-
ছোটো_গল্প
এই নিন আপনার চা,
দেখছো না আমি রেডি হচ্ছি ,সাইড টেবিলে ওপরে রেখে দাও।
আজ এতো তাড়াতাড়ি অফিসের জন্য রেডি হচ্ছেন যে?
অফিসে মিটিং আছে।
ও, তাহলে নাস্তা দিবো টেবিলে?
টেবিলে দেওয়া লাগবে না ।
বিস্কুট বা কেক থাকলে এখানে নিয়ে এসো।
টেবিলে বসে নাস্তা করার সময় নেয়।এতোক্ষণ উপরে যারা কথা বললেন তার মধ্যে একজন হলেন মেহেদী হাসান ।
মেহেদী হাসান যার সাথে এতোক্ষণ কথা বলেছেন সে হচ্ছে তার স্ত্রী সাবিহা।মেহেদী হাসানের বয়সঃ ৩০ বছর।
গায়ের রং শ্যামলা হলেও দেখতে শুনতে চমৎকার ।
লম্বায় প্রায় পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি
মিডিয়াম তার দেহের গঠন।
মেহেদী হাসান বিবিএ শেষ করে একটা প্রাইভেট কম্পানিতে দুই বছর জব করেন ।
তারপরে সেই চাকরি ছেড়ে দিয়ে ,
নিজেই ছোট একটি কম্পানি খুলেছেন ।
ছোটো খাটো কম্পনি হলেও ইনকাম ভালোয় হচ্ছে ।তাছাড়া তাদের থাকার জন্য নিজেদের ফ্লাট ও গাড়ি আছে।
ফ্লাটে তার বাবা,ভাই,ভাই এর স্ত্রী আর মেহেদী হাসান ও তার স্ত্রী থাকেন।
তার স্ত্রীর নামঃ সাবিহা।সাবিহার সাথে তার পারিবারিক ভাবে বিয়ে হয়েছে।
তাদের দুজনের বাবা বাল্য বন্ধু ছিলো ।
সেই বন্ধুত্ব পাকাপোক্ত করতেই এই বিয়ে হয়েছে।
তবে বিয়ে এখন হলেও সাবিহার জন্মের পর থেকে মেহেদী হাসানের সাথে তার বিয়ের পাকা কথা দেওয়া হয়েছিলো।সাবিহার গায়ের রং দুধে আলতা।
গোলাপি ঠোঁট ,খারা নাক , হরিণী চোখ।
এক কথায় অপূর্ব সৌন্দর্য্যের অধিকারী।গ্রামের সহজ-সরল ও লাজুক প্রকৃতির মেয়ে সাবিহা।
দুই ভাইয়ের এক বোন সে।
সাবিহা অনার্স ফার্স্ট ইয়ারে পড়ে । তবে রেগুলার ভার্সিটি যাওয়া হয়ে উঠে না।
বয়সঃ ১৯।
অনেক তো বকবক করলাম ।
তবে আর বিরক্ত করবো না এবার গল্পে ফিরে আসি।মেহেদী হাসান রেডি হতে হতে সাবিহা তার জন্য নাস্তা নিয়ে আসতে গেলেন।
পাঁচ মিনিটে নাস্তার ট্রে হাতে করে রুমে আসে।
এদিকে মেহেদী তৈরি হয়ে গেছে।সাবিহা তার সামনে কেক ,ডিম পোঁচ ও পানি দিয়ে যাওয়ার সময় মেহেদী ডাক দিলেন।
মেহেদীর ডাক শুনে সে পিছু ফিরলো।মেহেদী সাবিহাকে পিছনে ফিরতে দেখে বললেন,এদিকে আসো।
সাবিহা মেহেদীর মুখে এদিকে আসো শুনে ধীরে ধীরে তার সামনে কাঁচুমাচু হয়ে এসে দাঁড়িয়েছেন ।
সাবিহার চোখ ফ্লোরের দিকে।মেহেদী তাকে কাঁচুমাচু হয়ে দাঁড়াতে দেখে জিজ্ঞেস করলেন, সকাল থেকে এই পর্যন্ত তুমি কিছু খেয়েছো ?
সাবিহা মাথা নেড়ে খায়নি বুঝায়।
মেহেদী সাবিহাকে মাথা নাড়িয়ে জবাব দিতে দেখে বলেন, তোমার মুখে কি হয়েছে?
তোমাকে না বলেছি আমার সামনে কখনো মাথা নেড়ে জবাব দিবে না যা বলার মুখে বলতে?সাবিহা মেহেদী হাসানের কথা শুনে বললেন, জী বলেছিলেন।
মেহেদী তাকে বলেন, তোমাকে কতবার বলতে হবে সকালে উঠার পর বা কাজ করার ফাঁকে হালকা কিছু খেয়ে নিবে!
সাবিহা মেহেদীর কথা শুনে চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে ।
মেহেদী সাবিহার হাত ধরে তার সামনে বসিয়ে বললেন, সাবিহা তুমি যেহেতু ভোরে উঠে ফযরে নামাজ পড়ে আর ঘুমাও না ।
কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়।
সেজন্যেয় তো কিছু না কিছু খেতে বলি না কি?সাবিহা জী বললো।
মেহেদীর দেরি হয়ে যাচ্ছিল ।
তাই নাস্তার ট্রে কাছে এনে তার জন্য আনা কেক থেকে কিছুটা কেক ভেঙে সাবিহার মুখের সামনে ধরে বললেন,
খাও।তা দেখে সাবিহা তার স্বামীকে বললো, আরও আছে তো আপনি এটা খান আমি ওখান থেকে খেয়ে নিবো।
মেহেদী তার কথা শুনে বলেন, আজব তো!
