Profile Photo

Hasan AminOffline

  • hasanamin
  • Profile picture of Hasan Amin

    Hasan Amin

    • 2 days, 4 hours ago

    আমাদের হাইস্কুল
    “হাসান আমিন“
    *
    -কিরে কি অবস্থা ?
    মাসুম চুপ।
    – মাষ্টের কি আবার পানিশমেন্ট দেছে ?
    মাসুম আবারো চুপ।
    – কিরে জুবান বন্ধ —-
    মাসুমের মাথায় এবার রক্ত চড়ে গেল। দুম করে এক কিল বসিয়ে দিলো মুবিনের নাকে।
    **
    মাসুম হেডমাস্টারের সামনে মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছে। হেডমাস্টার সাহেব হুঙ্কার দিয়ে উঠলেন,
    কিরে হারাম– কিছু বলছিস না কেনো ? মুখে কুলুপ এটেছিস নাকি ?
    মাসুমের চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ছে। মুবিন আর ও খুবই ভালো বন্ধু। তারপরও যে সে আজ কেনো যে এ কাজ করলো, সে নিজেই জানে না।
    ***
    পুরো হাইস্কুলে খবর হয়ে গেছে যে, মাসুম তার সর্বোচ্চ বন্ধু মুবিনের নাক ফাটিয়ে দিয়েছে। তেমন কোন ঘটনা না। এই স্কুলে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। কিন্তু আজকের ঘটনা ভিন্ন। মাসুম আর মুবিন এমন এক ডুয়ো, যাদের উপস্থিতি পুরো পরিবেশকে ঠান্ডা করে দেয়। মাসুমের কাছে সবসময় একটা ক্ষুর থাকে আর মুবিনের কাছে একটা ক্রিকেট ব্যাট। মুবিন এ পর্যন্ত দুই জনের ব্যাট দিয়ে মাথা ফাটিয়েছে তবে মাসুমের ব্যপারে কোন কমপ্লেন নেই। তবে ব্যপার যাই হোক , মাসুম যে মুবিনকে কেন মারলো, এ ব্যপারে সবাই এখন ধোয়াশার ভিতর আছে।
    ****
    হেডমাষ্টার জয়নুল আবেদীন সাহেব ভালো টেনশনে পড়েছেন। অন্য কোন ছেলেপুলে হলে দু চারটা চড় থাাপ্পড় দিয়ে বিদায় করে দিতেন। কিন্তু এই মামলায় তিনি খুবই বড় ভেজালে জড়িয়ে যাবেন।মুবিনের বাবা বাজারের একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। আর এদিকে মাসুমের বাবা করিম মাস্টার বর্তমান সরকার (বিএনপি) দলীয় একজন প্রভাবশালী নেতা। যদি কোনভাবে এ ঘটনা থানা পুলিশ বা মিডিয়া পর্যন্ত যায়, তাহলে সব শেষ। স্কুলের ইমেজ সব ধুলোয় মিশে যাবে।
    – স্যার, ভিতরে আসবো ?
    – আরে হেলাল স্যার যে , আসুন আসুন। আপনাকেই মনে মনে খুজছিলাম।
    – ঘটনা কি শুনেছেন স্যার ?
    – সেটা নিয়েই তো ভাবছিলাম স্যার ।
    ******
    টিফিন টাইম। হিরণ আর বিধান দাবার বোর্ডে বসেছে। দুই দান খেলা হয়েছে। দুই দানই ড্র। হিরণ বললো, নাহ ! তুই খেলা শিখে গেছিস। বিধান বললো, আমি খেলা শিখিনি, বরং তুই খেলা ভুলে গেছিস।
    – শালা, আমি খেলা ভুলে যাবো কেন রে ?
    – কারণ আজকে কলেজে একটা বিশেষ ঘটনা ঘটেছে।
    হিরণ চুপ করে গেল। আসলেই তো । আজ যা ঘটেছে , তা নিয়ে সবাই মোটামোটি নার্ভাস।
    – একটা জিনিস মাথায় ঢুকছে নারে।
    – কি ?
    – মাসুম মুবিনের নাকে একশো ডিগ্রি এঙ্গেলে বসিয়ে দিলো, অথচ মুবিন কিছুই বললো না !
    বিধানের ঠোঁটের বা কোণ এবার হেসে উঠলো।
    – হাসছিস কেন রে ?
    – মুবিন যে মাসুমের বেস্ট ফ্রেন্ড এটা তো জানিস।
    – সেটা তো সবাই জানে ।
    – স্কুল টাইম বাদে ওরা যখন একসাথে ঘোরে তখন একটা কমন বিষয় খেয়াল করেছিস ?
