Profile Photo

সাইফুন নেসা সীমা।Offline

  • MeherMeherShima
  • কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
    (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
    লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
    পর্বঃ ২

    তোমার মুখটা শুকনো লাগছে কেন জান?
    কি হয়েছে?
    দেখো আমার সাথে আদিক্ষেতা করতে আসবা না।
    বোনকে দিয়ে অপমান না করালে চলছিল না তোমার?
    জান তুমি আমাকে ভুল বুঝচ্ছো‌ ।
    তোমাকে আমি ভালোবাসি ।
    তুমিই বলো তো ভালোবাসার মানুষটিকে কেউ ইচ্ছে করে অপমান করবে?
    তাছাড়া আমি বুঝতেই পারিনি সেদিন আমার ছোট বোন তোমার সাথে এভাবে কথা বলবে।

    আমি আগে জানলে কখনো ওকে এখানে আনতাম বিশ্বাস করো জান।
    ও টুনটুনি পাখি এবার তো একটু হাঁসো!

    প্রিয়া শ্রাবণের আদুরে কথা শুনেও রাগ ভাঙেনি।
    শ্রাবণ তা খেয়াল করে প্রিয়াকে বললেন,এই সোনা চলো না কোথাও থেকে ঘুরে আসি।

    প্রিয়া শ্রাবণের কথা শুনে থমথমে কন্ঠে বলেন, আমি কোথাও যাব না।

    শ্রাবণ প্রিয়াকে জড়িয়ে ধরে বলেন, তুমি না পশু পাখি দেখতে ভালোবাসো ।
    চলো আমরা চিড়িয়াখানা থেকে ঘুরে আসি।
    সেখানে চারদিকে সবুজে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশ।
    যা দেখলে তোমার মন ভালো হয়ে যাবে।
    ওখানে গেলে এক ধরণের সতেজতা ফিরবে।
    প্রিয়া শ্রাবণের কথা শুনে বলেন,মা এসে পড়বে।
    ছয়টায় তো গার্মেন্টসে ছুটি হয়ে যায়।
    শ্রাবণ প্রিয়ার কথা শুনে বলেন,এখন মাত্র দুইটা বাজে।
    আমরা যেহেতু কচুক্ষেত থাকি সুতরাং মিরপুর এক নাম্বার যেতে আধা ঘন্টা লাগবে।
    খালাম্মা বাসায় আসার আগে আমরাই এসে পড়বো।
    প্রিয়া শ্রাবণের কথা শুনে আর দ্বিমত করেনি।
    তৈরি হয়ে আধা ঘন্টার মধ্যে মিরপুর চিড়িয়াখানায় পৌঁছে যায় ওরা।
    প্রিয়া তো গেট দিয়ে ঢোকার পর হরিণ দেখে খুশিতে লাফিয়ে উঠলো।
    প্রিয়াকে খুশি দেখে শ্রাবণের মন ভালো হয়ে যায়।
    শ্রাবণের খুব ইচ্ছে করছে এই মুহূর্তেটাকে ক্যামেরা বন্দি করতে।
    কিন্তু তা পাবে কোথায়?
    ২০০৫ সালে তো ক্যামেরা , মোবাইল সহজলভ্য ছিলো না।
    সে সময়ে খুব কম মানুষের কাছে মোবাইল থাকতো।
    ক্যামেরা তো ছিলো হাতে গোনা কিছু মানুষের কাছে।
    শ্রাবণের আফসোস হচ্ছে একটা ক্যামেরা না থাকায়।
    কিন্তু এতো সুন্দর মুহূর্ত আফসোস করে সময় নষ্ট করতে চায় না।
    শ্রাবণ কথাটা ভেবে দশ টাকার বাদাম কিনে প্রিয়াকে নিয়ে ঘুরে ঘুরে বাঘ, জলহস্তি, কুমির, সাদা ঘোড়া, সিংহ, জিরাফ, হাতি, জেব্রা, গাধা, ওয়াটার বক, কালো ভাল্লুক দেখাচ্ছে আর গল্প করছে।
    শ্রাবণ প্রিয়ার দিকে তাকিয়ে বলেন, জান এখানে এসে তোমার অনুভূতি কী?
    প্রিয়া শ্রাবণের কথা শুনে প্রফুল্ল হয়ে বলে, দারুন লাগছে।
    তোমাকে এতগুলো ভালোবাসা।
    জানো আমি আগে কখনো চিড়িয়াখানায় আসিনি।
    বাঘ, জলহস্তি, কুমির, সাদা ঘোড়া, সিংহ, জিরাফ
    হরিণ কখনো সচক্ষে দেখতে পাবো কল্পনাও করিনি।
    তুমি না খুব ভালো।
    শ্রাবণ প্রিয়ার কথা শুনে বলেন, তাই,
    অবশ্য তোমার মুখের এই হাসিটুকু দেখবো এজন্যয় তো তোমাকে নিয়ে এলাম।
    আমি তো জানি এখানে আসলে আমার জানের ভালো লাগবে।
    প্রিয়া শ্রাবণের কথা শুনে বলে,হুঁ।
    আচ্ছা তুমি কি আগেও এখানে এসেছো ?
    শ্রাবণ প্রিয়ার কথা শুনে বলেন, চিড়িয়াখানায় আমি অনেক বার এসেছি।
    ছোট সময়ে মা বাবার সাথে এসেছি।
    এসএসসি পর বন্ধুদের সাথে।
    শ্রাবণের কথা শুনে প্রিয়া বলে, ও আচ্ছা আর কিছু মনে হয় দেখার নেয়?
    শ্রাবণ প্রিয়ার কথা শুনে বললেন,হাড়গিলা, কালো গলা বক, ইমু, ময়ুর, সাদা ময়ুর উটপাখি, আরও কতকিছু বাকি আছে।
    তুমি ভেবো না তোমাকে আজ সব না দেখিয়ে যাব না।
    শ্রাবণ প্রিয়াকে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব কিছু দেখায়।
    পাঁচটা বেজে যাচ্ছে ।
    বাসায় যেতে হবে সেজন্য প্রিয়াকে ওখানে থেকে থেকে বের হয়ে আসেন।