প্রতিদিন ঠিক মতো খাওনা দেখে কতবার খেতে বলেছি, তখন তো জী ছাড়া মুখে আর কোন কথা থাকে না।
আর মুখের সামনে খাবার ধরে আছি।
এখন সাবিহা ম্যাডামের বুলি ফুঁঠেছে খারাপ না।
আমার কথার মূল্য নেয় এতেই বোঝা যাচ্ছে।মেহেদী হাসানের কথা শুনে সাবিহার মনে হলো তার স্বামী রেগে গেছেন।
এখন সে কি করবে তা ভেবে পাচ্ছে না,
তাছাড়া সকাল বেলা ওর কিছু খেতে ভালো লাগে না।
তা বলবে কি করে মানুষটাকে।
কথাটা ভেবে সাবিহা ভয় ও লজ্জায় চুপচাপ বসে রয়েছে।মেহেদী তা দেখে বলেন, এখন এমন ঘাপটি মেরে বসে আছো কেন?
একটা কথা বলো তো?
খাবার দেখলে তোমার কি হয়?
তাছাড়া কেক আরও আছে কি নেয় তা কি আমি তোমার থেকে জানতে চেয়েছি?
হা করো আমি কোন কথা শুনতে চায় না। চুপচাপ খেয়ে নাও।সাবিহা হা করে কেক মুখে নিয়ে লজ্জা আর অস্থিরতায় কাঁচুমাচু মুখ করে বসে আছে
কি হলো মুখে জমা রাখতে দেয়নি জলদি শেষ করো।
সাবিহা চিন্তা করলো বকা খাওয়ার চেয়ে কেক খাওয়া উত্তম।
সাবিহার মুখের কেক শেষ না হতেয় মেহেদী তার মুখে অর্ধেক ডিম দিয়ে দেয়।
সাবিহা মেহেদীর কান্ডে হতভম্ব হয়ে যায়।
মেহেদী সাবিহাকে পার্তা না দিয়ে নিজে নাস্তা করতে থাকেন।
নাস্তা শেষ করে
মেহেদী সাবিহা কে বলল, ছোটো কি রেডি হয়েছে?সাবিহা মেহেদীর কথা শুনে বললো, আমি উঠার পরে তো মিশু ভাইয়াকে দেখিনি।
মেহেদীর ছোট ভাইয়ের নাম মিশু সে অনার্স কমপ্লিট করে একবছর হলো মেহেদীর অফিসে জয়েন করছেন।
মিশুর বউ এর নাম নূহা ।
মিশু যে ভার্সিটি থেকে একবছর আগে অনার্স কমপ্লিট করছে,
তার বউ সেখানে অনার্স থার্ড ইয়ারে পড়ে।
তাদের লাভ ম্যারেজ।মেহেদী সাবিহাকে বললেন,দেখোতো গিয়ে
ছোটো রেডি কিনা?
সাবিহা জী বলে সেখান থেকে উঠে চলে যেতে নিলে, মেহেদী তাকে ডাক দিলেন।
সাবিহা দরজার কাছে গিয়ে থেমে মেহেদী দিকে তাকায়,তা দেখে মেহেদী তাকে বলেন,শুনো ছোটো এখনো না উঠে তো ওকে ডেকে ওঠাবে আর অফিসের জন্য তাড়াতাড়ি রেডি হতে বলবে।
আমি অফিসে চলে যাচ্ছি।সাবিহা মেহেদীর কথা মতো মিশু উঠছে নাকি তা দেখতে চলে গেলো।
সাবিহা মাত্র ড্রইংরুমে এসেছে এর মধ্যে মিশু বলে উঠলো, ভাবী ভাইয়া কি অফিসের জন্য রেডি?
সাবিহাঃ জি ভাইয়া ওনি তো রেডি ।
এখনি বের হবে।মিশু তার ভাবীর কথা শুনে বলেন, ও, তাহলে ঠিক আছে। আচ্ছা ভাবী নাস্তা কি রেডি আছে? খেয়ে যেতে পারবো?
সাবিহা মিশুকে বললো, আপনি টেবিলে বসেন ভাইয়া আমি খাবার দিচ্ছি।
সে সময়ে মেহেদী অফিসে যেতে নেয়।
তা দেখে মিশু বলে ভাইয়া পাঁচ মিনিট অপেক্ষা কর।
আমি নাস্তা করে আসছি।
মিশুর কথা শুনে মেহেদী বলেন, আমি গাড়িতে অপেক্ষা করছি তুই আয়।মিশু নাস্তা করে ভাইয়ের সাথে অফিসে চলে গেলেন।
সাবিহা একগ্লাস পানি ও চা খেয়ে লেগে গেলো দুপুর রান্না করতে ও বিকালের জন্য কিছু আর রাতের কি রান্না হবে তা গুঁছাতে।
বিয়ের পরে সাবিহার কষ্ট কম হতো তখন বুয়া থাকায় ।
এখন করোনা এর জন্য বাসায় বুয়া নেয় তাই তাকে সব কাজ একা হাতে করতে হয়।
কিন্তু সেজন্য সাবিহার কোনো অভিযোগ নেয়।এদিকে
সকাল১১টায় নূহা ঘুম থেকে উঠে মিশুকে না দেখে মোবাইল নিয়ে রুমের বাহিরে এলো।
নূহা বাহিরে এসে সাবিহাকে রান্না ঘরে দেখে ডেকে বললো,ভাবী ও ভাবী আমাকে এক কাপ কফি দিওতো।সাবিহা নূহার আওয়াজ শুনে রান্নাঘরে থেকে উঁকি দিয়ে বললো আপু তুমি বসো আমি দিচ্ছি।
নূহা সাবিহার বয়সে বড় হওয়ায় সাবিহা নূহাকে আপু ডাকেন।
সাবিহা টেবিলে নূহার জন্য নাস্তা ও কফি দিলো।
নূহা মোবাইল হাতে নিয়ে চেয়ারে বসে নাস্তার ট্রে সামনে এনে মিশুকে কল দেয়।
কল দিয়ে বললো,জান আমাকে না বলে অফিসে যেতে পাড়লে?
