-
ছোট_গল্প।
না বলা ভালোবাসা।দ্বিতীয়_খন্ড
এই মেয়ে চুপচাপ বসে থাকতে পারো না?
সাবিহা তার স্বামী মেহেদী হাসানের কথা শুনে থমকে যায়।
এরমধ্যে মেহেদী হাসান বলে উঠেন,
এক পাও বিছানার থেকে নামলে তোমার ঠ্যাং ভেঙে
দরকার হলে বসিয়ে বসিয়ে খাওয়াবো।
বেশি সাহস হয়ে গেছে তাই না?মেহেদী হাসানের অগ্নিরূপ দেখে ও ধমক শুনে সাবিহা ভয় পেয়ে গেছে।
মানুষটাকে এতদিন ঠান্ডা স্বভাবের দেখে এসেছে।
হঠাৎ করে এমন রেগে যেতে দেখে ভয়ে
মুখটি কাঁচুমাচু করে বললো,এখন তো জ্বর নেয়।
একজন মানুষ কতক্ষণ এভাবে বসে থাকতে পারে
আপনি বলুন?
তাছাড়া বাবার তো বাহিরের খাবার খেতে কষ্ট হয়।
বুঝতে চেষ্টা করছেন না কেন?সাবিহার কথা শুনে মেহেদী হাসান বলেন,চুপচাপ বসে থাকতে বলেছি শুনতে পাওনি?
আর এখন যে ফটর ফটর করছো গতকাল রাতে তো জ্বরে হুঁশ ছিলো না।
সকাল হতে না হতেয় পাকনামি শুরু করে দিয়েছো।মেহেদী কথা শুনে সাবিহা মুখ কালো করে বসে আছে।
তা দেখে মেহেদী মনে মনে বললেন, তুমি এমন কেন বৌ?
আমাদের সবার খেয়াল রাখার কথা তোমার মনে থাকে কিন্তু তুমি নিজের খেয়াল একটুও রাখো না।
তুমি তোমার নিজের কেন এতো প্রতি উদাসীন ?সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ইদানিং আমার মনে হয় তোমাকে বিয়ে করে আমি এবং আমার পরিবারের লোকজন তোমার সরলতার সুযোগ নিয়েছি।
তা নাহলে তুমি যেমন এই বাড়ির বৌ তেমনি নূহা ও তো এই বাড়ির বউ।
সে সব সু্যোগ সুবিধা পাচ্ছে আর তুমি সংসারের দায়িত্বের বোঝার নিচে চাপা পড়ে রয়েছো।
কখনো নিজের জন্য কোনো চাহিদা বা আবদার নেয়।
নিজের সবটুকু সময়,ভালোবাসা উজাড় করে দিচ্ছো সংসারের পিছনে।
অনেক হয়েছে আর নয় এভাবে তো চলতে পারে না।
তোমার দিক তো আমাকে দেখতে হবে যেহেতু তুমি নিজের প্রতি উদাসীন।
মেহেদী যখন কথাগুলো ভাবছিলেন সে সময়ে সাবিহা বলে উঠলো, একটু বাহিরে যায় না?
এই যাবো আর আসবো।
সময় লাগবেনা।
কথাটা বলে মনে মনে ভাবছে,একটু জ্বর হয়েছে এজন্য রুমে বসে থাকতে হবে এটা কোনো কথা হলো?
কত বেলা হয়ে গেছে , সবাই নিশ্চয় না খেয়ে বসে আছে।
আর আমি এখানে শুয়ে রয়েছি কেমন লাগে।
নাস্তা বানাতে হবে।
কত কাজ বাকি আছে তা কি ওনি বুঝতে পারছে না!
উল্টো বর মহাশয় কিনা আমাকে রুমে থেকে বের হতে দিচ্ছে না।
এটা কোন কথা হলো?
আচ্ছা ওনি কি আজ অফিসে যাবে না?ওদিকে মেহেদী বলে উঠেন,তুমি কি চাও তোমার জন্য পরিবারের অন্য সদস্যরা অসুস্থ্য হয়ে যাক বা তাদের ক্ষতি হোক?
সাবিহা যখন ভাবনার বিভোর সে সময়ে মেহেদী হাসানের উপরে কথাটা শুনে আশ্চর্য হয়ে যায়!
সে ভুলে এটা চায়বে না। তা কি তার অজানা?
ওনি এসব কি বলছেন!
