Profile Photo

naznin shamimOffline

  • nazninshamim
  • Profile picture of naznin shamim

    naznin shamim

    1 day, 5 hours ago

    “অন্ধকারের ছায়াসঙ্গী”
    নাজনীন শামীম
    চট্টগ্রাম থেকে
    ৩ রা সেপ্টেম্বর

    ​অফিস থেকে বের হতে হতে রাত সাড়ে দশটা বেজে গেল। অনন্যা একটি বেসরকারি ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার। প্রতিদিনের মতোই অ্যাপের মাধ্যমে রাইড শেয়ারিং বাইক ডেকে রওনা হলো বাসার উদ্দেশ্যে। চারপাশের রাস্তাগুলো জনমানবহীন, ফ্লাইওভারের নিচের বাতিগুলোর আলো-আঁধারির খেলায় এক ধরনের অদ্ভুত নির্জনতা কাজ করছে।
    ​বাইকটি মূল সড়ক ছেড়ে যখনই গলির মুখে ঢুকলো, অনন্যার ভেতরে একটা অস্বস্তি জেগে উঠলো। চালক বাইকের গতি কমিয়ে রাস্তার একপাশে থামালো। “ভাইয়া, এখানে থামাচ্ছেন কেন?”—অনন্যার এই প্রশ্নের উত্তর মিললো না। চারপাশ থেকে হঠাৎ আরও দুইজন এসে বাইকের কাছে দাঁড়ালো। বুঝে ওঠার আগেই অনন্যার মুখ চেপে ধরে টেনে নিয়ে যাওয়া হলো রাস্তার পাশে নির্মাণাধীন একটি পরিত্যক্ত ভবনের আড়ালে।
    ​চিৎকার করার সুযোগটুকুও সে পেল না। জোরজুলুম, ভয়ভীতি আর পাশবিক শারীরিক নির্যাতনের মুখোমুখি হয়ে তার অস্তিত্ব থমকে দাঁড়ালো। ঘটনা শেষে অপরাধীরা তাকে হুমকি দিয়ে চলে গেল।
    ​পরদিন সকালে অনন্যা থমকে থাকেনি। মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়লেও সে সরাসরি থানায় যায়। তবে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে তাকে এক নতুন লড়াইয়ের মুখোমুখি হতে হয়। ডাক্তারদের প্রশ্নের ধরন, তদন্ত কর্মকর্তাদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং সমাজের আড়চোখে তাকানো—সব মিলিয়ে প্রতিটি ক্ষণে তাকে সেই ট্রমার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
    ​মামলা চলাকালীন অপরাধীদের পরিবার ও প্রভাবশালী স্থানীয় গোষ্ঠী অনন্যাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত চাপ দিতে থাকে। তাকে চাকরিচ্যুত করার হুমকি দেওয়া হয়, তার পরিবারকে মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়।
    ​কিন্তু অনন্যা পিছিয়ে যায়নি। সমস্ত সামাজিক বাধা, লোকলজ্জার ভয় আর হুমকির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সে আদালতে নিজের সাক্ষ্য বজায় রাখে। ডিজিটাল প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ফরেনসিক রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে মামলা চালিয়ে যায়।
    ​দীর্ঘদিন ধরে চলা এই আইনি লড়াই শেষে আদালত যখন সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে অপরাধীদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়, তখন এজলাসে এক নীরব স্তব্ধতা নেমে আসে। অনন্যা আদালতের বারান্দায় এসে দাঁড়ায়। সে জানে, এই রায়ের মাধ্যমে তার জীবনের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ের ক্ষত একরাতে মুছে যাবে না। কিন্তু তার লড়াই প্রমাণ করে দেয় যে, সমাজের হাজারো বাধা আর ভীতি প্রদর্শনের সামনে আত্মসমর্পণ না করে সত্যের পক্ষে রুখে দাঁড়ানো সম্ভব। সে তার এই কঠিন অভিজ্ঞতাকে শক্তি বানিয়ে অন্য নারীদের আইনি সহায়তা ও মানসিক সমর্থন দিতে একটি উদ্যোগ শুরু করে, যেন আর কাউকেই একাকী লড়াই করতে না হয়।

    4
    8 Comments
    • অনন্যাদের মতো সাহসী মানুষদের প্রতি শ্রদ্ধা।

    • আপনি যেভাবে এই সংবেদনশীল বিষয়টি তুলে ধরেছেন, বিশেষ করে “সে জানে, এই রায়ের মাধ্যমে তার জীবনের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ের ক্ষত একরাতে মুছে যাবে না”—এই লাইনটি আমার হৃদয়ে গভীর দাগ কেটেছে। এমন সাহসী ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অনেক মানুষকে সাহস জোগাবে এবং অপরাধের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে। আপনার লিখনশৈলী অত্যন্ত সাবলীল ও অর্থবহ, তাই অনুগ্রহ করে আপনার এই সুন্দর প্রচেষ্টাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান।

    • ভাঙা মুহূর্তকেই শক্তি করে গড়ে ওঠে ন্যায়ের নতুন অভিযাত্রা…..🤍🖤

    • আপনার লেখা এই গল্পের “এই রায়ের মাধ্যমে তার জীবনের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ের ক্ষত একরাতে মুছে যাবে না”—লাইনটি পড়ে সত্যিই অনেক খারাপ লাগলো। এত প্রতিকূলতার মাঝেও অনন্যার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতাকে কুর্নিশ জানাই। এমন সাহসী গল্পগুলো আমাদের সমাজে সত্যিই খুব জরুরি।

    • অনন্যার এই লড়াইটা অনেক সাহসের, এই রকম গল্প সমাজে দরকার আছে
      বিচার পাওয়ার পরও যে ক্ষত থাইকা যায় এইটা বাস্তবতা, খুব ভালো লিখছেন এই দিকটা
      এই রকম লেখা সবার পড়া উচিত আপু, সমাজের চোখ খুলে দেওয়ার মতো♥❤

Skip to toolbar