ঘুম থেকে উঠে তোমাকে পাশে না পেয়ে কতটা কষ্ট লেগেছে যানো?মিশু নূহার কথা শুনে বলেন, ওরে আমার বাবুটা।আর সোনা ময়না তুমি তো ঘুমে ছিলে, তাই ডাক দেয়নি।
নূহা বলে, জান তারপরেও তুমি বলে যাবে না।
আর আজ যে আমায় মর্নিং কিস ও হাগ কিছুই দিলে না। হুঁ তার কি হবে?মিশু নূহার কথা শুনে আল্লাদি কন্ঠে বলেন, মন খারাপ করো না আমার কিউটি পায়।
অফিস এসেয় তোমার কিস ও হাগ পেয়ে যাবে।
তাছাড়া আমি তোমায় মর্নিং কিস ও হাগ দিয়েছি তো সোনা । তুমি ঘুমে ছিলে তাই টের পাওনি।নূহা মিশুর কথা শুনে বললো, সত্যি জান ?
মিশু বলেন, হুঁ তিন সত্যি।
নূহা তা শুনে বলে, jan miss you & I love you ওম্মা ওম্মা।মিশু নূহাকে I love you too Sona & miss you ওম্মা দেয়।
নূহা খুশি হয়ে ওকে বাই জান বলে।
মিশু বাই আমার সোনা ময়না বলে ফোন রেখে দিলেন।
নূহা নাস্তা করছিলো আর মোবাইল লাউড স্পিকারে রেখে কথা বলছিলো, সাবিহা এসে ওদের কথা শুনে লজ্জা পেয়েছে।
নূহা সাবিহাকে দেখে বলল কফিটা দারুন হয়েছে ভাবী ।
সাবিহা বললো, ধন্যবাদ আপু।নূহা সাবিহাকে বলল, ভাবী এখানে বসো তো দুজনে একটু গল্প
করি ।সাবিহা মনে মনে বলছে এখন গল্প করলে রান্না করবো কখন?
কি হলো ভাবী এখানে বসো।সাবিহা নূহার মন রক্ষা করতে একটু সময়ের জন্য বসলো।
ভাবী তুমি সারাদিন বাসায় থেকে বোর ফিল করো না? আমি হলেতো দমবন্ধ হয়ে মারা যেতাম।
একা থাকি কোথায় ।বাবা তো বেশি ভাগ বাসায় থাকেন আর মাঝে মাঝে তুমি তো বাসায় থাকো।
হুঁ, আচ্ছা ভাবী তোমার মনে কি ভাইয়াকে নিয়ে কোন অভিযোগ নেয়?
সাবিহা অভাক হয়ে বললো, আপু তোমার ভাইয়া এতো ভালো মানুষ ।
তারপরও আমি ওনার ওপর অভিযোগ করবো কেন?নূহা বললো, এমনি জানতে চাইলাম।আচ্ছা ভাবী তোমরা হানিমুনে গেছো?
নূহার প্রশ্ন শুনে সাবিহা লজ্জা পেলো।সাবিহা যে লজ্জা পেয়েছে নূহার প্রশ্নে তা খেয়াল না করে আবার বলল,এই ভাবী তুমি বা ভাইয়া কি একে ওপর কে কখনো আই লাভ ইউ বলছো ?
প্লিজ বলো না ভাবী আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে?
কারণ তোমাকে তো কখনো আমাদের সামনে ভাইয়ার সাথে ঠিকমতো কথা বলতে দেখিনি!
আচ্ছা ভাবী তোমরা কখনো রাতে দুজনে কোথাও ঘুরতে গেছো ?
সাবিহা নূহার প্রশ্ন শুনে লজ্জা পেয়ে বললো, ছিঃ আপু এসব কি বলো!
আমার বর না তোমার বড় ভাসুর হয় । তাকে নিয়ে এসব প্রশ্ন করতে তোমার শরম করছে না।
তাছাড়া তোমার কথা শুনে তো আমারি শরম করছে।নূহা সাবিহার কথা শুনে চিন্তা ভাবনা করে বলে, শরম ইউ মিন লজ্জা।
তা ভাবী তুমি এত লজ্জা রাখো কোথায়?সাবিহা নূহার কথা শুনে চুপচাপ হয়ে গেছে।
নূহা সাবিহাকে বললো, তোমার লজ্জা বেশি আজকের যুগে এতো লজ্জা হলে চলে না ভাবী।
তোমার তো বৃটিশ আমলে জন্ম নেওয়া দরকার ছিলো।
আধুনিক যুগের মেয়ে হয়ে তোমার কথা শুনে আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম।আর ভাইয়া শহরের ছেলে হয়ে কিভাবে যে তোমার সাথে সংসার করছে আল্লাহ জানে?
আর তোমাদের দেখলে বোঝা যায় যে,
তোমাদের মধ্যে ভালোবাসার ভ ও নেয়।
তাই হয়তো তোমাদের একে অপরকে ভালবাসার তিনটি ম্যাজিক্যাল শব্দ I Love You.
বলা লাগে নায়।
তোমরা দুজনে ভালোবাসা ছাড়া একসাথে থাকছো কি করে!
