Profile Photo

Shahrim Kawsher ShantoOffline

  • Behomith
  • Profile picture of Shahrim Kawsher Shanto

    Shahrim Kawsher Shanto

    4 years, 8 months ago

    কেন?

    একটি কার এক্সিডেন্ট এরপর চারদিকে সব অন্ধকার।ঠিক কখন যে তার জ্ঞান ফিরেছিলো তা তার জানা ছিলো না। তবে চোখ খুলতেই চেনা পরিচিত একটা পরিবেশ তার সামনে ভাসমান হয়ে উঠলো। মাথার উপরে চারপাখা বিশিষ্ট একটি ফ্যান। আর চারদিকে সাদা রংয়ের এনার্জি লাইটের জমকালো দৃশ্য।কিছু সময় নিয়ে হলেও বুঝতে তার বাকি থাকলো না সে আসলে হাসপাতালে। একটু নড়ে চড়ে উঠার ব্যার্থ চেষ্টা করতেই বুঝতে পারলো তার হাতের ক্যানুলার উপস্থিতি। মিটমিট চোখে তাকিয়ে দেখলো স্যালাইনের লাইনটার দিকে। অস্ফুট স্বরে একটি নারীকন্ঠের প্রতিধবনীতে তার দৃষ্টি সজাগ হলো। “হ্যালো,মিস্টার কিবড়িয়া আপনি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন?” নার্সের কথা সে শুনতে পেলেও কিবড়িয়া নামটির সাথে সে পরিচিত না এমন একটাই ভাব তার মুখে ফুটে উঠেছে। কিছুক্ষন ডাকাডাকির পরে নার্স বাহিরে চলে গেলো।সম্ভবত কিবড়িয়া নামক এই রোগীর কোনো আত্মীয় কে খুঁজতে। এরপর রুমে নার্সের সাথে এক নারীর প্রবেশ ঘটে।বয়স তার ৩০-৩২ হবে।সম্ভবত কিবড়িয়া নামক রোগীটির স্ত্রী কিংবা প্রেমিকা হবে। নারীটি কিবড়িয়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে বললো ” সৃষ্টিকর্তার কাছে অশেষ ধন্যবাদ যে আজ প্রায় ১ বছর পরে তুমি কোমা থেকে ফিরে এসেছো।” বলেই নারীটি কিবড়িয়ার হাত ধরার চেষ্টা করে বললো ” চিন্তা করো না,সব ঠিক হয়ে যাবে।তোমাকে কিছুদিন পরেই বাড়ি নিয়ে যাবো।” কিবড়িয়া নামক রোগীটি এসব কিছুর কোনোটাই বুঝতে পারছে না।তার চেহারায় একটা প্রশ্নবিদ্ধ আর কৌতূহলের ছাপ। এতক্ষণ পরে সে মুখ খুললো আর বললো ” আসলে আপনাকে আমি ঠিক চিনতে পারছি না।কে আপনি? আর আমি এই হাসপাতালে কিভাবে আসলাম? আর আমার নাম কিবড়িয়া এইটাও আমি মনে করতে পারছি না।” এসব বলতে বলতেই কিবড়িয়া নামের রোগীটি একদম অস্থির হয়ে পড়লো।আর অস্থিরতার পরবর্তী ধাপ রাগ আর তারপরেই উগ্রতা।পরিস্থিতি আন্দাজ করে নার্স দ্রুত কিবড়িয়া নামের রোগীটিকে সেডেটিভ দিয়ে শান্ত করলো।কিছুক্ষন আগের সেই উগ্র হয়ে যাওয়া কিবড়িয়া নামের রোগীটি একদম নিস্তেজ হয়ে গেলো। এসব কিছুই রেহানা রুমের এক কোনাই দাঁড়িয়ে থেকে ভীতিকর এবং বিচলিত ভাবে অবলোকন করছিলো।রেহানা? হ্যাঁ রেহানা সেই নারী চরিত্র বা তথাকথিত কিবড়িয়া নামের রোগীটির স্ত্রী কিংবা প্রেমিকা। কিছুক্ষনের মধ্যেই রুমে ডা: আবির খন্দকার প্রবেশ করলেন। ডাক্তার কে দেখে রেহানা এগিয়ে আসলো।নিজের মাথায় ঘুরপাক খাওয়া সমস্ত প্রশ্নের উত্তর নেওয়ার জন্যে। “ডাক্তার সাহেব, কিবড়িয়ার কি হয়েছে? ও কোনো কিছুই চিনতে পারছে না কেনো?” মুখে চিন্তার ভাব এনে জিজ্ঞেস করলো রেহানা। ডাক্তার কিবড়িয়া কে ভালোভাবে এক্সামাইন করে নার্সকে বললো কিবড়িয়া কে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করতে এবং এর মধ্যে কিবড়িয়ার জ্ঞান ফিরলে তাকে ইমিডিয়েটলি ইনফোর্ম করতে।এরপর ডাক্তার রেহানার দিকে ফিরে তাকিয়ে বললো,”চিন্তা করবেন না মিস।” “রে,রেহানা” একটু থতোমতো খেয়ে রেহানা নিজের নামটি ডাক্তার আবিরকে বললো। চিন্তা বা অসস্তিকর পরিস্থিতে রেহানা একটু ঘাবড়ে যায় আর তখন ও হালকা স্ট্যামারিং বা তোতলানো শুরু করে। ডাক্তার আবির রেহানাকে ঠান্ডা হওয়ার কথা বলে ডাক্তার তাকে বলা শুরু করলো “আসলে মিস্টার কিবড়িয়ার রেট্রোগ্রেড এমনেশিয়া হয়েছে।এ ধরণের কন্ডিশনে সাধারণত রোগী তার পূর্ববর্তী সমস্ত মেমোরিকে হারিয়ে ফেলে।