    – কি কমন বিষয় ?
    – মাসুম সবসময় গেন্জি আর লুঙ্গি পরে ঘোরে ।
    – তাতে কি হয়েছে ?
    – তাতে অনেক কিছু হয় রে পাগলা।
    ******
    সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে। মুবিন-মাসুম কেসের সবকিছু খুব সুন্দরভাবে মিটে গেছে। হেলাল স্যার বিষয়টাকে দারুনভাবে হ্যান্ডেল করেছেন।
    আজ বৃহঃবার। সাপ্তাহিক দাবা টুর্ণামেন্টের দিন। মুখস্থ টুর্ণামেন্ট। সব শেষে হিরণ আর ইরিনা ফাইনালে ওঠে। আজও তাই। খেলা শুরু হবে এমন সময় একটা বিপত্তি বাধলো। মাসুম আর মুবিন এসে উপস্থিত। ( বলে রাখা ভালো, মুবিন হাসপাতালে দুইদিন ভর্তি ছিল। রিলিজ পাওয়ার পর বাড়িতে এসে মাসুমের সাথে এমনভাবে মিশেছে যেন কিছুই হয়নি।) মুবিনের নাকে ব্যান্ডেজ হাতে ব্যাট। মাসুমের হাতে ক্ষুর। হলরুম অস্বাভাবিক রকমের ঠান্ডা হয়ে গেল। কারণ মাসুমের হাতে যে ক্ষুর তাতে রক্তমাখা।
    মাসুম ঘোষণা করলো, আজকের ফাইনাল খেলা সে খেলবে। সুতরাং কোনো একজন ফাইনালিস্টকে এখান থেকে উঠে যেতে হবে। হেলাল স্যার কিছু বলতে যাচ্ছিলেন , সাথে সাথে মুবিন হিরণের মাথায় ব্যাট ধরলো। হেলাল স্যার চুপ করে গেলেন। এই মুহুর্তে কোন ঝামেলা তিনি চাচ্ছেন না। হিরণ বেঞ্চ থেকে উঠে গেল। মাসুম আজ কার সাথে বাধিয়ে এসেছে কে জানে।
    মাসুম ইরিনার মুখোমুখি বসেছে। টাইমার চালু করে দিয়ে মাসুম ইরিনাকে বললো, এই ক্ষুরে কার রক্ত লেগে আছে জানিস ?
    ইরিনার কলজে এমনিতেই শুকিয়ে গিয়েছিল। মাসুমের কথা শুনে আরও শুকিয়ে গেল। পুরো হলরুমে পিনপতন নীরবতা। কেউ বেরিয়ে যাবে সে সাহসও কারো হচ্ছে না। কারণ দরজায় মুবিন ব্যাট হাতে দাড়িয়ে আছে।
    ইরিনার সাদা গুটি। খেলা বিশ মিনিটের। চার মিনিট হয়ে গেছে। সে এখনও কোন চাল দেয়নি। মাসুম ক্রমাগত হাতের ক্ষুরটি চড়াৎ চড়াৎ করে ঘুরাচ্ছে। এমন সময় বাইরে শোরগোল শোনা গেল। মাসুম মুচকি হেসে উঠে দাড়ালো।
    – ইরিনা !
    – জ্বী ভাই ?
    – বলতো ভালোবাসা কাকে বলে ?
    ইরিনা ভয়ানক একটা চমক খেল। আর সবাইকে চমকে দিয়ে হুড়মুড় করে একদল পুলিশ হলরুমে ঢুকে পড়লো।
    – মিস্টার মাসুম ! আপনাকে আমাদের সাথে থানায় যেতে হবে।
    ওসি সাহেবের গম্ভীর গলা। মাসুম সবার সামনেই নিজের হাতে হ্যান্ডকাফ পরলো।
    মাসুমকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাচ্ছে। সবার সাথে ইরিনাও তাকিয়ে আছে তাদের গমন পথের দিকে।

    সমাপ্ত

    2
    6 Comments
    • হাসান আমিন, “বলতো ভালোবাসা কাকে বলে ?” – এই লাইনটা পড়ার সময় সত্যি খুব অদ্ভুত একটা শিহরণ খেলে গেল মনের ভেতর।

    • আপনার লেখনীতে টানটান উত্তেজনা ও রহস্যের যে আবহটি ফুটে উঠেছে তা সত্যিই দারুণ, তাই কাহিনীর মোড়গুলো আর চরিত্রগুলোর গভীরতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে আপনি চাইলে সংলাপগুলোতে আরো কিছুটা সূক্ষ্ম ইঙ্গিত যোগ করার কথা ভেবে দেখতে পারেন।

    • কৈশোরের উন্মাদ অন্ধকারে বন্ধুত্ব, ভয় আর ভালোবাসার যে দাবার চাল চলে, তার শেষ ঘুঁটিতে সত্যই নীরবে জয়ী হয়……🖤🖤

Skip to toolbar