Profile Photo

আবির হাসান সায়েমOffline

  • Abir-Hassan-Sayem
  • #ধারাবাহিক
    একমুঠো জোনাকি (পর্ব-১৩)
    ~ আবির হাসান সায়েম

    মনে হচ্ছে ভূমিকম্প হচ্ছে। সব কাঁপছে। আমি চোখ মেললাম৷ না সব কাপছে না শুধু আমি কাঁপছি। আইনুল্লাহ আমাকে বারবার কাপাচ্ছেন আর বলছেন,
    “ভাই উঠেন ভাই উঠেন। ”
    আমি চোখ মেলে বললাম,
    “কি হয়েছে? ”
    “ভাই এমডি স্যার আইসেন। আপনের এক আত্মীয় বিচার দিসে। হেয় নাকি আপনের ফোন ভাইঙ্গা ফালাইসে। হাফসা আপার উপরে স্যার অনেক রাগ হইসেন , হের চাকরি মনে হয় আজ চইল্লা যাইবো।”
    “আমার আত্মীয়?”
    “হ, দুইজন আপা আইসেন। ”
    “আমাকে একটু ধরেন। ওইখানে নিয়ে চলেন। ”
    আইনুল্লাহ আমাকে ধরে নামানোর সময় দেখলাম টেবিলের উপর একটা টিফিনক্যারী রাখা।
    কেবিনের ঠিক বাইরেই একজন মোটা বেটে কোর্ট -টাই পরা লোক চিল্লাছেন। দেখেই বুঝা যায়, সেই এমডি৷ তার মাথা রগ দাড়িয়ে গেছে। হাফসা মাথা নীচু করে কাদছে৷ পাশে দাড়িয়ে আছে শিলা, ফরিদ এবং আরেকটা মেয়ে। মেয়েটাকে আমি চিনি না, আগে কখনো দেখিনি। মেয়েটার গায়ের রঙটা একটু ময়লা কিন্তু খুব সুন্দর টানা টানা চোখ। প্রথম দর্শনেই চোখ দুটো নজর কাড়ে।
    আমি সামনে গিয়ে এমডি স্যারের দিকে তাকিয়ে বললাম,
    “আসসালামুয়ালাইকুম স্যার। কি হয়েছে? ”
    ” ওয়ালাইকুম আইস সালাম। তেমন কিছু হয় নি। এই নার্স কি আপনার ফোন ফেলে ভেঙে দিয়েছেন?”
    “হ্যা তিনি ভেঙেছেন কিন্ত এতে পুরো দোষ তার না। ইঞ্জেকশন দেয়ার সময় আমি হঠাৎ নড়ে উঠি। যার জন্যে তার হাতে লেগে ফোনটা পরে ভেঙে যায়। ”
    ” তাহলে এইখানে আপনার দোষ আছে?”
    “জ্বি স্যার। ”
    “কিন্তু তারা তো বললেন……
    ” কোনো একটা মিস আন্ডার্স্টেন্ডিং হয়েছে স্যার। আপনাকে কষ্টের দেয়ার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি। ”
    এমডি সাহেব শিলার দিকে রাগী চোখে তাকিয়ে বললেন,
    ” ফারদার না জেনে শুধুই মানুষকে হেনস্থা করবেন না৷ ”
    তারপর হাফসার দিকে তাকিয়ে বললেন,
    “তুমি এক ঘন্টা পর আমার কেবিনে এসো। ”
    “জ্বি আচ্ছা স্যার। ”
    এই কথা বলেই এমডি সাহেব হনহন করে চলে গেলেন। আমি সবাইকে আমার কেবিনে আসতে বললাম। হাফসা বাদে সবাই এলো। দেখলাম ঘড়িতে -১১ঃ২২ am.।
    আমি বেডে উঠে বসে বললাম,
    “আমি যাকে প্রশ্ন করব শুধু সেই উত্তর দিবে, বাকিরা বোবা সেজে থাকবেন। ”
    ফরিদকে জিজ্ঞেস করলাম,
    “কি হয়েছে ফরিদ বল তো।”
    ফরিদ মাথা নীচু করে বলতে শুরু করল,
    “আপা আমারে জিজ্ঞাসা করসেন, আপনের ফোনের কি হইসে, আপনের ফোন বন্ধ কেন। এরপর আমি ঘটনাডা কইসি। আমি ভাই মানা করসিলাম কিন্তু আপা হুনা নাই। ”
    শিলা চিল্লিয়ে বলে উঠল,
