-
শেষ বিকেলের চিঠি”
নাজনীন শামীম
চট্টগ্রাম থেকে
১৫ ই সেপ্টেম্বর ২০২৬ ইংকিছু মানুষ চলে যায় না—
তারা শুধু আমাদের জীবনের সবচেয়ে নীরব ঘরটায় চিরদিনের জন্য দরজা বন্ধ করে দেয়।
শহরের শেষ প্রান্তে ছোট্ট একটা রেলস্টেশন।
প্রতিদিন বিকেলে সেখানে এসে বসত অনামিকা।
তার হাতে থাকত একটি পুরোনো চিঠি।
চিঠিটা এতবার পড়েছে যে কাগজের ভাঁজগুলোও যেন তার মনের মতো ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল।
চিঠিটা লিখেছিল অলোক।
দুই বছর আগে।
সেদিন অলোক বলেছিল,
“শেষ ট্রেনটা ধরেই ফিরব।”
অনামিকা বিশ্বাস করেছিল।
কারণ কিছু অপেক্ষা যুক্তি দিয়ে হয় না, বিশ্বাস দিয়ে হয়।অপেক্ষার সবচেয়ে নিষ্ঠুর দিক হলো—
যার জন্য অপেক্ষা করা হয়, সে না ফিরলেও অপেক্ষাটা ঠিকই ফিরে আসে প্রতিদিন।
সেদিন রাতেও অনামিকা স্টেশনে দাঁড়িয়ে ছিল।
শেষ ট্রেন এলো।
মানুষ নামল।
কেউ ছুটে গেল বাড়ির দিকে, কেউ আপনজনকে জড়িয়ে ধরল।
শুধু অলোক নামল না।
ট্রেন চলে গেল।
স্টেশন আবার ফাঁকা।
অনামিকা ধীরে ধীরে বেঞ্চটায় বসে চিঠিটা খুলল।
শেষ লাইনে লেখা—
“অনামিকা, যদি কোনোদিন ফিরতে দেরি হয়ে যায়, তবে ধরে নিও—ফিরতে চেয়েছিলাম।”
তার চোখের কোণে পানি জমল।
ঠিক তখন স্টেশনমাস্টার এসে তার পাশে দাঁড়ালেন।
কিছুক্ষণ চুপ থেকে বললেন,
“মা, অলোকের খবরটা তুমি জানো না?”
অনামিকা মাথা নাড়ল।
লোকটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন,
“দুই বছর আগে পাহাড়ি রাস্তায় বাস দুর্ঘটনায় কয়েকজন মারা গিয়েছিল। তাদের একজন ছিল অলোক।”
অনামিকার হাত থেকে চিঠিটা পড়ে গেল।
চারপাশের পৃথিবী যেন হঠাৎ শব্দহীন হয়ে গেল।
সে শুধু ফিসফিস করে বলল—
“তাহলে এতদিন আমি কার অপেক্ষায় ছিলাম?”
কোনো উত্তর এলো না।
শুধু দূরে একটা ট্রেনের আলো দেখা গেল।
অনামিকা উঠে দাঁড়াল।
তারপর চিঠিটা বুকের কাছে চেপে ধরে ধীরে ধীরে বলল—
“তুমি ফিরবে বলেছিলে…
আমি তো শুধু তোমার কথাটাই বিশ্বাস করেছিলাম।”
সেদিনের পর আর অনামিকা কোনোদিন স্টেশনে যায়নি।
তবে প্রতি বছর অলোকের মৃত্যুদিবসে, ঠিক শেষ বিকেলে, তার জানালার পাশে একটা বাতি জ্বলত।
আর টেবিলের ওপর পড়ে থাকত সেই পুরোনো চিঠি।সব অপেক্ষার শেষ দেখা হয় না—
কিছু অপেক্ষা শেষ পর্যন্ত শুধু স্মৃতির কাছে গিয়ে বসে থাকে।
(যবনিকা)8 Comments-
লেখাটা পড়ে সত্যি খুব আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লাম। অলোকের এই পরিণতি আর অনামিকার বিশ্বাসটা মন ছুঁয়ে গেল। আপনার প্রিয় মানুষটির কাছে এমন কোনো অপূর্ণ অনুভূতির গল্প আছে কি?
-
-
Naznin Shamim, “কিছু অপেক্ষা যুক্তি দিয়ে হয় না, বিশ্বাস দিয়ে হয়”—আপনার লেখা এই লাইনটি পড়ার সময় বুকের ভেতর এক গভীর মমতার ছোঁয়া অনুভব করলাম। বিচ্ছেদের বেদনা ও স্মৃতির এমন সুন্দর বুনন হৃদয়ে দাগ কেটে যায়, তাই আপনার লেখনী নিয়মিত চর্চা চালিয়ে যাওয়ার জন্য আন্তরিক অনুরোধ রইল।
Friends
Zahidul Jamy
@zahidul
মোঃ বায়েজীদ
@bayejid
ঈশিতা ঈরু
@eshitabiswaseru15
Shojan Maria Shoche
@shojanmaria
সিরাজুল ইসলাম
@sherajulislam
Santo Mon
@santomon
Ariba Mehzabin Yeana
@aribamehzabin
Md. Jahangir Alam
@md-jahangiralam
Nusrat jahan Sadia
@nusratjahansadia


শেষ বিকালের চিঠিতে অনামিকার অপেক্ষা, কত স্মৃতি। আহ!