আমার তো তোমাদের কথা ভাবলে দমবন্ধ হয়ে আসছে।নূহার কথা শুনে সাবিহা মনে মনে অনেক কষ্ট পেয়েছে। সাবিহা গ্রামের মেয়ে ঠিক তবে বোকা না। নূহা যে তাকে কথার ছলে অপমান করে তা সে বুঝে।
কিন্তু সাবিহার ইচ্ছে করে না তার কথার জবাব দিতে।
নূহা যে ঠোঁট কাটা স্বভাবের মেয়ে তা সাবিহা জানে।
সেজন্য ওর সাথে কথা বলে অশান্তি সৃষ্টি হোক তা চায় না।
যে মেয়ে শুশুড় ও ভাসুর এর সামনে বরের সাথে অসভ্যদের মতো কথা বলে। সে মেয়ের থেকে সাবিহা এর থেকে ভালো কিছু আশা করেনা।সে তো সবাইকে ভালোবাসে আপন মনে করে। এতো ভালোবাসার পরে বুঝি এই পাওনা ছিল ছোটো জায়ের কাছে।
আজকে সাবিহা তার দেবরের বৌয়ের কথায় অনেক কষ্ট পেয়েছে ।
তারপরও নূহাকে কিছু বললেন না।কিন্তু নূহা তার বকবক থামলো না।
আবার বলে উঠলেন ,তোমরা একসাথে ভালোবাসাহীন থাকো কিভাবে তা আল্লাহ জানে!সাবিহা মনে মনে বলল ,মুখে শুধু ভালোবাসি ভালোবাসি বললেই কি? ভালোবাসা হয় ।
কিছু ভালোবাসা থাকে না বলা।
যে ভালোবাসা উপলব্ধি করতে হয়।
তাছাড়া প্রিয়জনের না বলা কথা বুঝে নেওয়া
প্রিয়জনের সুখ-দুঃখের ভাগীদার হওয়া।
প্রিয়জনের খেয়াল রাখা ,যত্ন নেওয়া
আমার কাছে তো এগুলোকে মনে হয় ভালোবাসা।
তাহলে বলতে হবে কেন!কথাটা ভেবে সাবিহা নূহাকে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে বললো, আমি তো এ বাড়ির বড় বউ।
সবার মতো খামখেয়ালিপনা আমাকে মানায় না।
তাছাড়া সবাইকে ভালো রাখতে পারে কয়জন বলো তো আপু।
তোমার কাছে যেটা ভালোবাসা মনে হয় আমার কাছে সেটা মনে নাও হতে পারে।
আমার অনেক দায়িত্ব আছে সে গুলো দেখতে হয়।
আর রান্নার এখনও অনেক বাকি আছে সেটা সেরে আসি।নূহার কাছে সাবিহার কথাগুলো ভালো লাগেনি।
এতদিন তো কত কথা বলেছে কখনো সাবিহা কথা শুনায়নি কিন্তু আজকে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলছে তা শুনে বললো, আচ্ছা যাও ভাবী রান্না করে নেও।
তোমার রাজত্ব ভাইয়ার হৃদয়ে না থাকলেও রান্নাঘরে রাজত্ব তো তোমার।
সেটায় তুমি খুশি তা দেখে ভালোয় লাগছে।
আমি একটু মার সাথে ফোনে কথা বলে আসছি ।
তারপর না হয় তোমাকে হেল্প করবো।
সাবিহা জানা আছে নূহা এখন আর এদিকে পা দিবে না খেতে যাওয়ার আগে।
তাকে পরিবেশন করতে দেখা যাবে। মনে হবে সারাদিন সে কতো কাজ করেছ।
অবশ্য সাবিহা এসব বিষয়ে ভাবে না ।
সে যানে এ বাড়ির বড় বউ সে তার কাঁধে অনেক দ্বায়িত্ব।
ছোটদের সব ভুল ধরতে নেয়। এতে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি হয়।
তাছাড়া সাবিহা সংসার করতে এসেছে ভাঙতে নয়।সাবিহা রান্না ঘরে যেয়ে শুশুড়ের জন্য আপেল কেটে ও কমলার জুস বানিয়ে।
শুশুড়রে রুমে নিয়ে যেয়ে বললো,
বাবা জুসটা আগে খেয়ে পরে আপেল খাবেন।শুশুড় সাবিহাকে দেখে বললেন, মা জননী তোমার এমনিতেই সারাদিন কাজ করে অস্থির অবস্থা। বলতে গেলে একটু বিশ্রাম এর সময় পাও না ।
তারপরও নাস্তার পর আমার জন্য এটা ওটা নিয়ে হাজির হতে হবে ?
