হতো না?”
ইন্তিহা বরাবরের মতোই চুপ থাকল। ও নিজের মতো করে স্কার্ফে পিন ঠিক করতে লাগল, যেন মায়ের কথাটি শুনতেই পায়নি। আমেনা বেগম হতাশ নিঃশ্বাস ফেলে বেরিয়ে গেলেন রুম থেকে। পুনরায় ফিরলেন একটা কাজলের কৌটা হাতে। এবার আর চুপ করে থাকতে পারল না মেয়েটা।
“তোমরা কি কখনোই আমাকে একটুখানি স্বস্তি দেবে না, মা? আমি তো আগেই বলেছি কোনো সাজগোজ করব না, তাদের সামনে যেতেও রাজি হয়েছি। তবুও এমন করার মানে কী? আমার মতামতের কি কোনো গুরুত্ব নেই তোমাদের কাছে? আমিও তো একজন মানুষ!”
আমেনা বেগম আরও কিছু বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আসিফ সাহেবের দিকে তাকিয়ে চুপ করে গেলেন। ইন্তিহাও আর কিছু বলল না। নীরবে রুম থেকে বের হয়ে গেল বাবার পিছু পিছু।
. . .
“মাশাআল্লাহ মেয়ে আমাদের খুব পছন্দ হয়েছে। ইন্তিহা মা তো মাশাআল্লাহ আকাশের চাঁদ যেন! আমরা পুরোপুরি রাজি। এখন আপনাদের মতামত যদি ঠিকঠাক থাকে, তাহলে আমরা আজকেই কথাবার্তা বলে যেতে চাই। আসিফ সাহেব তো চেনেনই আমার ভাইকে, একসাথে ব্যবসায়িক কাজবাজ করেছেন সবসময়। সেদিক থেকে আমরা তো পুরোনো পরিচিতই। কী বলেন ভাবি?”
আবরারের মায়ের কথায় মাথা নেড়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে সম্মতি জানালেন আমেনা বেগম। সন্তুষ্ট চিত্তে সায় জানালেন আসিফ সাহেবও।
“তাহলে আর কী! আপনাদেরও যেহেতু আপত্তি নেই, তাই আমরা চাচ্ছি আজকেই দিন-তারিখ ঠিক করে ফেলতে। বোঝেনই তো, অত দূরের পথ! বারবার আসা কতটা ঝামেলার ব্যাপার। আপনারা কী বলেন?”
আবরারের মায়ের কথায় হাসিব এবার আর চুপ থাকতে পারল না। আসিফ সাহেব বোধহয় কিছু একটা বলতে যাচ্ছিলেন, হাসিব তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল,
“আমরা একটু পরে জানাচ্ছি আন্টি। আসলে আমার বোনেরও তো মতামত আছে। ওর সম্মতি না নিয়ে আপনাদেরকে কথা দেওয়াটা ঠিক মনে হচ্ছে না।”
হাসিবের এমন মন্তব্যে ড্রয়িংরুমে যেন এক অদ্ভুত নীরবতা নেমে এল। নত মস্তকে পাথরের মতো বসে থাকা ইন্তিহার যেন এসবে কোনো মনোযোগই নেই। সে ব্যস্ত পায়ের কাছে চেয়ারের পায়া খুঁটতে। না তো একবারের জন্য চোখ তুলে সামনে তাকিয়েছে, আর না তো প্রশ্নের বাইরে কোনো বাড়তি কথা বলেছে। আমেনা বেগম ওকে ভেতরে নিয়ে গেলেন। ভাইয়ের প্রশ্নেও কোনো কথা বলেনি মেয়েটা। ওর মৌন সম্মতি পেয়ে উনারাও আর দেরি করেননি, বিয়ের দিন-তারিখ ঠিক করে ফেলেছেন—আগামী মাসের ১২ তারিখ।
সে রাতে প্রচণ্ড বৃষ্টি হলো। চোখ খুলে তাকানো যায় না, এমন বৃষ্টি! চারদিক যেন পানিতে থৈ থৈ। ইন্তিহা বারান্দার কাঠের চেয়ারে বসে ছিল। এ সময় ওর ছোট চাচার ৫ বছরের মেয়ে নাবিহা এসে একটা নীল খাম ধরিয়ে দিল ওর হাতে। ইন্তিহা যারপরনাই অবাক হলো এমন কাণ্ডে। এই যুগে এসেও কেউ চিঠি দেবে কেন! তা ছাড়া ওকে চিঠি দেবে এমন কেউ তো নেই-ও! এদিকে ৫ বছরের নাবিহা চিঠিটা হাতে দিয়েই হাওয়া, শত ডাকাডাকির পরেও ফিরে এল না। চিঠির খামটি ছিল একেবারেই সাদামাটা নীল রঙের। খাম খুলতেই ভেতর থেকে বেরিয়ে এল এক জোড়া কানের ঝুমকো সাথে ছোট্ট একখানা চিরকুট।
(চলবে)
-তোমার আকাশ আমার মেঘ
পর্ব -১
-তিতা ফুল
পরবর্তী পর্ব কখন চান বলুন। যখন বলবেন তখন ই দিবো ইনশাআল্লাহ
Friends
Mashuk Hossain
@mashukhossain
Noyontara
@bablee
Sazia Islam Mim
@saziaislammim
Md.Mohsin Ali
@fivertrading007gmail-com
Redowan Hussain
@redowanhussain
নৈশান
@noishan
Hashem Molla
@hashemmolla
Kazi Mahabubur Rahman
@kazimahabuburrahman
mithila jannat
@mithilajannat
