-
“দীর্ঘশ্বাস”
“সামিরা হিমু”আমার ঘন হয়ে ওঠা দীর্ঘশ্বাস কি তোমার দুয়ারে আছড়ে পড়ে না?
নিভৃতে, গভীর রাতে যখন বুকের ভেতর জমে থাকা কথাগুলো দীর্ঘশ্বাস হয়ে বেরিয়ে আসে, তখন কি তার কোনো শব্দ তোমার জানালার কাঁচে গিয়ে লাগে না? তুমি কি একবারও থমকে দাঁড়িয়ে ভাবো না—কোথাও কেউ একজন হয়তো তোমাকে ভীষণ করে মনে করছে?আমার অনুপস্থিতি কি তোমাকে দুর্বিষহ করে তোলে না?
আমার না-থাকাটা কি তোমার চারপাশের স্বাভাবিক আলোটুকুও ম্লান করে দেয় না? দিনের ব্যস্ততার মাঝেও হঠাৎ কি আমার কথা মনে পড়ে না তোমার? কোনো অচেনা গানের সুরে, কোনো পরিচিত গন্ধে, কিংবা একেবারে নির্জন কোনো বিকেলে—মনের মধ্যে কি হঠাৎ কালবৈশাখীর জন্ম নেয় না? সবকিছু এলোমেলো করে দিয়ে কি আমার স্মৃতিগুলো তোমার ভেতর তাণ্ডব চালায় না?আমার অসুস্থতার খবর কি তোমাকে অস্থির করে না?
আমার কষ্টের কথা শুনে কি তোমার বুকের কোথাও অদৃশ্য একটা ব্যথা জন্ম নেয় না? তুমি কি তখন স্বাভাবিক থাকতে পারো? নাকি অজান্তেই বারবার ফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকো, আমার কোনো খবরের অপেক্ষায়? আমার কণ্ঠটা শুনতে ইচ্ছে করে না তোমার? শুধু একবার জানতে ইচ্ছে করে না—আমি কেমন আছি?অথচ আমার কেন তোমার অসুস্থতায় নিজেকে এত অসহায় লাগে?
তুমি যখন অসুস্থ হও, তখন পৃথিবীর সমস্ত শক্তি যেন হঠাৎ আমার হাত থেকে ফসকে যায়। তোমার কষ্টটুকু নিজের হাতে তুলে নিতে চাই, অথচ পারি না। তোমার ব্যথাটা নিজের শরীরে টেনে নিতে চাই, অথচ সে ক্ষমতাটুকুও আমার নেই। তোমাকে শুধু দূর থেকে কষ্ট পেতে দেখি, আর নিজের ভেতরে ভেতরে ভেঙে পড়ি।
তোমাকে সামলে উঠতে না পেরে কেন আমি হতাশায় মুখ লুকাই?
কেন মনে হয়, তোমার পাশে থেকেও যেন তোমার জন্য কিছুই করতে পারছি না? কেন তোমার একটুখানি কষ্ট আমার পুরো পৃথিবীটাকে ভারী করে দেয়? তুমি হয়তো বলো, “আমি ঠিক আছি”—কিন্তু তোমার সেই ‘ঠিক আছি’-এর আড়ালে লুকিয়ে থাকা ক্লান্তিটুকু আমার চোখ এড়ায় না।তোমাকে পাওয়ার জন্য রোজ এমন আগুনে ঝলসানোর মতো ছটফট কেন করি?
কেন তোমার একটু কাছে আসার আশায় এত দীর্ঘ অপেক্ষা সহ্য করি? কেন তোমার সঙ্গে দুটো কথা বলার জন্য সারাদিনের সমস্ত ব্যস্ততার মাঝেও একটা অদৃশ্য সময় রেখে দিই? কেন তোমার একটি মেসেজ আমার সমস্ত মন খারাপকে মুহূর্তেই ভালো করে দিতে পারে? কেন তোমার নীরবতা আমার ভেতরে এত প্রশ্নের জন্ম দেয়?
হয়তো এটাই ভালোবাসা।
ভালোবাসা বোধহয় এমনই—এখানে নিজের চেয়ে অন্য একজনের হাসি বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। নিজের কষ্টকে সহজে সহ্য করা যায়, কিন্তু প্রিয় মানুষটির সামান্য কষ্টও অসহনীয় মনে হয়। তার অসুখে নিজের শরীরটাও যেন ভারী হয়ে আসে, তার নীরবতায় নিজের চারপাশটাও যেন শব্দহীন হয়ে যায়।
তাই কখনো কখনো তোমার কাছে আমার শুধু একটাই প্রশ্ন—
তুমি কি আমার মতো করেই আমাকে অনুভব করো?
আমি যখন তোমাকে ভীষণ মনে করি, তখন কি তোমারও হঠাৎ আমার কথা মনে পড়ে? আমি যখন তোমার জন্য অস্থির হয়ে রাত জাগি, তখন কি তোমারও কোনো এক নির্জন রাতে ঘুম ভেঙে যায়? আমার অনুপস্থিতি যখন আমাকে ভিতর থেকে পোড়ায়, তখন কি তোমার মনেও কোনো অদৃশ্য শূন্যতা তৈরি হয়?