    শ্রাবণ বাসায় এসে দেখে তার মা বাসায় নেয়।
    শ্রাবণ জানে তার মা এই সময়ে তার বোনের বাসায় যায়।
    সেজন্য মা’কে নিয়ে আর ভাবেনি।
    শ্রাবণ বাসায় এসে গোসল করে ভাবছে ,আজ কয়েকদিন ধরে ঠিক মত দোকান খুলছে না।
    সেজন্য বাবা বাসায় রাগারাগী করবে নির্ঘাত।
    তার কাছে তো আমি ভালো না।
    তার বড় ছেলে ভালো।
    ছোট বেলা থেকেয় বাবা ভাইয়াকে বেশি ভালোবাসে।
    ভাইয়াকে সব সময় তার কাছে কাছে রেখেছেন আমাকে দূরে ঠেলে দিয়েছে।
    বড় ভাইয়াকে স্কুলে ভর্তি করিয়েছেন আমাকে থ্রি পর্যন্ত স্কুলে পড়িয়ে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছেন।
    সেখানে থাকতে আমার একটুও ভালো লাগতো।
    আমাকে দেশের মাদ্রাসায় রেখে তারা সবাই ঢাকা থেকেছে আমার কথা একবারও ভাবেনি।
    ওখানে থেকে কয়েকবার পালানোর পর বাবার হুস আসেন।
    এরপর আবার স্কুলে ভর্তি করে দেন।
    আমাকেই সব সময় পরিবারের থেকে দূরে থাকতে হয়েছে।
    বড় ভাইয়া বা সীমাকে কখনো দূরে রাখেনি।
    এমনকি এসএসসি পর আমাকে মামার বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছেন।
    এখানে তারা শান্তিতে থেকেছে আর আমাকে শুনতে হয়েছে মামীর কটু কথা।
    শীতের দিনে ফ্লোরে ঘুমাতে হয়েছে।
    পাতলা একটা কাঁথায় কি শীত মানে!
    পঁচা বাসি ভাত খেতে হয়েছে যেখানে আমার মা কাজের মানুষকে কখনো বাসি খাবার দেয় না।
    সেখানে তার ছোট ভাইয়ের বৌ আমাকে পঁচা ভাত ও খেতে দিয়েছে।

    কখনো তা খেতে না পারলে ।
    মামা বাসায় এলে মামী তাকে রসিয়ে রসিয়ে বলতেন , তোমার ভাগ্নেকে পোলাও গোশত দিলেও সম্পূর্ণ খায় না এঁটো করে ফেলে দেয় ।
    মামা মামীর কথা শুনে সত্যি মিথ্যে যাচায় না করে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতেন।
    এখানো সেদিন গুলোর কথা মনে হলে কষ্ট হয়।
    মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে বাবার কাছে জানতে চায়তে আমি কি তার ছেলে না।
    তাহলে কেন আমার সাথেই তিনি এমন করেন
    অবশ্য বাবার কাছে প্রশ্ন করলে তিনি কি বলবেন তা আমি জানি।
    বলবে তুই কথা শুনতে চায়তি না সেজন্য মাদ্রাসায় দিয়েছি।
    তোর কর্মকাণ্ড দেখে এসএসসি পর তোকে তোর মামার বাসায় পাঠাতে বাধ্য
    হয়েছি ।

    এলাকার গুন্ডাদের সাথে মেশার কারণে অপরাধ না করেও সবার চোখে অপরাধী হয়ে যায়।
    আমাদের দলের বিপক্ষের লিডার ছিলেন নামকরা মাস্তান।
    তার হাত বা নেটওয়ার্ক ছিলেন দেশ থেকে বিদেশ পর্যন্ত।
    তার কাছে আমার ব্যাপারে কোন শালায় যেন রিপোর্ট করেছে।
    এরমধ্যে
    লিডার লোক মারফত খবর পাঠান পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে দেখা করতে হবে।
    নাহলে আমার লাশ কেউ খুঁজে পাওয়া যাবে।
    এই কথা শুনে মা কান্নাকাটি করে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
    মায়ের অবস্থা দেখে বাবা তাদের টাকা দিয়ে আসেন।
    এবং আমার ছোট একটা ভুলের জন্য আমাকে মামার কাছে পাঠিয়ে দিলেন।
    কেন সেদিন আমাকে তাদের কাছে রাখেননি বাবা?
    আচ্ছা ভাইয়া একেই ভুল করলে কী বাবা তাকেও নিজের থেকে দূরে সরিয়ে দিতেন?
    না বাবা তা কখনো করতেন না।
    পুরানো কথা মনে পরায় শ্রাবণের বিতৃষ্ণা লাগছে।
    এই মুহূর্তে সিগারেট ছাড়া চলবে না।
    সবাই ধোকা দিলেও এই জিনিসটা ধোঁকা দেয় না।

    চলবে

    15
    7 Comments

Saifun nesa Shima

Housewife

Skip to toolbar