Profile Photo

Md. Moznu SarkarOffline

  • Moznu
  • Profile picture of Md. Moznu Sarkar

    Md. Moznu Sarkar

    4 years, 8 months ago

    নিরাপত্তাহীনতা:
    নিরাপত্তাহীনতার চাদরে মোড়ানো যেন এ শহর, এ শহরের জীবন, জীবিকা এবং পথচলা। প্রায় ৩০৫.৪৭ বগ কিমি আয়তনের এই শহরের প্রতিটি ইট, পাথর, অলি-গলির দিকে তাকালে মনে হয় সে যেন নিজেই বড্ড নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে। ইট-পাথরের বাড়িগুলো অসহায়ের মতো দাড়িয়ে নিরাপত্তাহীনতার হাতছানি দিচ্ছে, কখন যেন ভুমিকম্পে ধসে পড়বে, বৈদ্যুতিক গোলযোগের আগুনে ঝলসে যাবে অথবা ধাতব মেটেরিয়াল/গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাবে। এক গবেষণায় দেখা যায়- ঢাকায় ৭ মাত্রার ভুমিকম্প হলে ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়বে এবং প্রায় ১-২ লাখ লোকের প্রাণহানি ঘটবে। গত এক বছরে দেশে ১৬টি ভবন ধসের ঘটনার মধ্যে ১০টি ঘটেছে এ শহরে এবং এ শহরে অন্তত সাড়ে ১১ হাজার বহুতল ভবন অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি রয়েছে। শুধু এই দুটি পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে বুঝা যায়- রুগ্ন এ শহরের বিল্ডিংগুলো এবং এই বিল্ডিংগুলোতে বসবাসকারী মানুষগুলো কতটা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে বসবাস করছে।
    প্রায় ২ কোটি মানুষের এ শহরের মানুষগুলোর দিকে তাকালে বাহির থেকে তাদের পরীমণির মতো দেখতে মনে হলেও আসলে কড়া মেকাপে ডেকে রাখা সুন্দর মুখশ্রীর অন্তরালে একটি মলিন মুখ, যে মুখটা প্রাণখুলে হাসতে জানে না আর জানলেও সে হাসিতে প্রাণ নেই। জীবনের প্রতিটি পরতে পরতে নিরাপত্তাহীনতা যেন কাল নাগেনী সাপ হয়ে ঘাপটি মেরে বসে আছে ছোবল মারার জন্য। কখন কার জীবনে ছোবল মেরে সুন্দর স্বপ্নময় জীবনটাকে তছনছ করে দেয়, তার কোন নিশ্চয়তা নেই। প্রতিদিন এ শহরে অসংখ্য খুন, নারী নিযাতন, শিশু অপহরণ, ধষণ, তালাকের মতো ঘটনা ঘটে। ডিএমপিতে গত পাঁচ বছরে খুনের মামলা হয়েছে ১,২০০টি, নারী নির্যাতনের মামলা হয়েছে ৭,২৩১টি, ধর্ষণের মামলা হয়েছে ১,৪৪৩টি এবং শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে ৮৪৯টি। এ শহরে প্রতিদিন ৩৯টি তালাকের ঘটনা ঘটে। করোনা, ডেঙ্গু, টাইফয়েড, জন্ডিস যেন এ জীবনের নিত্যসঙ্গী। প্রতিদিন গড়ে এ শহরে প্রায় ২৪০ মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে। করোনায় আক্রান্ত রোগীর মধ্য়ে ৩৩.৩৭% এবং মোট মৃত্যুর ৩৮.৪০% হয়েছে যাদুর এ শহরে। এই ছোট ছোট পরিসংখ্যান আমাদের বলে দেয় এই শহরের জীবন কতোটা অনিরাপদ এবং প্রতিনিয়ত কতোটা নিরাপত্তাহীনতা ভূগছে।

