Profile Photo

মুহাম্মদ আস্রাফুল আলম সোহেলOffline

  • Ashraful710
  • নীলাকুরিঞ্জি (Neelakurinji)
    ———————————

    Cenozoic যুগের কঠিন শিলা (Basalt, Laterite, Limestone) দ্বারা গঠিত, ভারত উপমহাদেশের সর্বপ্রাচীন ঐতিহাসিক অঞ্চল, UNESCO https://en.unesco.org/ এর বিশ্ব ঐহিহ্য স্থান (World heritage site) পশ্চিমঘাট পর্বতমালা বা সহ্যাদ্রি (Western Ghats Mountain) পর্বতমালা https://en.wikipedia.org/wiki/Western_Ghats https://www.britannica.com/place/Western-Ghats ভারতের পশ্চিমভাগে প্রসারিত একটি পর্বতশ্রেণী । প্রকৃতপক্ষে এটি একটি পার্বত্য উপত্যকা । এ পর্বতমালা দাক্ষিণাত্য মালভূমির পশ্চিমসীমা বরাবর উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রসারিত হয়ে ভারতের পশ্চিমে আরব সাগরের তীরবর্তী সংকীর্ণ উপকূলীয় সমভূমি অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে ৷ গুজরাটের (Gujarat) পশ্চিম তীর (কঙ্কন উপকূল) এবং মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) সীমান্তভাগে তাপ্তি নদীর (Tapti River ) দক্ষিণে এ পর্বতের উৎপত্তিস্থল । মহারাষ্ট্র, গুজরাট, গোয়া (Goa), কর্ণাটক (Karnataka), পশ্চিম তামিলনাড়ু (West Tamil Nadu), কেরল বা কেরালার (Kerala) মধ্য দিয়ে দৈর্ঘ্য প্রায় ১৬০০ কিলোমিটার এবং প্রস্থ প্রায় ১০০ কিলোমিটার বিস্তৃত এ পর্বতমালা ভারতের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম বিন্দু তামিলনাড়ু (Tamil Nadu) রাজ্যের কন্যাকুমারী বা কুমারী আম্মান (Cape Comorin/Kanyakumari) শহরের কাছে এসে মিলিত হয়েছে ।
    অন্যদিকে মহেন্দ্রগিরি (মহেন্দ্রগিরি পর্বত উড়িষ্যার গজপতি (Gajapati) জেলার উত্তর-পূর্ব সীমান্তে) বা পূর্বঘাট (Eastern ghat) পর্বতমালা https://en.wikipedia.org/wiki/Eastern_Ghats https://www.britannica.com/place/Eastern-Ghats ভারতের পূর্ব উপকূলে একটি বিচ্ছিন্ন, ক্ষয়জাত বা অবশিষ্ট (Relict বা Erosional বা Residual mountain) পর্বতশ্রেণী ৷ Shevaroy hill, Javadi hill, Anaimalai hill (Elephant mountain) প্রভৃতি কয়েকটি বিচ্ছিন্ন পর্বতের সমষ্টিই হচ্ছে পূর্বঘাট পর্বতমালা । এ পর্বতমালা ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক এবং কেরালা রাজ্য হয়ে তেলেঙ্গানা পর্যন্ত বিস্তৃত ৷ বঙ্গোপসাগরের সমান্তরালে প্রসারিত হয়ে দাক্ষিণাত্য মালভূমির পশ্চিমে এবং পূর্ব ও পশ্চিমঘাটের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত ৷ কৃষ্ণা, কাবেরী, মহানদী, গোদাবরী এবং পেন্নার নদী দ্বারা ক্ষয়িত ও বিচ্ছিন্ন ৷ পশ্চিম ঘাটের তুলনায় এ পর্বতমালা অধিক প্রাচীন । চর্নাকোট (Churnakot), গ্রানাইট গিনিস (Granite guinness), খুন্ডালাইট (Khundalite), মেটামোরফিক গিনিস (Metamorphic guinness) এবং কোয়ার্টজাইট (Quartzite) শিলার সংযোজনে গঠিত । অন্ধ্রপ্রদেশের সর্বোচ্চ শিখর জিন্দাগাদা (উচ্চতা: ১৬৯০ মিটার, ৫৫৪৫ ফুট) ৷ মহেন্দ্রগিরি (উচ্চতা: ১৫০০ মিটার) ৷