সে তার নাম,ঠিকানা,জন্মতারিখ,পরিচিত স্থান বা মানুষজনকেও ভূলে যায়। অর্থাৎ সে তার অতীতের কোনোকিছুই আর মনে রাখতে পারে না বা করতে পারে না। শুধু এসবই না সে তার কোনো স্কিল যেমন হকি খেলা,ফুটবল কিংবা দাবা খেলা,গাছে চড়া, বাইক চালানো কিংবা আত্মরক্ষা করার জন্যে যেসব স্কিল সে আয়ত্ম করেছিলো সেগুলোও আর ঠিক মতো মনে রাখতে পারে না।তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সে এগুলো আংশিক মনে রাখতেও পারে।” তবে চিন্তার কোনো কারন নেই কিছু সময়ের কাউন্সিলিং আর অনুশীলনির মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া সেই সৃতিগুলো পুরোপুরি ফিরে না পেলেও আংশিক ভাবে ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। আর স্কিলগুলো অনুশীলনির মাধ্যমে আবার আয়ত্য করতে পারবে বলে ডাক্তার আবির রেহানাকে আশ্বস্ত করে রুম থেকে চলে গেলেন। প্রায় ৮ ঘণ্টা পরে কিবড়িয়ার জ্ঞান ফিরলো। এখন সে অনেকটাই চুপচাপ।আগের মতা উগ্র না।সে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছে।আর বিষয়টা তার জন্যে আরো একটু পরিষ্কার হলো ডাক্তার আবিরের কথা এবং রেহানার আশ্বস্ততায়। কিছুদিনের মধ্যে কিবড়িয়াকে ডিসচার্জ করা হলো।কিবড়িয়া আর রেহানা তাদের বনানীর বাসায় এ গিয়ে ঊঠলো।ঠিক তাদের বললে ভূল হবে কারন এখন এই বাড়িটি কিবড়িয়ার কাছে অপরিচিত।বাড়িটা কিছুটা নতুন।এখনো অনেক জিনিসপত্র কাগজে মোড়ানো।মনে হচ্ছে রিসেন্টলি কেউ এখানে শিফট করেছে। চারিদিকে কৌতূহল নিয়ে তাকিয়ে দেখছিলো কিবড়িয়া।দেয়ালে অনেকগুলো ছবি।বেশিরভাগই কিবড়িয়ার নিজের স্যুট টাই পড়া বেশ পরিমার্জিত।ছবিগুলো দেখে সে বুঝতে পারলো অতীত জীবনে সে অনেক পরিপাটি মানুষ ছিলো। পাশে তার এবং রেহানার কিছু ছবি।কফি মাগ টা টেবিলের উপরে রেখে রেহানা নিজের চুল পনিটেইল করত করত বললো “গত বছর সামার ভ্যাকেশনে তোলা সেই পিকগুলো। ৭ দিনের গ্যাপে আমরা বেশ কিছুদিনের জন্য থাইল্যান্ড এবং ইস্তানবুল ট্রিপে ছিলাম। কত সুন্দর ছিলো দিনগুলো।” বলেই কফি মাগ হাতে গভীর নি:শ্বাস ফেললো রেহানা। ” তোমার জন্যেও বানিয়েছি,বরাবরের মতোই চিনি কম।” কৃত্রিম হাসিমুখে মাগ টি এগিয়ে দিলো রেহানা। শান্তভাবে ধন্যবাদ বলে চুপ হয়ে গেলো কিবড়িয়া। তার কাছে সবকিছুই রহস্য লাগছে।কারন সে তার অতিমূল্যবান একটি জিনিস হারিয়ে ফেলেছে।মানুষ টাকা হারাইলে সেই টাকা সময় উপার্জন করতে পারে,প্রেমিকা বা প্রেমিক হারাইলে আবার নতুন কাউকে খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করে বা প্রাক্তনের কাছেই আবার ফির যাওয়ার চিন্তা করে।কিন্তু মানুষ সময়,স্মৃতি,পানির স্রোত এসব জিনিসকে ধরে রাখতে পারে না।আর এগুলো হারিয়ে গেলে সহজে ফিরে পাওয়া যায় না।কিবড়িয়া তার সময় এবং স্মৃতি দুইটোই হারিয়ে ফেলেছে।এই দীর্ঘ এক বছর তার জীবন থেকে একদম হারিয়ে গিয়েছে।সাথে এই এক বছর সে হারিয়েছে তার স্মৃতিকেও।সে কে? সে কি করে? তার বাবা মা এসবের ব্যাপারে কোনো ধারণাই নেই তার।শুধু চোখের সামনে রেহানা নামের এই মহিলাটিকেই সে দেখছে আর তার পরিচয় মতে রেহানা তার ফিয়ান্সে। কফি শেষ করে সে রেহানাকে জিজ্ঞেস করলো বাথরুম টা কোনদিকে। রেহানা ইশারা করে বামদিকে দেখিয়ে দিলো।কিবড়িয়া চুপচাপ বাথরুমে চলে গেলো।রেহানার অস্ফুট কন্ঠ বাথরুমের দরজার অপার থেকে শুনতে পেয়েও চুপ কর সাওয়ার নিতে থাকলো কিবড়িয়া ” আমি রান্নার জন্যে কিছু প্রয়োজনীও জিনিস নিতে বাহিরে যাচ্ছি।গোসল শেষে ফ্রিজে রাখা তোমার প্রিয় বিয়ার খেয়ে নিয়ো।” বলেই বের হয়ে গেলো রেহানা।মহিলা অপরিচিত মনে হলেও তার আচরণ এবং দেয়ালে টাংগানো ছবি এবং তার হাতের রিং দেখে অন্তত এইটা বিশ্বাস করতে পারলো যে রেহানা তার ফিয়ান্সে।