    জীবিকার বড় উৎস এ শহরের মোট কর্মপ্রবাহের প্রায় অর্ধেকই গৃহস্থালি অথবা অপরিকল্পিত শ্রমজীবী হিসাবে কর্মরত আছেন। শত শত কোটি টাকার মালিক শত কোটিপতিদের এই শহরে এখনো প্রায় ১৫% মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করে। প্রতি বছর এ শহরের কাজের সন্ধানে গ্রাম থেকে ৫ লাখ মানুষ আসে যাদের শতকরা ৯০ ভাগই দরিদ্র৷ এখন ঢাকা শহরের ৪০ ভাগ মানুষ বস্তিতে বসবাস করেন৷ করোনায় চাকুরি হারানোর প্রায় ১০.৫০ লক্ষ মানুষের মধ্যে প্রায় ৪২% মানুষের বসবাস এ শহরে। এই পরিসংখ্যানগুলোর আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় জীবিকায় বড় অবদান রাখা এ শহর এখনো জীবিকা সৃষ্টিতে কতোটা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ।
    এ শহরের পথচলাও বড্ড অমসৃণ যেন আঁকাবাঁকা কাদায় মাখানো গ্রামীণ মেঠো পথ। এই পথের প্রতিটি বাকে বাঁকে ছিনতাই, সড়ক দুঘটনা, কিশোর গ্যাংদের উৎপাত, চাদাবাজি, ম্যানহলে পড়ে যাওয়ার ভয়, লিফটে আটকে পড়ার ভয়, হাসপাতালে অপেশাদার ডাক্তারদের হাতে মারা পড়ার ভয়, রিক্সায় চলার সময় পিছন থেকে গাড়ির ধাক্কা খাওয়ার ভয়, ফূটপাতে হাটার সময় মোটর সাইকেল গায়ে উঠিয়ে দেয়ার ভয় প্রতিনিয়ত আমাদের পথচলার গতিকে থামিয়ে দিচ্ছে। এ শহরে ১০% ম্যানহলের ঢাকনা নেই। গত ছয় মাসে ৫৭০টি ছিনতাইয়ের মামলা হয়েছে, বছরে ৩০৯টি সড়ক দূঘটনা, ১১৫টি তৈরিপোশাক কারখানায় এবং ৫২৬টি শিল্প কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে এ শহরে। এ শহরে ৭৮টি কিশোর গ্যাংয়ের ২ হাজারের বেশি সদস্য রয়েছে, যাদের হাতে গত ১৫ বছরে ১১৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিসংখ্যানগুলো আমাদের এ শহরের পথচলা কতোটা নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছে তা প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দিচ্ছে।
    বড্ড মায়া, যাদুর এ শহরটার প্রতি আমার। আমিও এ শহরে বাসিন্দা হিসাবে এই নিরাপত্তাহীনতার বাহিরে নই। প্রতিনিয়ত এ শহরে পরিবারসহ আমার বসবাস, জীবন, জীবিকা এবং পথচলা নিয়ে এক অবিশ্বাস্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি।এই নিরাপত্তহীনতা থেকে বের হওয়ার কি কোন পথ আছে?? আমার মতো আপনিও কি নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন মায়াবী এ শহরে????
    মজনু সরকার,
    ২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০২১।

    7
    7 Comments
    • জীবন প্রতি মুহূর্তে অনিরাপদ। তবুও চলতে হয়; চলে যায়; সবকিছু ঠুনকো মনে হয়। অভিনন্দন তোমাকে।

    • অনিশ্চয়তার মাঝে রয়েছে উন্মাদনা আর নিশ্চয়তার মাঝে রয়েছে প্রশান্তি। প্রশান্তির খোঁজে একদল মানুষ উন্মাদ হয়ে এ শহরের ওলিতে-গলিতে ঘোরে। শুভেচ্ছা নেবেন লেখক।

    • ধন্যবাদ অভিমানী মন এবং সাজিব ভাই সুন্দর কমেন্টেস এর জন্য। আপনারও অনেক সুন্দর লিখেছেন।

    • বাড়ছে শহরের পরিধি বাড়ছে অনিশ্চয়তা। তবে সভ্যতা অনেকে এগিয়েছে বিগত ২১ বছরের সমীক্ষা অন্তত তাই বলে। প্রীতি ও শুভেচ্ছা লেখক।

    • ধন্যবাদ নীল। আপনিও প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিবেন।

    • অভিনন্দন সুন্দর লেখা।

Skip to toolbar