আর তুমি কাজ করে দম ফেলার সময় পাও না।
ওদিকে ছোটো জনের সারাদিন বসে থেকে ও আমার জন্য কিছু বানানোর সময় নেয়।
সে এতো ব্যস্ত একজন মানুষ।সাবিহা তার শুশুড়ের কথা শুনে বলে,
আপনার কি লাগবে তা আমায় বলবেন।
আমি তো সব এনে দিচ্ছি বাবা।
আর নূহা আপু জানে আপনি আমার হাতের রান্না খেতে পছন্দ করেন তাই হয়তো কিছু করেনা।
শুশুড় বললেন, মা জননী নূহা বয়সে তোমার বড় হলে তোমার ছোটো জা হয় তাই ওর নাম ধরে ডাকবে।আচ্ছা ঠিক আছে ডাকবো বাবা । আমি যায় আপনার ছেলেদের জন্য অফিসে লাঞ্চ পাঠাতে হবে ।
চুলায় রান্না বসিয়ে এসেছি।
আমি দেখে আসি কতোদূর হলো।সন্ধ্যায় দুই ভাই একসাথে বাড়ী ফিরেছে।
বেল দেওয়ার সাথে সাথে দরজা খুলে সাবিহা মুচকি হেসে সরে দাঁড়ায়।
সাবিহার এই হাসি দেখলে মেহেদীর সব ক্লান্তি নিমেষে দূর হয়ে যায়।ভিতরে ঢুকে মেহেদী ও মিশু যে যার মত রুমে চলে গেলেন।
নূহা তখন স্টার জলসা দেখতে ব্যস্ত ।
সাবিহা গ্লাসে পানি নিয়ে মেহেদীর পিছনে পিছনে গেলো।
পানি সাইট টেবিলে রেখে মেহেদীর টাই, শার্ট গুলো খুলে দিয়ে বললো
এই নেন পানি।
মেহেদী পানির দিকে তাকিয়ে বললো,থাক ওখানে আগে ফ্রেস হয়ে আসছি।সাবিহা ঠিক আছে বলে তাদের নাস্তা রেডি করতে যায়।
মেহেদী ফ্রেস হয়ে ড্রইং রুমে এসে বসেছে।
সবাই একসাথে নাস্তা করবে সেজন্য।
এসে দেখে নূহা এখনও স্টার জলসা দেখতে ব্যস্ত আর তার ভাই এখনো ফ্রেস হয়ে আসেনি।মেহেদী মনে মনে বললো ,
আমার ভাই যে এই নমুনাকে কোথায় পেলো আল্লাহ যানে?
মিশু এসে নূহার পাসে বসেয়,তার ভাবীকে ডেকে বললো ভাবী পানি দাও তো।
সাবিহা বলল বসেন ভাইয়া দিচ্ছি।ও জান আস্তে কথা বলো। ডিস্টার্ব হয়।
মিশু তা শুনে বলেন, ওকে সোনা।মেহেদীর বাবা ওখানে একপাশে বসে ছিলেন।
মিশুর দিকে তাকিয়ে সে বললেন,মিশু তুই কি দিন দিন ভেড়া হচ্ছিস?
নূহা শ্বশুড়ের কথা শুনে বললো, ওহ্ বাবা আমার সামনে জানুকে ভেড়া বলবেন না ।
আমার কষ্ট হয় না বুঝি?মেহেদী এই কথা শুনে বলতে লাগলেন,আমার ভাই তোমার স্বামী হওয়ার আগে থেকে মানে ওর জন্মের পর থেকে বাবার ছেলে হয়। তাই বাবা তার ছেলেদের কি বলবে তা বাবাকে ঠিক করতে দাও।
মেহেদীর বাবা বললেন,একটা হচ্ছে ভেড়া আর ভেড়ার সাথি জুটিয়েছে একটা নির্লজ্জ।
মেহেদীর বাবা রমিজ উদ্দিনের স্ত্রী মারা যাবার পর লোকটি কেমন যেনো দূর্বলচিত্তের হয়ে গেছে।
এই বয়সে সঙ্গী ছাড়া জীবন কাটানো অনেক কষ্টের।
আগের সেই থাটবাট এখন আর নেই।
সে আগের মতো থাকলে ছোট ছেলে ও ছেলের বউকে সহ বাসায় থেকে কবেয় বের করে দিতেন ।
বলতেন কোথায় যেয়ে জামাই-বউ জমিদারি করবি কর।
এখানে এই সব চলবে না।
মেহেদীর বাবা যখন এসব ভাবছে সে সময়ে নূহা বলে উঠলো, আমি আমার জানুকে বেশি ভালোবাসি তো তা কারো সহ্য হয় না।মেহেদী একথা শুনে, বিরবির করে বললো,স্বামী বাসায় আসলেও যে মেয়ে সিরিয়াল মিস হয়ে যাওয়ার কথা ভেবে টিভির কাছে থেকে সরে না ।
আর মুখে শুধু ভালোবাসি ভালোবাসি বুলি ফুটাতে পারে এটা আদৌও কেমন ভালোবাসা?
তা না বোঝা আমার মন।
হায়রে অভাগা ভালোবাসা।এক মাস পরের ঘটনা,
মেহেদী সকালে অফিসে যাওয়ার আগে নাস্তা করতে টেবিলে গিয়ে দেখলো মিশু সাবিহাকে বলছে, ভাবী আজকে সকালের নাস্তার জন্য কলিজা ভুনা করতে বললাম না কাল রাতে?
সাবিহা আস্তে করে বলো।
ভাইয়া কাল রাতের গরুর মাংস ভুনা বেশি রয়ে গেছে তাইতো আপনার পছন্দের চালের গুঁড়ি দিয়ে রুটি বানিয়েছি।
আজকে একটু কষ্ট করে এগুলো খেয়ে নেন ।
রাতে কলিজা ভুনা করে দিবো।
এরমধ্যে মেহেদী টেবিলে গিয়েয়ে বসে ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে চোখ মুখের অবস্থা দেখছে।মিশু দূর বলে রুটির প্লেটে সরিয়ে রাখলো।
মেহেদী সেটা দেখে বলতে লাগলেন, এখানে দূর বলার কি হলো !
তোর ভাবী তো তোকে বলছে রাতে করে দিবে।সাবিহা মেহেদীকে দেখে তাড়াতাড়ি করে তার প্লেটে খাবার দেয়।
এদিকে মিশু ভাইয়ের কথা শুনে , খাওয়া শুরু করলেন।
মিশু ও মেহেদী খেতে খেতে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করছেন।
তা দেখে সাবিহা তাদের সামনে গ্লাসে পানি ঢেলে দিয়ে রান্না ঘরে চলে গেছে।মেহেদী বলেন,কিরে মিশু নুহা কোথায়?
