-
গদ্য ছন্দ পর্ব ৩ ✅ মুক্তক ( নঙ মুক্তক) নঙ মুক্তক অমিল/ সমিল
গদ্য ছন্দ বা গদ্য কবিতা ৬ রকমঃ
১) সরল গদ্য ২) অমিত্রাক্ষর বা ফ্রী ভার্স ৩) মুক্তক ছন্দ ৪) নঙ মুক্তক অমিল ছন্দ ৫) সমিল নঙ মুক্তক ছন্দ ৬) গদ্যটীকা ছন্দ👉মুক্তক ছন্দ বা নঞ মুক্তক ছন্দে কবিতা লেখার ফর্ম ও কলাকৌশল।
,👉 মুক্তক ছন্দ ( নঞ)ঃ অক্ষর বৃত্ত ছন্দ। মাত্রা নির্দিষ্ট নয়। তবে কম পক্ষে ৮ থেকে ২৩ মাত্রা কম বা বেশি করা যায়।ভাব এক চরণ থেকে আরেক চরণে সম্পুর্ন হতে পারে। আবার ভাব এক চরণে ও সম্পুর্ন হতে পারে। এটি অক্ষর বৃত্তে গদ্য রীতির কবিতা ফর্ম। মুক্তক ছন্দের অপর নাম”” নঞ মুক্তক ছন্দ ‘” নঞ অর্থ মাত্রা নির্দিষ্ট নয়। এ জন্য মুক্তক কে নঞ মুক্তক ছন্দ বলে।✅ মুক্তক ছন্দ, বা নঙ মুক্তক ছন্দ এবং অমিল সমিল গদ্য ধারার প্রবর্তক রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
—–ডা কবি কাজী আনোয়ার হোসেন বাঘাবারো
উদাহরণঃ ” অর্ণবপোত বীর”
ওহে নাবিক! দেখো সিন্ধু রুক্ষ!
উত্তাল তীরভূমি উঁচু্ ঢেউ প্রকাণ্ড!
তবু চালাও অর্ণবপোত, ভয়কি নাই?
বুঝেছি সিন্ধু বীর,অর্ণবপোত বীর, কর্মই মানুষকে গড়ে,
তাই বীর,কেউ শান্ত , কেউ রুক্ষ, কেউ অংকারী,
কেউ দাতা,কেউ গ্রহীতা, কেউ গরীব, কেউ ধনী!
শৈশবে যার সত্য নিষ্ঠার শিক্ষা
সে সুকৃতি বৃত্তি করে!
যে শৈশবে রঙেডঙে বড় হয় সে তো অহংকারীই হবে
নিরব স্তুতিতে যে গড়ে
সে বৃত্তি রুক্ষ করেনা, প্রকাণ্ডের আড়ালে থাকতে চায়!
যে শৈশবে প্রতি যোগিতা, প্রতিবাদে , নিষ্ঠায় বড় হয়
সে কারো রুক্ষ , বঞ্চনা, অগ্রাহ্য সহ্য করে না।
বুঝেছি নাবিক তোমার কর্মই তোমাকে
অর্ণবপোত বীর বানিয়েছে।
তুমি বাত্যার সাথে কর খেলা,
শত্রুর সাথে লড় পাঞ্জা থাবা, কর্মের সাথে তুমি
ধরিত্রীর প্রকাণ্ড শীর!
ওহে নাবিক জোয়ান অর্ণবপোত বীর
স্রষ্টার কি চাওনা করুনা?
স্রষ্টার মহিমান্বিত অলীক প্রত্যয় যোগে তুমি যে জয়ী হবে!
