-
কালো সাহাবীর বিয়ে
আল্লাহর নবীর এক কালো সাহাবীর নাম তার সাআদ আস সালামী রাযিঃ সে বিয়ে করার জন্য মদিনার অলিগলিতে ঘোরাঘুরি করছিল। কোন একজন মেয়েকে বিবাহ করার জন্য কোন মেয়েই বিবাহ করতে রাজি না।কারন সে কালো কুৎচ্ছিত দেখতে। সে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম এর দরবারে গেলেন, আর বিশ্ব নবী কে আরজ করে বললেন,ইয়া রাসুলাল্লাহ আজ আট মাস ধরে মদিনার অলিতে গলিতে ঘুরছি একজন মেয়েকে বিবাহ করার জন্য। কেউ আমাকে বিয়ে করতে রাজি নয়, আমি কালো কুৎচ্ছিত বলে।আল্লাহর নবী বললেন, হে সাআদ শোন তোমাকে মদিনা সবচেয়ে সুন্দরী রমনী বিবাহ করবে। যাকে মদিনার লোকেরা হুরে মদীনা বলে ডাকে। তুমি চলে যাও, আমার এক সাহাবী আমর ইবনে ওহাবাল কারসি রাযিঃ এর একটা সুন্দরী মেয়ে আছে। তাকে গিয়ে বলবে, আমি বলেছি তার মেয়ের সাথে তোমার বিবাহ দিতে। এ কথা শুনে সাআদ আস সালামী আনন্দে আত্মহারা হয়ে দৌড়ে চলে গেলেন আমর ইবনে ওয়াহাবাল কারসীর বাড়িতে। বাড়িতে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়লেন ভেতর থেকে দরজা খুলে দেওয়া হলো।সাআদ আস সালামী সালাম দিয়ে বললেন ,আমাকে বিশ্ব নবী পাঠিয়েছেন; আপনার একজন সুন্দরী মেয়ে আছে তার সাথে আমার বিয়ে দেয়ার জন্য। আমর ইবনে ওহাবাল কারসী বললেন, কি বলো ! তুমি কি তোমার চেহারা দেখেছো। তোমার সাথে আমার মেয়ের বিবাহ দিবোনা। সাআদ আস সালামী কাঁদতে কাঁদতে বিশ্ব নবীর দরবারে চলে গেলেন। বিশ্ব নবী সাআদ আস সালামীকে কাঁদতে দেখে, নবীর আর বুঝতে বাকি নেই যে। আমার ইবনে ওয়াহাবাল কারসী তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে। বিশ্ব নবী সাআদ আস সালামীকে বসতে বললেন।বিশ্ব নবী ওয়াজ করতে শুরু করলেন। সাআদ আস সালামী এক কোণে বসে অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। আমর ইবনে ওহাবাল কারসীর মেয়ে ঘর থেকে বের হয়ে এসে বাবাকে জিজ্ঞাসা করলেন,ও বাবা ঐ সাহাবী কি বলেছে । আমর ইবনে ওহাবাল কারসী তার মেয়েকে বললেন, তাকে বিশ্ব নবী পাঠিয়েছে তোমার সাথে তার বিয়ে দেওয়ার জন্য। মেয়ে বলল বাবা তুমি তাকে কি বলেছো, আমর ইবনে ওহাবাল কারসী বলল, আমি বিয়ে দিব না বলেছি। মেয়ে বলল বাবা তোমার কোন অধিকার নেই যে তুমি তাকে ফিরিয়ে দেবে।যেখানে বিশ্ব নবী আর আল্লাহতালা রাজি ,সেখানে তোমার বাধা দেওয়ার কোনো অধিকার নেই। আমর ইবনে ওহাবাল কারসী বলল,মা তুমি যদি তাকে দেখতে তাহলে কথা বলতে না। মেয়ে বলল না বাবা আমি তাকে দেখেছি দরজার আড়াল থেকে। তাও কি তুমি তাকে বিয়ে করবে। মেয়ে বলল বাবা শোনা যেখানে আল্লাহু ও আল্লাহ রাসুল রাজি সেখানে আমিও রাজি।