Profile Photo

সাইফুন নেসা সীমা।Offline

  • MeherMeherShima
  • কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা
    (না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
    লেখাঃ মেহের_মেহের_সীমা।
    পর্বঃ #১১
    আচ্ছা এই কি সেই লোক যার প্রথম উষ্ণ স্পর্শে একদিন আমার কিশোরী হৃদয়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল?
    না তার মুখের আদলে গড়া অন্য কেউ?
    আজকাল তো কখনো কখনো মানুষটির এমন রাগ দেখে আমি ভয় পেয়ে যায়।
    প্রথম দেখার মানুষটির সাথে এই মানুষটার অনেক তফাৎ।
    তার সাথে প্রথমবার সাক্ষাৎকারের সময় তার আচরণ আর এখনকার আচরণ বিস্তর ফারাক।
    কারণ সেদিন তাকে বলেছিলাম আমি রান্না পারি না।
    তা শুনে সে মুচকি হেসে বলেছিল সমস্যা নেই আমি তো রাঁধতে পারি।
    কিন্তু আজ পর্যন্ত একটা ডিম ভাজতে ও দেখলাম না।
    আমি বলেছি, আমার রাগ বেশি সে হেসে বলেছিল , আমার রাগ নেই।
    আমি বলেছিলাম , আমি কিন্তু কোন কাজ পারি না।
    সে বলেছিল আমি শিখিয়ে দিব।
    আজকাল কথাগুলো স্মৃতি ছাড়া আর কিছু নয়।
    সেদিন আমার বোকার মত কথাগুলো শুনে হেসে উত্তর দিয়েছিলেন ঠিকই তবে মনে মনে হয়তো বলেছেন,বোকা মেয়ে রাগ কত প্রকার ও কী কী তা তোমার এখনও বোঝার বাকি আছে।
    মানুষটা কথায় কথায় রেগে যায়,
    আর বিয়ের পর থেকে আমার সব রাগ অভিমান হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
    তাছাড়া ছোট বেলা থেকেই আমার রাগারাগী,ঝগড়া করা পছন্দ ছিল না।
    তবে তাই বলে আমি মোটেও সাধু ছিলাম না।
    আমার মধ্যে অভিমান এবং জেদ একটু বেশি ছিল।
    তবে তা এখন আর খোঁজে পাই না।
    এখনও মনে আছে ,আমি যখন ক্লাস ফোরে পড়ি সে সময়ে গ্রাম থেকে আমাদের বাসায় রেনু আসে।
    রেনু হচ্ছে আমার বড় চাচার ছোট মেয়ে।
    রেনু আমার থেকে ছয় মাসের বড়।
    আমরা সমবয়সী হওয়াতে আমাদের মধ্যে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা একটু বেশি ছিল।
    গ্রামে থাকতে ওর সাথে আমার গলায় গলায় ভাব ছিল।
    আমরা একজন আরেকজনকে ছাড়া থাকতে পারতাম না।
    এখন দূরে থাকলেও আমাদের মধ্যে ভালোবাসা একটুও কমেনি।
    রেনু আমাদের এখানে বেড়াতে এলে আমরা দুজন একসাথে ঘুমায়।
    আরেকটি কথা ওর মাথায় চুলের থেকে উকুন বেশি।
    দেখলে মনে হয় উকুনের চাষ করছে।
    তো যা বলছিলাম ওর সাথে ঘুমানোর ফলে আমার মাথায় উকুন হয়েছে।
    আর আমার মাথায় উকুন হলে আমি সহ্য করতে পারি না, শুধু মাথা চুলকাতে থাকি।
    তো এবারো তাই করছিলাম।
    তা দেখে আমার শ্রদ্ধেয় বড় ভাইজান দুষ্টমী করে আমার চুল ধরে টান দিয়ে বলে ছিঃ ছিঃ তোর মাথায় উকুন হয়েছে !
    সর সর আমার কাছে থেকে দূরে সর ।
    সে সময়ে বড় ভাইয়ের দুষ্টুমি পূর্ণ কথা শুনে আমার ইগোতে লাগে আমি পাশের বাসায় গিয়ে এক আন্টিকে দিয়ে চুল কেটে টাক করে ফেলি।
    তা দেখে বাবা মন খারাপ করেছিল সেদিন।
    কারণ বাবা বলতেন আমার চুল নাকি তার মায়ের মতো।
    বাবা মন খারাপ করে জিজ্ঞেস করেন চুল কেটেছি কেন?
    ভাইয়া আমার চুল টেনে মজা করেছে সেজন্য চুল কেটে ফেলেছি কথাটা বাবাকে বলতে ভুল হয়নি।।
    বাবা আমার কথা শুনে বড় ভাইয়াকে কান ধরে সরি বলতে বলেছিল সেদিন।
    আমার জেদ একটু অন্যরকম ছিলো।
    আমার রাগ উঠলে চা পান করতাম না।
    আর চা না হলে আমার প্রচন্ড মাথা ব্যথা করে।
    বাবা মাও তা জানতেন।
    তাইতো ভাইদের সাথে রাগ করে চা পান করা থেকে বিরত থাকতাম তা দেখে বাবা বুঝে যেতেন আমি রাগ করেছি।
    আমার রাগ ভাঙাতে ভাইয়াদের শাস্তি দিতেন।
    কোথায় হারিয়ে গেছে সেদিন গুলো!
    এখন তো আমি অভিযোগ বা অভিমান করার সুযোগ পায় না।
    উল্টো স্বামীর রাগ ভাঙাতে ভাঙাতে জান যায় যায় অবস্থা।
    বিয়ের পর আমার সেই আগের জেদ কোথায় হারিয়ে গেল!
    মাঝে মাঝে তা বসে ভাবি।
    এই আমি জীবনের কত জনের প্রেমপত্র ফিরিয়ে দিয়েছি তার হিসেব নেই।
    বিদেশীদের মত ফর্সা আমার গায়ের রং ও ব্রাউন কালার চোখের মনিতে কতজন ঘায়েল হয়েছে বা এখনও হচ্ছে।
    তবে একজন ছাড়া সে হচ্ছে আমার স্বামী।
