-
সুখে আছি
অনিক ভট্টাচার্য্য
রিং।।।। রিং।।।।। রিং।।।।।হ্যালো কে পুজন???
পুজন: হ্যারে রাকেশ , আমি পুজন,রাকেশ: কি রে ??কেমন আছিস? বন্ধু দেখা, সাক্ষাৎ নেই,
পুজন: ভালো আছি রে, তা তোর কি অবস্থা?? কেমন আছিস?
রাকেশ: এই চলছে, আর কি, ভালো নেই,এক প্রকার, এখন, প্রচন্ড গরমে অফিস থেকে ফিরে এসে, লোডশেডিংয়ে আধাঁরে বসে আছি, সন্তানটা পড়তে পারছে না, কারেন্ট কবে আসবে ঠিক নেই, আইপিএস, ইনভার্টার, এসব কেনার সামর্থ্য ও নেই যে কিনবো, সারাদিন পরিবার টা কষ্টে থাকে, বাবার অবসর জীবন, মায়ের ও বয়েস হলো, এদিকে আমিও বিয়ে করলাম, সন্তান ও আছে,একা আমার উপার্জনের ওপর, চলে খরচ বেড়েছে, উপার্জন কমেছে, স্ত্রী সন্তানও কষ্ট পায়?
পুজন: কেন?
রাকেশ: দ্যাখ গরীবের জ্বালা তোরা বুঝবি না,কতো শখ হয়, বউ বাচ্চাদের নিয়ে একটু ঘুরতে যায়, পুজোর ও আর দিন বেশি নেই,
পুজন: তাই?(কাশতে কাশতে) দেখতে দেখতে পুজো ও চলে এলো?
সময় কিভাবে চলে যাচ্ছে,আজ কাল বোঝায় যায় না,রাকেশ: হুম।।।তা বল কি করছিস?
পুজন: এই তো কিছুনা,ক্লান্তি লাগছে আর ঘুম ও পাচ্ছে, ঘুমোচ্ছিলাম।পুজন ( হাসতে হাসতে বললো) ঠিক বললি,তা ওসব ছাড় ,আমার কপাল ভালো আর কি করা যাবে?,তোর খারাপ কি বা করার আছে?তা বল এদ্দিন পর? কি মনে করে?
রাকেশ: আসলে কি করে বলি? ইয়্যো মানে, কিছু টাকার ধার হবে? তোকে মাস খানেক পর দিয়ে দেবো, আসলে সামনে পুজো,বাবা,মা,বউ,বাচ্চা, এদের শপিং এর জন্য টাকা লাগবে,এবার বোনাস দেবে দেরিতে, ততদিনে পুজো শেষ,জানিস তো চাকরির কি হাল?বেতন বোনাস সবটাই এতো কম একটু সুখে থাকা যায়না, না পারছি বাপ মাকে খুশি করতে,না পারছি বউ, বাচ্চাকে ভালো রাখতে, সংসার চালাতে চালাতে, রীতিমত মরে যাওয়ার জোগাড়, তোর মতো যদি ভাগ্যবান হতাম,তবে সব সুখ কিনে নিতাম,(দীর্ঘ শ্বাস)
পুজন: (হেসে হেসে) তা ঠিক বললি,আমি অনেক ভাগ্যবান, তোর থেকে অনেক সুখি,
রাকেশ:ব্যঙ্গ করছিস?
পুজন:(কাশতে কাশতে) না না ব্যঙ্গ কেন করবো?
রাকেশ:ইয়ে বলছি, শোন না, টাকা টা বেশি দরকার, পারবি?
পুজন: হম্ কবে নিবি? এক কাজ কর ,কাল নিয়ে যাস,
রাকেশ: ঠিক আছে আমি কাল তোর বাড়ি আসছি,আর সময় মতো টাকা ফেরত পেয়ে যাবি, চিন্তা করিস না,ভরসা রাখতে পারিস,পুজন: সে ভাবছি না, আর হ্যাঁ বাড়িতে আসিস না পাবিনা, st. teresa hospital 6th floor 654 নম্বর কেবিনে আসিস, এটা আমার বর্তমান ঠিকানা,
রাকেশ: (ইতস্তত। হয়ে বললো, ) মানে?ওখানে কে? কার শরীর খারাপ?
