-
অরণ্যের শেষ প্রহর
(অধ্যায় দশ)
মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের পাহাড়ি প্রকল্পে এবার সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াল ভয়। প্রথম দিকে কয়েকজন পাহারাদার আহত হয়েছিল। দু-একজন পথ হারিয়েছিল। তারপর একজন রেজোয়ানকে চোখের সামনে দেখেও পর মুহূর্তে অদৃশ্য হয়ে যেতে দেখেছিল। এসব ঘটনা নিয়ে শ্রমিকদের মধ্যে হয়ত কানাঘুষা ছিল, কিন্তু তারপরেও কাজ চলছিল। এখন আর সেই অবস্থা নেই। ভয় ধীরে ধীরে তাদের মনে এমনভাবে জায়গা করে নিয়েছে যে দিনের আলোয় তারা পাহাড়ের বুকে কাজ করলেও সূর্য পশ্চিমের পাহাড়ের আড়ালে নামতে শুরু করলেই তাদের মনে হতে থাকে, এই বুঝি আসল বিপদ শুরু হবে।খাগড়াছড়ির পাহাড়ে সন্ধ্যা নামার একটা নিজস্ব চরিত্র আছে। দিনের গরমে যে অরণ্য প্রাণে ভরা থাকে, বিকেলের শেষ আলো সরে গেলেই সেই অরণ্য যেন হঠাৎ নিজের ভেতর নিজেকে গুটিয়ে নেয়। দূরের পাহাড়ের চূড়ায় প্রথমে ছায়া পড়ে, তারপর ঢালের ওপর দিয়ে সেই ছায়া নিচে নামে। বাঁশঝাড়ের মাথা কালো হয়ে যায়, ছড়ার পানিতে আকাশের শেষ আলোটুকু কাঁপতে কাঁপতে মিলিয়ে যায়। অল্প সময়ের মধ্যেই চারপাশে এমন এক আবছা অন্ধকার জমে ওঠে, পরিচিত পথও তখন অপরিচিত বলে মনে হয়। আর সেই সময়টাকে এখন রিসোর্টের লোকজন সবচেয়ে বেশি ভয় পায়।
কিছু শ্রমিক বিকেল পাঁচটার পর থেকেই বারবার ঘড়ি দেখতে শুরু করত। কেউ কেউ কাজ শেষ হওয়ার আগেই মেশিনের কাছ থেকে সরে গিয়ে শেডের দিকে চলে যেত। আবার কেউ একা অরণ্যের ধারে যেত না। পাহাড়ের নিচের ছড়া থেকে পানি আনতে হলেও দুজন একসঙ্গে যেত। রান্নার জন্য কাঠ আনতে হলে দিনের আলো থাকতে থাকতে কাজ শেষ করার চেষ্টা করত সবাই। রাতের পাহারার কথা উঠলেই মুখগুলো শক্ত হয়ে যেত। আগে যে লোকেরা নিজেদের মধ্যে গল্প করত, হাসাহাসি করত, তাস খেলত, তারা এখন সন্ধ্যার পর শেডের ভেতর গাদাগাদি করে বসে থাকত। বাইরে থেকে সামান্য কোনো শব্দ এলেই তাদের কথাবার্তা থেমে যেত।
প্রথম যে শ্রমিকটা কাজ ছেড়ে চলে গেল, তাকে কেউ খুব একটা আটকায়নি। তারপর দ্বিতীয়জন। তৃতীয়জন যাওয়ার সময় তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে বলেছিল, সে আবার কোনোদিন পাহাড়ে রাত কাটাবে না। তার কথাটা তখনও অনেকের কাছে বাড়াবাড়ি মনে হয়েছিল। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই দেখা গেল, শুধু পুরনো শ্রমিক নয়, নতুন করে আনা লোকেরাও বেশিদিন টিকছে না। যারা দূরের জেলা থেকে টাকা রোজগারের আশায় এসেছিল, তারাও আগের শ্রমিকদের কাছ থেকে রাতের গল্প শুনে অস্বস্তিতে পড়ে যাচ্ছিল। কেউ বলছিল, এসব নিছক দুর্ঘটনা। কেউ বলছিল, পাহাড়ে কাজ করতে গেলে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই পারে। কিন্তু যারা রাতের অন্ধকারে পাহাড়ের পথ ধরে হাঁটতে গিয়ে এসব ঘটনার, তারা জানত, কথাগুলো মুখে বলা যত সহজ, অন্ধকারে সেই পথ পেরোনো তত সহজ নয়।
