-
♦কুমারী পূজা♦
মোহাম্মাদ জাহিদ হোসেন***********************
কুমারী পূজা নিয়ে একটু বলা যাক।মহাষ্টমীতে মহাষ্টম্যাদিকল্পারম্ভ, কেবল মহাষ্টমীকল্পারম্ভ, মহাষ্টমীবিহিত পূজা, বীরাষ্টমীব্রত, মহাষ্টমী ব্রতোপবাস, কুমারী পূজা, অর্ধরাত্রবিহিত পূজা, মহাপূজা ও মহোৎসবযাত্রা, সন্ধিপূজা ও বলিদান। বৃহদ্ধর্মপুরাণের মতে, দেবী চন্ডিকা এক কুমারী কন্যারূপেই দেবতাদের সামনে আবির্ভূতা হয়েছিলেন। দেবী ভগবতী কুমারীরূপেই আখ্যায়িত। কুমারী পূজার দিন সকালে পূজার জন্য নির্দিষ্ট কুমারীকে স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয় ।
তাকে সাজানো হয় ফুলের গহনা ও নানাবিধ অলঙ্কারে। পায়ে আলতা, কপালে সিঁদুরের তিলক, হাতে ফুলের বাজুবন্ধ, কুমারী মেয়েটি যেন সত্যিই দেবীর প্রতিরুপ। মন্ডপে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে তার পায়ের কাছে রাখা হয় বেলপাতা, ফুল, জল, নৈবেদ্য ও পূজার নানাবিধ উপাচার।
কুমারী দেবীর কাছে ভক্তদের মিনতি,‘কাত্যায়নায় বিদ্মহে কন্যাকুমারী ধীমহি তন্নো দুর্গিঃ প্রচোদয়াত্’
অর্থাৎ , হে দুর্গা, তুমি কন্যা ও কুমারী। আমরা কাত্যায়নকে জানব। সেজন্য তোমাকে ধ্যান করি। তুমি আমাদের শুভ কাজে প্রেরণা দাও।
ধর্মীয় গ্রন্থে কুমারী পূজার পদ্ধতি এবং মাহাত্ম্য বিশদভাবে বর্ণিত হযে়ছে। বর্ণনানুসারে কুমারী পূজায় কোন জাতি, ধর্ম বা বর্ণভেদ নেই। দেবীজ্ঞানে যে-কোন কুমারীই পূজনীয়, এমনকি বেশ্যাকুলজাত কুমারীও। তবে সাধারণত ব্রাহ্মণ কুমারী কন্যার পূজাই সর্বত্র প্রচলিত। এক্ষেত্রে এক থেকে ষোলো বছর বয়সী যে কোনো কুমারী মেযে়র পূজা করা যায়। বয়সের ক্রমানুসারে পূজাকালে এই সকল কুমারীদের বিভিন্ন নামে অভিহিত করা হয়।
এক বছরের কন্যা — সন্ধ্যা
দুই বছরের কন্যা — সরস্বতী
তিন বছরের কন্যা — ত্রিধামূর্তি
চার বছরের কন্যা — কালিকা
পাঁচ বছরের কন্যা — সুভগা
ছয় বছরের কন্যা — উমা
সাত বছরের কন্যা — মালিনী
আট বছরের কন্যা — কুষ্ঠিকা
নয় বছরের কন্যা — কালসন্দর্ভা
দশ বছরের কন্যা — অপরাজিতা
এগারো বছরের কন্যা — রূদ্রাণী
বারো বছরের কন্যা — ভৈরবী
তেরো বছরের কন্যা — মহালপ্তী
চৌদ্দ বছরের কন্যা — পীঠনাযি়কা
পনেরো বছরের কন্যা — ক্ষেত্রজ্ঞা
ষোলো বছরের কন্যা — অন্নদা বা অম্বিকা
কুমারী বা নারীতে দেবীভাব আরোপ করে তার সাধনা করা হয়। এ সাধনপদ্ধতিতে সাধকের নিকট বিশ্বজননী কুমারী নারীমূর্তির রূপ ধারণ করে; তাই তার নিকট নারী ভোগ্যা নয়, পূজ্যা। পৌরাণিক কল্পকাহিনিতে বর্ণিত আছে, এ ভাবনায় ভাবিত হওয়ার মাধ্যমে রামকৃ্প পরমহংসদেব নিজের স্ত্রীকে ষোড়শীজ্ঞানে পূজা করেছিলেন।
তবে সব পূজা মন্ডপে কুমারী পূজার চল নেই। বর্তমান বাংলাদেশে ও ভারতে শুধু রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশনের পূজামন্ডপগুলোতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়।তথ্যসূত্র:-
1.↑ ক খ গ ঘ ঙ দুলাল ভৌমিক (সম্পাদক)। “কুমারী পূজা”। বাংলাপিডিয়া। ঢাকা: এশিয়াটিক সোসাইটি বাংলাদেশ।
2.↑ কুমারীপূজাপ্রযে়াগ। ঢাকা: বাংলা একাডেমী সংগ্রহ- ১৫৯। লিপিকাল ১৮৫০।
3.↑ “কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত”। দৈনিক যুগান্তর। অক্টোবর ১৩, ২০১৩। সংগৃহীত জুন ২৫, ২০১৪।লেখক কতৃক@ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত
Friends
Shamima Shawket
@shamima-shawket
স্মৃতি রানী রত্না
@srratna1990
মোখলেসুর রহমান
@mokhles
জাহিদ বিন হিকমত
@zahidbinhikmot
Shohel Nawaz
@shohel-nawaz
Nipun Chandra
@nipunch
তুলট ডেস্ক
@toulot
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
@mohammad-shahzaman
সাইমূম ইভান
@syed-symoom-anjum-evan


যতদিন সামাজিক সাম্য না আসে ততদিন আচার ও প্রথার কাছে নত থাকে মানুষ। ধনীরা প্রথাগুলো বজায় রেখে গণ- অগ্রসরতা দাবিয়ে রেখে শ্রেনীশোষন চালিয়ে যায়। অভিনন্দন।