মেহেদী সাবিহাকে চমকে উঠতে দেখে মনে মনে বললেন,সরি বৌ।
এই মুহূর্তে তোমার রেস্ট দরকার।
তোমার যেহেতু রক্ত শূন্যতা রয়েছে আমার বন্ধু বলেছেন, তোমাকে কয়েকদিন বেড রেস্টে রাখতে ও পুষ্টিকর ও আয়রন জাতীয় খাবার খাওয়াতে না হলে যে কোনো মুহূর্তে তুমি মাথা ঘুরে পড়ে যাবে।এই মুহূর্তে তোমাকে এটা বললেও জানি লাভ হবে না।
তুমি বলবে ডাক্তার বাড়িয়ে বলেছেন।
সেজন্য আমাকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হচ্ছে।
যদি আমি মিথ্যা পছন্দ করি না।
এদিকে সাবিহা মেহেদীকে চুপচাপ দেখে আমতা আমতা করে বললো, আমি রুমের বাহিরে গেলে তারা অসুস্থ হবে কেন?
মেহেদী সাবিহার কথা শুনে গম্ভীর হয়ে বললেন, তোমার শরীরে তাপমাত্রা এতোটাই বেড়ে যায় তা দেখে আমি তো ভয় পেয়ে গেছিলাম।
আমার ডাক্তার বন্ধুকে কল দেই বাসায় আসতে। ও গতকালকে এসে তোমাকে চেকআপ করে।
তখন সন্দেহের বসে করোনা টেষ্ট করতে স্যাম্পল নেয়।
তুমি ঘুম থেকে উঠার আগে ও ফোন করে বলেছেন, তোমার করোনা পজেটিভ এসেছে।
সাবিহা মেহেদীর কথাটা শুনে চমকে যায়।
তার পর ভয় ভয় কন্ঠে বলে, সত্যিয় আমার করোনা হয়েছে?
মেহেদী সাবিহার কাঁধে হাত রেখে ইশারায় হ্যাঁ বোঝায়।সেটা দেখে সাবিহা ছিটকে মেহেদীর কাছে থেকে দূরে সরে যায়।
কাঁদতে কাঁদতে বলে,প্লিজ আমার কাছে আসবেন না।
আমি চায় না আমার জন্য আপনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মেহেদী সাবিহার কাছে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরে বললেন,এই পাগলি ভয় পাচ্ছো কেন? আমার কিছুই হবে না।
তাছাড়া তোমার আলিঙ্গনে থাকাকালীন মৃত্যু হলে সে তো আমার ভাগ্যে।
সাবিহা মেহেদীর কথা শুনে কাঁদতে কাঁদতে বলে, আপনি এসব কি বলছেন?
প্লিজ আমার কাছে আসবেন না।
মেহেদী সাবিহাকে অবাক করে দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য তার ওষ্ঠ দখল করে নেয়।
সাবিহা মেহেদীকে সরাতে চেষ্টা করছে।
কারণ সে চায় না তার জন্য তার স্বামীর ক্ষতি হোক।
মেহেদী সাবিহার ওষ্ঠ ছেড়ে মুচকি হেসে বললেন,এই মেয়ে এতো ভয় পাচ্ছো কেন?
আল্লাহ ছাড়া আমাদের কেউ আলাদা করতে পারবে না।
আল্লাহ না চায়লে করোনার কি আর শক্তি
তুমিই বলো?
মেহেদী সাবিহাকে আরও কিছুক্ষণ বুঝিয়ে ওকে রুমে থাকতে বলে মেহেদী রুমে থেকে বাহিরে আসে।মেহেদী এই মিথ্যে বলেছেন নূহাকে শিক্ষা দিতে।
তার বৌ গতকাল জ্বরে কাতরাচ্ছিল নূহা উঁকি দিয়েও দেখেনি।
একটা পরিবারের মধ্যে সবার সাথে থাকতে হলে এভাবে চলা যায় না।
এঁকে অপরের সুখ দুঃখে মুখ ফিরিয়ে থাকলে তো পরিবার বলা চলে না।
সেজন্য ওদের নিজেদের দায়িত্ব বুঝতে হবে।মেহেদী বাহিরে এসে কথাগুলো ভাবছিল।
অন্যদিকে মেহেদী বাহিরে আসা মাত্র মিশু তার ভাইকে বললেন, ভাইয়া ভাবী কোথায়?