এখন বাকি থাকলো তার আশপাশের সবকিছু মনে করার চেষ্টা। ফ্রেশ হয়ে সোফাতে বসে কিছুক্ষন ঝিম মেরে থাকার পরেই তার সামনে রাখা সেলফোনে একটা কল আসলো। হয়তো রেহানা ফোন দিয়েছে এই ভেবে কলটা পিক করার সিদ্ধান্ত নিলো সে কারন রেহানা যাওয়ার আগে একবার বলেছিলো যে কোনো দরকারে সে ফোন দিতে পারে।ফোন জিনিসটা কি এবং তা কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা অন্তত জানা আছে কিবড়িয়ার।ফোন হাতে নিয়েই রিসিভ করে বাম কানে ফোন ঠেকিয়ে ঠান্ডা ভাবে বললো “হ্যালো?” অপরদিক থেকে কিছুক্ষনের নীরবতার পরে একটা কন্ঠ ভেসে আসাতে কিছুটা চমকে গেলো কিবড়িয়া। মেকানিকাল বা আনোনিমাস ভয়েস।সাধারণত হ্যাকার রা নিজেদের ভয়েস গোপন রাখার জন্য যেই ভয়েস টোন ব্যাবহার করে ফোনের অপর পাশের ভয়েসটিও তেমনি শোনাচ্ছে। “কেমন আছেন আপনি?” চুপ থেকে একটু ইতস্ত কর কিবড়িয়া উত্তর দিলো “জ্বী ভালো।কিন্তু আপনি কে?” অপার থেকে ভারি নি:শ্বাস ফেলার শব্দ আসলো ” আমি বা আমরা আসলে আপনার খুব পরিচিত মানুষজন।” কিবড়িয়া কিছু বুঝতে পারছিলো না।খানিকক্ষণ চুপ থেকে সে আবার প্রশ্ন করলো ” আপনি…” বাক্যটা শেষ করার আগেই ফোনের অপার থেকে বলা হলো ” দেখুন মিস্টার কিবড়িয়া এখন আমি আপনাকে যা বলবো তা আপনার বিশ্বাস নাও হতে পারে কিন্তু আসলে এইটাই সত্য।আপনি একজন কন্ট্রাক্ট কিলার। কর্পোরেট এস্পিয়োনাজ,রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব কিংবা আন্তর্জাতিক কোনো চক্র যদি এই দেশের জন্যে ক্ষতিকর হয়ে উঠে বা উঠার চেষ্টা করে তখন তাদের প্রতিহত করার জন্যে আপনাদের মতো কন্ট্রাক্ট কিলারদের হায়ার করা হয় মোটা অংকের টাকার বিনিময়।আর এই ধরনের কাজ যারা করে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো আমাদের এজেন্সি। যাকে আপনি “আনোনিমাস” নামে জানতেন।” ম্যাকানিকাল ভয়েজে বলা লোকটির এসব কথা কিবড়িয়ার বিশ্বাস হচ্ছে না। কিছুক্ষন চুপ থেকে আবারো বলা শুরু করলো সেই আনানোনিমাস ভয়সে “আপনাকে এ কাজে সাহাজ্য করতো আপনার পার্টনার রেহানা।জ্বী সেও একজন কন্ট্রাক্ট কিলার।আর আপনি ছিলেন আমাদের এজেন্সির সবথেকে ধুর্ত একজন কিলার।তাই আপনাকে হারিয়ে আমরা বেশ হতাশ হয়েছিলাম।কিন্তু দীর্ঘ সময় পর আপনার ফিরে আসাতে আমরা বেশ খুশি।আপনার সমস্যার ব্যাপারে শুনেছি।আপনার স্কিলগুলো পুনোরায় ফিরে পেতে আমাদের এক্সপার্ট আপনাকে হেল্প করবে। আর স্পেশাল কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে আপনাকে আপনার পুরোনো স্মৃতি ফিরে পেতেও সাহাজ্য করা হবে।কিন্তু তার আগে নিজেকে প্রস্তুত করুন কারন ২ মাস পরে আপনাকে একটি ফিল্ড ওয়ার্ক দেওয়া হবে।” বলেই প্রাইভেট নাম্বার থেকে আসা কলটি কেটে গেলো। এতক্ষন যা যা শুনলো তা শোনার পর তালগোল লেগে গেলো সব কিবড়িয়ার।তাহলে কি সে একজন খুনি? না না সে তো খারাপ লোকদের টাকার বিনিময়ে খুন করে মানে সে একজন ইম্পলোয়ি।এগুলো চিন্তা করতেই হুট করেই মাথাটা ধর বসলো তার।গাড়ি উলটে যাওয়ার সেই কালো ফ্ল্যাশব্যাক।যা তার কাছে পরিষ্কার বা দৃশ্যমান না পুরোপুরি। ৩০ মিনিট পরে রেহানার আগমন।কিবড়িয়াকে চিন্তিত দেখে হয়তো সে বুঝতে পারলো এতক্ষন এজেন্সি থেকে কল চলে এসেছে। সে কিবড়িয়ার পাশে গিয়ে বসলো।তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো “ঠিক আছো? আমি জানি তুমি ঠিক নেই।অনেক প্রশ্ন তোমার মাথায়।এসো আমার সাথে তোমাকে কিছু দেখাবো।” কিবড়িয়া অনিচ্ছা থাকার পরেও রেহানাকে অনুসরণ করলো।রেহানা একটা সিক্রেট ডোর এর সামনে গিয়ে বললো এইখানে তোমার ডান চোখ ঠেকাও।পরপর দুইবার রেটিনা স্ক্যান হওয়ার পরে দরজা নিজে থেকেই খুলে গেলো।