-
কাঠবিড়ালি কাঠ কাটে না
রানা জামানডাক্তার আশরাফ কলবেল টিপে ধীরে নাচাতে লাগলেন ডান পা।
দরজা সামান্য খুলে কেউ একজন জিজ্ঞেস করলো, হু আর ইউ?
ডাক্তার আশরাফ ধাক্কা দিয়ে দরজা খুলে কাউকে না দেখে ভ্রু কুচকালেন।
নিচ থেকে আগের কণ্ঠস্বরটা ফের বললো, হু আর ইউ মিস্টার?
এবার ডাক্তার আশরাফ নিচে তাকিয়ে একটা কাঠবিড়ালিকে কথা বলতে দেখে বিস্ময়ে হতবাক হয়ে গেলেন।
তখন ভেতর থেকে কাঁপা কণ্ঠে প্রফেসর মাসুদ বললেন, মিনি বিড়ালি?
কণ্ঠস্বর চিনতে পেরে ডাক্তার আশরাফ ফের কাঠবিড়ালিকে একবার দেখে ভেতরের দিকে এগিয়ে গেলেন। প্রফেসর মাসুদ শুয়ে আছেন বিছানায়। ডাক্তার আশরাফ বিছানার কাছে গিয়ে বললেন, তোর কি আমাকে মনে আছে? আমি আশরাফ। এখন পশুর ডাক্তার।
প্রফেসর মাসুদ বললেন, ও আমার জিগরি দোস্ত। ওকে আসতে দাও মিনি বিড়ালি।
ডাক্তার আশরাফ বললেন, কিরে পাগলা, তুই এখনো শুয়ে আছিস? ইট ইজ নাউ টেন এএম! তুই শরীরটা ধরে রেখেছিস সেই আগের কলেজের মতো! আর আমাকে দেখ! এক হাত ভুড়ি!
প্রফেসর স্মিত হেসে আধশোয়া হয়ে বললেন, বস্। আমার ঠিকানা জানলে কিভাবে?
ডাক্তার আশরাফ প্রফসর মাসুদের মুখোমুখি একটা চেয়ারে বসে বললেন, তোর হুলোটার বদৌলতে। তোর হুলেটাকে দেখছি না যে!
ওর নাম ফিট-ফর-অল।
যথার্থ নাম। সেদিন একটা সুপারশপে দেখা হয়েছে। ওখানেই তোর হদিস জানতে পারি। কোথায় হুলো বেড়াল সরি ফিট-ফর-অল?
ও ঘরজামাই হয়ে চলে গেছে।
বিয়ে করেছে হুলোটা!
তুই ঠিকই শুনেছিস। ও বিয়ে পাগলা হয়ে গিয়েছিলো।
এখন বানিয়েছিস কাঠবিড়ালি। কিভাবে বানালি এটাকে?
ক্লোনিং।
আর মানুষের কণ্ঠস্বর?
ভোকাল স্যাকে মিউটেশান।
বাহ! তারপরও তোকে নোবেল প্রাইজ দেয়া হচ্ছে না কেনো! ঘরে বৌ থাকলে এসব কিছুই করতে হতো না তোকে!
প্রফেসর মাসুদ মুচকি হাসলেন মাত্র। মিনি বিড়ালি লাফ দিয়ে বিছানায় উঠে প্রফেসরের মাথার পাশে বসলো। ডাক্তার আশরাফ ওর মাথায় হাত রাখলে এক ঝটকায় কাঠবিড়ালিটা অন্যদিকে সরে বসলো।
প্রফেসর মাসুদ বললেন, আমি ছাড়া অন্য কেউ ওর মাথায় হাত দিলে সহ্য করতে পারে না।
সরি!
মিনি বিড়ালি বললো, এতো বছর পর তোমাদের দেখা হলো। তোমাদের নিশ্চয়ই খুব ভালো লাগছে। আমার খারাপ লাগছে।
কেনো?
আমার কোনো বন্ধু নাই।
একটু থমকে গেলেন প্রফেসর মাসুদ। পরক্ষণে হাসিমুখে বললেন, কে বললো নেই? তুমি বাইরে গেলেই অনেক অনেক বন্ধু পাবে।
কয়েকবার বাইরে গেছি। সবাই আমাকে এলিয়েনের মতো দেখে।
বুঝেছি। তোমার জন্য সঙ্গী বানাতে হবে। ডোন্ট অরি। হয়ে যাবে।
মিনি বিড়ালি বললো, থ্যাঙ্কু প্রফেসর। তোমরা কী খাবে বলো।
হু। অনেক দিন পর পুরনো বন্ধুর সাথে সাক্ষাৎ। ফিরনি পাকাও! আমার বন্ধুর ফিরনি খুব পছন্দ। তাই না পশু ডাক্তার?
