Profile Photo

Hossain Ahmad KhanOffline

  • @hossain
  • Profile picture of Hossain Ahmad Khan

    Hossain Ahmad Khan

    5 years ago

    পুন্যবান বন্ধুর খোঁজে

    আমাদের এখন বন্ধুর অভাব নেই। প্রতিবেশী বন্ধু, খেলার বন্ধু, স্কুলের বন্ধু, কলেজের বন্ধু, ফেইসবুকের বন্ধু। চারপাশে বন্ধুদের আনাগোনা! বন্ধুদের এতো ভীড় সত্ত্বেও মাঝে মাঝে খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগে। মনে হয় কী যেন নেই? কীসের যেন অভাব?!
    এই অভাববোধ আরো প্রকট হয় বিপদের মুহূর্তে। যখন হাত বাড়িয়েও কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না! আসলে আমাদের এই বন্ধুত্ব বড়ই ঠুনকো। বাতাসের হালকা নাড়াতেই ভেঙে পড়ে। কারণ এটা প্রকৃত বন্ধুত্ব নয়। আড্ডা আর টাইমপাসের মাধ্যমে মাত্র!

    আমাদের এই বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত হলো, শুকনো মরা এক গাছের ন্যায়, যার মধ্যে কোন সজীবতা নেই। যে তার মালিককে নিজের ফলের স্বাদ আস্বাদন করাতে পারে না। পারে না মুসাফিরকে আপন ছায়ায় শীতল করতে!
    আমাদের জীবনে সুখ-দুঃখ, কান্না-হাসি ভাগাভাগি করে নিতে একজন প্রকৃত বন্ধুর প্রয়োজন পড়ে। যে দুঃখের সময়ে আমাদের সমব্যথী হবে এবং সান্ত্বনার সুমিষ্ট বাণী শুনিয়ে ধৈর্য্য ধারণে অপার সাহস যোগাবে আর আমাদের সুখের দিনে আমোদিত হবে এবং সুখ ও সমৃদ্ধির পথে আরও অগ্রসর হতে প্রেরণা যোগাবে। তাই আমরা নিজেদের মত করে বন্ধু খুঁজে নিতে চেষ্টা করি। এতে উপকারী ও উত্তম বন্ধু খুঁজে পেয়ে কখনো আমরা সফল হই। আবার কখনো খারাপ বন্ধুর পাল্লায় পড়ে হই ক্ষতিগ্রস্ত। তাই প্রথমে আমাদের জেনে নেয়া প্রয়োজন কোন ধরনের বন্ধু আমাদের জন্য উপকারী ও কল্যাণকর।

    বন্ধু নির্বাচন
    আমরা মুসলমান হিসেবে দুনিয়ার কল্যাণের পাশাপাশি আখেরাতের কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি দেয়া আমাদের জন্য একান্ত জরুরী। বরং অনেক ক্ষেত্রে আখিরাতই হলো মূল লক্ষ্য-উদ্দেশ্য। তাই এমন বন্ধুই নির্বাচন করা আবশ্যক, যে দুনিয়া-আখেরাত উভয় জগতের জন্য কল্যাণকর হবে। এজন্য বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে সালাফগণ দুটি বিষয়কে প্রাধান্য দিতেন। এক. বন্ধু দ্বীনদার হওয়া। দুই. উত্তম চরিত্রের অধিকারী হওয়া।
    কারণ উত্তম চরিত্র মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঘনিষ্ঠতাকে নির্ভেজাল ও নিষ্কলুষ করে। আর দ্বীনদারীর মাধ্যমে এ সম্প্রীতি ও ঘনিষ্ঠতা হয় আরও স্বচ্ছ ও পবিত্র। তাই উত্তম চরিত্রের পুন্যবান বন্ধুই নিজের জন্য পছন্দ করুন।