    বিয়ের আগে ভাবতাম আমি তার পছন্দের একজন।
    কারণ আমাকে তারেক এবং তার মেঝো ভাবী ও বড় ভাই ভাবী দেখতে এসেছিলেন।
    তার মেঝো ভাবীর আমাকে পছন্দ হয়নি।
    সে সময়ে তারেক তার মেঝো ভাবীকে যথেষ্ট সম্মান করতেন।
    এবং তার কথায় মূল্যায়ণ করতে চেষ্টা করতেন।
    আর তারেক এর মুখের কথা তার মেঝো ভাবী বেদবাক্যে মনে করতেন।
    তাই তার মেঝো ভাবী যেহেতু আমাকে পছন্দ করেনি সেজন্য আমি ভেবেছিলাম এখানে বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
    তাছাড়া বিয়ে ভেঙে যাওয়ার কথা মনে হতেই কেমন খুশি খুশি লাগছিল।
    তবে আমরা যা চায় তাই হবে এমন কোন কথা নেই।
    তার মেঝো ভাবীর মত না থাকা সত্ত্বেও তারেক এর সাথে কিভাবে যেন আমার বিয়ে হয়ে গেল।
    আরেকটি কথা তারেক এর বাড়িতে আমাকে নিয়ে পজেটিভ হোক বা নেগেটিভ যে কোন কথা হলে তা আমাদের বাড়ি পর্যন্ত পোঁছে যেত।
    কারণ তারেক এর বড় ভাবী হচ্ছে আমার বড় চাচীর আপন বোন।
    বড় ভাই ভাবী আমাকে আগে থেকেই পছন্দ করতেন। আমাকে দেখে তারেক এর পছন্দ হয়েছে এবং বিয়ে করতে চাচ্ছে।
    তার বড় ভাবীর কাছে এমনটাই শুনেছি।
    সেটা তারেক তার পরিবারকে পছন্দের কথা বলেছেন।
    এদিকে তারা দেখে যাওয়ার পর বাবা ও বড় কাকা তারেকের সম্পর্কে এবং তার পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কে খোঁজ খবর নেন।
    তারপর বিয়ের কথা পাকাপাকি করেন।
    তবে আমাকে তার বড় ভাই ভাবী ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যরা পছন্দ করেনি।
    ২০০৩ সালে ১৯ সেপ্টেম্বর তারেক এবং আমার কাবিন হয়।
    কাবিনের পর সময়গুলো অন্য রকম ছিল।
    সে সময়ে আমি এক মাস গ্রামে ছিলাম আমাদের বাড়িতে।
    আর তারেক শহরে চাকরি করতেন।
    আগে মাসে একবার যেতেন কিন্তু কাবিনের পর থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার তারেক গ্রামে আসতেন।
    অবশ্য আমার সাথে দেখা করতে আসতেন শুক্রবার।
    সে সময় গুলিতে তাকে রাগ করতে দেখিনি।
    আমার সাথে তার ভালো লাগা পছন্দ অপছন্দ এবং তার পরিবারের সম্পর্কে গল্প করতেন।
    আজৌও তার প্রথম স্পর্শের কথা মনে হলে শরীরে শিহরণ খেলে যায়।
    কাবিনের এক সপ্তাহ পর প্রথম যেদিন তার সাথে একান্তে কথা বলতে দেয় আমার পরিবার।
    সে সময়টা তারেক সারাক্ষণ আমার হাত ধরে গল্প করছিল।
    আমরা দুতলায় আমার রুমে বসে গল্প করছিলাম।অনেকক্ষণ গল্প করার পর তার যাওয়ার সময় হয়ে এলো।
    আমি এবং সে রুম থেকে বের হয়।
    আমি আগে সে আমার পিছনে ছিল।
    আমি দুতলা থেকে নিচে নামাতে যাচ্ছিলাম সে সময়ে তারেক আমাকে পিছনে থেকে জড়িয়ে ধরে ঘাড়ে আলতো করে তার ওষ্ঠ জোগল দিয়ে কয়েক সেকেন্ড চেপে ধরে উষ্ণ স্পর্শ দিয়ে তাড়াহুড়ো করে আমাকে পিছনে রেখে নেমে যান।
    এদিকে আমার তখন জান যায় যায় অবস্থা।
    শরীর থরথর করে কাঁপছে কিছুক্ষণ আগে কি ঘটেছিল তা ভেবে কেমন মাথা শূন্য হয়ে যাচ্ছিল।
    তার প্রথম স্পর্শে আমি ঘোরের মধ্যে চলে গেছি।
    এক নতুন অনূভুতি যা আগে কখনো হয়নি।
    এই অনূভুতি সম্পর্কে সেদিন আমার জানা ছিল না।
    সেদিন রাতে তারেক তাদের বাড়িতে চলে যায়।
    কারণ পরের দিন সকালে তাকে ঢাকা যেতে হবে।
    সেদিন তারেক তো চলে গেছে কিন্তু আমাকে অজানা এক ঘোরের মধ্যে রেখে গেছেন।
    সেদিনের পর থেকে খেতে পারি না, ঘুমাতে পারি না ,পড়ায় মন বসে না কেমন অস্থির অনুভূতি ছিল।
    খেতে বসলে বা কোন কাজ করতে গেলে চোখের সামনে ভেসে উঠতো সেদিনের সেই ছোঁয়া।
    নিজেকে কেমন পাগল পাগল লাগছিল।
    চরম অস্থিরতায় কেটে ছিলো সেই দিনগুলি।
    তারেক এর উষ্ণ স্পর্শ আমার কিশোরী মনে দাগ কাট।
    তার প্রতি একটু একটু করে দুর্বল হতে থাকি।
    পরের সপ্তাহে আবারো গ্রামে এলেন তারেক।
    এইবার আমাদের বাড়িতে এলেন বিকালে।
    তার চোখের দিকে সরাসরি সেদিন তাকাতে পারছিলাম না লজ্জায়।
    আমাকে আরও লজ্জা দিতে সে মুচকি মুচকি হাসছিল।
    লজ্জা থেকে বাঁচতে আমি তার থেকে দূরে দূরে ছিলাম।
    তবে আমি তো আর জানতাম না পালিয়ে তার কাছে থেকে পার পাওয়া যাবে না।
    কারণ সে যে আজকে আমাদের বাড়িতেই থাকবে।