এখন নাস্তা বানাচ্ছে না।
আমাদের অফিসে যেতে হবে তো নাকি?মিশুর কথা শুনে মেহেদীর রাগ উঠে যায়।
তবে বহুকষ্টে নিজেকে শান্ত রেখে ভাইকে বলেন,মিশু নূহাকে একটু ডেকে দে তো ভাই।
ওর সাথে আমার কথা আছে।
মিশু ভাইয়ের মুখে নূহাকে ডেকে দেওয়ার কথা শুনে বলেন,ভাই বেচারি বেশ রাতে ঘুমিয়েছে।
ওকে ডাকতে হবে না।
তুমি যা বলার আমাকে বলো।
ও ঘুম থেকে উঠলে আমি ফোনে বলে দিবো নে।
মেহেদী তার ভাইয়ের কথা শুনে এবার আর নিজের রাগ কন্ট্রোল করতে পারলেন না।
কিছুটা রেগে বললেন,নূহার জন্য থ্রিপিস এনেছি তা ওকে না দিয়ে তোকে দিলেয় ভালো হবে।
তুই পড়ে মাপ ঠিক আছে কিনা আমায় বলবি।
তা তুই যে মেয়েদের ড্রেস পরিস তা তো জানতাম না?
মিশু ভাইয়ের কথা শুনে লজ্জা পেয়ে বলেন, ছিঃ ভাইয়া আমি মেয়েদের ড্রেস পড়বো কেন?
কি যা তা বলছো!
মেহেদী মিশুর কথা শুনে বললেন,যা তা কোথায় বললাম।
তোকে বললাম তো নূহাকে ডেকে দে কথা আছে।
তুই ওকে ডেকে না দিয়ে বলছিস তোকে বললেয় হবে ।
তো এখানে আমি কি বুঝবো?মিশু তার ভাইয়ের কথা শুনে বুঝতে পারছে আজকে নূহাকে ডেকে না দিলে ওকে আরো কিছু শুনতে হবে।
সেজন্য তাড়াহুড়ো করে নূহাকে ডাকতে চলে যায়।কিছুক্ষণ পর নূহা ঘূমে ঢুলতে ঢুলতে মেহেদী সামনে এসে দাঁড়ায়।
মেহেদী নূহার থেকে চোখ সরিয়ে নিল।
এই মেয়ের লাজ লজ্জা মোটেও নেয়।
বড় ভাসুরের সামনে উড়না ছাড়া দাঁড়িয়ে আছে।
মেহেদী সোফায় আরাম করে বসে বললেন,নূহা আমাদের জন্য জলদি করে কিছু নাস্তা তৈরি করে আনো।মেহেদীর কথা শুনে নূহার ঘুম ছুটে যায়!
ওদিকে মিশু বলেন, ভাইয়া ভাবী থাকতে নূহা কেন নাস্তা বানাবে?
তাছাড়া ও রাত জেগে পড়াশোনা করে এমনিতেই ক্লান্ত ।
মেহেদী মিশুর কথা শুনে বললেন, নূহা কেন নাস্তা বানাবে এর মানে কী?তোর ভাবী পারলে ও কেন পারবে না।
তাছাড়া সাবিহা যেমন এই বাড়ির বৌ নূহা ও তো তাই।
আর পড়াশোনা তো সাবিহা কেও করতে হয়।
ওকে তো পড়াশোনার দোহাই দিতে শুনলাম না!মেহেদী হাসানের কথা শুনে মিশু বলেন, ভাইয়া তুমি বুঝতে পারছো না ভাবী গ্রামের মেয়ে।
আর নূহা শহরে মানুষ।
তাছাড়া নূহা কখনো এসব কাজ করেনি।এদিকে নূহা মনে মনে ফুঁসছে ।
তাকে কি বোকা ভেবেছে।
ভাইয়া কি ভেবেছেন,রান্না করে সে তার সুন্দর হাত দুটো নষ্ট করবে কখনো না।
রান্না করা ওর কাজ নয়।ওদিকে মিশুর কথা শুনে মেহেদী বললেন,মিশু তুই হয়তো ভুলে গেছিস সাবিহা তার পরিবারের অনেক আদরের মেয়ে।
সবচেয়ে বড় কথা ওর মা বাবা বিয়ের আগে কখনো ওকে দিয়ে কিছু করায়নি।
কিন্তু মেয়েটা এখানে এসে সব দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।
ওর কাজ দেখলে কেউ বুঝতে পারবে না সে কখনো বিয়ের আগে বাপের বাড়িতে কাজ করেনি।
এছাড়া আমার জানামতে নূহাদের থেকে আর্থিক অবস্থা সাবিহাদের বেশি ছাড়া কয় নয়।
মেহেদীর কথা শুনে মিশুর মুখ কালো হয়ে গেছে।