তাঁর করুণায় বৈরী, অরি,প্রতিপক্ষ, বাত্যা
এমনকি প্রাণবিয়োগ ও কিছু ক্ষণের জন্য থেমে যায়।
হে নাবিক তুমি প্রস্তর ফলক, অসি ধারক
তুমি সাহসী নিষ্ঠার বাহক।
——-ডা কবি কাজী আনোয়ার হোসেন বাঘাবারো👉 নঞ সমিল মুক্তক ছন্দে কবিতা লেখার ফর্ম ও কলাকৌশলঃ
নঞ সমিল মুক্তক ছন্দঃ যে মুক্তক ছন্দে চরণ শেষে অন্তমিল থাকে এবং অক্ষর বৃত্ত ছন্দে লেখা হয় কিন্তু মাত্রা নির্দিষ্ট থাকে না। কমপক্ষে ৬ মাত্রা বা ৮ মাত্রা থেকে ২৩ মাত্রা কম/ বেশি হয়ে থাকে। রবীন্দ্রনাথের গদ্য রীতিরএ ছন্দ কবিতা।উদাহরণঃ ” সমির'”
ডা কাজী আনোয়ার হোসেন বাঘাবারোসমির শান্ত নিরব,
বাবা-মা ভক্ত, বড়দের মানে, পড়ায় ব্যস্ত,করে না রুক্ষ রব।👉 নঞ অমিল মুক্তক ছন্দে কবিতা লেখার ফর্ম ও কলাকৌশলঃ
নঞ অমিল মুক্তক ছন্দঃ অন্তমিল না থাকলে তাকে নঞ অমিল মুক্তক ছন্দ বলে। বাকি সব নিয়ম নঞ মুক্তক ও নঞ সমিল মুক্তক ছন্দের নিয়ম কানুন। শুধু অন্তমিল থাকে না।উদাহরণঃ ” পাহাড়ি প্রকৃতি “”
ডা কাজী আনোয়ার হোসেন বাঘাবারোপাহাড়ি ঝর্ণা তৃপ্তি কর
যাবে বন্ধু যাবে মোর সাথে
ঝর্ণায় গা ভাসিয়ে ভাসবো মোরা
পাহাড়ি ফুলে মন দুলাবো
রঙিন আকাশ কাছে মনে হবে তাকালে
সাদা মেঘের ভেলা উড়ে আর ঘুরে
স্নিগ্ধ মনে একটি ছবি তুলবো
যাবে বন্ধু যাবে মোর সাথে
প্রকৃতি সবুজ পাখিদের মেলা
কিচিরমিচির শব্দে করে খেলা4 Comments-
কবিতার সূত্র ঠিক আমার মাথায় ঢোকে না, তবে কবিতা পড়তে ভীষণ ভালো লাগে! অদ্ভুত সব শব্দের খেলায় চমৎকার সব অনুভব লুকিয়ে থাকে সেই অনুভূতিটুকু খুঁজে বের করাই যেন আমার ডিটেক্টিভ মাইন্ডের প্রধান উদ্দেশ্য! উদাহরণে দেয়া কবিতাগুলো খুব সুন্দর, নতুন কিছু শব্দ খুঁজে পেলাম আজ! এই অর্জনটুকু যত্ন করে রেখে দিলাম কবিপ্রিয়, অশেষ ভালোবাসা নেবেন!
Friends
বান্টি দেব
@bantideb
MAHAJABIN AFROZE
@mahajabinafroze
Ms. Tanha
@ms-tanha
Md. Kamrul Hasan
@md-kamrulhasan
Khalid Ahmed Raja
@khalidahmedraja
Rejwana Khan
@rejwana-khan
ALAMGIR'S BANGLA CHANNEL
@alamgirsbanglachannel
Sumon Molla
@sumonmolla
Omor Faruk Shawon
@shawonsadverse

বাংলা ছন্দের এই জটিল বিষয়গুলো এত সহজভাবে উপস্থাপন করার জন্য কৃতজ্ঞতা। (যদিও বেশিরভাগ কথাই আমার মাথার উপর দিয়ে চলে গিয়েছে) নতুন কবিদের জন্য আপনার এই সিরিজটি একটা রেফারেন্স হয়ে থাকবে।