রেজোয়ান এসব দেখছিল। তবে দূর থেকে। দিনের আলোয় সে রিসোর্টের শ্রমিকদের সঙ্গে কোনো সংঘর্ষে যাচ্ছিল না। এমনকি তাদের সঙ্গে অকারণে কথাও বলত না। কোনো শ্রমিক তাকে দেখলে সে স্বাভাবিকভাবে পাশ কাটিয়ে চলে যেত।
কখনো পাহাড়ের অন্য ঢালে দাঁড়িয়ে কাজ দেখত, কখনো নিজের জমির সীমানা ধরে ধীরে ধীরে হাঁটত, কখনো ছড়ার ধারে বসে অনেকক্ষণ পানির স্রোত দেখত। তার আচরণে এমন কিছু ছিল না, যা দেখে একজন সাধারণ মানুষ তাকে বিপজ্জনক বলে মনে করতে পারে।
কিন্তু রাত নামলে পাহাড়ের ভেতর তার চলাফেরা বদলে যেত। সে জানত, এই লড়াইয়ে তাকে বেশি কিছু করতে হবে না। ভয় নিজে থেকেই কাজ করবে। একজন মানুষকে দশবার আঘাত করার প্রয়োজন নেই, যদি প্রথম আঘাতের স্মৃতি তার মনে দশ রাত বেঁচে থাকে।
এক রাতে রিসোর্টের উত্তর দিকের পাহাড়ি ঢালে নতুন করে মাটি কাটার কাজ শুরু করার কথা ছিল। দিনের বেলায় মেশিন দিয়ে জায়গাটা মোটামুটি পরিষ্কার করা হয়েছিল। কয়েকটা বড় পাথর সরানো হয়েছে, ঝোপঝাড় কাটা হয়েছে, আর একটা সরু পথ তৈরি করা হয়েছে যাতে পরদিন ভারী যন্ত্রপাতি ওপরে তোলা যায়। রাতের পাহারার দায়িত্বে থাকা লোকজনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, পথটা যেন কেউ নষ্ট না করে।
তিনজন লোক রাত দশটার দিকে সেই পথে বের হলো। আকাশে চাঁদ ছিল না। মেঘে ঢাকা আকাশের কারণে তারাও দেখা যাচ্ছিল না। রিসোর্টের আলো অনেক পেছনে পড়ে রইল। সামনে শুধু টর্চের সরু আলোর রেখা। সেই আলোয় কখনো গাছের গুঁড়ি দেখা যাচ্ছে, কখনো ভেজা মাটি, কখনো পাথর। চারপাশের অন্ধকার এত ঘন যে টর্চের আলোর পরিধি যেখানে শেষ হচ্ছে, ঠিক তার পরেই মনে হচ্ছিল কেউ দাঁড়িয়ে আছে।
তিনজনের মাঝখানের লোকটা হঠাৎ থেমে গেল।
“কী হলো?”পেছন থেকে একজন জানতে চাইলো।
সে উত্তর দিল না। সামনের দিকে তাকিয়ে রইল। কিছু একটা শব্দ হয়েছে। খুব ক্ষীণ। ডান পাশের বাঁশঝাড়ে যেন কেউ পা রেখেছে।
তিনজন একসঙ্গে সেইদিকে টর্চ ফেলল। বাঁশের সরু কঞ্চিগুলো বাতাসে দুলছে। আর কিছু নেই।
তারা আবার হাঁটতে শুরু করল। এক পা। দুই পা। …….দশ পা। ……বিশ পা।
তারপর সামনের লোকটা হঠাৎ পেছনে তাকাল। তৃতীয় লোকটা নেই। সে যেখানে ছিল, সেখানে শুধু টর্চের আলো মাটিতে পড়ে আছে।
বাকী দুজন একদম স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে গেল।
একজন টর্চ তুলে চারদিকে আলো ফেলল। “রহিম!”
