Profile Photo

আবির হাসান সায়েমOffline

  • Abir-Hassan-Sayem
  • অদূরে কোথাও কোন রেডিওতে
    এই পথ যদি না শেষ হয়
    আর বৃষ্টির রং হয়ে যাবে নীল
    আর আকাশের রংটা ছাই
    একদিন, বৃষ্টিতে একদিন …
    ~অঞ্জন দত্ত।

    বৃষ্টির অপেক্ষায় আছি বহুদিন। আসবো আসবো বলেও সে আসছে না। শেষ বিকেলে দমকা হাওয়া বইছে, ভুলে দু’এক ফোঁটা জলও পরছে কিন্তু সেই ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে না। কতদিন হলো বৃষ্টির জলে মন ভিজাই না। ওই দুই এক ফোটাতে মন কি বাসার সামনের বড় দালানগুলোর চাপে সরু হয়ে যাওয়া রাস্তাটাও ঠিক মতো ভিজছে না।
    কয়েকবছর আগের কথা। বিকেলবেলা বসে আছি বারান্দায়। আকাশের মন খারাপ, মুখ কালো করে রেখেছে সে। একটু পর পর “ধ্রুম ধ্রুম” শব্দ করে মন খারাপের কথা জানান দিচ্ছে। শব্দের সাথে আলোর ঝলকানি। যেকোনোভাবেই হোক তার মন খারাপের কথা সবাইকে জানাতেই হবে। কিছুক্ষনের মধ্যেই কান্না শুরু হলো তার। কান্নার জলকে আমরা আদর করে বলি “বৃষ্টি”। মন খারাপের মাত্রা বেশি ছিলো, তাই কাঁদছেও অনেক, ঝুম বৃষ্টি। আমি বারান্দায় বসে হতাশ মুখে কান্না দেখি, আকাশের দিকে তাকাই। মন কালো থাকে অনেক্ষণ। বাড়ি নীচের রাস্তায় দু’জন ছোট ছেলে ভিজছে বৃষ্টিতে। দেখে খানিকটা হিংসে হয় আমার। ইচ্ছে করে আমিও ছুট দেই কিন্তু না সম্ভব না। মাত্র উঠেছি অসুখ থেকে। সপ্তাহ দুই থেকে আসতে হয়েছে হাসপাতালে। প্রতিদিন একবার করে সুঁই এসে কামড়ে গেছে হাতে। খুব ব্যাথা। এখনই এই বৃষ্টিতে নেমে পরা চলে না। মন খারাপ করে বসে থাকি। ইচ্ছে করে কিছু লিখতে বৃষ্টি নিয়ে। আমার আবার মন খারাপ হলে লিখতে বেশ লাগে। আমি লেখি। লেখাটার নাম দিয়েছিলাম ” বর্ষাবিচ্যুতি”। লেখাটি দেয়া হলোঃ-
    মহাবিপদে পড়েছি। প্রকৃতির মায়া বড় ডাকছে কিন্তু আমি যেতে পারছি না। কিছু জিনিস শিকল দিয়ে হাত বেধে রেখেছে, ছুটাতে পারছি না। কথাগুলো ঘোলাটে লাগছে না?আমার কাছেও লাগছে। একটু খুলে বলি,
    কাল রাত থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। এখন বৃষ্টির তেজ খানিকটা কম। কিন্তু মেঘ যেহেতু কাটেনি তাই আশা করা যায় বিকেলে কিংবা রাতে আবার বৃষ্টি হবে।আজ সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে, বৃষ্টিতে ভিজতে অনেক ইচ্ছে করছে। বৃষ্টি তে ভিজতে ভিজতে রাস্তার পাশ দিয়ে হেটে গেলে মানুষ যেভাবে তাকায়, তাতে নিজেকে পাগল কম মনে হয় না। কিন্ত এখন আমি বৃষ্টি তে ভিজতে পারছি না। ব্যাপক মনঃকষ্টে ভুগছি।
    ডাক্তার নামের অদ্ভুত প্রাণীটি বলেছে,
    বৃষ্টি পানি গায়ে লাগানো যাবে না। বৃষ্টির পানি গায়ে লাগালে নিয়মোনিয়া হবে।
    অসময়ে অসুখ হলে নিজের উপর খুব বিরক্ত লাগে। আচ্ছা এমন করলে কি হয় না? ঢাকার কোন একটা জায়গায় ঘর তৈরী করা হবে। ঘরটি হবে সম্পুর্ণ কাচের সবসময় ঘরটি বন্ধ থাকবে। শুধু যেদিন বৃষ্টি পরবে সেদিন সবার জন্য ঘরটি খুলে দেয়া হবে। সবাই বৃষ্টি তে উপভোগ করবে। ঐ ঘরটির একপাশে থাকবে লাইব্রেরি যার যে বই ইচ্ছে পরতে পারবে। যেখানে চা বা কফির ব্যাবস্থা থাকবে। যেদিন মুশলধরে বৃষ্টি পরবে সেদিন খিচুড়ি রান্না করা হবে। এই সব কিছুই করা হবে বৃষ্টির পানি দিয়ে।

    এমন একটা ঘর বানালে ভাল হতো। আমার মত সব শিকল পরা মানুষরা বৃষ্টি উদযাপন করতে পারত।

    ~অনা-বৃষ্টি/ আবির হাসান সায়েম

    6
    7 Comments
Skip to toolbar