আর নিজ দিয়ে সিঁড়ি নেমে গেলো। এরপর সিঁড়ি দিয়ে রেহানা আর কিবড়িয়া নিচের সিক্রেট বেসমেন্ট এ প্রবেশ করলো। “এইটা হচ্ছে আমাদের সিক্রেট হাইডাউট।এইখানে আমরা সব প্ল্যান প্রোগ্রাম, কিলিং টাইম,লোকেশন,মেথড ডিস্কাস করি।কিবড়িয়া সব কিছু ঘুরে ঘুরে দেখলো এইখানকার সবকিছুতেই তার আথোরাইজেশন লাগে।ওয়েপন কেইস থেকে শুরু করে,স্যুট ক্লোজেট সবকিছুই ভালোভাবে সুরক্ষিত।কিবড়িয়া হালকা মনে করার চেষ্টা করলো ফ্ল্যাশব্যাকে তার সেই প্ল্যানিং এর মেমোরিগুলো কিন্তু সেগুলো একদম ফ্যাকাশে।এসব মনে করার চেষ্টা করলেই তার মাথার পেছন টা ব্যাথা করা শুরু করে। কপালের বাম পাশটাতে হাত দিয়ে হালকা বসে পড়লো কিবড়িয়া। কিবড়িয়ার অবস্থা দেখে রেহানা অনেক চিন্তিত হয়ে গেলো।সে কিবড়িয়ার দিকে এগিয়ে গিয়ে কিবড়িয়ার মাথাটা তার বুকের মধ্যে ধরে আলতো করে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে বললো “Don’t take so much stress.Everything will be alright.” বলেই কিবড়িয়ার মাথায় একটা চুমু খেয়ে রেহানা বেসমেন্ট থেকে চলে গেলো।রেহানার এমন কাজে একদম আবেগআপ্লুত হয়ে গিয়েছিলো কিছু সময়ের জন্যে কিবড়িয়া।এরপর সে উঠে দাঁড়ালো। সে সিদ্ধান্ত নিলো তাকে তার সাধারণ জীবন-যাপনে ফিরে যেতে হবে।সবার আগে সে তার বাবা মা এর কবরস্থান জিয়ারত করতে গেলো।এজেন্সি কিবড়িয়ার জন্যে স্পেশাল এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে যার একমাত্র কাজ কিবড়িয়ার অতীত জীবনের সবকিছু ভালোভাবে তাকে বুঝিয়ে দেওয়া।সেই এজেন্টের কাছ থেকেই জানতে পারে যে এজেন্সি তে যোগ দেওয়ার ১ বছর পর কিছু দুষ্টু চক্রের লোক কিবড়িয়ার বাবা এবং মা কে মেরে ফেলে। আপন বলতে এখন শুধু রেহানাই আছে কিবড়িয়ার। বাবা মা এর কবরের সামনে দাঁড়িয়ে ব্যাথিত চোখে চেয়ে আছে কিবড়িয়া।দূরে এজেন্সির গাড়ির সাথে হেলান দিয়ে সিগারেট ফুঁকছে মাঝারি উচ্চতার এবং মাঝারি দেহ গড়নের লেডি এজেন্ট ফাইজা। কালো রংয়ের ব্লেজারটার বোতাম খুলে রেখেছে সে।সাধারণর ফিল্ড কাজের সময় তার এতো ফর্মাল পোশাক পছন্দ না।শার্ট আর জিন্সেই অভ্যস্ত সে।কিন্তু এতোদিন পর তার আইডোল কিবড়িয়া হাসানের সাথে দেখা হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছে।তাকে ইম্প্রেস করার জন্যে হলেও একটু ফর্মাল পোশাকে এসেছে সে। যদিও কিবড়িয়ার এক্সিডেন্টের কথা শুনে অনেক চিন্তিত হয়ে পড়েছিলো সে।তাই নিজে থেকেই কিবড়িয়ার এজেন্ট হিসাবে কাজ করার অনুরোধ করে সে।কিবড়িয়াকে ঘুরে আসতে দেখে সিগারেট টা মাটিতে ফেলে পা দিয়ে ঘেঁষে নিভে দিলো ফাইজা আর দ্রুত তার ব্লেজারের বোতাম লাগিয়ে চুল ঠিক করে কিবড়িয়ার দিকে এগিয়ে গেলো সে। “আপনি সিগারেট টা না ফেললেও পারতেন। আমার জন্যে আপনার নিজের কাজের বাঁধা পড়ুক তা আমি চাই না।” শান্ত কন্ঠে হাত পেছনে রেখে কিবড়িয়া বললো।গত ১৫ দিনে কাউন্সিলিং আর প্রোগামের মাধ্যমে কিবড়িয়া কিছুটা তার সাধারণ জীবনে ফিরে এসেছে।কিবড়িয়ার বয়স ৪০ হলেও স্বাস্থ্য সচেতন এবং ফিটনেস ভালো থাকায় তার বয়স খুব একটা বোঝা যায় না।আর কন্ট্রাক্ট কিলার হিসাবে তার দক্ষতা এবং এজেন্সি তার সুনামও বেশ থাকার কারনে এজেন্সিতে আসা নতুন ফিমেল বা লেডি এজেন্ট রা তাদের স্কিল উন্নত করার চেষ্টায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কিবড়িয়ার সাথে কাজ করতে চায় কিন্তু একজন কিলার হিসাবে কিবড়িয়া এত সান্নিধ্যতা কাউকে কখনো দেয় নি শুধুমাত্র তার পার্টনার ইন ক্রাইম রেহানাকে ছাড়া। কিন্তু ফাইজার ভাগ্যটা ব্যাতিক্রম সে সুযোগ পেয়ে গেলো কিবড়িয়ার সন্নিকটে কাজ করার। কিবড়িয়ার কথা শুনে ফাইজা দাঁতে দাঁত লাগিয়ে লজ্জার ভংগিতে বললো “সরি স্যার।আমি আসলে বুঝতে পারিনাই” কথাটা বলার সময় কিছুটা নার্ভাস দেখালো ফাইজা কে। একটা টিস্যু পকেট থেকে বের করে ফাইজার দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো “কপালের ঘাম মুছুন।” ফাইজা মুছকি হেসে দ্রুত টিস্যু নিয়ে ঘাম মুছে ধন্যবাদ জানালো কিবড়িয়া হাসান কে। এরপর ২ মাস অতিবাহিত হয়ে যায়।