    রাতে খাওয়া দাওয়ার পর আমাদের এক ঘরে ঘুমাতে দেওয়া হয়েছে।
    সেদিন ছিল আমাদের বিয়ের পর প্রথম রজনী বা বাসর রাত।
    এই রাত সম্পর্কে ধারণা ছিল না তেমন।
    তবে কেন যেন ভয় করছিল।
    এক সময়ে আমার ভয়কে দূরে সরিয়ে তারেক আমাকে কাছে টেনে নেন।
    আমি সেদিন নতুন এক জগৎ সম্পর্কে জানতে পারি।
    আমাকে একটু একটু করে আবিষ্কার করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারেক।
    কিন্তু সে রাতে অসহনীয় ব্যথায় আমার চোখ দিয়ে পানি এসে যায়।
    তারেক তার ওষ্ঠের উষ্ণ স্পর্শ দিয়ে আমার চোখের পানি গুলো শুষে নিতে ব্যস্ত।
    পরের দিন
    ভোরের দিকে তারেক আমাকে জাগিয়ে দেয়।
    আমার কানের কাছে মুখ নিয়ে ফিসফিস করে বললেন, সবাই উঠে পড়ার আগে গোসল সেরে নেও।
    অবশ্য রাতে একবার বলেছিলেন খুব ভোরে গোসল করতে হবে।
    এখন যেহেতু আবার বলেছেন, সেজন্য আমি তার কথা মতো গোসল করতে উঠতে নিলে আবিষ্কার করলাম প্রচন্ড ব্যথা কারণে হাঁটা তো দূরের কথা ঠিকঠাক দাঁড়াতে পারছি না।
    তারেক সেদিন আমার অবস্থা দেখে আমাকে বুকের মধ্যে জড়িয়ে ধরেন।
    তারপর গোসল করতে আমাকে ধরে ধরে নিয়ে যান।