কোনো উত্তর নেই।
আরেকবার ডাকল। “রহিম!”
এবারও নীরবতা। দূরে কোনো পাহাড়ি পাখি ডেকে উঠল। তারপর আবার সব চুপ।
দুজন একই সংগে পেছনে ফিরল। কয়েক গজ দূরে লোকটাকে পাওয়া গেল। সে মাটিতে বসে আছে। তার মাথা নিচু। আর মুখে আতঙ্ক।
“কী হয়েছে?”
লোকটা কিছুক্ষণ কথা বলতে পারল না। তারপর শুধু বলল, “পেছনে কেউ দাঁড়িয়ে ছিল।”
দুজন লোক আবার পেছনে তাকাল। কেউ নেই। এরপর তারা আর সামনে এগোয়নি।
পরদিন সকালে ঘটনাটা নিয়ে অনেক কথা হলো। কেউ বলল, লোকটা ভয় পেয়ে ভুল দেখেছে। কেউ বলল, কোনো বন্য প্রাণী থাকতে পারে। কিন্তু রেজোয়ানকে কেউ সেখানে দেখেনি।
আর সেটাই ছিল আসল ব্যাপার। রেজোয়ান তাদের কাছে এমনভাবে নিজের উপস্থিতি ব্যবহার করছিল, যাতে তাকে নিয়ে কেউ কোনো সুনির্দিষ্ট ছবি দাঁড় করাতে না পারে।
কোম্পানির লোকেরা চাইলে তাকে সন্দেহ করতে পারে। কিন্তু সন্দেহ আর প্রমাণ এক জিনিস নয়। এই পার্থক্য রেজোয়ান খুব ভালো করেই জানে।
তার সামরিক জীবনে বহুবার তাকে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হয়েছে, যেখানে কাজের ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু নিজের উপস্থিতির কোনো চিহ্ন রেখে যাওয়ার সুযোগ নেই। পাহাড়ে ফিরে এসে সে সেই পুরনো অভ্যাসগুলোকেই আবার নতুন করে ব্যবহার করছিল। তার কাছে অন্ধকার শুধু আলো না থাকার নাম নয়। অন্ধকার মানে দৃষ্টির সীমাবদ্ধতা। আর যে মানুষ অন্যের দৃষ্টির সীমা বুঝতে পারে, সে জানে কখন দাঁড়াতে হয়, কখন চলতে হয়, কখন অপেক্ষা করতে হয়।
রেজোয়ানের বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে, কিন্তু তার শরীর এখনো সামরিক জীবনের ছাপটাই ধরে রেখেছে। তার কাঁধ চওড়া, কোমর শক্ত, পায়ের পেশিতে বয়সের তুলনায় অস্বাভাবিক দৃঢ়তা। চলার সময় তার পা মাটিতে পুরোপুরি ভর করে না। বরং প্রতিটি পদক্ষেপের আগে পা ফেলার জায়গাটা আগে বুঝে নেয়। চোখ সবসময় সামনে থাকে না। অনেক সময় সে মাথা না ঘুরিয়েই পাশের শব্দ শুনে নেয়। অরণ্যে চলার সময় শুকনো ডাল কোথায়, ভেজা মাটি কোথায়, কোন পাতার ওপর পা দিলে শব্দ হবে, কোন জায়গায় মাটি ফাঁপা, এসব তার কাছে একটা থেকে আরেকটা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
এগুলো কোনো জাদু নয়। এগুলো তার অভ্যাস। দীর্ঘদিনের প্রশিক্ষণের ফল। এই পাহাড় তার সেই অভ্যাসকেই ঝালিয়ে নেবার সুযোগ করে দিচ্ছে।
দিনের পর দিন রিসোর্টের লোকজনের ওপর ছোট ছোট চাপ বাড়তে লাগল। কখনো পাহারার দল ভুল পথে চলে যায়। কখনো রাতের টহলে একজনকে আরেকজনের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যেতে হয়। কখনো অন্ধকারে চলতে গিয়ে কেউ পড়ে গিয়ে আহত হয়। আবার কখনো রাতের পাহারার মাঝখানে দূরে মানুষের পায়ের শব্দ শোনা যায়, যদিও টর্চের আলো ফেললে কাউকেই দেখা যায় না।