    গাড়ির শব্দ,ব্রেক ফেইল,চোখ বন্ধ এরপর আর কি? মৃত্যু! ঘুম থেকে হঠাৎ উঠে বসলো কিবড়িয়া।গা একদম ঘেমে গিয়েছে। পাশে রেহানা ঘুমোচ্ছে।প্রায় রাতেই এই নাইটমেয়ার টা দেখে কিবড়িয়া আর ঘুম থেকে উঠে যায়।এরপর কিছুক্ষন পরে ঠান্ডা হয়ে যায়।এক গ্লাস পানি খেয়ে সে আবার শুয়ে পড়লো। রেহানার দিকে হয়ে।রেহানার নগ্ন পিঠে হালকা করে হাত বুলিয়ে দিতে দিতে কখন যে ঘুমিয়ে গেলো তার খেয়াল ছিলো না। এরপর ঘুম ভাংগলো মোবাইলের রিংটনে। ঘুমন্ত অবস্থায় ফোন রিসিভ করেই বুঝতে পারলো সেই আনোনিমাস কন্ঠ। “কেমন আছেন মিস্টার কিবড়িয়া?” ঘুমন্ত অবস্থায় থাকলেও এই কন্ঠ শোনার পর তার ঘুম উড়ে গেলো। নড়েচড়ে উঠে বসে বললো “জ্বী ভালো,স্যার।”এজেন্সির সবাই তাকে মিস্টার মারক নামে জানে। উচ্চ পর্যায়ের কিলার এবং এজেন্টদের সাথে মিস্টার মার্ক ই কথা বলে থাকেন। “আপনার রিপোর্ট বলে আপনি এখন ফিট টু ওয়ার্ক। শুটিং স্কোর সন্তুষ্টজনক,ভিয়ার ট্রেনিং এও আপনার স্কোর ভালো।তাই আপনাকে ব্যাক টু ওয়ার্ক এ ফিরে পেয়ে আমরা খুশি।এখন মন দিয়ে শুনুন।আপনার জন্যে একটা কন্ট্রাক্ট এসেছে। পত্রিকার পাতায় হয়তো ডি কোস্টা ফ্যামিলির নাম দেখেছেন।ব্যাবসা,ফ্যাশন আইকন,রাজনীতি সবকিছুতেই তাদের নাম বিস্তৃত।এখন সমস্যা হচ্ছে ডি কোস্টা ফ্যামিলি এ দেশের উচ্চবর্গীয় কিছু রাজনীতিবিদ এবং রাজনীতি দলের খুব গোপন কিছু তথ্য আরখাইভ করে রেখেছে।আর ফ্যামিলির মুখ্য এন্ডি ডি কোস্টা রাজনীতিতে নিজের ভীত পাকা পোক্তো করার জন্যে টিকেট চাইছে।এখন বর্তমান সরকার যদি তার এই দাবি না মেনে নেয় তাহলে সে বিরোধী দলের সাথে হাত মিলিয়ে সরকারি সিক্রেট ইনফো তাদের দিয়ে দিবে এবং আন্তর্জাতিক দুষ্টু চক্রদের হাতেও দিতে পারে।তাই আমাদের এজেন্সিতে রিকুয়েস্ট এসেছে উপর থেকে ডি গোস্টা ফ্যামিলি কে গোড়া থেকে নির্মুল করতে।এই ব্যাপারে আপনি ফাইজার কাছে ডিটেলস পাবেন।” কোনো উত্তরের প্রতিক্ষা না করেই লাইন কেটে দিলেন মিস্টার মার্ক। বেড থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলো কিবড়িয়া।কিচেন থেকে রান্নার গন্ধ আসাতে বুঝতে পারলো রেহানা অনেক আগেই বিছানা ছেড়ে উঠে গিয়েছে।ডাইনিং গিয়ে দেখলো ফাইজা এসেছে। কিবড়িয়াকে দেখেই একটু কাচুমাচু খেলো কিবড়িয়া। “আসসালামুয়ালাইকুম স্যার।”চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়াতে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললো ফাইজা। সালাম নিয়ে ফাইজাকে বসতে বললো কিবড়িয়া। “মার্ক স্যার আমাকে আপনার কন্ট্র‍্যাক্টের ব্যাপারে সব বুঝিয়ে বলতে বলেছেন।” জুসের গ্লাস হাত থেকে রাখতে রাখতে বললো ফাইজা। “স্যার এই ফ্যামিলির টোটাল সদস্য ৪ জন এর এন্ডি ডি কোস্টা,তার স্ত্রী লিয়ানা ডি কোস্টা তাদের মেয়ে মিমি আর ছেলে ফ্র‍্যাংক ডি কোস্টা।রুমার আছে সে এন্ডির ভাই এন্টোনি ডি কোস্টার সাথে লিয়ানার পরকীয়া আছে।যেই কারনে এন্ডি এবং তার ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্ক ভালো না।এন্ডির মেয়ে মিমি থাকে আমেরিকায়।