    ” এই তুই কে আমাকে মানা করার? এখনো হাত-পা পেটের মধ্যে, সে আসছে আমাকে মানা করতে। ”
    আমি ফরিদের দিকে তাকিয়ে বললাম,
    “ফরিদ, তুই একটু বাইরে হাটাহাটি কর। নার্স আপাকে একটু আসতে বল। এখনি আসতে বল। ”
    ফরিদ বাইরে চলে গেলো। আমি শিলার দিকে তাকিয়ে শান্ত গলায় বললাম,
    “তোর কি মনে হয় তুই যা করেছিস তা ঠিক করেছিস? ”
    “হ্যা যা করেছি ঠিক করেছি। ”
    “না তুই ঠিক করিসনি। রাগ কমা। রাগে মানুষের মাথা কাজ করে না। ”
    “আমার মাথা ঠিকই কাজ করছে৷ এতো দেবতা সাজার লাগবে না। ভুল করেছে শাস্তি পাবে না? ”
    ” আমার জিনিস ভেঙেছে। ক্ষতি হলে আমার হয়েছে। শাস্তি দরকার হলে আই দিবো। তুই কে? ”
    “আমি কেও না? ” শিলার চোখ ছলছল করছে।
    “না তুই কেও না। তুই নার্স আপাকে সরি বলবি। ”
    “আমি ওই নার্সকে সরি বলব?হেহ”
    আমি চিৎকার দিয়ে বললাম,
    “হ্যা বলবি।আর তারপর আমার চোখের সামনে থেকে দূর হয়ে যাবি।”
    শিলা রক্তবর্ণ চোখে আমার দকে তাকিয়ে আছে।চিৎকারে, শিলার পাশে যে কালো কালো মতো মেয়েটা ছিলো সে খানিকটা আতকে উঠল। হাফসা কেবিনে ঢুকে আমার বেডের সামনে দাড়ালেন। শিলা কিছু না বলেই উঠে কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলো। কালো মতো মেয়েটা বুঝছে না কি করবে। আমি তার দিকে তাকিয়ে বললাম,
    “ওর সাথে বাসায় যাও। ওর মাথা গরম হয়ে আছে। ”
    মেয়েটা উঠে গেলো। আমি নার্সের দিকে তাকিয়ে বললাম,
    “আপু আপনার রান্নার হাত কিন্তু অসাধারণ। আমি ফরিদ আর ডাক্তার সাহেব তিনজনই পায়েস খেয়ে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছি। ”
    “ওতোটুকু পায়েস তিনজনে খেয়েছেন?”
    আমি হেসে বললাম,
    ” কম খেয়েছি বলেই স্বাদ আরো বেড়ে গেছে৷”
    “ভাই আমি আপনের জন্য কালকে রান্না করে আনব। আমার খুব ইচ্ছা আপনেরে খাওয়াবো৷ আপনেরে খাওয়াইলেও একটা শান্তি আছে৷ আপনে খুব ভালো মানুষ। ”
    “ভালো তো আমরা সবাই। মাঝে মাঝে খারাপ হওয়ার অভিনয় করি। ”
    দুপুরে আমার আর নুরুলের দারুণ পেট পূজো হলো৷ শিলা খিচুড়ি, ডিমের দোপেয়াজা , আলু ভর্তা, গরুর মাংস রেধে পাঠিয়েছে। আমার ধারণা শিলা নিজ হাতে শুধু গরুর মাংসটাই রেধেছে৷ কারণ বাকিগুলো খেতে অতিসুস্বাদু হলেও গরুর মাংসটা হয়েছে কু-স্বাদু। এক গাদা লবণ, একগাদা লাল মরিচ ঢেলে দিয়েছে।

    চলবে…

    6
    3 Comments
    • অভিনন্দন। চলুক।

    • ভালো লাগছে। প্রিয় বন্ধু, লক্ষ্য করলাম আপনার বন্ধু সংখ্যা অনেক কম তাই আপনার সুন্দর গল্পটি খুব কম পাঠকের কাছে পৌছায়। আমার মতে বন্ধু সংখ্যা বাড়িয়ে নিন। কারন এত সুন্দর গল্পটি পাঠকের কাছে না পৌছোলে পাঠকের সাথে অন্যায় করা হয়।

Skip to toolbar