Profile Photo

Legendary POET MD HEDAETUL ISLAM teji kobiOffline

  • tejikobi
  • Profile picture of Legendary POET MD HEDAETUL ISLAM teji kobi

    শেষ আকুতি
    মোহাম্মদ হেদায়েতুল ইসলাম

    আমি তেজী যুবক বয়স ছাব্বিস মাত্র ,
    যেনোতেনো রোগে কাবু হবার নই যে আমি পাত্র ।
    নিরোগ সতেজ ছিলাম তরতাজা,
    কভু ভাবিনি এত করুন হবে মোর সাজা।
    ষোলো দিন আগে হলো একটু জ্বর,
    সাধারণ ফ্লু ভেবে চুপচাপ ছিলাম দিনটাভর;
    পনেরোদিন আগে শরীর ব্যথা যখন ,
    চট করে পেইনকিলার খেলাম তখন ।
    চৌদ্দ দিনের কালে জ্বর শরীর ব্যথা ছিল,
    পেইন কিলারেই থেকে যাই মন সাড়া যে দিল।
    বলছি তেরো দিন আগের কথা,
    আজগবি ব্যাপার গলাতেই যে সব ব্যাথা।
    বারো দিনের কালে জ্বর,কাশি,ব্যাথা গলে আমার,
    পরীক্ষা করতে ধেয়ে হলাম সোচ্চার।
    কোভিড-১৯ পজিটিভ হলো এগারো দিনের যখন শেষ,
    ঘ্রাণ ও স্বাদ হারালাম এই রোগের চরম রেশ।
    দশম দিনে কর্ণ গলার ব্যথায় হলাম কাত ,
    জ্বর দেহে গন্ধ নেই, স্বাদ নেই ,পারি নাই খেতে ভাত।
    সব উপসর্গ দেখা দিল নবম দিনের কালে,
    শ্বাসকষ্ট এতটাই কি ছিল মোর ভালে।
    অষ্টম সপ্তম দিনও গেল আমার;
    শ্বাস যন্ত্রণায় কাতর ছিলাম বারে বার।
    ছয় দিনের বেলায় ঘর থেকে বের করে ওরা,
    পুলিশ আর স্বাস্থ্যকর্মী অ্যাম্বুলেন্সে নিতে হয় পাগল পারা।
    অসহায় মা-বাবার করুন সে চিৎকার,
    ভাই-বোন শোকে মুহ্যমান ছিল যে নির্বিকার।
    লকডাউনে শূন্য হয়েছিল মোর বাড়ি,
    মা চিৎকার দিলো কলিজারে তুই যাবি কই মোরে ছাড়ি।
    অ্যাম্বুলেন্স এল কতইনা সাইরেন দিয়ে,
    বুঝেছিলাম ওরা ঠিকই আমায় যাবে নিয়ে।
    শ্বাস যন্ত্রণায় গাড়িতে শুয়ে ছিলাম,
    অ্যাম্বুলেন্সের ছোট জানালাটি দিয়ে অবাক নয়নে দেখলাম।
    বিদায় পথে অশ্রুসিক্ত মা আমার রইল শুয়ে,
    দু-হাতে মাথাটা চেপে বাবা দু-হাটু ধুলায় গেঁথে পড়ে ছিল নূয়ে।
    আমার কাছে পৌঁছাবে তাই ছুটে ছিল ছোট ভাই,
    ঘরের মেঝেতে বোনও অচেতন পড়েছিল যে তাই।
    আমি শেষ দেখা দেখেছিলাম আজন্ম প্রিয় মানুষ গুলোকে,
    জানতাম এর চাইতে প্রিয় মানুষ নাই আমার এই ভুলোকে।
    ছয়টা দিন বেঁচে ছিলাম কতই না পথ্য খেয়ে,
    মিরাকেল হত যদি সেরে উঠতাম পরাজিত এই শরীর নিয়ে।
    ডাক্তার এর চোখ দেখে বুঝেছি মারা যেতে হবে,
    জন্মভূমি, এই পৃথিবী, প্রিয় মায়ের বুক আমি শূন্য রবে।
    জানি আমার লাশটাকে ছুঁতে পারবে না পরিজন কভু,
    শেষ আকুতি এমন মৃত্যু দিও না কাউকে প্রভু।
    জানাযায় পাঁচ পুলিশ হবে ন্যস্ত,
    জানি দাফনে হবে চার জন ব্যতিব্যস্ত ;
    মা নিষিদ্ধ, বাবা নিষিদ্ধ, নিষিদ্ধ বোন ও ভাই,
    লাশের পাশে তাইতো আজ কোন প্রিয়জন নাই।
    আমি শাহরিয়ার বলিষ্ঠ যুবক ছিলাম,
    করোনা ভাইরাসে আমি আজ হেরে গেলাম।
    প্রিয় পৃথীবি বেঁচে থাক হয়ে শান্ত,
    হাসপাতালের বিছানা হতে বলছি মানব সকল হবে না বিভ্রান্ত।
    আঠারো দিন আগে মায়ের নিষেধ গ্রাহ্য করি নাই,
    ঘর থেকে বেরিয়ে করোনা দিলাম এই শরীরে ঠাঁই।
    জানিনা এই ব্যধিতে আমার দ্বারা,
    সংক্রমিত হলো বাবা-মা, ভাই-বোন আর কে বা কারা;
    মানুষ ঘরে থাকো, ভালো হোক তোমাদের নিয়তি,
    সচেতন হও সুস্থ থাকো এই মোর শেষ আকুতি।

    7
    3 Comments
Skip to toolbar