ড্রাগ এবং সেক্স এর নেশা তাকে এমনভাবে বেকে বসেছে যে তার নিজের পরিবারের খবরো সে রাখে না। হাই ইনফ্লুয়েন্স আর হাই প্লেসে লোকজনের সাথে ভালো খাতির থাকার কারনে এন্ডি তার মেয়েকে বড় রকমের কেইস থেকেও বাঁচিয়ে দিয়েছে। কিন্তু অঢেল টাকা এবং পরিবার থেকে শাসন না থাকায় এনি বিগ্রে গিয়েছে সহজে। ডি কোস্টা ফ্যামিলি রাজনীতিক ভাবে ঝামেলা করার পাশাপাশি আরো বেশি ঝামেলার সৃষ্টি হয় যখন কোনো এক এমপির ছেলের সাথে মিমি সেক্সুয়াল রিলেশনশীপে জড়িয়ে পরার কিছুদিন পর থেকে যখন সেই ছেলে তাকে ব্ল্যাকমেইল করা শুরু করে যে তার বাবা যদি এইবার এমপি টিকিটের চাপ দেওয়া বন্ধ করেন তাহলে তার সমস্ত ক্লিপ সে ডিলিট করে দিবে।এই নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে মিমি বেশ জোড়ে সেই ছেলেকে ধাক্কা দেয় যার ফলে বেল্কুনি থেকে পড়ে গিয়ে একদম স্পোট ডেড। এই বিষয় ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যার্থ হয়েছে এন্ডি।” কথার মধ্যে একটু হাপিয়ে গেলো ফাইজা।পানি খেয়ে আবার শুরু করলো। “স্যার এবং ম্যাম এখন আপনাদের টার্গেট ৪ জন।এই ৪ জনের জন্যে এজেন্সিকে দেওয়া হবে ৮ কোটি টাকা।তার মধ্যে ৪ কোটি এজেন্সির আর ৪ কোটি আপনাদের দুইজনের।খুব হাই অফিসিয়াল একটা কন্ট্রাক্ট। সরকারের উচ্চপর্যায় এর কিছু লোক ডাইরেক্ট ক্লাইন্ট।তাই যদি এইটা পুল অফ করতে পারেন তাহলে অনেক বড়ো কিছু হাসিল করতে পারবেন।আর যদি ব্যার্থ হোন তাহলে জীবনের ঝুঁকি সব থেকে বেশি।” এই বলে ফাইজা এই কন্ট্রাক্ট রিলেটেড সব ইনফো,ওয়েপোন,আর স্পেশাল ডিভাইজ বুঝিয়ে দিয়ে কিবড়িয়ার বাসা লিভ নিলো। খাওয়া দাওয়া শেষে সিক্রেট বেসমেন্ট এ গিয়ে প্ল্যানিং করা শুরু করলো রেহানা এবং কিবড়িয়া। তারা প্ল্যান করলো প্রথমে লিয়ানাকে মারবে।কারন লিয়ানে পেইন্টিংস খুব পছন্দ করে।আর ১৫ তারিখে তার এক বন্ধু রাইলি একটা পেইন্টিংস এক্সিভিশন রেখেছে যেহেতু সেদিন তার জন্মদিন সে উপলক্ষ্যে সাথে মাস্কোট পার্টিও থাকছে।তাই এই বিশাল পার্টি এবং এক্সিভিশনে প্রবেশ সহজ হবে।আর লিয়ানাকে মারাটাও সহজ হবে।এখন লিয়ানার আগে যদি এন্ডিকে মারা হয় তাহকে এই পার্টি ক্যান্সেল হওয়ারো চান্স আছে।যেইকারনে তারা আগে লিয়ানাকে মারার সিদ্ধান্ত নিলো।প্ল্যান মোতাবিক রেহানা এবং কিবড়িয়া ছদ্মবেশে এক্সিভিশনে প্রবেশ করলো। লিয়ানার দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্য পিকাসোর একটা রেয়ার পেইন্টিং কিবড়িয়া রেহানার হাতে দিয়ে তার সাথে হালকা অভিনয় মূলোক ঝগড়া করার চেষ্টা করলো।তাদের ঝগড়া দেখে লিয়ানা হালকা এগিয়ে আসলো এবং কিবড়িয়ার হাতের পেইন্টিং টা দেখে মুগ্ধ হগে জিজ্ঞেস করলো ঝগড়া কি এই পেইন্টিং নিয়ে? হ্যাঁসুচক কথা বলে কিবড়িয়া বললো “আমার ওয়াইফ আর্ট এর ব্যাপারে বেশ সেকেলে।” এই কথা শুনে একটু উচ্চস্বরে এসে উঠলো লিয়ানা।সুযোগ বুঝে রেহানা একটা বিরক্তির অভিনয় কর সেইখান থেকে সরে পড়লো।এরপর বেশ কিছুক্ষন ফ্লার্টি কথা এবং অনেক কিছু বলার পরে লিয়ানা ওয়াশরুমে যাওয়ার এক্সকিউজ দিয়ে চলে গেলো আর কিবড়িয়া বুঝতে পারলো লিয়ানা তার ফাঁদে পা দিয়েছে। কিবড়িয়া লিয়ানাকে অনুসরণ করলো। এরপর দুইজন ওয়াশরুমে চলে গেলো।এদিকে লিয়ানার বেস্ট ফ্রেন্ড রাইলি যেনো লিয়ানাকে না খোঁজে সেইকারনে রেহানা রাইলিকে ড্রিংক অফার করে ওকুপাই রাখলো। ওয়াশরুমের দিকে যেতেই দেখলো লিয়ানা ওয়াশরুমের দরজা আটকিয়ে দাঁড়িয়ে আছে “So You did follow me huh?” বাঁকা একটা হাসি দিয়ে লিয়ানা জিজ্ঞেস করলো। “What can i say? You are such a bad influence that i can’t deny.” লিয়ানার খুব কাছে এসে ঠান্ডাভাবে কথাটা বললো কিবড়িয়া। ” I am a bad woman and i am always in bad mood.” বলেই কিবড়িয়াকে টেনে ওয়াশরুমের মধ্যে নিয়ে গেলো লিয়ানা।এর কিছুক্ষন পরে সুযোগ বুঝে লিয়ানার গলা চেপে ধরলো কিবড়িয়া।