    বন্ধুত্ব যেন হয় আল্লাহর জন্য
    একজন মুমিন বান্দার সকল কাজ আল্লাহর জন্য হয়ে থাকে। তাই কারো সাথে তার বন্ধুত্ব স্থাপনও হবে আল্লাহর জন্য। কেননা ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব যদি আল্লাহর জন্য হয়, তাহলে তা হতে পারে তার জন্য হাশরের ময়দানে আরশের শীতল ছায়া লাভের মাধ্যম;যেদিন আরশের ছায়া ব্যতিত অন্য কোন ছায়া থাকবে না। যেমন আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-
    “আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন বলবেন, ‘সেই সব লোকেরা কোথায়, যারা আমার মহত্ত্বের জন্য পরস্পর ভালোবেসেছিলে? আজ আমার (আরশের) ছায়াতলে তাদের আশ্রয় দেবো। আজ আমার (আরশের) ছায়া ছাড়া অন্য কোন ছায়া নেই।”

    বন্ধুত্বের উপকারিতা বনাম অপকারিতা
    আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার অন্যতম দাবি হলো, তারা একে অপরকে সৎ ও কল্যাণকর কাজে সহযোগিতা করবে এবং অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেন-
    ” তোমরা সৎ ও তাকওয়ার কাজে পরস্পরে সাহায্য করো এবং অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যের সাহায্য করো না”
    অর্থাৎ একজন আল্লাহর স্মরণ থেকে বিস্মৃত হলে অপরজন তাকে তাঁর কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।
    বিলাল বিন সাদ রহ. বলেন, ‘তোমার যে বন্ধু তোমাকে আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং আল্লাহর ইবাদতের প্রতি উৎসাহ প্রদান করে, সে তোমার ওই বন্ধুর চেয়ে উত্তম, যে প্রতি সাক্ষাতে তোমাকে এক দিনার করে দেয়।’
    আর এমন বন্ধুই হলো প্রকৃত বন্ধু। কেননা সে যেমন দুনিয়ার জীবনে তোমার পাশে থাকে, তোমার সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে আসে তেমনি তোমার আখেরাতের জীবনের জন্যেও কল্যাণ কামনা করে তাতে সফলতা লাভের পথ দেখায়। তাছাড়া এমন বন্ধুত্বের সম্পর্ক হয়, মজবুত ও স্থায়ী। কেননা এর ভিত্তি হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি।
    পক্ষান্তরে পাপিষ্ঠ লোকের সাথে বন্ধুত্বের পরিণতি হচ্ছে, বিচ্ছেদ, ক্ষতি ও বিপদ। কেননা পাপিষ্ট লোকদের বন্ধুত্ব ও ভালোবাসার বন্ধন মাকড়সার জালের মতো ঢুনকো- সামান্যতেই অস্তিত্বহীন হয়ে পড়ে। কারণ এর ভিত্তিই হলো, গুনাহ আর পাপের উপর। এছাড়াও বিবিধ অপকারিতা বিদ্যমান এ ধরনের বন্ধুত্বে। আমরা প্রত্যেকে তার সম্মুখীন না হলেও এসম্পর্কে সম্যক অবগত।

    বন্ধুর বিকল্প
    যদি সত্য ভালোবাসা ও প্রকৃত বন্ধুত্ব দুনিয়াতে উপকারী এবং আখেরাতের কাজে সহায়ক হয়, তখনই তা মুসলমানদের জন্য জরুরী। অন্যথায় যদি এমন না হয়, বরং এর বিপরীত হয় তাহলে সেই বন্ধুত্বের কোনো প্রয়োজন নেই। এমতাবস্থায় বন্ধুহীন একাকী থাকাই শ্রেয়। তাই প্রিয় পাঠক! আপনি যদি কোনো পুন্যবান বন্ধু খুঁজে না পান তাহলে একাকী থেকে কুরআন তিলাওয়াত করুন। বিভিন্ন উপকারী বই পাঠে নিমগ্ন হোন। একাকীত্বের সুযোগে আমল-ইবাদত উত্তরোত্তর বৃদ্ধি করতে থাকুন। এতে আপনি আল্লাহর নিকটবর্তী হতে থাকবেন এবং আল্লাহর সাথে আপনার মুহাব্বত ও বন্ধুত্ব পয়দা হবে ইনশাল্লাহ। আর আল্লাহ থেকে উত্তম বন্ধু আর কে আছে?
    আল্লাহ তাআলা আমাদের সহায় হোন। তিঁনি কতই না উত্তম সহায়ক!

    10
    6 Comments
Skip to toolbar