আমর ইবনে ওহাবাল কারসী বিশ্ব নবীর দরবারে চলে গেলেন। বিশ্ব নবী আমর ইবনে ওহাবাল কারসী কে দেখে বললেন, হে আমর তুমি আমার পাঠানো প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলে। আমর ইবনে ওহাবাল কারসী বলল, ইয়া রাসূলাল্লাহ,আমাকে আপনি মাফ করে দিন।বিশ্ব নবী সাআদ আস সালামীকে কাছে ডাকলেন, ডেকে সাআদ আস সালামীর চোখের পানি মুছে দিয়ে বললেন,হে সাআদ ছয়শত দেরহাম নিয়ে এসো বিবাহর মোহারানা হিসেবে।সাআদ আস সালামী বলল, ইয়া রাসূলল্লাহ,আমার কাছে এক দিরহাম নেই মাত্র পরনে একটি গেঞ্জি আরেকটি লুঙ্গি আছে। বিশ্ব নবী সাআদ আস সালামীকে বললেন,তুমি আমার এক ধনী সাহাবী আব্দুর রহমান ইবনে আউফ এর কাছে গিয়ে বলো আমি দু’শত দেরহাম দিতে বলেছি।সাআদ আস সালামী চলে গেলেন আব্দুর রহমান ইবনে আউফ এর বাড়িতে। আব্দুর রহমানের ইবনে আউফকে বললেন, আল্লাহর নবী বলেছেন দু’শত দেরহাম দিতে।আব্দুর রহমান ইবনে আউফ দু’শত দেরহাম দিলেন আরো কিছু বাড়িয়ে দিলেন।দেরহাম এনে বিশ্ব নবীর হাতে দিলেন।বিশ্ব নবী বললেন,সাআদ তুমি আমার আরেক গরিব সাহাবী আলীর কাছে গিয়ে বলো আমি দুইশত দেরহাম চেয়েছি।সাআদ হযরত আলী রাযিঃ এর বাড়িতে চলে গেলেন। হযরত আলী রাযিঃ কে বলল আল্লাহর নবীর দুইশত দেরহাম দিতে বলেছেন। আলী রাযিঃ দু’শত দেরহাম দিয়ে দিলো সাথে আরো কিছু বাড়িয়ে দিলো। দেরহাম এনে বিশ্ব নবীর হাতে দিলেন, বিশ্ব নবী আবার বললেন, আমার আরেক ধনী জামাতা উসমান কে গিয়ে বলো, আমি দুইশত দেরহাম দিতে বলেছি।সাআদ রাযিঃ হযরত উসমান রাযিঃ এর বাড়িতে চলে গেলেন। হযরত উসমান রাযিঃ কে বলল, বিশ্ব নবী আপনাকে দু’শত দেরহাম দিতে বলেছেন। উসমান রাযিঃ সাআদ রাযিঃ কে দু’শত দেরহাম দিয়ে দিলো আরো কিছু বাড়িয়ে দিলো। দেরহাম গুলো নিয়ে বিশ্ব নবীর হাতে দিলো। বিশ্ব নবী বললেন, সাআদ এই দেরহাম গুলো নাও এগুলো দিয়ে তোমার বিবির জন্য গহনা-চুরি-শাড়ি কিনে নিয়ে আসো। যে জিনিস পড়লে তোমার বিবিকে সুন্দর লাগবে। যে সব জিনিস কিনে পড়লে তোমার বেবিকে সুন্দর লাগবে, সে সব জিনিস কিনে নিয়ে আসো।সাআদ আস সালামী আনন্দে আত্মহারা হয়ে বাজারে চলে গেলেন বিয়ের জন্য কেনা-কাটার জন্য।দোকানে গিয়ে দোকানদারকে বলল ভাই আমাকে সুন্দর সুন্দর গহনা আর শাড়ি চুড়ি দাও। দোকানদার এক এক করে সব জিনিস দেওয়ার পর,সাআদ আস সালামী দোকানদারকে জিনিসের মূল্য পরিশোধ করে ফিরছিলেন। এমন ডাক এলো সাআদ আস সালামী জিহাদের ডাক এসেছে। বিশ্ব নবীর জিহাদের ময়দানে চলে গেছেন।