প্রথমে সাধারন চোকিং মনে করলেও পরবর্তীতে সে অনুভব করলো তার নি:শ্বাস ছোট হয়ে আসছে।সে ছাড়ানোর চেষ্টা করেও ব্যার্থ হলো।অনেক স্ট্রাগল করেও লাভ হলো না।চিৎকার করার আগেই তার মুখে এক গাদা টিস্যু পেপার ঢুকিয়ে গিয়ে বেসিনের পানি ছেড়ে দিয়ে তার মধ্যে লিয়ানার মাথা ডুবে ধরলো কিবড়িয়া। বেশ কিছুসময় স্ট্রাগল করার পরেও লাভ হলো না।লিয়ানা তার নি:শ্বাস ত্যাগ করলো। ওদিকে রাইলি মদের নেশায় মত্ব আর সাথে রেহানার মাদকিয় চেহারা তো আছেই। হ্যান্ড ওয়াচে সিগ্ন্যাল পাওয়া মাত্র রেহানা খুব সাবধানে পার্টি থেকে বের হয়ে গেলো।এই ভীড়ে রাইলি আর তাকে খুঁজে পেলো না।এরপর এদিক ওদিক তাকিয়ে কিবড়িয়াও পার্টি থেকে দ্রুত বের হয়ে আসলো।তাদের জন্যে দূরে ফাইজা গাড়ি নিয়ে অপেক্ষা করছিলো।তারা দ্রুত গাড়িতে চড়ে সেই জায়গা প্রস্থান করলো। ফাইজা হালকা করে তাদের দুইজনকে কংগ্রাচুলেশনস জানাইলো। লিয়ানার মৃত্যু অনেকে মনে করেছিলো খুন আবার অনেকে মনে করেছিলো অতিরিক্ত মদ পান করায় হয়তো নেশার ঘোরে বেসিনে পড়ে মাথায় আঘাত লেগে মৃত্যু হয়েছে তার।কারন মারার আগে জোড় করে এক বোতল স্প্যানিস কুইনো খাইয়েছিলো কিবড়িয়া।এরপর এন্ডিকে মারতে বেশি বেগ পেতে হয় নাই তাদের।এন্ডি লিয়ানা মারা যাওয়ার পরে অনেক ডিপ্রেশড হয়ে যায়।যার কারনে মিটিং এ তার কোনো মন ছিলো না।তার অফিস রুমের বাহিরে বেল্কোনিতে স্মোকিং এর জন্যে আসলে সেইখানেই তাকে স্নাইপার দিয়ে হেড শোট করে মারে কিবড়িয়া।একদম ক্লিন ডেড।পরপর ফ্যামিলির দুই সদস্যের মৃত্যুতেও মিমির কোনো চিন্তা নেই।তাকে অনেকবার কল দেওয়া হলেও সে ফোন পিক করে নাই।বাবা কিংবা মা কারো ফিউনরিয়ালেই সে আসে নাই।বাবা মা কে হারিয়ে ফ্যাংক অনেক একা হয়ে পড়ে।এখানে তার লোকাল গার্ডিয়েন কেউ নেই বললেই চলে।শুধু কেয়ারটেকার হিসাবে মোতালেব রহমান নামের এক লোক। এন্ডির মৃত্যুর পরে আইনগত প্রোটেকশন দেওয়া হলেও একদিন টেনিস খেলার জন্যে সে একাই কাউকে না বলেই চলে যায়।আর সেই সুযোগই নেয় কিবড়িয়া। নিজেও টেনিস প্র‍্যাক্টিসের নাম করে ফ্র‍্যাংক এর সাথে এক ম্যাচ খেলার কথা বলে কিবড়িয়া।এতো বড় এক লোকের সাথে প্রথমে খেলতে না চাইলেও পরে রাজী হয় ফ্র‍্যাংক।খেলার মধ্যে কিবড়িয়া নানা ভাবে ফ্র‍্যাংকের মা, বাবা এবং বোনের নামে টোন্ট করে তাকে ভরকে দেয়। এক সময় তেড়ে আসে ফ্র‍্যাংক আর ঠিক ওই সময় ফ্র‍্যাংকের গলা বরাবর এক চাকুর আঘাতে তাকে মাটিতে লুটিয়ে পড়তে বাধ্য করে কিবড়িয়া।কিছক্ষন পানি থেকে তোলা মাছের মতো লাফালাফি করতে করত ফ্র‍্যাংক ও তার শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করে। পরপর এইভাবে কোনো তথ্য,প্রমাণ না পাওয়া তিন পরিবার সদস্যের মৃত্যুতে পুলিশো বেশ দ্বিধার মধ্যে পড়ে যায়।তিনটা খুন এর মধ্যে শুধু এন্ডির খুনটাই সনাক্ত করা গিয়েছে খুন হিসাবে।তাছাড়া ফ্র‍্যাংকের হাতে ছুরির উপস্থিতিতে পুলিশ মনে করে হয়তো এইটা ছিলো আত্মহত্যা।কারন যাওয়ার আগে মোতালেবকে বলে গিয়েছিলো যে আজ তার শেষ টেনিস খেলা।কিন্তু এইটা যে সে কি উদ্দেশ্যে বলেছে তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তা জানেন। কিবড়িয়ার কাজ প্রায় শেষ।হাত্র টাকাও এসেছে।রেহানার সাথেও সম্পর্কটা আরো গভীর হয়েছে।আগের অনেক কিছুই তার হালকা করে মন এসেছে যে সে কিভাবে প্ল্যান প্রোগ্রাম অরিয়েন্টেড মানুষ ছিলো।এখন তার শেষ কাজ মিমিকে মারা।আমেরিকার মাটিতে পা রেখে চারদিক ভালো করে দেখলো সে।এর আগে কখনো আমেরিকা এসেছে বলে তার স্মরন নেই।যাই হোক,ফাইজা আর রেহানা এবং মিশটার মার্ক এর সাহাজে সে মিমির ঠিকানা বের করলো।