    সহ্যাদ্রি বা পশ্চিমঘাট পর্বতমালার ভৌগোলিক অবস্থান ১০°১০′ উত্তর ৭৭°০৪′ পূর্ব এবং আয়তন ১৬০০০০ বর্গকিলোমিটার । এটি বিশ্বের আটটি প্রধান জীব-বৈচিত্র্যের উষ্ণবিন্দু স্থান (Biodiversity hotspot) এবং বাস্তুতান্ত্রিক বৈশিষ্ট্যের জন্য ভারতের অন্যতম সমৃদ্ধ জৈবিক অঞ্চল (Biotic region), যা জৈব-ভৌগলিকভাবে অনন্য । পশ্চিমঘাট সুউচ্চ পর্বতমালা দক্ষিণ ভারতের জলবিদ্যুৎ এবং নদী ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ জলবিভাজিকার কার্য সম্পাদন করে থাকে ।
    মহাদীর্ঘকাল পেরিয়ে যাওয়া প্রাচীন এ পর্বতমালায় এবং ঘন, আর্দ্র, অন্ধকারাচ্ছন্ন গভীর অরণ্যে অনেক দুষ্প্রাপ্য প্রাণী, কীট-পতঙ্গ, পাখী, ফুল, ফল এবং উদ্ভিদের প্রাণকেন্দ্র । তৃণভূমি, গুল্মভূমি এবং বনভূমির এক নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও প্রাণ বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এক জনপদ । চির সবুজ অরণ্যের এ বিশাল প্রাণ-প্রাচুর্য ও বনজ সম্পদকে কেন্দ্র করে আদিম নৃ-গোষ্ঠী (টোডা, কোটা, আলুকুরুম্বা, বাদাগা, ইরুলা, কাণিকরন, মুথুভান) প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকেই বসতি স্থাপন করছে । পাহাড়ের ঢালে এবং গহীন অরণ্যে নিজস্ব সামাজিক রীতি-নীতি, লোকাচার অনুসরণ করেই সমাজ ও সংস্কৃতি গড়ে তোলে জীবন যাপন করছে । হাজার হাজার বছর ধরে পূর্বপুরুষদের অনুসরণ করা পথ ও তাদের ঐতিহ্য বহণ করে চলছে । এখানকার নদী, সমুদ্রের শাখা, সাগর, উপত্যকা, কুয়াশা, খোলা চারণভূমি, জলপ্রবাহ, সবুজ চা বাগিচা, পাহাড়, হ্রদ, গিরিপথ, জলপ্রপাত এবং ঘন সবুজ বনের সাথে এদের রয়েছে এক নিবিড় সম্পর্ক । আরব সাগর থেকে আগত দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আর্দ্র আবহাওয়ার কারণে প্রচুর পরিমাণে বৃষ্টি হয় ৷ এখানে বার্ষিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৩০০ থেকে ৪০০ সেন্টিমিটার, গড় উষ্ণতা ১৫০ সেঃ, বাতাসে আর্দ্রতা অত্যন্ত বেশি । বনভূমির উঁচু উঁচু গাছগুলোর মাথায় শামিয়ানা বা চাঁদোয়া (Canopy) এর মতো লতা এবং পরজীবী উদ্ভিদের আস্তরণ বা আচ্ছাদনের কারণে সূর্যের আলো বনভূমিতে সহজে প্রবেশ করতে পারে না । মায়াময় এ চির হরিৎ ঘন অরণ্য পর্যাপ্ত পরিমাণ অক্সিজেন উৎপন্ন করে সমগ্র দাক্ষিণাত্যের শহরগুলোকে দূষণমুক্ত করতে ফুসফুসের মতো মুখ্য ভূমিকা পালন করছে ।
    সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে গড়ে প্রায় ৯০০ থেকে ১৫০০ মিটার উচ্চতায় সহ্যাদ্রি পর্বতমালার দক্ষিণাংশটি কেরালা, কর্ণাটক এবং তামিলনাড়ুর অন্তর্গত । মূলত তামিলনাড়ু ও কেরালা রাজ্যেই ‘নীলগিরি পর্বতমালা’র (Nilgiri Mountains/Blue mountains/Nilagiri/The Nilgiris/Nila Mountain) https://en.wikipedia.org/wiki/Nilgiri_Mountains অবস্থান । ভারতীয় উপ-দ্বীপের