মিশু ভাইয়ের কথা শুনে বলে,ঘুমাচ্ছে।
অনেক রাত পর্যন্ত জেগে পড়াশোনা করছে তো সেজন্য ঘুম থেকে তুলিনি।মেহেদী মিশুর কথা শুনে তাকে বললেন,ওকে তো নিজের টুকটাক কাজের কথা বলতে পারিস ।
ও তো তোর ভাবীর কাজে একটু হেল্প করলেও পারে।
বাসায় বুয়া নেয় ওকে একটু বলে দিস তো ভাবীকে হেল্প করতে।মিশু তার ভাইয়ের কথা শুনে বলে,ভাইয়া ও তো হেল্প করতে চায়, কিন্তু পড়াশোনা নিয়ে এতোটাই ব্যস্ত থাকে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও পেরে ওঠে না।
একবার ভেবে দেখো, বেচারিকে রাত জেগে কতো পড়াশোনা করতে হয়।
মেহেদী মিশুর কথা শুনে , নিজের ভাইকে গাঁধা ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারলো না।
সব পড়াশোনা মনে হয় নূহা একায় করে।
ছোটো ভাইয়ের কথা শুনে এই ব্যাপারে মেহেদীর আর কোন কথা বলতে ভালো লাগেনি।মিশু নাস্তা করে নিজের রুমের দিকে গেলেন।
সাবিহা মিশুর খাওয়া শেষ দেখে এসে টেবিলে গুঁছাচ্ছে। টেবিলে তখনো মেহেদী বসে ছিলো।
সাবিহাকে দেখে বললেন,
বাবা নাস্তা করেছে?
সাবিহা আস্তে বললো, হুঁ, বাবা নাস্তা করেছেন ।
সাবিহার কথা শুনে মেহেদী তার বৌয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো, এই তোমার মুখ এমন শুকনো লাগছে কেন?সাবিহা তার কথা শুনে অবাক হয়ে গেছে!
তার শরীর অসুস্থ হলে না বললেও মানুষটা বুঝে ফেলেন যেনো কিভাবে!
তবুও সব সময়ের মতো বললো, এমনিতেই হয়তো মুখ শুকনো লাগছে ।সে কথা শুনে মেহেদী বললেন, এমনি এমনি তো মুখ শুকনো লাগার কথা না । এদিকে এসো দেখিতো বলে,
সাবিহার কপালে হাত হাত দিয়ে দেখলো মাথা গরম হয়ে আছে।তা দেখে মেহেদী চোখ রাঙিয়ে বললেন,তোমার তো মনে হচ্ছে শরীর ভালো না, হালকা জ্বরও তো রয়েছে।
সাবিহা মিনমিন করে বললো,ও তেমন কিছু না।
এমনিতে হয়তো গরম হয়ে আছে।
কিছুক্ষণ পর ঠিক কমে যাবে আপনি চিন্তা করবেন না।মেহেদী সাবিহার কথা শুনে বললেন, আমি চিন্তা করবো কি করবো না তা আমাকে ভাবতে দেও।
ও শুনো আজকে তোমাকে রান্না করতে হবে না।
আমি দুপুরের ও রাতের খাবার অর্ডার করে দিবো নে।সাবিহা বলল,ইয়ে মানে আব্বা তো বাহিরের খাবার খেতে পারেন না।
এজন্য বলছি যে,
সমস্যা নেয় তো আমি রান্না করতে পারবো।মেহেদী কথাটি শুনে দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়লো।
হম,আরে টা কথা তোমাকে বলতে ভুলে গেছি।সাবিহা মেহেদীর দিকে তাকিয়ে বলে, কি কথা।
মেহেদী বললেন,আমি আম্মু কে ফোন করে বলছিলাম দেশে থেকে ভালো দেখে একজন কাজের মেয়ে পাঠাতে।
আমাদের বাসায় সব সময় থাকবে এমন একজন।সাবিহা মেহেদীর কথা শুনে বললো,কি দরকার ছিলো ,
আমি তো সব সামলাতে পারতাম।সাবিহার কথা শুনে মেহেদীর মেজাজ খারাপ হয়ে গেলো। কিন্তু তাও
মেহেদী সাবিহাকে আর কিছু না বলে মিশুকে ডেকে অফিসের জন্য বের হয়ে যায়।আর
ওদিকে সাবিহা অসুস্থ শরীর নিয়েয় শাড়ীর আঁচল গুঁজে সংসারের কাজে লেগে যায়।সন্ধ্যায়
বাসায় ডোর বেল বেজে চলেছে আর এদিকে নূহা মোবাইল এ ব্যস্ত।তৃতীয়বার বেল বেজে উঠলে নূহা বিরক্ত হয়ে দরজা খুলতে গেলো।
এদিকে দরজার বাহিরে বিরক্ত হচ্ছে মেহেদী ও মিশু।
দরজা খুলার আওয়াজ পেয়ে মিশু বলল ভাবী এতক্ষণ লাগে দরজা খুলতে।
