Profile Photo

অন্তুOffline

  • Md-Baitul-Amin
  • Profile picture of অন্তু

    অন্তু

    4 years, 9 months ago

    মনো-গ্রাফিক

    এখন আমার বয়স ২৩। এত সূক্ষ্ম ভাবে মনে রাখার একটা কারণ আছে বটে। আগামী সেপ্টেম্বরে আমার জন্মদিন। আর এখন চলছে আগস্ট তাই খুব বেশি দেরি নেই। জন্মদিন কার না ভালো লাগে? আমারও ভালোলাগে তাই মনে রেখেছি। আসলে এই যে বয়সের পরিবর্তন আবার চিন্তা ভাবনার পরিবর্তন সবকিছু যেন নির্দিষ্ট সময় মেনে আসে। তারা যেন কোনো বাধাই মানতে চায় না। যেমন স্কুল জীবনের পাঠ্যপুস্তকে প্রধান দু’টি বিষয় ছিল বাংলা ও ইংরেজি। ঠিক বয়স যেভাবে বেড়েছে এ দুটো বিষয়ও তাদের রূপ পরিবর্তন করেছে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করে যখন উচ্চমাধ্যমিকে পদার্পণ করা হয় তখন এ দুটো বিষয়ের পরিবর্তন লক্ষণীয় হয়ে ওঠে।
    ছেলেবেলা:
    ছেলেবেলাটা মূলত একটা বিশাল ফাঁকা বিশাল সমুদ্রের মতো। যে সমুদ্রে নেই কোন মাছ নেই কোন জলজ উদ্ভিদ। শুধু পানি আর পানি। একজন মানুষও প্রাপ্তবয়স্ক/প্রাপ্তবয়স্কা না হওয়া পর্যন্ত এরকম সমুদ্রেই বিচরণ করে। আস্তে আস্তে সে সমুদ্রে মাছের আহরণ হয়। আবার সেই মাছের খাদ্য হিসেবে জমে ওঠে জলজ উদ্ভিদ। ছোটবেলায় মায়ের মুখের বুলি শুনে শিখেছি জীবনের প্রথম শব্দ “মা”। তবে অনেকে আবার “বাবা” বুলি দিয়ে কথা বলা শুরু করেছে। আমার মায়ের থেকে শোনা আমার প্রথম বুলি মা দিয়েই শুরু হয়েছিল। যে শব্দগুলো আজ আমি লিখছি সেটাও আবার অন্য কোন সমুদ্র থেকে আসা। ঠিক এভাবেই আমরা আমাদের ফাঁকা সমুদ্রে মাছের আগমন ঘটে এখানে মাছ বলতে কথা বলাকেই বুঝানো হয়েছে। যখন একটু বয়স বাড়লো সাথে সাথে জানার আগ্রহটাও বেড়ে গেল। যেমনটি সমুদ্রে মাছ আছে কিন্তু মাছের খাদ্যের প্রয়োজন। সে খাদ্য কি? জলজ উদ্ভিদ যাকে আমি জ্ঞান আহরণের আগ্রহের সাথে তুলনা করছি। তখন আমাদের বিদ্যার সাগরে উদ্ভিদের জন্য বীজ আনতে যেতে হয় যেমনটি আমরা বিদ্যালয়ে যায়। সেখান থেকেই আমাদের জলজ উদ্ভিদের আগমন ঘটানো হয় নিজ সমুদ্রে। এই গানগুলোকে কথা খাদ্য হিসেবে সঞ্চালন করেছি আমরাই। কিভাবে যদি উত্তর উত্তর চাওয়া হয় তাহলে উত্তর হবে বিদ্যালয় থেকে। আরো ভেবেছি যত বড় হব ততই সমুদ্রে খাদ্যের মানে জ্ঞানের আগমন ঘটাবো। আর এই জ্ঞানগুলো খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করবে আমাদের “বিবেক”। তখন বিবেকে অনেক অনেক উক্তি জমা হয়। তার মধ্যে একটি শব্দকে বিবেক খুব বিশেষ ভাবে গ্রহণ করে। তা হল সততা। আস্তে আস্তে নদীর মতো করে বাক্য ধ্বনি শব্দ গড়ে ওঠে। যাদের পানিগুলো অবশেষে জ্ঞানসমুদ্রে প্রবাহিত হয়।
    মধ্যবেলা:
    একটু ছোট থেকে বয়সটা যখন একটু গড়ালো তখন পদার্পন করলাম মধ্য বেলায়। এ বেলায় সবথেকে মজার ব্যাপারটা হলো সবাই এসে জানতে চাই ” বড় হয়ে কি হতে চাও বাবা!” হাহাহাহা…..
    আমি উত্তর করতাম আমি পাইলট হব। জানি না অন্যরা কি উত্তর দিত তবে আমাদের যুগে এই পেশাটা একটু ভাব বহন করত। “পাইলট” নামটাই যেন একটা আভিজাত্যের ছোঁয়া বহন করে। তবে কিছুদিন কি হব বাবা ‘ প্রশ্নের উত্তরটা বদলে গেল। তখন ইচ্ছা হত গাড়ির ড্রাইভার হব। তখন আমি হয়তো ক্লাস ফরে হবো। তখন আমার নানুবাড়ি ছিল ঈশ্বরদী। আমার নানু ঈশ্বরদী জংশনে এসপি ছিলেন। তাই আমার পৈতৃক নিবাস বগুড়া থেকে ঈশ্বরদী যাওয়াটা চাট্টিখানি কথা ছিল না। তাই বাবা অনেক সময় রেন্ট-এ-কার থেকে গাড়ি ভাড়া করতে। তখন আমার একটা সিট সব সময় ফিক্স থাকতো। সেটা হলো চালকের পাশের সিট। গিয়ার চেঞ্জ, স্টিয়ারিং ঘোরানো, ইনডিকেটরের টিকটিক শব্দ সব যেন আমাকে একটা চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তে নিয়ে যেত। আমি ড্রাইভার কাকুর পাশে বসে খুব মনোযোগ সহকারে এসব দেখতাম। মনে হতো লোকটার কাজ কতইনা কঠিন। কঠিন কাজে সবার কাছে নায়ক হবার একটা চান্স থাকে। তাই আমিও হবো তখন সিনেমা দ্বারা প্রভাবিত ছিলাম। তবে মানুষ সামাজিক জীব। সমাজ দ্বারায় আমরা আমাদের চিন্তা ভাবনা গুলো নির্বাচন করি। যেমন আমরা সাধারণত সাদা চামড়া দেখলে বেশি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু সাদা চামড়ার দেশের মানুষের আবার আমাদের মতো কালো শ্যামলা বাদামী রঙের চামড়া পছন্দের। এখানে তাদের সমাজব্যবস্থাটা তাদেরকে সে অনুপাতে ভাবতে শিখিয়েছে। তাই আমিও সামাজিক জীব। আশেপাশে যখন দেখলাম ড্রাইভের পেশাটা নিম্ন শ্রেণীর মানুষের মধ্যে বেশি। সমাজতো আমাকে শিক্ষা দিয়েছে আমাদের শ্রেণী বিভাগ রয়েছে। যাহ তখন বিবেক দ্বারা বুঝিনি এখন যতটানা বুঝি। আমার ইচ্ছারও নতুন ঘটে গেলো। তখন মাথায় আসলো উচ্চ শ্রেণীর মানুষেরা কি করে। তারা নিজের গাড়ি নিজেই চালায়। তাই আমিও ভাবলাম আমার সাথে এটাই যায়।
    তিন নম্বর বেলাটা নিয়ে কিছু লিখবো না। কারণ এ বেলায় সব ভুলকে ভুল জেনেও বাস্তবতা নামক উপাধি দিয়ে চেপে যেতে হয়।
    __________
    আমার এই আলোচনার সারাংশ এইযে আমরা মানুষ সেই ছোটকাল থেকেই পরিবর্তন হয়ে আসছি। জ্ঞান বাড়ছে, বুদ্ধি আরও ধারালো হচ্ছে। অনেক কিছু শিখছি আর সেসব ফিল্টার করেন নিজের ব্যক্তিত্বটাকে গঠন করছি। তেমনি মানুষের সপ্নেও পরিবর্তন আসে। মাঝে মাঝে সেই স্বপ্নকে অবস্থার সাথে মানিয়ে নিতে হয় আবার অবস্থার বিপরীতে প্রয়োজনে ভ্যানিশও করে দিতে হয়। তারপর আবার স্বপ্ন বুনতে হয়।

    6
    7 Comments

Friends

Skip to toolbar