নূহা মেহেদীকে বলেন, ভাইয়া আমি তো রান্না করতেয় চায় কিন্তু বাবা তো ভাবীর রান্না ছাড়া খেতে পারেন না।
মেহেদী নূহার কথা শুনে বললেন, বাবাকে নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না।
সেটা আমি দেখবো।
তুমি আপাতত এদিকে দেখো।
তাছাড়া তোমার ভাবী সুস্থ থাকলে তোমাকে কাজের কথা বলতাম না।
নূহা মেহেদীর কথা শুনে বললো,ভাবীর তো সামান্য জ্বর এসেছে।
এমন জ্বর নিয়ে ভাবী তো সবসময় কাজ করে অভ্যস্ত।
নূহার স্বার্থপরের মত কথা শুনে মেহেদী মনে মনে বললো, তোমাকে শায়েস্তা না করলে হচ্ছে বোনটি।
আমার বৌয়ের অসুখ তোমার কাছে সামান্য লাগছে দাঁড়াও তাহলে।
কথাটা ভেবে মেহেদী নূহাকে বলেন, আসলে নূহা তোমাদের বলতে চাচ্ছিলাম না কথাটা।
কিন্তু এখন দেখছি না বলে উপায় নেয়।
আসলে সাবিহার করোনা হয়েছে।
আমার বন্ধু এলো না সে কালকে টেষ্ট করেছিলো আজকে ভোরে রেজাল্ট পজেটিভ এসেছে বলেছেন।
নূহা কথাটা শুনে মেহেদীর থেকে দশহাত দূরে সরে যায়।
তা দেখে মেহেদী মুচকি হেসে দেয়।
এদিকে নূহা মেহেদীকে বললো, ভাইয়া ভাবীকে এখনো বাসায় রেখেছেন কেন?
হসপিটালে খবর দিন।
তাকে এসে নিয়ে যাক।
নাহলে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দিন।
তার জন্য তো আমরা মরতে পারবো না।
মেহেদী নূহার কথা শুনে ধমকে বললেন, একটা চর মারবো।
ওকে কোথায় রাখবো বা পাঠাবো তা তোমাকে বলতে বলিনি।
এই নিয়ে বাজে কথা বলবে না।
সাবিহা কোথায় যাবে না, বাসায় থাকবে।
ওর সব চিকিৎসা বাসায় বসে হবে।
তাছাড়া ওকে নিষেধ করেছি কিছুদিন রুমে থেকে বের না হতে।
আর ও যে কয়দিন অসুস্থ থাকবে সেই ক’দিন তুমি সব দেখবে।
মেহেদীর কথা শুনে নূহার কান্না পাচ্ছে।
এ কোথায় ফেঁসে গেছে।দুইদিন পর
মেহেদী সেদিন ভোরে তার পরিকল্পনার কথা তার বাবাকে জানান।
নূহা ও মিশুকে দায়িত্ব বোঝাতে সে এসব করছে।
তার বাবা সব শুনে খুশি হয়।
মেহেদী বাবাকে বলেন, কিছুদিন গ্রামে থেকে বেড়িয়ে আসতে।
কারণ নূহার বিশ্বাস নেয়।
এই মেয়ে তার বাবার যত্ন তো দূরের কথা ঠিকমত খাবার দিবে কিনা তা সন্দেহ।মারুফের বাবা সবকিছু শুনে ছেলের কথায় রাজি হয়ে যায়। এমনিতেও অনেক দিন ধরে সাবিহার বাবা মানে তার বন্ধু তাকে যেতে বলছেন ।
সময় সুযোগ হয়নি এবার যেহেতু সুযোগ পেয়েছেন তাহলে কয়েকদিন বন্ধুর সাথে আড্ডা দিয়ে কাটানো যাবে।
সেদিন ভোরে মেহেদী তার সুমিন্ধকে ফোন করে তার বাবাকে নিয়ে যেতে বলেন।এদিকে দুই দিনেয় নূহা হাঁফিয়ে উঠেছে।
এতো কাজ করতে করতে মাঝা বাথা হয়ে যাচ্ছে।
এতদিন নিজের রুমটা সে পরিষ্কার করেননি।
সাবিহা করে দিয়েছে।
কিন্তু দুই দিন ধরে ,সব কাজ করতে করতে নাজেহাল অবস্থা।
তবুও ভালো ওকে রান্না করতে হচ্ছে না।
মিশুকে দিয়ে খাবার বাহিরে থেকে আনায়।ওদিকে মিশু এই দুইদিনে একটা কথা বুঝতে পারছে, তার সাবিহা ভাবী এই সংসারের কি!
