-
প্রবন্ধ :
গৃহিণী পরিবার, সমাজ ও দেশের অদৃশ্য চালিকাশক্তিগবেষণায়: মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ( কবি মিজান পঞ্চায়েত/কবি মিজান বিএসসি)
বি. এস সি (গণিত) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, বি. এড।সারসংক্ষেপ
গৃহিণী পরিবারের এমন এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য, যার শ্রম, দায়িত্ববোধ ও সেবার ওপর একটি পরিবারের সার্বিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করে। যদিও গৃহিণীর কাজ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অর্থনৈতিকভাবে মূল্যায়িত হয় না, তবুও পরিবারের প্রতিটি সদস্যের সুস্থতা, শিক্ষা, নৈতিকতা, নিরাপত্তা ও মানসিক বিকাশে তাঁর অবদান অপরিসীম। এই গবেষণাধর্মী প্রবন্ধে গৃহিণীর দায়িত্ব, সামাজিক গুরুত্ব এবং পরিবার ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
ভূমিকা :
পৃথিবীতে শত শত পেশা আছে। এসব পেশার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পেশা হলো গৃহিণী। এটি একটি সেবামূলক পেশা। পৃথিবীর সকল পেশা জীবীদের কাজ করার জন্য সর্ব প্রথম দরকার শরীর ও মনের সুস্থতা। আর সকল পেশাজীবীদের শরীর ও মন সুস্থ রাখার নেপথ্যে নিরলসভাবে কাজ করেন গৃহিণীরা। তাই বলা যায়, গৃহিণী পেশা হলো বাকী সব পেশার মা।
আবার, যেহেতু গৃহিণীরা পরিবারের সকল সদস্যদের প্রয়োজনীয় সেবা প্রদানের মাধ্যমে শরীর ও মন সুস্থ রেখে তাদেরকে স্ব স্ব পেশাগত কর্ম সম্পাদনের জন্য প্রেরণ করেন সেহেতু গৃহিণী পেশাকে বাকি সব পেশার চালিকা শক্তি ও বলা যায়।গৃহিণী কে : একটি পরিবারের সকল প্রকার দায়িত্ব ও কর্তব্য সুচারুভাবে পালনকারী ব্যক্তিকে বলা হয় গৃহিণী। গৃহিণী সাধারণত পরিবারের একজন নারী সদস্য হয়ে থাকেন।
গৃহিণীর দায়িত্ব ও কর্তব্য: একজন গৃহিণী প্রতিদিন প্রতিক্ষণে কমপক্ষে দশটি দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করেন। নিম্ন এগুলোর এক একটির বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১) পরিস্কার পরিচ্ছন্ন ও জীবাণুমুক্ত রাখা: একজন গৃহিণী পরিবারের সকল সদস্যের জামা কাপড়, বিছানা পত্র, ঘরদোর, আঙ্গিনা, রান্না ঘর, ওয়াশ রুম ও পশু পাখির ঘর নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং যথাসম্ভব জীবাণুমুক্ত রাখেন। পরিবারের সকল সদস্যের ব্যক্তিগত পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার প্রতিও বিশেষ খেয়াল রাখেন।
২) খাবার তৈরি ও পরিবেশন: একজন গৃহিণী প্রতিদিন সঠিক সময়ে পরিবারের সবার বয়স উপযোগী করে সুষম পুষ্টিকর খাবার তৈরি করেন এবং সকাল, দুপুর, বিকাল ও রাতে নির্ধারিত সময়ে তা পরিবেশন করেন। কোন খাবার যাতে অপচয় ও নষ্ট না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখেন।
৩) পশু পাখি ও বাগান পরিচর্যা: একজন গৃহিণী প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে গৃহপালিত পশু পাখিকে খাবার ও পানি খেতে দেন এবং বাড়ির বাগানের পরিচর্যা করেন।
৪) শিশু,বৃদ্ধ ও অসুস্থদের সেবা: একজন গৃহিণী প্রতিদিন প্রতিক্ষণে পরিবারের অসুস্থ, বৃদ্ধ ও শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর রাখেন এবং তাদের সেবা করেন। সঠিক সময়ে তাদের প্রয়োজনীয় খাবার, ঔষধ ও পথ্য খাওয়ান।
৫) পড়ালেখা ও নীতি নৈতিকতা শিক্ষাদান: একজন গৃহিণী পরিবারের শিক্ষার্থীদের সময়মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠান। বাসায় পড়তে বসান এবং পড়ালেখার প্রতি খেয়াল রাখেন। তাছাড়া তাদেরকে আদব কায়দা ও নীতি নৈতিকতা শিক্ষা দেন। পরোপকার ও দানশীল হতেও শিক্ষা প্রদান করেন।