একথা শুনে সাআদ রাযিঃ ভাবতে লাগলেন, আজ রাতে আমার বাসর। আমি যদি আজ সুন্দরী বিবি সাথে বাসর করি আর যদি জিহাদের ময়দানে আল্লাহর নবী শহীদ হয়ে যায়।কেয়ামতের দিন আল্লাহ যদি জিজ্ঞেস করেন, হে সাআদ তুমি সুন্দরীর সাথে বাসর করতে পাগল হয়ে গেলে, আর আমার হাবিব জিহাদের ময়দানে শহীদ হয়ে গেল। তখন আমি জবাব দিব। একথা ভেবে দোকানে গিয়ে দোকানদারকে বললাম,ভাই আমার জিনিস গুলো রেখে আমাকে টাকাগুলো ফেরত দিয়ে দিন। টাকা ফেরত নিয়ে তলোয়ারের দোকানে গেলেন,গিয়ে যাবতীয় জিহাদের সরঞ্জাম কিনলেন কিনে জিহাদের ময়দানে চলে গেলেন। আর জিহাদের ময়দানে কাফেরদের কষার আঘাতে মাটিতে পড়ে গেলে।হযরত আলী রাযিঃ দেখতে পেলেন এক কালো হাত দেখা যায়।হযরত আলী রাযিঃ বিশ্ব নবীকে ডেকে বললেন, “ইয়া রাসুলআল্লাহ” ওই দেখা যায় ওটা মনে হয় সাআদ আস সালামীর হাত। বিশ্ব নবী বললেন, তা কি করা হয়। আমি তো সাআদ কে বিবাহ করতে পাঠিয়েছি। তাকে তো জিহাদের ময়দান আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি। হযরত আলী রাযিঃ দৌড়ে গিয়ে দেখলেন,ব্যক্তি সত্যি সাআদ রাযিঃ।দেখে আলী রাযিঃ কান্না করতে শুরু করলেন। হযরত আলী রাযিঃ দৌড়ে আবার বিশ্ব নবীর কাছে এলেন,এসে বিশ্ব নবীকে বললেন, ইয়া রাসুল আল্লাহ ব্যক্তিটি সাআদ আস সালামী। বিশ্ব নবী বললেন, হে আলী, সাআদ আস সালামীকে আমার কাছে নিয়ে আসো। হযরত আলী রাযিঃ সাআদ রাযিঃকে আল্লাহর নবী কাছে নিয়ে আসলেন।বিশ্ব নবী সাআদ রাযিঃ কে রানের উপর নিয়ে সাআদ রাযিঃ এর মুখের বালি মুছতেছে আর বিশ্ব নবীর চোখ থেকে মুক্তা দানার মত অশ্রু ঝরে পড়তে লাগলো।বিশ্ব নবী সাআদ রাযিঃ কে জিজ্ঞেস করলেন, হে সাআদ তোমাকে আমি বিবাহ করতে পাঠিয়েছি। তুমি বিবাহ না করে জিহাদের ময়দানে কি?আমি তো তোমাকে জিহাদের ময়দানে আসার অনুমতি দেয়নি।তাও কেন তুমি জিহাদের ময়দানে এলে। সাআদ রাযিঃ বললেন, “ইয়া রাসুল আল্লাহ” আমি যদি সুন্দরী বিবির সাথে বাসর করি আর এদিকে যদি আমার প্রানের নবী জিহাদের ময়দানে শহীদ হয়ে যায়। আমি আল্লাহকে কি জবাব দিব। আর আমার সুন্দরী বিবি বিবি চাইনা। আমি যদি আল্লাহ আল্লাহর নবীর রাস্তায় শহীদ হয়ে যায়, তাহলে আল্লাহ তায়ালা আমার জন্য হাজার হাজার হুর পরীকে অপেক্ষা করিয়ে রাখবেন।এ বলে সাআদ আস সালামী রাযিঃ বিশ্ব নবীর রানের উপর ইন্তেকাল করেন।