কেউ মারা যায়নি। কেউ গুরুতরভাবে আক্রান্তও হয়নি। কিন্তু প্রত্যেকটি ঘটনার পর ভয় আরও একটু করে বেড়েছে।
রিসোর্টের হিসাবেও তার প্রভাব পড়তে শুরু করল। দিনের কাজের জন্য যতজন লোক প্রয়োজন, তার চেয়ে বেশি লোক এখন শুধু নিরাপত্তার জন্য রাখতে হচ্ছে। রাতে পাহারা দিতে দুজনের জায়গায় চারজন লাগছে। চারজনের জায়গায় ছয়জন। তবু কেউ একা যেতে চাইছে না। নতুন লোক আনতে পরিবহন খরচ বাড়ছে। পুরনো লোক চলে যাওয়ায় কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট হচ্ছে। পাহাড়ের ওপর একদিন যে কাজ হওয়ার কথা ছিল, তা শেষ করতে দুই দিন লাগছে। কোনো কোনো দিন মেশিন চালানোর মতো পর্যাপ্ত লোক পাওয়া যাচ্ছে না।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, কাজের জায়গায় যারা থাকে, তারা এখন কাজের চেয়ে নিরাপত্তার দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।
মাটি কাটার মেশিন চলছে। কিন্তু মেশিনের পাশে দাঁড়ানো লোকটা বারবার অরণ্যের দিকে তাকাচ্ছে। রাস্তার কাজ হচ্ছে। কিন্তু পাহারাদার টর্চ হাতে চারদিকে আলো ফেলছে। শ্রমিকেরা বাঁশ কাটছে। কিন্তু সূর্য পশ্চিমে ঢলে পড়লেই তাদের চোখ ঘড়ির দিকে।
এভাবে কোনো বড় প্রকল্প এগোয় না।
একদিন বিকেলে রিসোর্টের নতুন আনা সাতজন শ্রমিকের মধ্যে তিনজন ম্যানেজারের কাছে গিয়ে জানাল, তারা আর রাতের শিফটে কাজ করবে না। ম্যানেজার প্রথমে রেগে গেল। তারপর বোঝানোর চেষ্টা করল। শেষপর্যন্ত অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার কথাও বলল।
তারপরেও তারা রাজি হলো না। শেষ পর্যন্ত একজন বলল, “টাকা দিয়ে ভয় সরানো যায় না, স্যার।”
কথাটা শুনে ম্যানেজার চুপ করে গেল।
সেদিন রাতে মেঘদূত মাউন্টেন রিসোর্টের শেডগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক আগে আলো নিভে গেল। শুধু মূল নির্মাণস্থলের পাশে কয়েকটা বাতি জ্বলছিল। সেই আলো থেকে একটু দূরেই শুরু হয়েছে অরণ্য।
গাছের মাথাগুলো বাতাসে দুলছে। বাঁশঝাড়ের ফাঁকে ফাঁকে অন্ধকার আরও ঘন। নিচের ছড়ায় পানির শব্দ একটানা বয়ে যাচ্ছে। দূরের পাহাড়ে কোনো অচেনা পাখি ডেকে উঠল, তারপর সেই ডাক পাহাড় থেকে পাহাড়ে প্রতিধ্বনিত হয়ে মিলিয়ে গেল।
রিসোর্টের পাহারাদাররা সেদিন অরণ্যের দিকে তাকাতে সাহস করছিল না।
কিন্তু অরণ্যের এক জায়গায়, তাদের চোখের সম্পূর্ণ বাইরে, সেই সময়টাতেই রেজোয়ান দাঁড়িয়ে ছিল। তার সামনে নিচে নেমে গেছে একটা সরু ঢাল। তার ওপারে রিসোর্টের আলো। সে কয়েক মুহূর্ত স্থির দাঁড়িয়ে রইল। তারপর ঘড়ির দিকে তাকাল। রাত এগারোটা পঁয়তাল্লিশ। আরও কিছুক্ষণ অপেক্ষা করল সে। তারপর নিঃশব্দে পেছনে সরে গেল। কেউ তাকে দেখল না।
কিন্তু পরদিন সকালে রিসোর্টের প্রধান রাস্তার পাশে পাওয়া গেল একটা জিনিস। একটা পুরনো সামরিক ধরনের কম্পাস। রিসোর্টের কারও নয়। কেউ জানত না সেটা সেখানে এল কীভাবে।