    সকালে নাস্তা করার পর তারেক আমাকে ব্যথার ওষুধ খেতে বলেন।

    আমাকে তার মোহে ফেলে সেদিন নাস্তা করে চলে যায়।
    আস্তে আস্তে তারেক হয়ে যায় আমার কিশোরী বয়সের ভালোবাসা।
    আমি ভাবতাম আমার মত করে সেও আমাকে ভালোবাসে।
    যা ছিল আমার মনের ভুল।
    তবে আমার মনের ভুল ভাঙতে বেশিদিন সময় লাগেনি।
    কাবিনের তিন মাস পর বড় অনুষ্ঠান করে আমাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন।
    সেদিন রাতে আমি জানতে পারি ,আমার স্বামী ফর্সা পছন্দ করতেন না তার পছন্দের তালিকায় সবসময় শ্যামলা রং।

    ইস্ অনেক দেরি হয়ে গেছে রান্নাবান্না এখনও হয়নি।
    ভাবনার জগৎ থেকে বের হয়ে রান্না করতে যাব এরমধ্যে তারেক কল করেছে।
    সে আজকে বাড়িতে যাচ্ছে শ্বাশুড়ি মা’কে আনতে।
    আমাকে নিতে ভাইয়াকে আসতে বলেছেন।
    আমি তার ফোন পেয়ে তাড়াহুড়ো করে হাতের কাজ শেষ করলাম।
    ছোট ভাইয়া আসলে যেন দেরি না হয় সাথে সাথে যেতে পারি।
    আসলে তারেক বাড়িতে না গেলে বাবার বাড়ি বেড়াতে তেমন একটা যাওয়া হয় না আমার।
    সে থাকলে শুক্রবার সকালে তার সাথে করে নিয়ে যায় সারাদিন বাবার বাড়িতে থেকে আবার রাতে চলে আসতে হয়।
    আর তারেক যখন বাড়িতে যায় তখন এক রাত বাবার বাড়িতে থাকার সৌভাগ্য হয়।
    আমি আপনাদের সাথে বকবক করছি এরমধ্যে ছোট ভাইয়া এসে হাজির।

    ছোট ভাইয়া আমাকে বাসার নিচে নামিয়ে দিয়ে দোকানে চলে গেছে।
    আমি আমার মেয়েকে কোলে নিয়ে উপরে উঠতে নিলে সামনে একজনকে দেখে চমকে উঠলাম!
    কিন্তু সামনে থাকা মানুষটিকে তা বুঝতে না দিয়ে সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে উপরে উঠতে নিলাম।
    এরমধ্যে সামনে থাকা ব্যাক্তিটি বলে উঠল,পুতুলটার বাবা কিন্তু আমার হওয়ার কথা ছিল?

    চলবে

    বিঃদ্রঃ লেখায় কোনো ভুল ত্রুটি থাকলে দয়াকরে ধরিয়ে দিবেন না হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
    আর আমার লেখা ভালো লাগলে আপনার মূল্যবান মতামত দিয়ে জানাবেন।

    16
    7 Comments

Saifun nesa Shima

Housewife

Skip to toolbar