Profile Photo

মনজুর আলম সিদ্দিকীOffline

  • Manzur-Alam-Siddiki
  • রুম নম্বর পাঁচশত কুড়ি (ছোটগল্প)

    আমি শ্যামলী । আমার স্বামী তমাল। আমাদের দূ’ছেলেমেয়ে। তমাল একটি এনজিওতে কাজ করে। কক্সবাজারে, রোহিঙ্গা প্রজেক্টে। পদবীটা নেহায়েত মন্দ নয়। হোটেল সী প্যালেসে মাসকাবারি থাকে । মাসে একবার ডমিস্টিক বিমানে ঢাকায় আসে-যায়, আমাদের সাথে থাকে, ঘুরতে নিয়ে যায়। আমরাও বাচ্চাদের ছুটি হলে কক্সবাজারে বেড়াতে যাই।

    জীবনটা বেশ উপভোগ করছিলাম। হঠাৎ বাঁধ সাধলো নোবেল করোনা ভাইরাস।

    সংকটে পড়ে গেলো আমাদের জীবন। আমরা ঢাকায়। তমাল কক্সবাজারে। লকড্ ডাউনে আটকা, একা। শেষবেলায়ও ও ঢাকা রওয়ানা দিতে পারেনি। আমাদের সব ওলট-পালট হতে লাগলো, ভীষন একাকিত্ব বোধ করতে লাগলাম। হতাশায় গলা শুকিয়ে আসছিলো।

    ভাবছেন হতাশার কী আছে?

    পুরো কক্সবাজার জনশূন্য। হোটেল সী প্যালেসে কয়েকজন বোর্ডার ছাড়া আর কেউ নেই। রেস্তোরাগুলো বন্ধ হচ্ছে একে একে। তমাল প্রথম দু’দিন চিড়া ভিজিয়ে খেয়ে দিন কাটিয়েছে। আন্ত:জেলা চলাচল করা যাচ্ছেনা! তবুও আমরা রোজ ওর আসার অপেক্ষা করছি। তমাল আসতে পারেনি। আমাদের কারো করার কিছু ছিলোনা।

    ইতোমধ্যে দিন শেষে সপ্তাহ গড়িয়ে গেলো। আমরাও পরিবর্তিত সময়টাতে অভ্যস্থ হয়ে উঠলাম। আশংকা থাকলেও, ভয়টা কমে গেল।

    তমাল আপন গতিতে কাজে মনোযোগ দিলো। তমালের খোঁজ খবর প্রতিদিনই নেই, টেলিফোনে। আমিও অনেকটা ব্যস্ত হয়ে পড়েছি ছেলেমেয়েদের রোজকার গোছগাছ নিয়ে।

    সেদিন হঠাৎ মনে হলো তমাল কি খায়, কেমন করে, সে খবরটি গত তিন চারদিন নেয়া হয়নি। নানা কথার ফাঁকে বিষয়টি গুলিয়ে ফেলেছি। বেচারা, আমি না জানতে চাইলে নিজের থেকে বলবে না। বড় ভুল হয়ে গেল। সাথে সাথে ওকে ফোন দিলাম- তুমি খাচ্ছো কিভাবে?

    আমার কোন সমস্যা হচ্ছে না। তমাল জানালো।

    সেটা বুঝলাম। তা তুমি কি নিজেই রান্না করো ? আমি বললাম।

    তমাল বললো- মাঝে মাঝে আমিও করি, আবার আমাদের হোটেলের পাঁচতলায় যে কলিগ আছে, ও রান্না করে দেয়, তা দিয়ে আমার ভালোই চলে যাচ্ছে। ওসব নিয়ে তুমি চিন্তা করোনা। আমি ভালো আছি।

