-
অশিক্ষকের ফাঁদে আমাদের শিক্ষা
এম এ রশিদ
চায়ের দোকান, ধানের মাঠ থেকে শুরু করে দেশ-সমাজের সর্বোত্র মানুষের মুখে মুখে একই কথা ঘুরে ফিরছে, স্কুল-কলেজে ক্লাস হয়না। সেজন্যে শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায়না। শিক্ষকরা বলছেন, শিক্ষার্থী না থাকলে পড়াবো কাকে? আবার, সরকার বলছে, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের অভাব। এখানে প্রত্যেকের দাবীই আংশিক হলেও সত্য। যার যার অবস্থান থেকে শুধু সমালোচনা না করে সাধ্যমতো দ্বায়ীত্ব পালন করে এই সমস্যা সমাধানে কিছুটা হলেও অবদান রাখা সম্ভব। যেমনঃ
চায়ের দোকানে বা ধানের মাঠে অযথা সমালোচনা না করে আপনার সমাজে অবস্থিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি আকর্ষণ করুন। শিক্ষকদের দ্বায়ীত্ববান হতে সহায়তা করুন। এটা আপনার নাগরিক কর্তব্য-অধিকার। শিক্ষকগণ কার্যকর শাসন ও অভিভাবকদের সাথে সংশ্লিষ্টতা বাড়াতে পারেন। প্রধানগণ প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থেকে শ্রেণি কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন। তাহলে ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারেন। আর সরকার বাহাদুর শিক্ষকদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে পারেন। এসব প্রচেষ্টা যে একেবারে হয়না তা নয়। কিন্তু তবুও পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন হচ্ছে না। তাই এসবের বাইরে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার ৯৭% বেসরকারি। বেসরকারি মানে unprivileged অথবা underprivileged। অর্থাৎ, সুবিধাবঞ্চিত বা কম সুবিধাপ্রাপ্ত। আমরা যে ঘোড়াটাকে কম খাওয়াবো, সেটা কম দৌড়াবে, এটাই স্বাভাবিক। কারণ তার সক্ষমতা দিনদিন কম হয়ে যায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী যখন অবহেলিত, তখন তারাও অবহেলা শিখবে। এটা বিচিত্র কিছুনা। তাই দৌড় প্রতিযোগিতায় পাঠানোর আগে ঘোড়াটাকে উত্তমরুপে খাওয়াতে হবে।
অশিক্ষক দ্বারা নিকৃষ্ঠভাবে আষ্টেপৃষ্টে বাঁধা আমাদের শিক্ষা। তাই শিক্ষার আলো অশিক্ষার অন্ধকারে বিলিন হয়ে যাচ্ছে নিরন্তর। শিক্ষক দেন শিক্ষা, তাহলে অশিক্ষক দেন কি? এখন বলতে চাই অশিক্ষক দ্বারা আমরা কি বোঝাতে চাচ্ছি।
১। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে পেশাগতভাবে যুক্ত নন, অথচ কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্য গড়ে তুলেছেন। এমন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ অশিক্ষক। শিক্ষার্থীদের ক্লাসবিমুখ করার জন্যে এই ধরেণর অশিক্ষকরা ভিষণ দক্ষতার পরিচয় দিয়ে যাচ্ছেন। না পড়ে পাশ করার বিভিন্ন কৌশল যেমনঃ ম্যাজিক পদ্ধতি শেখাচ্ছেন, যা মাছ ধরা চারের মতো কাজ করে। তাদের কয়েকজনকে আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই। বিচারের দ্বায়ীত্ব আপনাদের।
ক একজন স্বাস্থ্য কর্মি কিন্তু নামকরা প্রাইভেট টিউটর;
খ একজন অর্ধশিক্ষিত পেশাহীন অথচ স্নাতক পর্যন্ত ইংরেজি পড়ান;
গ একজন
২। এক বিষয়ের বা লেভের শিক্ষক হয়ে যারা অন্য বিষয়ে বা লেভেলে পড়ান, হোক সে ক্লাস অথবা কোচিং বা প্রাইভেট, তারা সংশ্লিষ্ট বিষয় ছাড়া অন্য সকল বিষয়ের অশিক্ষক। ধরা যাক, ক দেশের একজন সেরা বাংলা শিক্ষক। এখন তিনি যদি সিদ্ধান্ত নেন যে, তিনি ইংরেজি বা অন্য কোন বিষয় পড়াবেন, আমরা বলবো, তিনি অশিক্ষক হবার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ, তিনি নিজ বিষয়ের মহাসমুদ্র পাড়ি দিতে পারলেও, অন্য বিষয়ের কিনারা পার হতে সক্ষম নন। তিনি ভাবতে পারেন, আমি সব জানি। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। তার এমন মনে হবার কারণ হলো, তিনি এই সাগরে কখনো নামেননি। তাই একে অগভীর মনে হচ্ছে। বস্তুত, তারাই শিক্ষার বাণিজ্যিক রুপ দিয়েছে। কারণ, নিজ বিষয়ে বাণিজ্য করা যায়না ছাত্র পাওয়া যায় না। ফলে তারা নিজেদের স্বার্থে শিক্ষার্থীদের মেধা আর ভবিষ্যত নিয়ে ছিনি খেলে যাচ্ছেন। ছোট ক্লাস এক প্রকারে না হয় মানা গেলো। কিন্তু এইচ এসসি বা স্নাতক স্নাতকের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্লাসে এটা কিভাবে চলতে পারে? এখানে তো বিষয় বিশেষজ্ঞ শিক্ষকরাও হিমসিম খান। তাদেরও নানা ধরণের ট্রেনিং করানো হয়। আর বিষয় শিক্ষাহীন, প্রশিক্ষণহীন এসব অশিক্ষকগন টিকে আছেন শুধুমাত্র ভেল্কিবাজি করে।
সবচেয়ে বড় ক্ষতি এই যে, তারা কখনো কোন গভীর বিষয়ে পাঠদান করতে সক্ষম না। তাই শিক্ষার্থীদের কাছে এদের পড়া সহজ লাগে। কিন্তু ক্লাসের বিষয় বিশেষজ্ঞ শিক্ষকের পাঠদান তাদের কাছে কঠিন লাগে। কারণ, শিক্ষক প্রয়োজনে গভীর আরও গভীরে প্রবেশ করেন। তাই যারা অশিক্ষকের ফ্যান খেয়ে অভ্যস্ত, তারা শিক্ষকের ভাত, কোরমা পোলাও খেতে রাজি থাকেনা। তাই ক্লাসে উপস্থিতি কমতে থাকে। আজকের সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষা এই প্রাণঘাতি রোগে আক্রান্ত। যার ফল আমরা দেখতে পাচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় ৯৪% ফেল, আর আন্তর্জাতিক মানদন্ডে আমাদের উচ্চমাধ্যমিক পাস শিক্ষার্থীরা সপ্তম শ্রেণির সমান!!😂2 Comments
Friends
Mustafa Nazmus Sakib (Zubair)
@mustafasakib
Kazi Mahabubur Rahman
@kazimahabuburrahman
Mahdia Rashid
@mahdiarashid
mithila jannat
@mithilajannat
সাদিয়া আক্তার রিমি
@sadiaakterreme
Miftah Khan
@miftahkhan
Tiplu Hasan Tamim
@hafez
Fafimamst Begom
@fafimamstbegom
Md Najmul
@mdnajmul


শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সরকারের প্রত্যেকেরই কিছু দায়িত্ব আছে— একমত