সর্বদক্ষিণে পাহাড়-সমুদ্রে ঘেরা রাজ্য তামিলনাড়ুর উত্তর সীমায় পূর্বঘাট পর্বতমালা (Western ghat) এবং পশ্চিম সীমায় পশ্চিমঘাট পর্বতমালা (Eastern ghat) ৷ তামিলনাড়ু্র একেবারে পশ্চিম সীমান্তে ‘নীলগিরি’। এ নীলগিরি পর্বতই হচ্ছে পশ্চিমঘাট পর্বতমালা এবং পূর্বঘাট পর্বতমালার মধ্যে পরস্পরের মিলনস্থল ৷ পশ্চিমঘাট এবং পূর্বঘাট দুই এলাকা বিভক্ত হয়ে জীববৈচিত্র্যের পাশাপাশি নীলগিরির প্রাকৃতিক পার্বত্য চিরহরিৎ তৃণভূমি, গুল্মভূমি এবং বনভূমি অঞ্চলই গঠন করেছে (Shola Ecosystem) শোলা বাস্তুতন্ত্র (Shola নামটি সম্ভবত Chola শব্দ থেকে এসেছে, যার দুটি অর্থ: ছায়া এবং বসন্ত) । সহ্যাদ্রি বা পশ্চিমঘাট পর্বতমালার সর্বোচ্চ আনামুদি পর্বতটি (Anamudi Mountain, উচ্চতা: ২৬৯৫ মিটার বা ৮,৮৪২ ফুট, কেরালা রাজ্যে) ইরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যান (Eravikulam national park) এর মাথার মুকুট (এটি হিমালয় পর্বতমালার দক্ষিণে সর্বোচ্চ উঁচুতে অবস্থিত) ৷
    হোয়সালা সাম্রাজ্য (Hoysala Empire) হচ্ছে একটি ‘কন্নাদিগা শক্তি’ যা ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে উৎপত্তি হয়েছিল ১০ম থেকে ১৪তম শতাব্দীতে । নীলগিরি অঞ্চল এ সাম্রাজ্যের রাজাদের অধীনে ছিল । পরবর্তীতে এ অঞ্চল ব্রিটিশ ভারতের মহীশূর রাজ্যের শাসনকর্তা (মহীশূরের বাঘ), সাহসী বীর যোদ্ধা, ভারতের স্বাধীনতাকামী বীরপুত্র টিপু সুলতানের (Tipu Sultan) হাত হয়ে ইংরেজদের আমলে উটির (সমুদ্র পৃষ্ঠ থেকে ২,২৪০ মিটার উঁচুতে নীলগিরি পর্বতের চূড়ায় অবস্থিত তামিলনাড়ু রজ্যের নীলগিরি জেলার নয়নাভিরাম সৌন্দর্যের এক শৈল শহরের মহারাণী হচ্ছে Ooty/উধাগামান্দলাম/উওটোক্যমুন্দ/উটাকামান্দ) একটি অংশ আদিবাসী টোডা জনগোষ্ঠী তামিলনাড়ু রাজ্যের Coimbatore শহরের গভর্নর Sullivan এর নিকট হস্তান্তর করার পর এখানে চা, কফি, সিনকোনা গাছ (Cinchona tree), টিক গাছ (Tick ​​plant) প্রভৃতি চাষাবাদ শুরু হয় । ১৭৯২ খ্রিঃ শ্রীরঙ্গপত্তমে (Srirangapatna) টিপু সুলতান এবং লর্ড কর্ণওয়ালিসের (Lord Cornwallis) সঙ্গে এক সন্ধির (শ্রীরঙ্গপত্তমের সন্ধি) মাধ্যমে এ এলাকাটি স্থায়িভাবে The British East India Company এর হাতে চলে যায় । ১৮২০ খ্রিস্টাব্দের গোড়ার দিকে এ অঞ্চলের পাহাড়গুলো ব্রিটিশ রাজের অধীনে দ্রুত বিকাশ (রক্ষণাবেক্ষণ) লাভ করেছিল, কারণ বেশিরভাগ জমিই ইতিমধ্যে ব্রিটিশ নাগরিকদের ব্যক্তিগতভাবে মালিকানাধীন ছিল । ব্রিটিশ সরকার দক্ষিণ ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলকেই Madras Presidency এর অধীনে নিয়ে আসে এবং বাকী অঞ্চলগুলোর বেশিরভাগই ব্রিটিশ সরকারের নির্ভরশীল হয়ে বিভক্ত থাকে ৷ পরবর্তীতে ভারতের স্বাধীনতা অর্জনের পর এক এক অঞ্চলের স্থানীয় ভাষার উপর নির্ভর করে দক্ষিণ ভারত বিভিন্ন রাজ্যে বিভক্ত হয় ৷