    -তা তোমার হোটেলে যে কলিগ আছে, সেটাতো আমাকে বলোনি।

    তমাল বললো -আমি বলেছি, তুমি হয়তো ভুলে গেছো।

    – না আমাকে তুমি বলোনি। শোন আমার মেমোরি কিন্তু অতো ডাল না।

    তমাল বললো- হতে পারে, মিসটেক। কত ব্যস্ত থাকি, রোহিঙ্গাদের নিয়ে। কত কি যে ভুল করে ফেলি আজকাল। হয়তো ভুলই হয়েছে। আমি ভাবছি বলেছি, অথচ হয়তো বলিইনি। দেখো কি কান্ড।

    তা তোমার অফিস কলিগ ভদ্রলোককে আমার পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানিও, আমি বললাম।

    – উনি ভদ্রমহিলা, ডালিয়া চৌধুরী।

    – কি বলছো! একটি মেয়ে তোমাকে প্রতিদিন রান্না করে দিচ্ছে, আর তুমি গোগ্রাসে গিলছো? সে খবরটা আবার চেপে রেখেছো? আর আমার সাথে তুমি রসিকতা করছো, মিসটেক হয়ে গেছে? শোন দুনিয়ার সব পুরুষের চরিত্র একই। ছিঃ আমার ভাবতেই অবাক লাগে।

    – শ্যামলী, শোন…শোন…..আমার কথা শোন….

    আমি লাইনটি কেটে দিলাম।

    বিয়ের আগে আমার বড় চাচী বলেছিলেন- বরকে সব সময় মুঠোর মধ্যে রাখবি, হাতের আড়াল হলে এরা খোলস পাল্টে ফেলে।

    আমারই ভুল হয়ে গেছে, বেশী বিশ্বাস করাটা…

    আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়লো। আমি করোনার চেয়েও জটিল সমস্যায় পড়ে গেলাম।

    বড় চাচীকে ডিটেইল জানালাম। চাচী আমাকে কিছুক্ষন ভৎ©সনা করলো। তারপর বললো- যেভাবে হোক তুই কক্সবাজার চলে যা। হাতেনাতে ধর। একটা সিনক্রিয়েট কর। দেখবি ভেজা বেড়ালটা সোজা হয়ে যাবে। পুরুষ জাতটা বড় খারাপ। শুধু গন্ধ শুকতে চায়। ওর নাকটা চ্যাপ্টা বানিয়ে দিবি। দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে।

    ভাবছি লকডাউনের মধ্যে কক্সবাজার যাবো, কিন্তু কিভাবে? পুরো পৃথিবী যেখানে থমকে গেছে। যাতায়াতের সব ব্যবস্থা বন্ধ।

    বাচ্চাদেরকে না হয় আমার শাশুড়ীর বাসায় রেখে যাবো। আমার শাশুড়ি অন্যরকম, ভালো মানুষ। ওনাকে সব বলা যাবে না। ভীষণ কষ্ট পাবে। ওনারতো মেয়ে নেই। আমরা দুই বউই উনার মেয়ের মতো। ঐ বদটাকেও বলা যাবে না। তাহলে ও সতর্ক হয়ে যাবে। খুব সাবধানে যেতে হবে। আমি একা যাবো। হাতেনাতে ধরবো।

    কিন্তু যাবোটা কিভাবে? চারিদিকে মহামারীর ভয়ে সব বন্ধ হয়ে আছে। তবুও আমাকে যেতেই হবে।

    অনেক ভেবে চিন্তে আমার চাচাতো ভাই মাহিন ভাইয়ের সহযোগিতায় কক্সবাজার পৌঁছার বন্দোবস্ত করে ফেলেছি। উনি দেশের একটি জাতীয় পত্রিকার সার্কুলেশন ম্যানেজার। বিশেষ ব্যবস্থায় ভোররাতে সংবাদপত্রবাহী একটি পিক-আপ কক্সবাজার যায়। সেখানে সামনের একটি সিটের ব্যবস্থা উনি করে দিয়েছেন। ভোররাতে ভ্যানটি আমাকে বাসা থেকে নিয়ে যাবে।

    আমি নিশ্চিন্ত হলাম, তমাল এবার বুঝবে আমি কী! সমুদ্র বিলাস তোমার বন্ধ করাচ্ছি…

    সকাল এগারোটা নাগাদ আমি কক্সবাজার হোটেল সী প্যালেসের সামনে পৌঁছে গেছি।

    নেমেই একটু হতবাক হয়েছি। কেমন যেন শুনশান নিরবতা। লোক নেই, জন নেই। এ কোন জায়গায় আমি এসেছি! এতো জনশুন্য!