আমি জানি না।
শুধু জানি, তোমাকে ঘিরে আমার অনুভূতিগুলো কোনো নির্দিষ্ট ঋতুর মতো নয় যে সময়ের সঙ্গে বদলে যাবে। এগুলো বরং নদীর মতো—কখনো শান্ত, কখনো উত্তাল; কখনো শব্দহীন, কখনো বুকের ভেতর প্রবল স্রোত হয়ে বয়ে যায়।
তোমাকে কাছে না পেলে আমার ভেতরে যে শূন্যতা তৈরি হয়, সেটার কোনো নাম দিতে পারি না। শুধু অনুভব করতে পারি। আর সেই অনুভূতির ভেতরেই প্রতিদিন একটু একটু করে তোমার কাছে ফিরে যাই।
হয়তো তুমি জানো না—তোমার জন্য আমার অপেক্ষাগুলো কত দীর্ঘ।
হয়তো জানো না—তোমার জন্য জমে থাকা কথাগুলো কত ভারী।
হয়তো জানো না—তোমার একটি “কেমন আছো?” আমার কাছে কতটা আশ্রয়ের মতো।তবু আমি অপেক্ষা করি।
কারণ কিছু মানুষকে পাওয়া যায় না সহজে, কিছু মানুষকে চাইলেই কাছে পাওয়া যায় না। তাদের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, অভিমান জমাতে হয়, চোখের জল লুকাতে হয়, দীর্ঘশ্বাসকে সঙ্গী করতে হয়। তবুও তাদের ভালোবাসতে হয়—কারণ হৃদয় যুক্তির কাছে কখনো কখনো পরাজিত হয়।
আর তুমি?
তুমি হয়তো আমার সেই পরাজয়—যেখানে হেরে গিয়েও আমি জিততে চাই।
তোমার কাছে ফিরে আসার পথটা যতই দীর্ঘ হোক, যতই কাঁটায় ভরা হোক, আমি তবুও হাঁটতে চাই। কারণ আমার সমস্ত ছুটে চলা, সমস্ত অস্থিরতা, সমস্ত দীর্ঘশ্বাসের শেষ ঠিকানাটা যে কোথাও গিয়ে তোমার কাছেই থেমে যায়।
শুধু কোনো একদিন, আমার এই দীর্ঘ অপেক্ষার দিকে ফিরে তাকিয়ে তুমি যেন একবার বলো—
“তোমার কষ্টগুলো আমি বুঝেছি।
তোমার দীর্ঘশ্বাসগুলো আমার দুয়ারে এসে পৌঁছেছিল।
তোমার অনুপস্থিতি আমাকেও দুর্বিষহ করেছিল।
আর তোমার জন্য আমার মনেও ঠিক ততটাই কালবৈশাখী উঠেছিল।”সেদিন হয়তো আমার সমস্ত অভিমান গলে যাবে।
আর আমি আর কিছু চাইব না—
শুধু তোমার পাশে একটু নীরবে বসে থাকব।
কারণ এতদিনের সমস্ত ছটফটানি, সমস্ত অপেক্ষা, সমস্ত দীর্ঘশ্বাসের পর শেষ পর্যন্ত আমি তো তোমাকেই চেয়েছি। শুধু তোমাকেই।6 Comments-
সামিরা হিমু, আপনার লেখায় প্রিয় মানুষের প্রতি আকুলতা আর হৃদয়ের গভীর টান যেভাবে ফুটে উঠেছে, তা সত্যিই হৃদয়স্পর্শী। গভীর অনুভূতির এমন চমৎকার বুনন পাঠকের মনে একধরনের শান্ত বিষাদ ও মায়ার আবেশ তৈরি করে, যা খুব সহজে নিজের করে নেওয়ার মতো। আপনি চাইলে আরও কিছু ছোট ছোট অনুচ্ছেদের মাধ্যমে আপনার আবেগের এই তীব্রতাকে ভিন্ন কোনো রূপকের আশ্রয়ে সাজিয়ে দেখতে পারেন, যা লেখাটিকে আরও অনন্য করে তুলবে।
Friends
মেহেদী মারুফ
@maruf1
Urmee Islam
@urmeeislam
নৈশান
@noishan
Md Ashraf Uddin Khan
@mdashrafuddinkhan
Kazi Mahabubur Rahman
@kazimahabuburrahman
shoumenkumar paul
@shoumenkumarpaul
Sk Sagor
@sksagor
, মিঠুন কুমার ঘোষ
@mkghosh
Hafizur Rahman shakil
@shakilahamed72gmail-com


সুদীর্ঘ কবিতা, লম্বা দীর্ঘশ্বাস! এতবিশাল কথামালার মধ্যে একটাই প্রকাশ, পথ যত দীর্ঘই হোক, শেষ স্টেশন একটা মনেই..!!