পুজন: আমিরাকেশ:কেন?
পুজন: এতক্ষণ তুই বললি, এবার আমি বলি, বছর চারেক আগে রোড এক্সিডেন্টে মা বাবা মারা যায়, সারা শরীর পুরে ছাই হয়ে যায়, মা বাবার মুখাগ্নিও করতে পারিনি, সে শোক কাটতে না কাটতে স্ত্রীর ক্যান্সার ধরা পরলো,লাস্ট স্টেজ, চোখের সামনে তিল তিল করে মরেছে, সন্তান আমাদের হওয়ার সুযোগও হয়নি, এক নিমিষেই পরিবার, বংশ সব শেষ ,স্ত্রীও ছেড়ে চলে গেলো দুনিয়া থেকে, মুখাগ্নী করার সময় মাথা ঘুরিয়ে পরে যায় আমি, সবাই ভেবেছিল শোকে ,এমন হলো,ডাক্তার দেখানোর পর পরীক্ষা শেষে দেখা গেলো আমার ও ব্রেন ক্যান্সার লাস্ট স্টেজ,প্রায় প্রতিদিন মাথা যন্ত্রনায় বেঁহুস হয়ে পরি, ইঞ্জেকশন দিয়ে ঘুম পাড়ানো হয় দিনের খুব কম সময় জেগে থাকি, তাই ঘুম ঘুম পাই, কড়া ঔষধে, প্রায় সময় আইসিউ তে লড়াই চলে, বাঁচিয়ে তোলার জন্য, ঐ যে বললাম সুর্যের আলো দেখিনা কারন জেগে থাকি কম, আর হসপিটাল বলেই লোডশেডিংয়ের ঝামেলা নেই, শেষ কবে বাইরের জগত দেখেছি জানিনা, আর দেখবো কিনা তাও জানি না, প্রতিদিন গুনি ঐ যে বললি আমার অনেক পয়সা ,সব কেনা যায়, প্রতিদিন,সত্যি একটু একটু বেঁচে থাকা কিনি,ঐ যে বললি মরতে চাস?মরাটা সহজ , বাঁচা টা কঠিন, গলায় দড়ি দিয়ে মারা যাওয়ার আগেও মানুষ ছটফট করে, দড়ি খোলার জন্য বাঁচার জন্য,তাই বন্ধু একটা কথায় বলবো,
কাউকে বাইরে থেকে দেখে বোঝা যায়না, সে কতটা সুখি না দুখি আছে?আমি আগামীর স্বপ্ন দেখি না,দেখি আগামী কালকের, একটা দিন বাচাঁর ,কারন প্রতিদিন জানিনা পরের দিন চোখ আর খুলবো কিনা?দিন গুনিই,ফুড়িয়ে যতই যাচ্ছে সময় , ততটা ই বাচঁতে চাচ্ছি আরো একদিন বেশি, (হটাৎ শ্বাস কষ্ট) আচ্ছা রাখি খুব কষ্ট হচ্ছে মাথায়, এতোক্ষণ কারো সাথে কথা বলতে পারিনা ,রাখছি, কাল বেঁচে থাকলে দেখা হবে,যেতে যেতে একটা কথা বলি, কেউ ই জানেনা কোন মানুষ কতটা সুখি?।।আর কতটা দু:খি? কিন্তু আমরা আমাদের দুঃখ গুলো এতো বড়ো ভাবি সামনের জনের টা কম মনে হয়,
****************************************************************************************2 Comments
Friends
Md-Zahidul-Islam-Prince
@md-zahidul-islam-prince
মীর অনাবিল
@miranabil
Mohammad-Rakibul-Hasan
@mohammad-rakibul-hasan
Tahmina-Shikha
@tahmina-shikha
MD-Naimul-Islam
@md-naimul-islam
charumannan
@charumannan
Mehebub-Hasan
@mehebub-hasan
Omar Faruk Rayhan
@rayhanpoet
Arif Muslimeen
@arif-muslimeen



কথোপকথন সাহিত্যের অনন্য এক ভঙ্গি। অভিনন্দন কবি।