    আমার গা ছমছম করছে। হোটেলের লবির সামনে অনেক্ক্ষণ দাড়িয়ে আছি। কেউ কি নেই? কোন সাড়াশব্দ নেই। সিকিউরিটি-দাড়োয়ান কারো দেখা মিলছে না। ভয় পেয়ে গেলাম। এখন তমালকে ফোন করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। বাধ্য হয়ে ফোন দিলাম।

    – হ্যালো, তমাল তুমি কোথায়?

    – আমি অফিসে..কেন?

    – আমি কক্সবাজারে। তোমার হোটেলের সামনে অপেক্ষা করছি…. তুমি এক্ষুনি চলে আসো….

    – আশ্চর্য আগে জানাবেনা? আমার এখন ইমার্জেন্সি একটা মিটিং শুরু হবে। আসতে চারটা বাজবে। আমি সিকিউরিটি কে বলছি। তোমাকে ওই সব ব্যবস্থা করে দিবে…ওকে রাখি… বলে ফোনটা কেটে দিলো। আমাকে আর কোন কথাই বলতে দিলো না।

    কিছুক্ষণ পর লম্বা-ছিপছিপে গড়নের একজন বৃদ্ধ এসে বললো- ম্যাডাম আমার নাম ছবর আলী। তমাল ছার আমারে পাডাইছে। আহেন আপনেরে ছারের রুমডা দেখাইয়া দেই।

    লোকটা আমার সামনে হাটতে লাগলো। আমি পেছন পেছন উঠছি। ও পরপর দু’টো গেট খুলে সিঁড়ির কাছে নিয়ে গেল। কোন লোকজনের সাড়াশব্দ নেই। ভূতুড়ে অবস্থা। আমি একটু আলাপের চেষ্টা করলাম-

    – হোটেলে কি আর লোকজন নেই?

    – না। ছবর আলী উত্তর দিলো।

    – এখন কয়জন আছেন?

    – ছার (স্যার) ছাড়া আর কেউ থাকেন না। সবাই করোনা শুরু হওয়ার লগে লগে হোটেল ছাইড়া দিছে। আমি থাকি ঐ খুরুশকূল। এইখান তন সাইকেলে দশ-পনরো মিনিটের পথ। তিন চাইরদিন পর আইসা একটু দেখভাল কইরা যাই।

    – কেন? পাঁচতলায় একজন লেডি বোর্ডার থাকেন তো! তুমি জানো না।

    – আমি জানুম না কেন ম্যাডাম! পুরা হোটেলই তো এহন আমি দেহাশোনা করি। ছারেরা তো সব আমারে বুঝাইয়া দিয়া গেছে। তমাল ছার শুধু একাই থাকেন।

    – তুমি মিথ্যে বলছো।

    – আমি কেন আপনেরে মিথ্যা কতা বলমু !

    আমি আর কোন কথা বাড়াইনি। সব সেয়ানা। এটাকে পয়সা দিয়ে ড্রামা করার জন্য পাঠিয়েছে।

    তিনতলায় একটি রুম খুলে দিলো ছবর আলী। আমাকে একসেট চাবি বুঝিয়ে দিয়ে চলে গেলো। আমি অনেক ক্লান্ত। চোখ দু’টো ঢুলুঢুলু করছে। এক্ষুনি শাওয়ার নিতে হবে।

    রুমে ঢুকেই আমার মেজাজটা ফরটিনাইন হয়ে গেল। পুরো রুম এলোমেলো। যা তা অবস্থা। টেবিলে বইপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। বিছানার অবস্থা আরো ভয়াবহ। সব গুছাতে হলো ।