    মুন্নার (Munnar) দক্ষিণ-পশ্চিম ভারতের কেরালা রাজ্যের Idukki জেলায় অবস্থিত প্রস্তরময় গিরিচূড়ায় একটি সুন্দর শহর ও পার্বত্য কেন্দ্র । ‘Moonu’ অর্থ ‘তিন’ এবং ‘Aru’ অর্থ ‘নদী’ । মুন্নার পশ্চিমাঞ্চল ঘাট পর্বতমালায় সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৬০০ মিটার (৫২০০ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত, মাদুপেট্টি ও পেরিয়াভারু নদীর তীরে । মুন্নারকে দক্ষিণ ভারতের ‘কাশ্মীর’ বলা হয় । পর্যটক বা ভ্রমণকারীদের জন্য শহরটি মধুচন্দ্রিমা/মধুযামিনী (Honeymoon) এর উদ্দেশ্যে এক মনোমুগ্ধকর অন্যতম গন্তব্যস্থল এবং প্রশান্তির আশ্রয়স্থল । সবুজ অরণ্যে ঘেরা মুন্নারে এ পর্বতমালার মুদ্রাপুজহা, নল্লাথান্নি, কুন্ডালা পার্বত্য নদীর সঙ্গমস্থল । আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যময় এ শহরটি একসময় ব্রিটিশ সরকারের গ্রীষ্মকালীন অধিষ্ঠান বা প্রায়ই যাত্তয়া হয় এমন স্থান (Resort) ছিল এটি । এ নীলগিরি পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গের নাম Doddabetta ( রাঙ্গস্বামী শিখর, Rangaswami peak, উচ্চতা: ২৬৩৭ মিটার বা ৮৬৫২ ফুট) ৷ নীলগিরিকে নীলাকাশের মতোই নীল মনে হয়, যেন অবারিত নীলের রাজত্ব । আসলে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি পাহাড়ে ছড়িয়ে পড়ার কারণেই যে কোনো পাহাড়কে দেখতে নীলাভ মনে হয় । নীলগিরি পর্বতের ঢালে বিস্তৃত অঞ্চল জুড়ে, বনাঞ্চল, তৃণভূমি এবং মুন্নার শহর থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে সংরক্ষিত এলাকা কুরিঞ্জিমালা অভয়ারণ্যে (Eravikulam national park = যেখানে দক্ষিণ ভারতের রাজ্য তামিলনাড়ুর Tiruppur জেলার সীমান্তবর্তী কেরালা রাজ্যের Devikulam Taluk এর Idukki জেলার Kottakamboor এবং Vattavada গ্রামে বিপন্ন বা বিপদগ্রস্ত প্রজাতি কিংবা বিলুপ্তপ্রায় নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদের ৩২ হেক্টর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রস্থল বা মূল আবাসকে সুরক্ষিত করা হয়েছে) জন্ম নেয় দুষ্প্রাপ্য প্রজাতির এক অসাধারণ সুন্দর সপুষ্পক উদ্ভিদ নীলাকুরিঞ্জি বা কুরিঞ্জি বা নীলকুরিঞ্জি (Neelakurinji/Kurinji/Kurunji/Neel Kurinji) https://www.keralatourism.org/neelakurinji/ । পশ্চিমঘাট ব্যতীত পৃথিবীর অন্য কোথাও এটি এখন আর দেখা যায় না । নীলগিরি পাহাড়ের গায়ে অগণিত নীল রঙের এ ”নীলাকুরিঞ্জি” (Neelakurinji) ফুল ফোটার কারণেই এর নামকরণ হয়েছে ‘নীলগিরি’ ৷ সর্বাধিক প্রশংসিত এবং বিশেষ মর্যাদার এ দৃষ্টিনন্দন নীলাকুরিঞ্জির প্রধান আবাসস্থল হচ্ছে মুন্নার শহর থেকে পার্শ্ববর্তী নির্জন পাহাড়ি এলাকা পশ্চিমঘাটের শোলা বনে (Shola forest) https://en.wikipedia.org/wiki/Shola বা তৃণভূমিতে । সারাদেশের মধ্যে Munnar হচ্ছে নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদের সর্বাধিক ঘনত্বের উৎসবিন্দু , এটি প্রায় ৩০০০ হেক্টর