আর সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার ছিল, কম্পাসটা এমন জায়গায় পড়ে ছিল, যেখানে পৌঁছাতে হলে রিসোর্টের পাহারার পুরো এলাকার ভেতর দিয়ে যেতে হয়।
ম্যানেজার কম্পাসটা হাতে নিয়ে অনেকক্ষণ তাকিয়ে রইল। তারপর প্রথমবার তার মনে হলো, এতদিন তারা যে মানুষটাকে দুরে খুঁজছিল, সে হয়তো তাদের নিজেদের চেয়েও অনেক কাছ থেকে তাদের সবাইকে দেখছে।
আর সেদিন রাতেই কোম্পানির মালিকের কাছে একটা ফোন গেল। ফোনের ওপাশ থেকে কাঁপা গলায় বলা হলো, “স্যার, ও শুধু ভয় দেখাচ্ছে না। মনে হচ্ছে ও আমাদের প্রতিটা লোকের চলাফেরা আলাদাভাবে খেয়াল করছে।”
কথাটা শুনে মালিক কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর জানালার বাইরে তাকিয়ে বললেন, “তাহলে এবার জানতে হবে, লোকটা আসলে কী চায়।”
কিন্তু তিনি জানতেন না, সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রেজোয়ান এখনো প্রস্তুত নয়।
(চলবে)3 Comments
আমি মানুষের ভীড়ে মানুষ খোঁজে ফিরি

বিষণ্ন সুমন
ডিজাইনার
স্কুল বয়েস থেকেই লিখালিখা করি। যদিও পড়ি তার আগে থেকেই। আমি বিশ্বাস করি, ভালো লিখতে হলে আগে ভালো পড়তে জানতে হবে। তাই এখন পর্যন্ত নিজেকে লেখক না ভেবে ভালো পাঠক হিসেবেই পরিচয় দিতে সাচ্ছন্দ্য বোধ করি। প্রথম প্রকাশিত বই সেই ১৯৯৬ সালের গ্রন্থমেলায় “কে বলে তুমি নেই” রোমান্টিক উপন্যাস এবং সম্পূর্ণ মৌলিক ওয়েস্টার্ণ “লোন রাইডার”। পরবর্তীতে ২০১২ সালের বই মেলায় অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত গল্প সংকলন। মাঝে banglanews24.com এর সাহিত্যপাতায় নিয়োমিত লিখেছি। আসলে আমি লেখায় কখনোই অনর্গল নই। মাঝেমাঝেই বন্ধাত্ব্য এসে আমায় থামিয়ে রাখে। একটা শব্দও লিখতে পারিনা। তখন আমার পুরনো লিখাগুলো নিজেই পাঠক হয়ে পড়ি আর ভাবি, এ গুলো কি সত্যিই আমি লিখেছিলাম(?)। এই ৫৪ বছর বয়সে এসেও এই একটাই প্রশ্ন নিজেকে করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত।
Friends
মেহেদী মারুফ
@maruf1
Redowan Hussain
@redowanhussain
ডা.এম.এইচ.রহমান খান
@drmhrahmankhan
Hashem Molla
@hashemmolla
Nusrat jahan
@shuha
রুবেল দে
@alexrubel630
Afra Anjum
@afraanjum
Sk Sagor
@sksagor
, মিঠুন কুমার ঘোষ
@mkghosh

আপনার এই সাবলীল বর্ণনাটি রহস্য এবং রোমাঞ্চের এক চমৎকার আবহ তৈরি করেছে, যা পাঠককে শেষ পর্যন্ত আটকে রাখতে সক্ষম। পাহাড়ের নীরবতা ও মানুষের মনে জমে থাকা ভয়ের এমন সূক্ষ্ম চিত্রায়ন সত্যই প্রশংসনীয়, যা অনেকটা রহস্যধর্মী উপন্যাস বা টানটান উত্তেজনার গল্পের কথা মনে করিয়ে দেয়। আপনি আরও লিখতে থাকুন, আপনার পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।