    এরপর কখন ঘুমিয়ে পড়েছি মনে নেই। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি দুপুর আড়াইটা বাজে। এখন শরীরটা বেশ ঝরঝরা লাগছে। ভাবলাম তমাল আসার আগেই পাঁচতলায় যাবো। বিষয়টি অনুসন্ধান করে বড় চাচীকে জানাতে হবে এবং পরবর্তী করণীয় সমন্ধে জেনে নিতে হবে।

    গুটি গুটি পায়ে আমি পাঁচতলায় উঠলাম।

    সারিবদ্ধ রুম। আমি একটি একটি করে রুমের সামনে অনুসন্ধান করতে লাগলাম। সব রুমই লক । কোন সাড়াশব্দ নেই। তাহলে ছবর আলী যা বললো তাই কি সত্যি ? আর তাছাড়া তমালকে কখনো মিথ্যে বলতে দেখিনি। বিষয়টি আমাকে ভাবিয়ে তুলতে লাগলো। ব্যাপারটা কি ? রহস্যজনক লাগছে। জনমানবশূন্য করিডরে আমার একটু ভয় ভয়ও লাগছে। আমি দ্রুত তিনতলায় নেমে আসলাম।

    তমালের আসার সময় হয়ে গেছে। আমি অপেক্ষা করতে লাগলাম।

    তমাল এসেই ভাবলেশহীন ভাবে বললো- কিছু খেয়েছো ? আমি একটু ফ্রেশ হয়ে আসছি । বলেই বাথরুমে ঢুকে গেলো।

    ও কি আমার উপর খুব বিরক্ত নাকি কিছু লুকাতে চাইছে ? বুঝতে পারছি না। আমি ইলেকট্রিক কেটলিতে চা চাপিয়ে দিলাম। তারপর ওর বাথরুম থেকে বের হওয়ার অপেক্ষায় রইলাম।

    সরাসরি কথা বলা উচিত। আমিও ওর সাথে এক কাপ চা নিয়ে বসলাম। বিষয়টার একটা মিমাংসা হওয়া দরকার।

    আজও কি তোমার কলিগ খাবার দিয়ে যাবে ? তির্যকভাবে জানতে চাইলাম।

    – হ্যা, দিবে তো।

    – কখন ?

    – এইতো সন্ধ্যার পরপরই ।

    – এই লটরপটর কতদিন চলছে ?

    – মানে ? বুঝলাম না।

    -দাঁড়াও, আগে হাতেনাতে ধরি। তারপর তোমাকে বোঝাচ্ছি।

    আমি তখন রাগে গনগন করছি। একটা জিনিস আমি খেয়াল করলাম- তমালের মধ্যে কোন ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া নেই। কেমন যেন উদাসীন। তবে ও অবাক হয়েছে। কিন্তু কোন কথা বাড়ালো না।

    আমি তমালকে চোখে চোখে রাখছি । আর অপেক্ষা করছি সন্ধ্যার। তমাল বলেছে সন্ধ্যায় পাঁচতলার ডাইনীটা আসবে । ও কি দেখতে আমার চেয়ে সুন্দর !

    সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে গেল। কেউ এলোনা। নিশ্চয়ই বদটা কোনভাবে খবর দিয়েছে ।

    তমাল শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে। আমি ওর সাথে আর কোন কথা বলিনি। গোপনে ওর সেলফোনের কল ডিটেইল চেক করে দেখলাম। কোন কলই অযাচিত মনে হলো না। আশ্চর্য। ঘর গুছানোর ভান করে আমি ওর সবকিছু ঘেটে দেখতে লাগলাম যদি কোন সূত্র পেয়ে যাই। হঠাৎ ওর টেবিলে একটি ডায়েরি পেলাম। মলাটে সুন্দর একটি পেন্সিল স্কেচ করা। বড় করে লেখা ‘রোজকার নামচা’। ভেতরের পাতায় লেখা -ডালিয়া চৌধুরী।