ঘূর্ণায়মান পাহাড়ের মধ্যে বিস্তৃতভাবে ফুলগুলো প্রস্ফুটিত হয়ে শহরটিকে নীল রঙে রাঙিয়ে তোলে । রূপবতী নীলাকুরিঞ্জি ফুল কুয়াশাচ্ছন্ন নীলগিরি পাহাড়ের পুরো তৃণভূমিকে নীল সমুদ্রের মতো পরিণত করে । বিস্তীর্ণ অঞ্চলে এটি এক শিহরণ জাগানিয়া ঐন্দ্রজালিক দৃশ্য! নীলাকুরিঞ্জি পশ্চিমঘাটের জৈব-বৈচিত্র্যের প্রতীক হয়ে উঠেছে । এ স্থানীয় প্রজাতিটি বাস্তুতন্ত্র স্বাস্থ্যেরও একটি সূচক । দক্ষিণী ভাষায় (Tamil, Malayalam) এ ফুলকে Neelakkurinji বা ‘নীল ফুল’ বলে । নীলাকুরিঞ্জি কয়েকটি শাখা বিশিষ্ট অতি সাধারণ একটি গুল্ম বা ঝোপঝাড় । এর নীলচে বেগুনি রঙের ছোট ছোট ফুলগুলো থোকায় থোকায় দলবদ্ধভাবে ফোটে । নীলাকুরিঞ্জি দেখতে অনেকটা কলস বা ঘণ্টার মতো । এ ফুলের আকর্ষণীয় বৈচিত্র্যময় উজ্জ্বল রঙ, মিষ্টি ঘ্রাণ, অমৃত বা মকরন্দের লোভে মৌমাছি, ভ্রমর, কীট-পতঙ্গ এবং প্রজাপতিকে প্রচণ্ডভাবে আকৃষ্ট করে । বেগুনি ফুলগুলো প্রচুর পরিমাণে অমৃত ধারণ করে, যা বিশেষত পুবাল মৌমাছি Apis cerana কে বেশি আকর্ষণ করে । নীলাকুরিঞ্জি ফুল থেকে সংগৃহীত মধু স্বাদযুক্ত, স্বাস্থ্যকর, পুষ্টি মান সর্বোচ্চ, এর বিশেষত্ব রয়েছে, প্রায় ১৫ বছর পর্যন্ত বিনষ্ট হয় না এবং ঔষধিগুণ সম্পন্ন । নীলাকুরিঞ্জি গাছের উচ্চতা প্রায় ৩০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার হয়ে থাকে এবং সর্বোত্তম অবস্থায় ১৮০ সেন্টিমিটার অবধি বৃদ্ধি পায় । মন মাতানো সুগন্ধ বা তীব্র ঘ্রাণ তেমন নেই । তবুও কেন, এর এতো কদর? কারণ একটাই- নীলাকুরিঞ্জি অতি দুর্লভ, তাই সে অনিন্দ্য সুন্দর এবং মনোহারিণী । এ ফুল প্রতি ১২ বৎসরে একবার পার্বত্য ভূমিকে এক অপরূপ রূপে সাজিয়ে তোলে । ঐশ্বরিকভাবেই ফুলের রঙ বদলে গিয়ে নীল থেকে নীলচে-বেগুনি, পরবর্তীতে ফিকে বেগুনি রঙ ধারণ করে । ফুল ফোটার পর গাছ মরে যায় এবং মৃত গাছের বীজ থেকে পুনরায় গাছের জন্ম হলেও ফুলের দেখা মেলে না । ফুল দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘ ১২ বৎসর! ১২ বৎসরে একবার এ ফুল ফোটে বলেই একে ‘Super bloom’ বলা হয় (যে উদ্ভিদ দীর্ঘ বিরতিতে এরূপভাবে প্রস্ফুটিত হয় তাকে Plietesials বলে এবং উদ্ভিদবিদ্যায় এটিকে উদ্ভিদের ‘বেঁচে থাকার ব্যবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়) । এছাড়া Strobilanthes cuspidatus প্রজাতির উদ্ভিদে প্রতি ০৭ বৎসরে একবার ফুল ফোটে । নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদ পর্বতাঞ্চলে নিজের মতো করেই বেড়ে উঠে এবং প্রকৃতির নিয়মে এটিই ওর জীবন-মৃত্যু চক্র । সাধারণত ফুল ফোটে জুলাই থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত, তবে সেপ্টেম্বর থেকে অক্টোবর মাস ফুল ফোটার আদর্শ সময় । যখন নীলাকুরিঞ্জি ফুল ফুটতে শুরু করে তখন সমগ্র পার্বত্য অঞ্চলটি মনোরমভাবে এক অদ্ভুত সুন্দর বেগুনি রঙে ছেয়ে যায় এবং এর আভা ছড়িয়ে দেয় । মনে হয়, এ যেন পৃথিবীর স্বর্গ! এক