-
াহাওয়ায় লেখা রক্তের সাইন”
নাজনীন শামীম
চট্টগ্রাম থেকে
১লা সেপ্টেম্বর ২০২৬ইং৷৷ ৷ একজোড়া নিথর চোখ যখন সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে, তখন সে রহস্যের চেয়ে বেশি রেখে যায় কিছু জঘন্য সত্য।
শহরের নামকরা সাইকোলজিস্ট ড. তানভীর সাহেব নিজের স্টাডি রুমে খুন হয়েছেন রাত ১টার দিকে। অদ্ভুত বিষয় হলো, রুমটি ভেতর থেকে ছিটকিনি দিয়ে লক করা ছিল। রক্তে ভেজা টেবিলের ওপর একটা খোলা প্যাড আর পাশে ফাউন্টেন পেন। প্যাডের পাতায় শুধু একটা বাক্য লেখা— “যে সত্যিটা লুকানো হয়, সেটাই সবচেয়ে বড় জল্লাদ।”
ডিটেকটিভ সামিন ঘরের চারপাশ পর্যবেক্ষণ করছিলেন। মৃত্যুর ধরন আর ঘরের পরিস্থিতি একদম অমিল। তানভীর সাহেবের গলার নালীতে হালকা নীল দাগ—শ্বাসরোধের আলামত। অথচ ঘরে ঢোকার একমাত্র দরজার লক ভেতর থেকে বন্ধ, আর জানালাগুলোতে লোহার শক্ত গ্রিল। এটি কোনো রূপকথার ভুতুড়ে ঘটনা নয়, এর পেছনে রয়েছে নিখুঁত মানবীয় বুদ্ধিমত্তা।
সামিন টেবিলের ওপর থাকা সেই ফাউন্টেন পেনটির দিকে তাকাতেই চোখ আটকে গেল। কলমের নিবে শুকনো রক্তের দাগ, আর টেবিলের কাচে খুব সূক্ষ্ম কিছু স্বচ্ছ তরলের ফোঁটা। তিনি রুমের এসিটার দিকে তাকালেন—সেটা বেশ ঠাণ্ডা তাপমাত্রায় চলছে। সামিনের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এড়াল না যে, ঘরের একমাত্র ভেন্টিলেটরের সরু ফাঁক দিয়ে এসি-র পাইপ চলে গেছে বাইরের দিকে।
সামিন একটু হেসে তানভীরের সহকারী আরিয়ানের দিকে তাকালেন, যিনি দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে থকথক করে কাঁপছিলেন।
”আরিয়ান সাহেব,” সামিন শান্ত গলায় বললেন, “ডাক্তার সাহেব আপনাকে কিছুদিন আগে নিজের সমস্ত সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করে এক অনাথ আশ্রমে ট্রাস্ট করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তাই না?”
আরিয়ান চমকে উঠে বললেন, “হ্যাঁ… মানে, না! স্যার, আমি কেন তাঁকে মারব? ঘর তো ভেতর থেকে বন্ধ ছিল! আর আমি তো রাত বারোটা থেকেই নীচের রুমে ঘুমাচ্ছিলাম!”
”আপনি খুনটা রাত বারোটার আগেই করেছেন,” সামিনের কণ্ঠে দৃঢ়তা। “ডাক্তার সাহেবকে বিষাক্ত সায়ানাইডযুক্ত নীল সুচ দিয়ে অচেতন করে শ্বাসরোধ করেন রাত এগারোটায়। তারপর রুমের ভেতরে এসি-র তাপমাত্রা শূন্যের কাছাকাছি নামিয়ে দেন। ড্রাই-আইস বা শুষ্ক বরফের একটি বড় টুকরো দিয়ে দরজার ছিটকিনিটি ভেতর থেকে ঠেলে লক করে দেন। এসি-র চরম ঠাণ্ডায় সেই বরফ অনেকক্ষণ জমে ছিল, যা পুলিশ আসার কিছু আগে বাষ্প হয়ে এসির পাইপ দিয়ে হাওয়া হয়ে গেছে! ফলে বাইরে থেকে মনে হচ্ছিল ঘরটি ভেতর থেকেই লক করা।”
সামিন টেবিলের প্যাডটি দেখিয়ে আবার বললেন, “আর এই লেখাটা? ডাক্তার সাহেবের হাতের লেখা নকল করার চেষ্টা করেছেন আপনিই, কিন্তু তাড়াহুড়োয় ঘড়ির সময়ের অসংগতি রাখতে গিয়ে ধরা পড়ে গেলেন। তানভীর সাহেবের মরদেহের রক্ত জমাট বাঁধার সময় আর ঘরের এসি-র আদ্রতা প্রমাণ করে দিচ্ছে মৃত্যু রাত ১টায় নয়, তার আগেই হয়েছে।”
আরিয়ানের মুখ মুহূর্তের মধ্যে ফ্যাকাশে হয়ে গেল। ঘরের ছিটকিনি হাওয়ায় মিলিয়ে গেলেও অপরাধীর রেখে যাওয়া বিজ্ঞানের ভুল চিহ্নটা যে হাওয়ায় মিলিয়ে যায়নি, তা সে বুঝতে পারল। পুলিশ এসে আরিয়ানের হাতে হাতকড়া পরাল, আর সামিন জানালা দিয়ে রাতের শান্ত শহরের দিকে তাকিয়ে ভাবলেন—সত্যিই, যে সত্যিটা লুকানো হয়, সেটাই শেষ পর্যন্ত অপরাধীর সবচেয়ে বড় জল্লাদ হয়ে ফিরে আসে।9 Comments-
Naznin Shamim, আপনার লেখা এই রহস্যময় কাহিনিটি খুব চমৎকারভাবে সাজিয়েছেন এবং তদন্তের প্রতিটি পর্যায় দারুণ কৌতুহল জাগিয়ে তোলে। আপনি আমাদের এই ছোট সুন্দর পরিবারে অন্য সবার লেখা পড়ে তাতে লাইক কিংবা কমেন্ট করে সক্রিয় থাকলে খুব ভালো লাগবে।
-
খুব ভালো লাগল। প্রথম কয়েকটা শব্দেই সাসপেন্স বা জিজ্ঞাসা নিয়ে এসেছেন “একজোড়া নিথর চোখ যখন সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে …” । এটা পড়েই তর তর করে পুরো লেখাটার দিকে এগিয়ে যাওয়া যায়।
-
-
নাজনীন শামীম, আপনার গল্পের এই লাইনটা দারুণ ছিল—”যে সত্যিটা লুকানো হয়, সেটাই সবচেয়ে বড় জল্লাদ।” খুনের রহস্য আর সমাধানের এই বৈজ্ঞানিক মোচড়টা আমার বেশ ভালো লেগেছে। সব মিলিয়ে ক্রাইম থ্রিলার হিসেবে দারুণ লিখেছেন আপনি।
Friends
Zahidul Jamy
@zahidul
মোঃ বায়েজীদ
@bayejid
ঈশিতা ঈরু
@eshitabiswaseru15
Shojan Maria Shoche
@shojanmaria
সিরাজুল ইসলাম
@sherajulislam
Santo Mon
@santomon
Ariba Mehzabin Yeana
@aribamehzabin
Md. Jahangir Alam
@md-jahangiralam
Nusrat jahan Sadia
@nusratjahansadia



sundor