Profile Photo

অনিক ভট্টাচার্য্যOffline

  • Cholechi-Udoyer-Pathdhore
  • কথাকলি,
    অনিক ভট্টাচার্য্য
    সেদিন অফিস থেকে ফিরছিলাম, দীর্ঘদিন দেশে মহামারীর জন্য সবকিছু বন্ধ আছে,অফিসও দুদিন খোলে দু দিন বন্ধ,বেশিরভাগ সময় ওয়ার্ক এট হোমে অভ্যস্ত হয়ে পরেছি আমরা,অনেককিছু বদলে গেলো কতচেনা মুখ হারিয়ে গেলো স্কুল কলেজও বছর পেরিয়েও বন্ধ,গাড়ি ঘোরাও পেতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে,রাস্তায় কড়াকড়ির জন্য যৎসামান্য গাড়ি ঘোরা পাওয়া গেলেও যে পরিমান ভাড়া তা দিয়ে নিত্য চলাচল করলে বেতনের পুরোটাই চলে গিয়েও কম পরবে,তাছাড়া যত কম যানবাহন ব্যবহার করা যায় তত ভালো, ধিরে ধিরে হাঁটতে বাড়ির দিকে এগোতে লাগলাম,আর দৃষ্টি কোন যানবাহন পায় কিনা সেদিকে,বাড়ি থেকে অফিস আহামরী দূর না,কিন্তু দীর্ঘ সময় ঘর থেকে Work at home করতে করতে,তাছাড়া বাড়ি থেকে পারতপক্ষে খুব একটা বের না হওয়ায় অনভ্যেসে পরিনত হলো,হাঁটতে হটাৎ একটা রিক্সা চোখে পরলো,যেন আকাশের চাঁদ পেলাম। খুশি তে দাঁড় করালাম,দরাদরি শেষে উঠতে যাবো এমন সময় “অনিক স্যার”বলে কে যেন পেছন থেকে ডাক দিলো,এদিক ওদিক তাকিয়ে কাউকে না দেখে ভাবলাম ভুল শুনেছি,নিজের ভূল সংশোধন করতে যাবো এমন সময় আবার ডাক। এবার চোখে ঐ রাস্তার ওপারে বাচ্চা একটা মেয়ে,কোলে বাচ্ছা নিয়ে হাত দিয়ে আমাকে ডাকছে,সন্ধ্যে হয়ে এলো রাস্তার হলুদ বাতির আলোই চেহারা ততটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছেনা,কে হতে পারে?ভাবতে ভাবতে ততক্ষণে বাচ্ছা মেয়েটি রাস্তা পেরিয়ে এ পারে আসতেই আমাকে দেখে মিষ্টি একটি হাসি দিলো,কোলের বাচ্চাটি বড়োজোড় মাস ছয়েক হবে,মেয়েটির পরনে মলিন জামা,বাচ্ছাটির গায়ে জামা নেই,কিন্তু মেয়েটিকে কেমন চেনা চেনা লাগছে,বেশি কষ্ট করতে হয় সে নিজেই নিজের পরিচয় দিলো, মেয়েটির নাম কথাকলি,বছর দুয়েক বা তিনেক হবে,একটি পথশিশু নিকেতনে পড়াতে যেতাম,সেটি মূলতঃ মেয়ে পথশিশুদের পূনর্বাসন দেওয়া হতো,যাদের এ দুনিয়ায় কেউ নেই অথবা অর্থের অভাবে পথকেই ঘর বানিয়েছে অথবা কন্যা সন্তান বলে মা বাবা ত্যাগ করেছে তেমন হাজারো ধরনের মেয়ে শিশুদের পথ থেকে উদ্ধার করে আশ্রয় দেওয়া হতো,তাদের শিক্ষা দিক্ষা সব কিছুতেই পারোদর্শী করে তোলা হতো,এরপর ওদের পরিবার নিয়ে যেতে এলে তাদের কাছে দেওয়া হতো স্বাবলম্বী করে,আর যাদের কেউ থাকতোনা তাদের যোগ্য পাত্রের সাথে বিয়ে অথবা কর্ম ক্ষেত্রে স্বাবলম্বী চরে গড়ে তোলা হতো,সেখানে আমার কোন এক সূত্র ধরে পড়ানোর সুযোগ ঘটে,সেখানেই অনেক শিশুর মধ্যে “কথাকলি”ও ছিলো তখন বয়স ৬/৭হবে এখন ৯/১০ এর বেশি হবেনা,দু বছরে একটু পরিবর্তনও হলো তাই চট কর চিনতে পারিনি,কিন্তু ও এখানে?তাও এ মহামারীর সময়?না কোন মাস্ক,না কোন আত্মসুরক্ষার ব্যবস্থা নেই,শিশুটিরও নেই,এমন অবস্থায় এখানে?চোখ মুখে বলে দিচ্ছে বেশ ক্ষুদার্থও,তাই সামনের একটি খাবার হোটেলে নিয়ে বসলাম,হোটেল ফাকাঁ এ অবস্থায় কেউ বের হয়না,রাস্তাঘাটেও লোকজন নেই,আগে চট করে “কথাকলি”র জন্য ভাত,মাংস,অর্ডার দিলাম। খুব তৃপ্তি ভরে খেলো কোলে শিশুটিকে বসিয়ে,বোঝায় যাচ্ছে বেশ কয়েকদিন পর পেটে কিছু গেলো। খাওয়া দাওয়া শেষে আমি আমার আর ওর জন্য চা নিলাম,এবার বলতে বললাম,আসলে ওখানে আসার পর থেকে আর যোগাযোগ ই রাখা হয়নি ব্যস্ততার কারনে,তাই অনেক কিছুই জানিনা,এতক্ষন চুপ থাকারপর “কথাকলি বলতে শুরু করলো,““স্যার আমার বাবা কিসের জন্য জেল গেছিলো জানি না,মনে নেই চেহারাটা শুধু মনে আছে একদিন মা খুব কান্নাকাটি করছিলো বাবাকে নাকি পুলিশ গুলি করে মেরে ফেলেছে