সময় ফুলগুলো নিজের অতি মহিমান্বিত রঙ পাল্টে নীলরঙা রাজকীয় শাড়ির আঁচলে ঢেকে দেয় গোটা পর্বত । ভোরের সূর্যের উজ্জ্বল আলোয় পাহাড়ের বুকে জন্ম নেওয়া ফুলগুলোর নীলাভ বর্ণচ্ছটায় এক নৈসর্গিক রূপ আবির্ভূত হয় । চমৎকার সুন্দর এ নীলাকুরিঞ্জি ফুল প্রকৃতির এক রহস্যময় এবং মহাবিস্ময়কর সৌন্দর্য! এর সংস্পর্শ মনকে ছুঁয়ে যায়, কখনওবা উদ্বেলিত করে । সত্যিকারভাবেই মনোমুগ্ধকর, পরিশুদ্ধ এবং স্বর্গীয় অনুভূতি । পাহাড়ী অঞ্চলের অসিতবর্ণ আকাশে মেঘ ভেসে বেড়ানো, অপার দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ চা বাগান, নীলগিরির শিখরে দাঁড়িয়ে মেঘের স্পর্শ অনুভব করা, মনের উচ্ছ্বাসে বৃষ্টিস্নাত গঙ্গাফড়িংয়ের বিস্তীর্ণ প্রান্তরে উড়ে যাওয়া, গহীন অরণ্য থেকে মৃদু শীতল বাতাসে ভেসে আসা বনজ চা-মসলার মন মাতানো সুবাসিত ঘ্রাণ, অদূর উপত্যকার জাদুকরী সৌন্দর্য, রোদের আলোয় শুভ্র বরফাচ্ছন্ন পর্বতমালার সর্বোচ্চ শিখরে ভেসে থাকা মেঘ ও কুয়াশার ফাঁকে এক অপরূপ নীলাভ আলোর বিচ্ছুরণ, আকাশে নীলিমায় মিশে যাওয়া সাদা তুলো মেঘ, অশান্ত জলপ্রপাতের উচ্ছল- স্বচ্ছ জলধারা, নিস্তব্ধতার মাঝে নীলগিরির আকাশ ক্ষণে ক্ষণে রঙ বদলিয়ে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির আলতো স্পর্শনে এক প্রশান্তি এনে দেয় । সবুজে ঘেরা পাহাড়ের কিনারা গরিয়ে সূর্যাস্ত এবং জ্যোৎস্নাভরা মায়াবী- শান্ত রাতের আকাশ সে আরেক অনন্য রূপ! সারাবিশ্বে প্রায় ২৫০ এর অধিক নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদের (Strobilanthes) প্রজাতি রয়েছে, ৪৬টি প্রজাতির এ উদ্ভিদের মধ্যে বেশিরভাগ প্রজাতিই ভারতীয় উপদ্বীপ এলাকায় বা নীলগিরির বিভিন্ন উপত্যকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এবং স্থানভেদে ফুল ফোটার ভিন্নতাও রয়েছে । নীলাকুরিঞ্জি বা Strobilanthes kunthianus প্রজাতিটি Kunthi নদী থেকে উদ্ভূত হয়েছে । অপূর্ব সুন্দরের অধিকারী নীলাকুরিঞ্জির বৈজ্ঞানিক নাম: Strobilanthes kunthianus (Acanthaceae) https://en.wikipedia.org/wiki/Strobilanthes_kunthiana । এটি একটি Semelparous প্রজাতি । উদ্ভিদবিদরা ১৮৩৮ খ্রিস্টিব্দের প্রথম দিকে শনাক্ত করেছিলেন যে, নির্দিষ্ট সময় অন্তর-অন্তর এর ফুল ফোটে (Periodic flowering) । ১৯ শতকে Christian Gottfried Daniel Nees von Esenbeck বৈজ্ঞানিকভাবে প্রথম বর্ণনা করেন নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদ Strobilanthes গোত্রের অন্তর্গত । এটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় উদ্ভিদ প্রজাতি, যা এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ায় পাওয়া যায় । নীলাকুরিঞ্জির সর্বশেষ প্রজাতির নামকরণ করা হয়েছে ‘Kannan’ নামে (Strobilanthes kannani) । এ পর্বতমালায় তথাপি বনে বসবাসকারী Madurai রাজবংশের অনুগত (প্রাচীন উপজাতি) মুথুভান নৃ-গোষ্ঠীর অধিবাসীরা (Muthuvan ethnic group) বিশ্বাস করেন যে, নীলাকুরিঞ্জি হচ্ছে ভালোবাসার ফুল এবং শুভ বার্তার প্রতীক । দক্ষিণ ভারতের (Tamil Nadu, Kerala) Paliyan/Palaiyar/Pazhaiyarare আদিবাসীরা তাদের বয়স নির্নয় করেন নীলাকুরিঞ্জি ফুল ফোটার সময়কালের উপর নির্ভর করে । তামিলনাড়ু রাজ্যের পাহাড়ী শহর কোদাইকানাল (Kodaikanal) এ অবস্থিত হিন্দু দেবতা কার্তিক ও গণেশের পবিত্র ‘Kurinji Andavar Temple’ নীলগিরির দুর্লভ ফুল নীলাকুরিঞ্জির নাম থেকেই ‘কুরিঞ্জি মন্দির’ নামকরণ করা হয়েছে । মন্দিরের দেবতাদের উদ্দেশ্যে নীলাকুরিঞ্জি ফুল উৎসর্গ করা হয়ে থাকে ৷ সর্বোৎকৃষ্ট তামিল সাহিত্যে নীলাকুরিঞ্জিকে ‘শতবর্ষীয় ফুল’ কিংবা ‘কুরাঙ্গল কুরিঞ্জি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে এবং বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ “Red earth and pouring rain” । এ ফুল নিয়ে সাহিত্যিক Clare Flynn বিখ্যাত প্রেমের উপন্যাস ‘Kurinji flowers’ https://www.goodreads.com/book/show/24371366-kurinji-flowers

    ; লিখেছেন । এছাড়া লেখক Roy Mathew লিখেছেন ‘Kurinji the flower of the blue mountains’

    । অনন্য বৈশিষ্ট্য এবং অনুপম সৌন্দর্যের কারণে নীলাকুরিঞ্জিকে পশ্চিমঘাটের রাণী বলা হয় । অবাধ সৌন্দর্য, বৈচিত্র্যময়তা এবং নীলাকুরিঞ্জি ফুলের জন্য পর্বতমালাটিকে নীলাকুরিঞ্জি ফুলের রাজ্যও বলা যেতে পারে । এ উদ্ভিদ আগুন প্রতিরোধ করার ক্ষমতা রাখে এবং বনের আগুন থেকে এটি তৃণভূমির প্রাকৃতিক সুরক্ষক হিসেবে কাজ করে এবং মাটির ক্ষয়সাধনে বাধা দেয় । নীলাকুরিঞ্জিকে দক্ষিণ ভারতের পশ্চিমঘাট পর্বতমালা (Nilagiri, Annamalai hill, Cardamom hill, Palani hill, Agali hills, Sanduru hills, Bababudangiri hill/Datta peeta hill) জুড়ে এবং পূর্বঘাটের Shevroysসহ অন্যান্য পাহাড়গুলোতে, কেরালার ইরাভিকুলাম জাতীয় উদ্যানে, Top Station, Silent Valley, Vythiri ইত্যাদি জায়গায় দেখা যায় । এছাড়া মুন্নার পাহাড়ের নিকটবর্তী, Rajamala, Kovilur, Kanthalloor, Vattavada, Kottakamboor, Kadavari প্রভৃতি গ্রামে এবং তামিলনাড়ুর Kodaikanal, Palani পর্বতগুলোতেও নীলাকুরিঞ্জির অনুকূল জলবায়ু রয়েছে ।
    যদিও ভারতে এর আবাসস্থল ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে বা পাচ্ছে । পশ্চিম ঘাট পর্বতশ্রেণীতে ৫০০০ থেকে ৮৫০০ ফুট পর্যন্ত উঁচুতে দক্ষিণ-পশ্চিম জৈব বৈচিত্র্যের উষ্ণ বিন্দুতে (Hotspot) প্রচুর পরিমাণে নীলাকুরিঞ্জি হয়ে থাকে । সময়ের পরিবর্তনে নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে: Eucalyptus গাছ লাগানো, Acacia গাছ লাগানো, কৃষিকাজ (চা, এলাচ, কফি, মসলা ইত্যাদি), পাখি, ঘাস খায় এমন স্তন্যপায়ী প্রাণী দ্বারা এবং অতি সম্প্রতি পর্যটন, দখল, অবৈধভাবে জমি ধারণ, খামার, আবাসিক উন্নয়ন ইত্যাদি প্রত্যক্ষ প্রভাবের পাশাপাশি জলবায়ু বা ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার ব্যাপক পরিবর্তন যেখানে নীলাকুরিঞ্জি জন্মে থাকে এমন তৃণভূমি ছিনিয়ে নিয়েছে/নিচ্ছে বা ক্ষতিগ্রস্ত করেছে/করছে । এ উদ্ভিদের আদিম আবাসস্থল বিস্ময়করভাবে বেশিরভাগ এলাকা ধ্বংস করছে । পাহাড়ী আবাসে নীলাকুরিঞ্জির বিবর্তন ও বেঁচে থাকাকে জটিলভাবে বাঁধার সম্মুখীন করছে । এভাবে চলতে থাকলে ক্ষতি একেবারেই চূড়ান্ত! দুই বৎসর আগে পশ্চিম ঘাটের এক অংশে উপগ্রহের চিত্রে দেখা গেছে যে, গত ৪০ বছর থেকে ৬৬ শতাংশ তৃণভূমি সঙ্কুচিত হয়েছে এবং একই সাথে ১২ গুণ কাঠ বাগান বৃদ্ধি পেয়েছে । এ বৃহত্তম পরিবর্তনটি ১৯৯৩ থেকে ২০০৩ খ্রিস্টাব্দে ঘটে ছিল । সড়ক প্রশস্ত ও ক্রমবর্ধমান নির্মাণ কাজ, এক শ্রেণীর পর্যটকের ফুল বা গাছের অংশ ছিঁড়ে হাতে ধরে ছবি তোলা কিংবা লুকিয়ে বাড়ি নিয়ে গিয়ে সাজিয়ে রাখার প্রবণতা এবং ফুলসহ গাছ উপড়ে ফেলা ইত্যাদির কারণে নীলাকুরিঞ্জির স্বাভাবিক জীবন প্রক্রিয়ার ব্যত্যয় ঘটিয়ে এর হ্রাস বা ধ্বংস করছে । এ ধরণের দায়িত্বজ্ঞানশূন্য আচরণের জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এ উদ্ভিদ । এছাড়া, এ ফুলের সুস্বাদু বীজ নিঃশেষ করে খেয়ে ফেলে বনমোরগ এবং অন্যান্য ক্ষুদে স্তন্যপায়ী প্রাণীরা (Predator saturation বা খাদক-আধিক্য) । নীলাকুরিঞ্জি উদ্ভিদ বিপন্ন প্রজাতি, এর ক্ষতি হওয়ার কারণে পরিবেশগত বিপর্যয় বা ভারসাম্যকে ব্যাহত করতে পারে । নীলাকুরিঞ্জি এবং এর আবাসস্থল সম্পর্কে ক্ষতির বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, এ অঞ্চলে এ উদ্ভিদের জন্য যা ক্ষতিকারক সে সকল বাণিজ্যিক ক্রিয়াকলাপ বন্ধ করার পদক্ষেপ নেয়া, বেশি করে জাতীয় উদ্যান সৃষ্টি ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং এর ক্ষতিগ্রস্ত আবাসকে পুনরায় জীবন্ত রূপ দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে । তবেই, প্রকৃতি আরও স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রাণ ফিরে পাবে, সজীবতায় ভরে উঠবে এবং নীলাকুরিঞ্জির আবাসস্থল পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হবে ।
    নীলাকুরিঞ্জি ফুল ভালোবাসার তীব্র আকাঙ্ক্ষার প্রতীক, সুখ-আনন্দ-অনুপ্রেরণার উৎস এবং একটি মেয়ের আত্ম-জাগরণের প্রতিনিধিত্ব করে থাকে (তামিল ঐতিহ্য অনুসারে, একটি মেয়ের ১২ বৎসর বয়সে যৌন পরিপক্কতা অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং নারীত্বের মধ্যে পুষ্পিত ফুলের সাথে এক নিবিড় সম্পর্ক) । গত ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে পাহাড়গুলোতে নীলাকুরিঞ্জি ফুল প্রস্ফুটিত হয়েছিল, এবার ফুল ফোটার পরবর্তী মৌসুম ২০৩০ খ্রিস্টাব্দে যা সত্যিই দীর্ঘ প্রতীক্ষার! সুতরাং আপনি হয়তো বিরল নীলাকুরিঞ্জির অপূর্ব নীল সৌন্দর্যের রোমাঞ্চকর এক দুর্দান্ত অভিজ্ঞতার প্রত্যক্ষ সাক্ষী হতে পারেন!

    11
    1 Comment
Skip to toolbar