-
এক গ্রামে নদীর ধারে দুটি গাছ পাশাপাশি বড় হচ্ছিল। একটি ঝাউগাছ, আর একটি বাঁশগাছ।
ঝাউগাছটি ছিল বেশ একগুঁয়ে। তার ইচ্ছা, নদীর সব বাতাস তার সুরেই গান গাইবে। কিন্তু বৈশাখী হাওয়া এলে সে সোজা হয়ে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকত, একচুল নমনীয় হতো না। ফলে হালকা বাতাসেই সে ক্লান্ত হতো, আর প্রবল ঝড়ে তার ডালপালা মচকে যেত। সে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলত, “বাতাস কেন আমার মতো নরম আর ধীর হয় না?”
অন্যদেও বাঁশগাছটি ছিল একেবারে অন্যরকম। যখন দখিনা বাতাস আসত, সে নরম সুরে পাতা দোলাত। যখন উত্তর দিক থেকে হিমেল হাওয়া বইত, সে পাতা দিয়ে ঝিরিঝিরি শব্দ করত। আর যখন প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড় আসত, সে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে জেদ না করে বাতাসের টানে মাটির দিকে নুয়ে পড়ত। ঝড় থেমে গেলে আবার মাথা তুলে হাসত।
ঝাউগাছ একদিন বাঁশকে বলল, “তোমার কি নিজের কোনো ব্যক্তিত্ব নেই? যে বাতাস যেভাবে আসে, তুমি তার সাথে সেভাবেই নাচতে শুরু করো!”
বাঁশগাছ মুচকি হেসে জবাব দিল, “বন্ধু, এ বিশাল বনে বাতাস কত রঙের! কোনো বাতাস মিষ্টি, কোনোটা উদাস, কোনোটা বা একঘেয়ে। সব বাতাসকে যদি আমি আমার মতে চালাতে চাই, তবে তো আমি ভেঙেই গুঁড়িয়ে যাব। সবাইকে তাদের নিজস্ব রূপেই গ্রহণ করতে হয়। যে বাতাস যেমন, তার ছন্দে তাল মেলালেই তো সোজা হয়ে বেঁচে থাকা যায়।”
ঝাউগাছ কথাটি সেদিন বুঝতে পারেনি। কিন্তু রাতের এক প্রলয়ঙ্করি ঝড়ে শক্ত ঝাউগাছটি গোড়া থেকে উপড়ে পড়ে গেল। আর বাতাস শেষ হলে দেখা গেল, বাঁশগাছটি একফোঁটা বৃষ্টি গায়ে নিয়ে বাতাসে দুলছে—ঠিক আগের মতোই সহজ ও অক্ষত।
ভাব সম্প্রসারণ: আমাদের চারপাশে বহু মানুষের মেলামেশা। সবাইকে নিজের ছাঁচে ফেলার চেষ্টা না করে, যার মানসিকতা যেমন তাকে সেভাবে গ্রহণ করে মানিয়ে চলার নামই জীবন। নমনীয়তাই বেঁচে থাকার আসল শক্তি।5 Comments
Friends
Urmee Islam
@urmeeislam
shilpi,Ranisankail
@shilpiranisankail
Sumaiya Ashraf
@ali-ashraf-m1960gmail-com
EMON
@emon1
শাহরিয়ার সাওম
@shahriarsaum760gmail-com
Mahdia Rashid
@mahdiarashid
mithila jannat
@mithilajannat
সাদিয়া আক্তার রিমি
@sadiaakterreme
Ayesha akter Shilpi
@ayeshaaktershilpi



পরিস্থিতির সঙ্গে একটু মানিয়ে চলতে পারাটাই টিকে থাকার প্রথম শর্ত।