Profile Photo

আবির হাসান সায়েমOffline

  • Abir-Hassan-Sayem
  • #ধারাবাহিক
    একমুঠো জোনাকি (পর্ব-০৯)
    ~আবির হাসান সায়েম

    ফরিদ হাঁপাতে হাঁপাতে ঘরে ঢুকল। তার চুল ভেজা। ঘাম ঝরে পরছে মাথা থেকে। সে এসে সোফায় বসল।
    “এই তোর মাথা ভিজা কেনো? ঘামে তো একদম চুপসে গেছিস। যা হাত -মুখ ধুঁয়ে আয়। কাপড় পাল্টে নে। ঠান্ডা লেগে যাবে তো। ”
    ফরিদ বাধ্য ছেলের মতো উঠে গেলো। হালকা ক্ষুধা অনুভূত হচ্ছে। আমি ঘড়িতে দেখলাম 9 p.m। থাক ক্ষুধাটা একটু জমুক। দশটার সময় খাবার দিতে বললেই হবে। নীচে একটা ক্যান্টিন আছে কিন্তু রোগীর খাবার হাসপাতাল থেকেই দেয়া হয়৷ বলার দশ মিনিটের মধ্যেই একটা লোক বড় ট্রেতে করে খাবার নিয়ে আসে। লোকটা মাথায় একটা জালি পড়ে থাকে আর গায়ে থাকে ফরমাল শার্ট। সবকিছুতেই রাজকীয় একটা ছাঁপ। শুধু খাবারটাতেই ছাঁপটা নেই।
    ফরিদ এসে নিজ জায়গায় বসল।
    “ফরিদ তোর ক্ষিধে পেয়েছে? ”
    “হ অল্প অল্প পাইসে। ”
    “অল্প পেলে থাক। একটু পরেই খাওয়া যাবে। ক্ষুধাটা বাড়লে খেতে ভাল্লাগবে। ”
    “আইচ্ছা। ”
    “ফরিদ খাবার তো শুধু আমার জন্য দিবে। তুই একটু বলে আয় যাতে একটা খাবার বেশি দেয়া হয়। ”
    “শিলা আপা বইল্লা দিয়া গেসে। আবার কইতে হইব?”
    ” না আর বলতে হবে না। আচ্ছা এইবার বল তোকে যা যা গুনতে বলেছিলাম গুনেছিস?”
    ” হ গুনসি। আমরা অহন নয় তালায় আছি। প্রত্যেক সিঁড়িতে সাতডা কইরা খাঁপ আছে। ”
    “এই হাসপাতাল কয়তলা গুনিস নি?”
    “জ্বে না ভাই। বাইরে বৃষ্টি হইতাসিলো। উপরে তাকায়া গুনতে পারি নাই। চউক্ষে পানি ঢুইক্কা যায়। ”
    ” বৃষ্টি কি বেশি হচ্ছে না কম?”
    ” একদম হালকা হইতাসে। ”
    ” ফরিদ তুই কি একটা গান শুনেছিস কখনো? ‘আজ এই ঝর ঝর মুখর বাদল দিনে ‘। ”
    “হ আপার ঘরে কেসেটপ্লেয়ারে প্রায়ই এই গান বাঁজে। ”
    “হ্যাঁ শিলার খুব প্রিয় গান এইটা। ”
    “ভাই খিদা লাগসে। ”
    ” শুধু শুধু কাওকে এই সামান্য কাজের জন্য ডাকব? তুই একটু বলে আয়। ”
    ফরিদ উঠে গেলো।
    আজকের খাবারটা খুব ভালো লেগেছে। ভাত, রুই মাছ দিয়ে আলু-পটল তরকারি, সবজি আর ডাল। ফরিদের এখনো খাওয়া শেষ হয় নি। প্রথমে সে কাঁটা চামচ দিয়ে খাওয়ার ব্যার্থ চেষ্টা করেছিলো, শেষে চামচ বাদ দিয়ে হাত দিয়েই খাওয়া শুরু করেছে।
    আমি শুয়ে আছি পেটে হালকা ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে। বাথরুমে গিয়েছে দুইবার তাও ব্যাথা কমছে না। নার্স ইঞ্জেকশন নিয়ে ঘরে ঢুকলেন। এই শিফটে একজন বিশাল বক্ষা নার্স ডিউটি করছেন।
    আমি চোখ বন্ধ করে আছি, নার্স ঔষধ মিলাচ্ছেন। হঠাৎ একটা শব্দ হলো। আমি চোখ মেললাম। নার্স আমার দিকে তাকিয়ে আছে। তার চোখে রাজ্যের ভয়। আমার কিছু বুঝে উঠার আগেই ফরিদ গলা উচিয়ে বলল,
    “এইডা আপনে কি করলেন? ”
    আমি মেঝেতে তাকিয়ে দেখি, আমার ফোনে পরে আছে। টুকরো টুকরো হয়ে গেছে৷ নার্স ভয়ার্ত কন্ঠে বলল,
    “আমি আসলে ইচ্ছে করে করিনি। ঔষধটা রাখতে গিয়ে পরে গেছে। আমি আসলে….. ”
    আমি বললাম,
    ” না না আপু। আমি বুঝতে পেরেছি। ভুল মানুষদের দিয়েই হয়।
    সমস্যা নেই। ”
    “বিশ্বাস করুন আমি আসলে… ”
    ” বললাম তো আপু সমস্যা নেই। আপনি ইঞ্জেকশনটা দিন। আমার ব্যাথা ক্রমশ বাড়ছে। ”
    নার্স ইঞ্জেকশনটা দিয়ে, সংকিত মুখে চলে গেলো।
    ফরিদ বলল,
    “আপনে কিছু কইলে না কেন?”
    ” কিছু বলে কি হবে জিনিস ফিরে আসবে? ”
    “না ফিরলেও কিছু কইবেন না আপনে? ”
    আমি হেঁসে বললাম,
    “আমার খুব ঘুম পাচ্ছে ফরিদ। আমি ঘুমালাম। তুইও ঘুমা। ”
    আমি চোখ বন্ধ করলাম। ঘুমে তলিয়ে যাচ্ছি। ব্রেন এখনো সচল আছে। আচ্ছা মানুষের মৃত্যুর পর ব্রেন কতক্ষন সচল থাকে? জানা নেই আমার। জানাটা খুব দরকার।

    চলবে.…

    6
    3 Comments
Skip to toolbar