এবং মিমিকে ড্রাগ ডিলারের পরিচয় দিয়ে তার ক্লোজ হওয়ার চেষ্টা করলো।এরপর মিমির সাথে তার সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হলে মিমি তাকে বাসায় ডাকে এক সাথে নেশা করবে এই বলে।এই সুযোগ নিয়েই কিবড়িয়া মিমিকে ড্রাগ ওভারডোজ করে আর এরপর মিমিকে ঠিক সেই জায়গা থেকেই ধাক্কা মেরে ফেলে দেয় যেই জায়গা থেকে এমপি ইসমাইলের ছেলে মারা গিয়েছিলো।কিবড়িয়ার কাজ একোম্পিসড হয়েছে।কাজগুলো সে যতটা কঠিন মনে করেছে ততটাও ছিলো না।এরপর ১ সপ্তাহ কেটে যায়।কিবড়িয়া আর রেহানা নিউ ইউর্কে আছে।এজন্সি থেকে নাকি তাদের একটা বিশাল ম্যানশন গিফট করা হয়েছে।কিবড়িয়া সেই ম্যানশনে গেলো রেহানাকে নিয়ে।রেহানা ব্যাগ কার থেকে বের করছিলো এতো বড় মেনশন দেখে কিবড়িয়া বেশ চমকে গিয়েছিলো।নিজের অজান্তেই সে ম্যানশনের ভেতর প্রবেশ করলো।সে ম্যানশন টা ঘুরে ঘুরে দেখছিলো।এর মাঝেই তার ফোনে কল আসে সেই মিস্টার মার্কের। ফোন ধরেই সে বলে ” হ্যালো স্যার” “আপনার ম্যানশনটি পছন্দ হয়েছে? আনোনিমাস ম্যাকানিকাল সেই ভয়েস। আনন্দের স্বরেই কিবড়িয়া বললো “জ্বী স্যার।” এরপর সে একটি দেয়ালের সামনে আটকে গেলো।তার চোখ বড় বড় হয়ে গেলো। “কি মিস্টার কিবড়িয়া? আপনি চুপ করে আছেন কেনো?” থতমত খেয়ে দেয়ালের দিকে এগিয়ে গেলো কিবড়িয়া। একি দেখছে সে? দেয়ালে অনেকগুলো ছবির ফ্রেম।কিন্তু সবগুলো ডি কোস্টা ফ্যামিলির।এই ম্যানশন কি তাহলে ডি কোস্টাদের ছিলো? “নিচে দেখুন” মার্কের কথা প্রথমে না বুঝলেও দেয়ালের নিচের অংশের ছবিগুলো দেখে কিবড়িয়া খানিক টা পিছিয়ে গেলো। বেশ কয়েকটা তার ছবি! আর এরপরেই ডি কোস্টা ফ্যামিলির ছবি যেখানে লিয়ানার পাশে দাঁড়িয়ে আছে কিবড়িয়া আর তার নামের নিচে লেখা এন্টোনি ডি কোস্টা!,তার পাশে দাঁড়িয়ে এন্ডি ডি কোস্টা। একি দেখছে সে? তার হাত পা কাঁপা শুরু করলো।কিছুই বুঝছে না সে। ফোনের অপার অট্য এক হাসি ” দু:খজনক মিস্টার কিবড়িয়া! সরি মিস্টার এন্টোনি ডি কোস্টা. নিজের পরিবারকে সামান্য টাকার জন্যে এইভাবে মেরে ফেললেন?” এন্টোনি উরফে কিবড়িয়া আমতা আমতা করত লাগ্লো।রাগে এবং ঘৃণায় তার গা ফুলছে। সে শুধু বললো “কে তুই? ” “আমি আর যেই হই না কেনো মিস্টার মার্ক না আর এতোদিন যে এজেন্সির আন্ডারে কাজ করেছেন সেই এজেন্সিরো বাস্তবিক কোনো স্থান নেই। মানে স সবই আমার গল্পের অংশ ছিলো।” এন্টোনি মাটিতে লুটিয়ে পড়লো আর শেষবারের মতো ফোনের অপাশের মানুষকে জিজ্ঞেস করলো “কেন?” অট্ট হাসি দিয়ে ম্যাকানিকাল সেই ভয়েস বললো “সে না হয় আমাকে কোনোদিন খুঁজে পেলেই জানতে পারবেন।আজ রাখি।” লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো। সাথে সাথে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো কিবড়িয়া উরফে এন্টোনির জীবনের সুখ।বাহিরে দৌঁড়ে এসে দেখলো না আছে রেহানা, না আছে কোনো গাড়ি।এন্টোনির মুখ দিয়ে একটাই কথা বের হইলো, “কেন?”

    গল্পের দ্বিতীয় অংশ দ্রত আসব।

    4
    3 Comments
    • দুর্ঘটনা আমাদের জীবনকে পালটে দেয়। সুন্দর গদ্যে এমন রকটা গল্পের জন্য অভিনন্দন।

    • চমৎকার লাগল। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

    • গল্পটি বেশ অন্যরকম লাগল। বেশ থ্রিলিং। আমিও অপেক্ষায় রইলাম।

Friends

Profile Photo
Rejwana Khan
@rejwana-khan
Profile Photo
ভাস্কর
@vaskarchou
Profile Photo
Prithula Zaman
@prithula
Profile Photo
AdabenTatali
@adabentatali
Profile Photo
Sharbanam Gupta
@sharbanam-gupta
Profile Photo
Umme Tabassum Taiyeba
@umme-tabassum-taiyeba
Profile Photo
Rehana Akter
@rehana-akter
Skip to toolbar