-
অনাহূত
বিদ্রোহী নিশানচৌদ্দটি বছর আমি মানুষ ছিলাম না,
রড-সিমেন্টের শক্ত খুঁটি ছিলাম।
যেখানে আবেগ, শখ ও ইচ্ছে নামের কোনো কোষ নেই।
বাবার নুয়েপড়া কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে
ঘরটাকে ধরে রেখেছি শক্তভাবে,
যেন মধ্যবিত্তের ঝোড়ো হাওয়ায় কেঁপে না ওঠে।নিজের স্বপ্নগুলোকে পিষে
তৈরি করেছিলাম ঘরের ভিত,
শখগুলো বিসর্জন দিয়েছিলাম
প্রতিদিনের বাজারের থলিতে।
বাবার সাথে যে সন্তান লড়াই করে গেছে,
তার বুকপকেটে জমা রক্তিম ক্লান্তি কেউ দেখেনি।আজ সবাই নিজের ডানা বুঝে পেয়েছে,
উড়তে শিখে গেছে স্বাবলম্বিতার আকাশে।
বাবাও ওপারে চলে গেছেন ঘানি টেনে টেনে।
যে ঘর আমি রক্ত দিয়ে সিঞ্চন করেছিলাম,
সেই ঘরেই আজ আমার নাম—আগাছা।আমার ভাঙাবুকে একটুকরো আশ্রয়ের তৃষ্ণা,
আমার পাঁচ মাসের কচি চারামানবের জন্য
বড্ড বেশি ঘর প্রয়োজন ছিল।
কিন্তু যে উঠোন আমি পরিষ্কার রেখেছি চৌদ্দ বছর,
সেই উঠোনেই আমার ছোট্ট নিষ্পাপ ফুলটি
আমার মতোই সমান অবহেলিত, অনাহূত।জীবনের শূন্য থলির দিকে তাকিয়ে ভাবি—
যে মাটি উর্বর করতে সঁপে দিয়েছি সব,
সে মাটি আমার রক্তজবা চারাগাছকেও
বড্ড পর করে দিলো ভীষণ অবহেলায়।5 Comments-
-
নিশান, আপনার লেখাটা পড়ে বুকটা সত্যি হু হু করে উঠল। পরিবারের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করার পরেও এমন অবহেলা মেনে নেওয়াটা আসলেই অনেক কষ্টের।
-
নিশান, আপনার ‘বাবার নুয়েপড়া কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে ঘরটাকে ধরে রেখেছি শক্তভাবে’—এই লাইনটি পড়ে আপনার আত্মত্যাগের গভীরতা আর ভেতরের অব্যক্ত যন্ত্রণা খুব স্পষ্টভাবে হৃদয়ে ছুঁয়ে গেল। এমন দরদমাখা লেখা অন্যদেরও অনেক অনুপ্রাণিত করবে, তাই এই গ্রুপে সবার লেখাতে নিয়মিত প্রতিক্রিয়া আর মন্তব্য জানিয়ে আমাদের প্রিয় এই আড্ডাখানাটি আরও প্রাণবন্ত রাখার অনুরোধ রইল।
-
Friends
Santo Mon
@santomon
ডাঃ মোঃ ইনজামামুল শিকদার
@mdinzamamulsikder
Nafisa Afrin
@nafisaafrin
MUHAMMAD ARIF KHAN
@muhammadarifkhan
শারমিন আক্তার
@sarmin
মোঃ রিয়াদ হাছান
@riadhasan751
অমিত
@amitroy
Mohammad Abul Hosein
@mohammadabulhosein
tofazzal hossain
@tofazzalhossain


যে সন্তান ঘরের ভিত গড়ে, শেষমেশ সেই ঘরেই আগাছা হয়ে থাকা….এ বেদনা সত্যিই নির্মম…🖤