৬) ঘুম ও বিশ্রামের ব্যবস্থা: একজন গৃহিণী প্রতিদিন, পরিবারের সকল সদস্য সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় ঘুম ও বিশ্রাম নিচ্ছে কিনা তা তদারকি করেন।
৭) চিত্ত বিনোদনের ব্যবস্থা: একজন গৃহিণী পরিবারের সদস্যদের বয়স উপযোগী সুস্থ চিত্ত বিনোদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যবস্থা করে তাদের চিত্ত বিনোদনে সহযোগিতা করেন। মাঝে মাঝে সবাইকে নিয়ে বেড়াতে বের হন। ফলে সবার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।
৮) প্রতিবেশী ও আত্নীয় স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক রাখা: একজন গৃহিণী তার প্রতিবেশী ও আত্নীয় স্বজনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রাখেন। তাদের সাথে বিভিন্ন ধরনের উপহার সামগ্রী ও পিঠা পায়েস বিনিময় করেন। তাদেরকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাওয়াত দেন, নিজেরাও তাদের বাড়িতে বেড়াতে যান।
৯) সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ: একজন গৃহিণী পরিবারের সকল প্রকার সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণ করেন। কোন সম্পদ যাতে নষ্ট বা চুরি না হয় সে লক্ষ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
১০) নিজের প্রতি খেয়াল রাখা: কথায় আছে, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। একজন গৃহিণী পরিবারের সকল দায়িত্ব-কর্তব্য পালনের পাশাপাশি নিজের স্বাস্থ্য, খাওয়া, ঘুম, বিশ্রাম ও চিত্ত বিনোদনের প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখেন। কারণ তিনি জানেন, তিনি হলেন পারিবারিক পরিবহনের ড্রাইভার। তিনি অসুস্থ হলে, সমগ্র পরিবার অচল হয়ে যাবে।
উপসংহার: উপরোক্ত আলোচনা থেকে নিঃসন্দেহে বলা যায়, গৃহিণীই হলো পরিবার তথা সমাজ ও বিশ্বের পরোক্ষ চালিকাশক্তি। বিশ্বের শান্তি ও সমৃদ্ধির স্বার্থেই শ্রেষ্ঠ পেশাজীবী হিসেবে গৃহিণীদের যথাযথ মূল্যায়ন করতে হবে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে তাদের পেশাগত মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করলে, প্রতিটি পরিবার হয়ে উঠবে এক একটি শান্তি সুখের নীড়। গৃহিণীদের কাজের পরিধি অনেক বেশি। তাই পরিবারের সকল সদস্যকে অবশ্যই গৃহিণীদের কাজে সহযোগিতা করতে হবে এবং তাদের নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।
4 Comments-
মোহাম্মদ মিজানুর রহমান (কবি মিজান পঞ্চায়েত/কবি মিজান বিএসসি), “গৃহিণী পেশা হলো বাকী সব পেশার মা”—আপনার এই চমৎকার উপলব্ধিটি গৃহিণীদের অপরিসীম গুরুত্বকে খুব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছে এবং আপনার লেখায় প্রতিটি দায়িত্বের নিখুঁত বিশ্লেষণ আমাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে, তাই সামনের দিনগুলোতেও আপনি এমন সুন্দর সব ভাবনা নিয়ে আমাদের মাঝে নিয়মিত থাকবেন এই প্রত্যাশা রইল।
Friends
নাজমুল হাসান সাকিব
@publiconline
সিরাজুল ইসলাম
@sherajulislam
tamim yeasin
@tamimyeasin
নাহিদ হাসান নয়ন
@nahid-hasan-noyon
Nusrat jahan Sadia
@nusratjahansadia
ফরিদুল ইসলাম
@dailychandpursomoy
Eqbal Hossain
@eqbalhossain
আব্দুর রাজ্জাক শেখ
@arazzak
S Ahmed Tusher
@sahmedtusher


গৃহিণীর নীরব শ্রমেই পরিবার, সমাজ ও দেশের অদৃশ্য চাকা অবিরাম ঘুরে চলে…🖤