    বাবা নাকি জেল থেকে পালাতে গেছিলো,এর কিছুদিন পর মা বিয়ে করে আবার কিন্তু লোকটার সাথে বেশিদিন ছিলোনা একদিন কি নিয়ে ঝগড়া হচ্ছিলো খুব মা নতুন বাবার মাথায় হাতুরী দিয়ে জোরে মারে,ওখানেই ছটফট করতে করতে বেহুঁস হয় এরপর আমাকে নিয়ে পালিয়ে যায় মা,এরপর একদিন পুলিশ ঠিক খুঁজে বের করে আমাদের নতুন বাবা নাকি ঐ আঘাতে মারা যায়,আমাকে ফেলে মাকে ধরে নিয়ে যায়,তার পর আমি খাবার অভাবে পথে পথে ভিক্ষে করতাম,একদিন আমি যেখানে থাকতাম আপনি আমাদের পড়াতেন ওখানে পুলিশ দিয়ে আসে,এরপর আস্তে আস্তে পড়াশুনো করি একটু একটু বড়ো হয়,আপনি ওখানে পড়াতেন আমাদের সবাই আপনাকে ভালোবাসতো,আমরা খুব আনন্দ পেতাম অনেক কিছু শিখতাম আপনার থেকে একদিন,আপনিও আসা বন্ধ করে দেন,আপনি যাওয়ার কিছুদিন পর মা ছাড়া পাই জেল খোঁজ থেকে আমাকে নিতে আসে সাথে রাখবে,কিন্তু আমি স্বপ্নেও ভাবিনি আমার মা আমাকে নিয়ে বেচেঁ দেবে,একটা লোকের হাতে বেচেঁ,আমাকে বিয়ে না করে আমাকে তার কাছে রাখে ,অনেক কষ্ট হতো ,আমাকে অনেক কষ্ট দিতো ঘরে মানুষ আসতো প্রতিদিন,অনেক কষ্ট দিতো তাদের কথা না শুনলে খুব মারতো আমাকে,কি সব ওষুধ খেতে দিতো আমার খেতে কষ্ট হতো বলে ফেল দিতাম,একদিন আমার শরীর খারাপ হয়ে যায়,বমি মাথা ঘুরিয়ে পরে যায়,ডাক্তার পরীক্ষা করে জানাই আমি মা হচ্ছি,শুনে লোকটা অনেক মারে বাড়ি নেওয়ার পর,ওষুধ গুলো খাইনি তাই নাকি এমন হলো,এরপর রাতে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আমার আর দরকার নেই বলে,বৃষ্টির মধ্যে,এরপর আমার এ বাচ্চার জন্ম হয়,এখন মানুষের বাড়িতে কাজ করে পেট চালাই,কিন্তু মহামরীর জন্যে এখন কেউ ডাকেনা,এখন রোগের ভয়েও কেউ কাছেও আসেনা,”” এতো গলো কথা গরগর করে বলছিলো এতোক্ষন ,বলতে বলতে কেমন আনমনা হয়ে গেলো,হটাৎ বাচ্চাটা কেঁদে উঠতেই হুঁশ ফিরলো,দীর্ঘশ্বাস ফেলে সোজা হোটেল থেকে বেড়িয় গেলো কিছু না বলে,এতক্ষণ এসব বলেছে বলে হয়তো লজ্জা পেলো,অজান্তে প্রিয় স্যারকে পেয়ে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলো না,বলে দিলো এরপর হয়তো খেয়াল হলো স্যার ও তাকে আগের মতো স্নেহ করবেনা,উল্টো নোংরা ভাব্বে,আমিও পেছন থেকে ডাকলাম না,রাস্তার ধারের দোকান,দেখতে পাচ্ছি আকাশে বিদ্যুৎ
    চমকাচ্ছে,হাওয়া দিচ্ছে তার মাঝে হলুদ হেলোজেনের আলো মাখা প্রায় ফাঁকা রাস্তা ধরে পার হয়ে শিশুটি নিয়ে কথাকলি আবার আধাঁরে হারিয়ে গেলো, মিশে গেলো নিকষ কালো অনিশ্চিত পথে,জানিনা এভাবে কতো কথাকলির মতো কলি ঝরে যায় আমরা তথাকথিত সভ্য সমাজ তাদের খবরও রাখিনা,রাখার প্রয়োজনও মনে করিনা,পশু নির্যাতন নিয়ে যতো সচেতন,মানব শিশু নির্যাতন নিয়ে খবরও রাখিনা,কথা কলিরা মানুষ না হয়ে পশু হলে ভালো হতো,,,,,,

    7
    4 Comments

Friends

Profile Photo
Md-Zahidul-Islam-Prince
@md-zahidul-islam-prince
Profile Photo
Mohammad-Rakibul-Hasan
@mohammad-rakibul-hasan
Profile Photo
Tahmina-Shikha
@tahmina-shikha
Profile Photo
MD-Naimul-Islam
@md-naimul-islam
Profile Photo
charumannan
@charumannan
Profile Photo
Mehebub-Hasan
@mehebub-hasan
Profile Photo
Omar Faruk Rayhan
@rayhanpoet
Profile Photo
Arif Muslimeen
@arif-muslimeen
Skip to toolbar