    পেয়েছি।

    আমি ডায়েরিটা পড়তে শুরু করলাম। পড়তে পড়তে এক জায়গায় এসে আমার চোখ আটকে যায়, সেখানে লেখা-

    আজ সকাল এগারোটায় এসে কক্সবাজার পৌছলাম। হোটেল সী প্যালেসের পঞ্চম তলায় আমার জন্য একটি রুম বুক করা ছিলো। রুম নম্বর পাঁচশত কুড়ি। হোটেলটা আমার ভীষন পছন্দ হয়েছে । সৈকতের পাশে । আমার রুমের জানালা দিয়ে নয়নাভিরাম সাগরের দৃশ্য দেখা যায়। আমাকে এই প্রজেক্টে দু’মাস থাকতে হবে। আমার জন্য বেশ ভালোই হয়েছে। সমুদ্রের কাছে এতোদিন একাধারে থাকা হয়ে ওঠেনি। কেমন যেন আবেগ কাজ করছে।

    দাড়া তোর আবেগ আমি ছুটাচ্ছি। ডাইনী কোথাকার।

    ডায়েরির ঠিক শেষ পাতায় একটি ফোন নাম্বার লেখা দেখলাম। তার পাশে লেখা ‘দাদু’।

    ডায়েরি বন্ধ করে দেখি তমালের চোখ বন্ধ। বোধহয় ঘুমিয়ে পড়েছে। নাকি ভান !

    আমি ওকে কিছু না বলে আস্তে আস্তে পা চেপে পাঁচতলায় পাঁচশত কুড়ি নম্বরের সামনে গিয়ে দাড়ালাম। দরজায় কান পেতে রইলাম কিছুক্ষণ। কোন মানুষের সাড়া পেলাম না। একটু হেটে কমন বারান্দার দিকে এগিয়ে গেলাম। সৈকতের দিক থেকে কেমন একটা চাপা আলোর আভা এসে আমার মুখে পড়লো। একটা অন্যরকম নৈসর্গিক সৌন্দর্য উপলব্ধি করলাম। কিন্তু এসব দেখে তো সময় নষ্ট করা যাবেনা।

    ফোন হাতে নিয়ে ডায়েরিতে পাওয়া দাদুর নাম্বারে কল দিলাম। রিং হচ্ছে, ল্যান্ডফোন।

    – হ্যালো কে বলছেন ? ভারী গলায় বললো ওপাশ থেকে কেউ।

    – আমাকে আপনি চিনবেন না। আমি কক্সবাজার থেকে বলছি। এখানে কি ডালিয়ার দাদু
    থাকেন ?

    – আমি ডালিয়ার দাদু বলছি ।

    – ডালিয়া এখন কোথায় ?

    – কে বলছো তুমি ?… তুমি জানো না ?…. আমার সোনার সংসার ছেড়ে ডালিয়া ওপাড়ে পাড়ি দিয়েছে। বলেই ভদ্রলোক কেমন হাহাকার করে উঠলেন।

    আমি হকচকিয়ে গেলাম।

    জানতে চাইলাম- কী বলছেন ? কবে ?

    – গতবছর আমার নাতনীটা দুনিয়া ছেড়ে চলে গেছে।

    তিনি হাউমাউ করে কাঁদতে লাগলেন ।

    আমার হাতপা ঠাণ্ডা হয়ে এলো । গলা শুকিয়ে আসছে । হঠাৎ ভীষণ শীত করে উঠলো । সাগরের দিক থেকে ধেয়ে আসা একঝলক বাতাসে দূর থেকে ভেসে এলো কার হাসির শব্দ। জনশূন্য পাঁচতলায় তখন আমি একা । ভীষণ একা ।

    সমাপ্ত

    ঢাকা
    ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
    [email protected]
    +880 18 22 33 44 78 See Less

    Comments

    Press Enter to post.

    4
    5 Comments
Skip to toolbar