Profile Photo

Nushrat MohimaOffline

  • Nushrat-Jahan-Mohima
  • Profile picture of Nushrat Mohima

    Nushrat Mohima

    5 years ago

    অনুভূতিতে আমার দেশপ্রেম ”

    খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে আরিয়ান। মা তাকে বলে,আজ ১৬ই ডিসেম্বর। বিজয় দিবস।১৯৭১ সালে এই দেশ স্বাধীন হয়। আরিয়ান ভাবে কিভাবে এ দেশ স্বাধীন হয়? সে মাকে বলে,আম্মু বল না কিভাবে দেশ স্বাধীন হয়? মা বলে, তোর দাদী কে বল উনি ওই সময় সব নিজের চোখে দেখেছেন। আরিয়ান বলল,আম্মু আগে স্কুল থেকে ফিরে আসি তারপর সব গল্প শুনব। এই বলে আরিয়ান নাস্তা করে বিজয় দিবস পালন করতে স্কুলে গেল। ও হ্যা, বলে রাখি আরিয়ান ক্লাস ২ তে পড়ে। মা বাবার অনেক আদরের ছেলে আরিয়ান। ছোট থেকেই সে দেশের কথা শুনতে ভালবাসে। স্কুলের ২১ শে ফেব্রুয়ারি,২৬ শে মার্চ, ১৫ই অগাস্ট, ১৬ই ডিসেম্বর কোনো দিবসই বাদ দেয় না সে। তাই তো মাকে আগেই বলে রাখে ওকে ঘুম থেকে তুলে দেয়ার জন্য। আরিয়ান স্কুলে গিয়ে অংকন প্রতিযোগিতা দেয়। কত যত্ন করে সে মুক্তিযুদ্ধের ছবি আকে। সে আঁকতে অনেক ভালবাসে। পরে সে প্রথম হয় ছবি আঁকাতে। দুপুরে সে বাসায় ফিরে এসে খেয়েই দাদির কাছে গল্প শুনতে যায়। আরিয়ান বলে, দাদি ও দাদি, আমাকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনাও। গল্প শুনবি তবে বস চুপটি করে আমার পাশে। আরিয়ান বসে তার দাদির পাশে। দাদী বলে,যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন তোর দাদু নেই। যুদ্ধের কিছু বছর আগেই তোর দাদু একদিন হার্ট অ্যাটাকে মারা যার। এইদিকে দেশের অবস্থা ভালো না। আমি অনেক অসহায় হয়ে পড়েছিলাম ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে। তখন তোর বাবা অনেক ছোট কেবল ১ বছর বয়স। তোর ফুফু,চাচারাও ছোট ছোট। আমি অনেক ভেঙে পড়ি তখন। তোর দাদু এত কম বয়সে চলে গেল যে তেমন টাকা- পয়সাও রেখে যায়নি। এমন সময় আমার বাবা কিছু টাকা- পয়সা পাঠিয়ে দিল। কিন্তু ওই টাকাতে আর কতদিন চলবে বল? তোর দাদুর কিছু জমি ছিল। ওটাতেই চাষ করা শুরু করলাম। কোনো রকমে খাওয়ার বাবস্থা হল। ততদিনে পাকিস্তানী বাহিনীরা দেশে হানা দেয়া শুরু করেছে। আমাদের গ্রামে তখনও আসে নি। তবে ঢাকাতে আক্রমন শুরু করে দিয়েছে। রেডিওতে সেই খবর প্রতিদিনেই শুনছিলাম। তাই খুব ভয়ে ভয়ে দিন কাটছিল আমার। পেটে ভাত নেই, ছোট ছোট বাচ্চা, বাড়িতে কোনো পুরুষমমানুষ নেই। তোর ৩ চাচাও অনেক ছোট। যদি হানাদার বাহিনীরা চলে আসে তখন কি করব, কই লুকাব এগুলা নিয়েই ভাবি সারাদিন। কিছুদিন পর শুনলাম পাশের গ্রামে, হানাদার বাহিনীরা এসেছে। এই কথা শুনেই কলিজাটা শুকিয়ে গেল। গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছে নিরাপত্তার জন্য। আমার তখন সেই সাহস নেই যে এই ৫ টা ছোট ছেলে মেয়েকে নিয়ে অন্য কোথাও যাব। তখন আমি বাড়ির পিছনে একটা বড় গর্ত করে কিছু খাবার ওখানে রেখে দিলাম। যদি ওরা আসে তখন ছেলেমেয়ে নিয়ে ওখানে থাকা যাবে এই ভেবে একটু বড় করেই করেছিলাম গর্ত টা। আরো কিছুদিন কেটে গেল হানাদার বাহিনীরা এলো না। তাই একটু কম ভয়ে ছিলাম। কিন্তু কিছুদিন পরেই হানাদার বাহিনীরা এলো গ্রামে। আমি বাচ্চাদের নিয়ে ওই গরতে লুকিয়ে থাকতাম। ওখানেই শুকনা খাবার গুলো খেতাম। যতক্ষণ ওদের পায়ের আওয়াজ শুনতে পেতাম ততক্ষণ ওই গর্তে লুকিয়ে থাকতে হত। আবার ওরা চলে গেলে নিজেদের ছোট ঘরে ফিরে যেতাম। কি যে কষ্টের ছিল ওই সময় গুলো সেটা বলে বুঝানো যাবে না। এভাবে লুকোচুরি খেলা চলল বেশ কিছুদিন। ভয়ে, চিন্তার দিন কাটল আমাদের। মনে হয় এই বুঝি আমাদের ধরে ফেলবে আর মেরে ফেলবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা বেচে গেলাম সবাই। কিন্তু আমাদের না পেয়ে আমাদের ছোট ঘরটিকে ওরা ভেঙেছিল। সেই ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তান হানাদার বাহিনী আমাদের দেশ ছেড়ে চলে গেল। আর আমরা স্বাধীন হলাম। আজকে এখনও বেচে আছি সেটা ভাবলেও কষ্ট হয়। এতক্ষণ ধরে আরিয়ান এসব শুনে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল। দাদী বলল, কি রে বোকা কানতেছিস কেন? আরিয়ান এত আবেগপ্রবণ যে কেঁদেই ফেলল শুনে। দাদী ওকে বুকে চেপে বলল কিছু ভাবিস না খোকা দেখ আমরা সবাই এখন বেচে আছি। আরিয়ান তার দাদীকে বলল, দেখিও দাদী আমি বড় হয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক সম্মান করব। তাদের জন্য অনেক কিছু করব। আমার দাদুর আর তোমার নামে একটা স্কুল খুলব। সেই স্কুলে সব মুক্তিযোদ্ধাদের বাচ্চারা টাকা ছাড়াই পড়াশুনা করবে আর মানুষের মত মানুষ হবে। দাদী আরিয়ানের মুখের দিকে তাকিয়ে বলল তাই যেন হয় খোকা। আমি তোর জন্য অনেক দোয়া করি।তুই অনেক বড় হবি।।
    নাম:নুশরাত জাহান মহিমা ফোন:
    ঠিকানা:কেরানীপাড়া,রংপুর।

    13
    7 Comments
Skip to toolbar