কথাটা বলে তাকিয়ে দেখলো নূহা তার দিকে কঁটমটিঁয়ে তাকিয়ে আছে।
মিশু নূহা কে দেখে ঢোঁক গিলে হেসে দিলো।
আর এদিকে ছোট ভাইয়ের বউকে গেট খুলতে দেখে মেহেদীর বুকে ধুকধুক করে উঠলো।
মন বললো সাবিহা ঠিক আছে তো?মেহেদী তাড়াতাড়ি করে পা চালিয়ে তাদের রুমে ঢুঁকলো।
রুমে ঢুঁকে দেখলো বেডে চাদর দিয়ে ঢেঁকে সাবিহা শুয়ে আছে।
তাড়াতাড়ি করে ফ্রেস হয়ে এসে চাদর সরিয়ে সাবিহার কপালে হাত দিয়ে আঁতকে উঠলো মেহেদী।না জানি মেয়েটা কখন থেকে জ্বরে বেহুঁশ হয়ে আছে ।
মেহেদী একটা বাটিতে পানি এনে রুমাল ভিজিয়ে সাবিহার মাথায় জলপট্টি দিচ্ছে।মেহেদী তার এক ডাক্তার বন্ধুকে ফোন দিলেন ।
কিছুক্ষণ পর তার ডাক্তারর বন্ধু এসে কিছু ওষুধ লিখে দিলো আর জ্বর না সারা পর্যন্ত জলপট্টি দিতে বললেন ।মেহেদী মিশুকে ডেকে তার বন্ধুকে এগিয়ে দিয়ে আসার সময় ওষুধ নিয়ে আসতে বললেন।
ওদিকে
সাবিহা বেহুঁশের মতো পরে আছে। তার আসে পাশে কি হচ্ছে সে দিকে ওর হুঁশ নেই।
বিরবির করে বলছে আপনি কখন আসবেন।
একটু জলদি কি আসতে পারেন না
জ্বরের ঘোরে কথা গুলিয়ে যাচ্ছে বারবার।মেহেদী সাবিহা কি বলছে তা শুনতে, তার স্ত্রীর মুখের সামনে কান পাতলো। সে শুনতে পেলো সাবিহা বিরবির করে বলা কথাগুলো।
মেহেদী সাবিহার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বলল তুমি এতো অসুস্থ জানতে পারলে তো আরও আগে আসতামরে পাগলি ।
তুমি এতো অসুস্থ সেজন্য হয়তো আমার সারাদিন এমন অস্থির লেগেছে।মেহেদী সারাটা রাত কখনও সাবিহার মাথায় পানি ঢাঁলছে, কখনও চুলে বিলি কেটে দিয়েছেন।
আবার কখনও তেল মালিশ করছে। এভাবে অস্থিরতার মধ্যে রাত পার করলো মেহেদী ।ভোরের দিকে স়াবিহার কপালে হাত বুলিয়ে দেখলো জ্বর আর নেই।
তা দেখে মেহেদী সুস্থির নিঃশ্বাস ছাড়লো।
সাবিহা কে কাছে টেনে বুকে নিলো।
তারপর কল্পনায় ডুব দিয়ে অতিতে চলে গেলেন,মেহেদী ভার্সিটিতে ভর্তি হলো যেদিন। তার এক সপ্তাহ পরেয় তাকে জানানো হয় , তার বাবার বাল্য কালের বন্ধুর মেয়ে সাবিহার সাথে বিয়ের পাকা কথা দেওয়া হয়েছে ছোট বেলায়।
এবং তার পড়াশোনা শেষ হলে সাবিহাকে তার বিয়ে করতে হবে ।
তার কাছে আর কোন অপশন ছাড়েনি বাবা , মা।
মেহেদী ভালো করে বুঝতে পারছে তার বাবা ও মা এখন এমন কথা কেনো বলছে,
কারণ ভার্সিটিতে পড়াশোনা সময় যদি কারো সাথে প্রেম ভালোবাসায় তাদের ছেলে জড়ায় তাই তারা মেহেদীকে আগেভাগে সতর্ক করে দিলেন বিয়ের কথা বলে।অবশ্য সাবিহাকে বিয়ে করতে মেহেদীর কোনো আপত্তি ছিলো না ।
মেয়েটিকে দেখেছে কয়েক বার বয়সটা একটু কম এছাড়া দেখতে মাশআল্লাহ।
সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে সাবিহা সহজ সরল।ভালোয় চলছিলো তার জীবন। মায়ের আদর বাবার শাসন, পড়াশোনা,আড্ডা সাবিহার সাথে যোগাযোগ না হলেও তাকে নিয়ে সপ্ন দেখা সব মিলিয়ে সুন্দরভাবে চলছে জীবন।
কিন্তু একবছর আগে হঠাৎ করে ঝড়োহাওয়ার এসে সব যেনো লন্ডভন্ড করে দেয়।
একবছর আগে মেহেদীর মা হঠাৎ করে মারা যান।
তিন বাপ ছেলে পড়ে যায় মাঝ দরিয়ায়।
বাঁচার জন্য তারা তখন কিছু অবলম্বন খুচ্ছে। কিন্তু আদৌও কি তা পাবে?