ডাক্তার আশরাফ মুচকি হেসে ইতিবাচক মাথা নাড়লেন।
মিনি বিড়ালি এক লাফে নিচে নেমে চলে এলো রান্নাঘরের দিকে।
ডাক্তার আশরাফ দাঁড়ালে প্রফেসর জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় যাচ্ছো বন্ধু?
ডাক্তার আশরাফ বললেন, রান্নাঘরে! কাঠবিড়ালির রান্না দেখতে।
রান্নাঘরে সবকিছু রোবোটাইজড তথা যন্ত্রচালিত। বোতাম টিপে কাজ করে যাচ্ছে মিনি বিড়ালি। এক বোতাম টিপতেই একটা মাঝারি আকৃতির পাতিল পাটাতনে নেমে চলে গেলো একটা নলের নিচে। নলের উপরের বোতাম টেপায় আড়াই শ কেজি চাল পড়লো পাতিলে। একটি বোতাম টেপায় পাতিল চলে গেলো একটি গ্রাংন্ডিং মেশিনের নিচে এবং নেমে এলো গ্রাইন্ডিং মেশিন। প্রতিটি চাল চার টুকরা হলে বন্ধ হয়ে গেলো মেশিন। এরপর পাতিল সিঙ্কে ধৌত হয়ে চলে গেলো দুধের নলের নিচে। দুধ নিয়ে পাতিল উনুনে যেতেই জ্বলে উঠলো আগুন।
ডাক্তার আশরাফ ফিরে এসে চেয়ারে বসে হাততালি দিতে লাগলেন।
প্রফেসর মাসুদ বললেন, হাততালি দিচ্ছিস যে?
ডাক্তার আশরাফ বললেন, স্প্লেনডিড এরেঞ্জমেন্ট!
রান্না কদ্দূর?
ওভেনে বসে গেছে।
তাহলে পাঁচ মিনিট পর ফিরনি খেতে পারবি।
দুই বন্ধুর সাথে মিনি বিড়ালিও খেতে চেষ্টা করলো ফিরনি। কয়েক চামচ খেয়ে বললো, এখন থেকে আমি ফিরনিই খাবো!
ডাক্তার আশরাফ মিনি বিড়ালির মাথা চাপড়ে দিতে গিয়ে থেমে পিঠ চাপড়ে দিয়ে চলে গেলেন।
প্রফেসর মাসুদ মিনি বিড়ালিকে কোলে নিয়ে বললেন, গুড জব মিনি! আমি এখন তোমার কম্পেনিয়ন বানাতে যাচ্ছি।
মিনি বিড়ালি বললো, থ্যাঙ্ক ইউ প্রফেসর!
এতে তোমার টিসু লাগবে। আমার সাথে ল্যাবে আসো।
এক সপ্তাহে মিনি বিড়ালি পেয়ে গেলো সাথি। ওকে বুঝতে পারে, ওকে সঙ্গ দেয়, ওর সাথে চলাফেরা করে এবং ওর মতো প্রফেসর মাসুদকে অত্যন্ত পছন্দ করে।
ভালোই কাটতে দিনকাল দুই কাঠবিড়ালিকে নিয়ে প্রফেসর মাসুদের। সপ্তাহের শেষ দিন অর্থাৎ শুক্রবার বিকেলে দুই কাঠবিড়ালি বেড়াতে বেরিয়ে আর ফিরে আসে নি। একে ওকে ফোন করে খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া গেলো না দুই কাঠবিড়ালিকে। শেষে পুলিশের পরামর্শে দৈনিক পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তি দিলো। পরদিন সকাল দশটায় দরজার টোকার শব্দে দরজা খুলে চোখ ছানাবড়া প্রফেসর মাসুদের।
বাড়ির সামনে রাস্তা বন্ধ করে বসে আছে শত শত মানুষ জোড়া কাঠবিড়ালি নিয়ে। দরজা ভেজিয়ে দ্রুত ভেতরে এলেন প্রফেসর। পত্রিকাটা খুঁজে বের করে বিজ্ঞপ্তিটি পড়লেন-
ভুল মনে করে এবারও পত্রিকার সম্পাদক ‘কাঠবিড়ালি দুটো মানুষের মতো কথা বলতে পারে।’ লাইনটি বাদ দিয়ে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশ করেছে।5 Comments
Friends
Moniruzzaman Sarjil
@zaman2802
Jannatul Ferdous Ivy
@jannatul-f-ivy
Shadman-Shiam
@shadman-shiam
Md.Khaladur Rahman (অনল)
@wanol
অরিন্দম সাইফুল্লাহ
@arindam-saifullah
Shah Muhammad Alam
@smalam112
UTTAM KUMAR BISWAS
@uttamk
Md Suruzzaman Shohel
@suruzzaman
Sanwar Hossain
@sanwar



অন্যরকম! ভালো লাগল বেশ।