তার ভাবী সারাদিন কতো কাজ করে।
কখনো বলে না আমার খারাপ লাগছে।
বা এটা করতে পারবো না ,ওটা করতে পারবো না।দুইদিন ধরে ভাবী অসুস্থ্ হওয়াতে বাড়ি ঘর সব নোংরা হয়ে গেছে।
এদিকে নূহা রান্না বান্না না করেও বলছে কাজ করতে করতে সে শেষ।
কি কাজ করে ওই ভালো জানেমিশু নূহাকে ভয়ে একটা কথা বলতে পারছে না , তিন বেলা বাহিরে খাবার খেয়ে সে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে এই দুই দিন সাবিহা ভয়ে রুমে থেকে বের হয়নি।
তার জন্য কেউ অসুস্থ হোক তা কখনো চায় না।
একা একা বসে থাকতে খারাপ লাগছে।
এই দুইদিন নূহা সাবিহার রুমে খাবার দিতে আসেনি ভয়ে।ওদিকে মেহেদী অফিসে থেকে দুপুরে এসে পড়েছে।
নিজের হাতে সুপ ,পাস্তা রান্না করে যত্ন করে সাবিহাকে খাওয়ান।
সে সাথে ডিম দুধ ও ফলমূল তো আছেয়।
তার আদর যত্ন দেখে বোঝা যায় মানুষটা ওকে কতটা ভালোবাসেন।
তাইতো সাবিহা মনে করেন,কখনো কখনো ভালোবাসি বলতে হয় না।
মন দিয়ে বুঝে নিতে হয়।ওদিকে মিশু দুইদিন ধরে রাত পর্যন্ত অফিস করে এবং খাওয়া দাওয়া অনিয়ম করায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।
গতকাল বৃষ্টিতে ভিজে বাসায় আসেন।
সকাল বেলা হঠাৎ করে বুঝতে পারে শরীরে বেশ জ্বর ।
খারাপ লাগলে, মাথা ভার হয়ে আছে।মিশু নূহাকে কাছে ডাকছে তার কিছু ভালো লাগছে না।
এদিকে নূহা মিশুর জ্বর দেখে বললো,দেখো জান ভাবীর করোনা এরমধ্যে আবার তোমার জ্বর এসেছে।
আমার মনে হচ্ছে তোমার করোনা হয়েছে।
এখানে থাকলে আমিও অসুস্থ হয়ে পড়বো।
আমি জানি তুমি কখনো চায়বে না যে আমি অসুস্থ হয়।
তোমার কথা ভেবে, আমি আমাদের বাসায় চলে যাবো ভাবছি । তুমি ভাইয়ার বন্ধুকে দিয়ে নিয়ে একটা টেষ্ট করিয়ে নিও।
রিপোর্ট নেগেটিভ হলে আমায় জানিও এসে পড়বো
মিশু নূহার কথা শুনে চমকে গেছে?
এই তার ভালোবাসা।
যার জন্য সব সময় পরিবারের কথা ভাবেনি।
যে মানুষটিকে সব সময় আগলে রেখেছে সেই কিনা তাকে অসুস্থ রেখে চলে যেতে চাচ্ছে।
এটাই কি তার ভালোবাসার মানুষ।
#চলবে
আগামী পর্বে সমাপ্ত।4 Comments

Saifun nesa Shima
Housewife
Friends
Nahar moyna
@moyna
বিপুল চন্দ্র রায়
@sreebipulchondrorayraygmail-com
এমদাদ হোসেন
@emdad123
Jebunnesa jebu (জেবুন্নেছা জেবু)
@jebunnesa-jebu
TARIN
@tarin
Latifur-rahman-Pramanik
@latifur-rahman-pramanik
Md-Nadiruzzaman
@md-nadiruzzaman
Md. Habibur Rahman
@habib
তাওহীদ সুফিয়ান
@tawhidsufian



বাহ্