এতদিন সম্পূর্ণ সংসার সামলাতো মেহেদীর মা সেজন্য বাপ ছেলেরা এই বিষয়ে সম্পূর্ণ অজ্ঞ ।
মেহেদীর মা মারা যাওয়ার পর থেকে সে বাবা ভাইকে আগলে রাখবে না কাজে যাবে বুঝতে পারছিলো না।
ওরা তিনজন রান্নাবান্না জানতো না সেজন্য প্রথম দিকে বাহিরে থেকে খাবার কিনে এনে খেয়েছে।
এতে আবার ওদের বাবা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিলেন।
মেহেদী কি করবে বুঝতে পারছিলেন না।সময় বহমান নদীর মতো সে কারো জন্য অপেক্ষা করে না।
তাইতো,
ছেলেরা নিজেদের সামলাতে পারলেও রমিজ উদ্দিন স্ত্রীর বিয়োগ খাবার দাবার অনিয়ম সামলাতে পারলেন না।
কেমন জেনো হয়ে গেল মানুষটা।তাদের অবস্থা দেখে সাবিহার বাবা উদ্যোক নিলেন।
সংসারের হাল ধরতে এখনেয় সাবিহা ও মেহদীর বিয়ে দিতে হবে।
তাদের মেয়ে পারবে এই সংসারের হাল ধরতে।কিছুদিনের মধ্যেই,
সাদামাটা ভাবে তাদের বিয়ে হয়ে গেলো।
বিয়ের দিন থেকে এই পর্যন্ত মেহেদী, মিশু ও রমিজ উদ্দিন এর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেয় সাবিহা।
তার নিজের কোনো চাহিদা নেই বরং ওর প্রতিটি দিনই কাটে ওদের কিভাবে ভালো রাখা যায় সে চিন্তায়।মাত্র আঠারো বছরের যুবতী নারীটি হয়ে দায়িত্ব বোঝায় হয়ে যায় পাকা গৃহিণী।
মেহেদী সব সময় মনে হয় আজ মা বেঁচে থাকলে সংসারের জন্য এতো পরিশ্রম করতে হতো না সাবিহাকে।
ছোটো ভাইয়ের মত সেও তার স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরে বেড়াতে পারতো।
যা এখন দায়িত্ব নামক শব্দে চাপা পড়ে রয়েছে।মেহেদীর সাবিহাকে নিয়ে কখনো পার্কে যাওয়া হয়নি।
কখনো রিক্সায় চড়ে শহর ঘুরে দেখানো হয়নি।
কখনো বন্ধের দিনে বলা হয়নি চলনা ঘুরে আসি মন যেখানে চায়।
মাঝ রাতে হাতে হাত রেখে হাঁটতে বেরিয়েছে কতবার কিন্তু কখনো বলেনি ভালোবাসি প্রিয়সি তোমায়।কখনো বলা হয়নি তোমার লজ্জা মাখা মুখটা দেখে কতোবার হয়েছি যে খুন।
তাই বলে কি সাবিহাকে সে কম ভালোবাসে?
কখনোই না তার কাছে সাবিহাকে ভালোবাসার মাপকাঠি নেয়।
ভালোবাসি এই কথা বার বার বলে মুখে ফেনা তুলে হবে কি ?
ভালবাসা হচ্ছে উপলব্ধি করার বিষয়।মেহেদী মনে মনে বললেন,সারাটা দিন পরিশ্রম করে যখন ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরে তোমার মুখে হাঁসি দেখি।
সকল ক্লান্তি দূর হয়ে আমি প্রাণবন্ত হয়ে যায়।
কখনো তোমাকে বলা হয়নি তোমার বাস আমার হৃদয়ের রন্ধ্রে রন্ধ্রে।
আর সব সময় ভালোবাসি তাবলতে হবে কেন!
তুমি না হয় আমার না বলা ভালোবাসা থাকলে।
যা শুধু দুজন উপলব্ধি করবো।বর্তমানে
সাবিহা ভোরে উঠতে চাইছে কিন্তু মেহেদী উঠতে দিচ্ছি না।
সাবিহা বুঝাতে চাচ্ছে অনেক কাজ আছে।
মেহেদীর এক কথা বেঁচে থাকলে জীবনের অনেক কাজ করতে পারবে,
এখন ভালো বউ এর মতো চুপচাপ শুয়ে থাকো।সাবিহার মেহেদীর কথা অমান্য করার সাহস নেয়।
তাই সে মেহেদীর বুকে মাথা রেখে চুপচাপ শুয়ে মনে মনে বললো, আপনার বুকে মাথা রাখলে আমি বুঝতে পারি । আপনার হৃদয়ের এই রাজ্যে শুধু আমার দখলে ।
সেখানে শুধু আমার বাস।
আর যারা মনে করে,
আমাদের মাঝে ভালোবাসা নেয় তারা নিজেরায় আদৌও ভালোবাসা কী?
তা জানে কি না সন্দেহ আছে।আমাদের মধ্যে যদি ভালোবাসা না থাকতো তাহলে আমরা কি একজনের কষ্ট আরেক জন ভাগকরে নিতে পারতাম!
আমার মনের খবর তো বলার আগে আপনি জেনে ফেলেন।
এটা কি ভালোবাসা নয়।
ভালোবাসা না থাকলে শুধু দায়িত্বের খাতিরে সারারাত আমাকে বুকে নিয়ে আমার সেবায় নির্ঘুম রাত কাটাতে পারতেন?
তাছাড়া মানুষের কথা শুনে বা লোক দেখাতে সবসময় ভালো বাসি বলতে হবে় কেন?
মাঝে মাঝে না বলেও বুঝে নেওয়া যায় প্রিয়জনের ভালোবাসা।
#চলবে
#না_বলা_ভালোবাসা।লেখনীতে #মেহের_মেহের_সীমা।
3 Comments

Saifun nesa Shima
Housewife
Friends
Nahar moyna
@moyna
বিপুল চন্দ্র রায়
@sreebipulchondrorayraygmail-com
এমদাদ হোসেন
@emdad123
Jebunnesa jebu (জেবুন্নেছা জেবু)
@jebunnesa-jebu
TARIN
@tarin
Latifur-rahman-Pramanik
@latifur-rahman-pramanik
Md-Nadiruzzaman
@md-nadiruzzaman
Md. Habibur Rahman
@habib
তাওহীদ সুফিয়ান
@tawhidsufian


ভালবাসা উপলদ্ধির বিষয়। যেখানে শব্দের শেষ সেখানে উপলদ্ধির শুরু। খুব মধুর একটি প্রেমের গল্প। পরবর্তী লেখার অপেক্ষায় রইলাম। শুভেচ্ছা নেবেন।