সাআদ রাযিঃ আল্লাহর রাস্তায় শহীদ হয়ে গেল। বিশ্ব নবীর চোখ থেকে ঝর ঝর করে পানি পড়তে শুরু করল। মুহূর্তের মধ্যে আবার বিশ্ব নবী হেসে উঠলেন, চোখের পানি শুকাতে না শুকাতেই নবীর মুখে হাসি দেখে অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন! বিশ্ব নবী সাহাবায়ে কেরামের দিক থেকে নিজের মুখে অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিলেন,এ দেখে সাহাবায়ে কেরামরা আরো আশ্চর্যিত হলেন !! আল্লাহর নবীর এক সাহাবী আবু লুবাবা বিশ্ব নবীকে আরজ করে বললেন, “ইয়া রাসুল আল্লাহ” আপনার কাছে তিনটা প্রশ্ন ! বিশ্ব নবী বললেন, কি প্রশ্ন আবু লুবাবা। আবু লুবাবা রাযিঃ বললেন,”ইয়া রাসুল আল্লাহ” জীবনে এমন ঘটনা দেখিনি কখনো। আপনি সাআদ আস সালামীর মৃত্যুতে কেঁদে দিলেন, আবার মুহূর্তের মধ্যে হেসে উঠলেন। মানুষ স্বাভাবিক ভাবে কাঁদার পর হাসতে কিছু সময় লাগে। আপনিতো মুহূর্তের মধ্যে হেসে দিলেন। আর আমরা আপনার সামনে বসে আছি আর আপনি আমাদের দিক থেকে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন। এমন তো কখনো হয়নি।বিশ্ব নবী বললেন, হে আবু লুবাবা; শোনা সাআদ আস সালামীর মৃত্যু আমি নবী সইতে পারিনি।তাই আমি নবী কেঁদে দিয়েছি।আর হেসেছি তার কারণ হলো, আমি দেখতেছি,সাআদ আস সালামীকে আল্লাহ তাআলা জান্নাতী দু’ ডানা দিয়েছে তা দিয়ে সাআদ উড়ে বেড়াছে।তাই আমি নবী হেসে দিলাম।আর মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নেওয়ার কারণ হলো, আমি নবী যা দেখতে পাই তোমরা তা দেখতে পাও না। আমি দেখতেছি, আল্লাহ তায়ালা ফেরেশতাদের আদেশ করলেন, হে আমার ফেরেশতারা তোমরা সাত আসমানে দরজা খুলে দাও। আর জান্নাতী হুরদের আদেশ করলেন,হে জান্নাতী হুরেরা তোমরা জমিনে গিয়ে আমার সাআদ কে বিবাহ করো। কার আগে কে আমার সাআদকে বিবাহ করতে পারো দেখো। আমার সাআদ দুনিয়ার সুন্দরীকে বিবাহ করে বাসর করতে পারেনি। আমি নবী দেখতেছি, হুরেরা এমন ভাবে আসছে যে তাদের কারো বুকের কাপড় বুক থেকে সরে যাচ্ছে। আর কারো কাপড় রানের উপর উঠে যাচ্ছে। আর কারো কাপড় খুলে গেছে, তাদের কারো কোন হুশ নেই। আমি নবী তা দেখে লজ্জা পেয়ে মুখ অন্যদিকে ঘুরিয়ে নিয়েছে। আমি দেখছি, হুরেরা আমার রান থেকে সাআদকে নিয়ে যাচ্ছে। কার আগে কে সাআদকে বিবাহ করতে পারে, আমি নবী তো তা দেখতে পারিনা। হে আবু লুবাবা, আমার সাআদ দুনিয়ার সুন্দরীকে বিবাহ করে বাসর করতে পারেনি। তাই আমার আল্লাহ সাআদ আস সালামী কে জান্নাতী হুরদের সাথে বিয়ে দিয়েছেন।2 Comments
Friends
জুবায়ের বি এ এইচ অন্তর
@zubair
Hridoy
@solayman-uddin-hridoy
Israt Lamia
@israt-lamia
sanjida akter jim
@sanjidajim
Farhana Afrose
@farhana-afrose
ফারজানা আক্তার জেমী
@jemi2021
পরিমল রায়
@parimal-roy
Shahria
@shahriar
Lovely Live
@lovely-live


খুব সুন্দর! শুভেচ্ছা নেবেন।