Profile Photo

Shah KamalOffline

  • kuriparahs112384
  • Profile picture of Shah Kamal

    Shah Kamal

    4 years, 7 months ago

    হে তরুণ, জাগো
    — শাহ্ কামাল

    হে তরুণ!
    আর কত ঘুমোবে বলবে?
    আর কত চুপ থেকে সইবে হতাশা?
    তোমার পাওনা তোমাকেই বুঝে নিতে হবে।
    তুমি নিরন্ন ভুখা থাকো কেউ খবর নিবে না
    তালাশ করবে না তোমার উদরে কত যন্ত্রণা
    তুমি পরিশ্রম করে ভাগ্য বদলে দেখ,
    কত সামাজিক প্রাণী হবে তুমি,
    তোমার নামে পোস্টার হবে,
    তোমার ছবি লটকাবে সুনামের জলসায়
    তোমার পকেট কেটে ফায়দা লুটবে লুটেরার দল,
    রাজস্বের হিসেব দিতে দিতে ক্লান্ত হবে তুমি,
    অথচ তোমার পাকস্থলীর হিসেব নেই রাষ্ট্রের খাতায়,
    তোমার হিসেবে কত আঁকিবুকি টালির পাতায় পাতায়।
    অধিকার চাও?
    কিসের অধিকার?
    অধিকারের কঙ্কাল পোস্টমর্টেমে দোষী হয়ে তেরো শিকের শোষণে বন্দী;
    লাশ হয়ে ফিরবে বলে অপেক্ষায় জনগণ।

    হে তরুণ!
    তুমি কী জেগে আছ বৈশ্বিক উষ্ণতার তপ্ত বালুচরে?
    নাকি ঘুমিয়ে গেছ সাত সমুদ্র তেরো নদী সেঁচে আনা ঘুমন্ত ঝিনুকের মুক্তো দেখে?
    একবার জাগো,
    শতবার জাগো,
    মার খেয়ে জাগো,
    কথা বল গর্দান উঁচু করে।
    কেন নারীর জরায়ুতে জন্ম নিয়ে নরপিশাচ-অসভ্য-বর্বর ঐ দোপেয়ে জানোয়ার নারীর সম্ভ্রম লোটে যত্রতত্র?
    ওদের টুটি চেপে হত্যা করো।
    রাতের আঁধারে কোটিপতি মজা লোটে দামী ফ্লাটের মখমলে,
    নিজ ঘরে টাকার মসনদে বান্ডেলের ঘ্রাণে সুখ খোঁজে বউ-বাচ্চা;
    আর আয়েশের খায়েশে কত আশাহত জীবন সুখ বিলায় এসব নর হায়েনা-খোক্ষসদের;
    ভোগ শেষে লাশ হয়ে কেউ মরে; কেউ জীবন্ত লাশ হয়ে হেঁটে চলে অনন্ত দোযখের নিসীম জীবনে,
    ভূ-স্বর্গের এসব হিংস্র জানোয়ারেরা সংবিধানের ফাঁক-ফোঁকরে খোঁজে বাঁচার অক্সিজেন।

    হে তরুণ!
    তুমি উঠে এসো,
    তোমার প্রতীক্ষায় আগামীর বাংলাদেশ।
    তুমি কি জানো কেউ কারো কাজ করতে চায় না,
    সবাই শুধু উপরে উঠার সিঁড়ি খোঁজে
    অথচ নিজের কাজ নিজে করে না,
    সমস্যা হতেই সমাধানের চেষ্টা না করে
    অতি সচেতন বোদ্ধারা ছুটে চলে আদালতে।
    মানুষের বিবেক নষ্ট হতে হতে নীতিহীন নীতির শিকড়ে উদ্ভট মস্তিষ্কে কেবল স্বার্থের খেলামেলা।

    হে তরুণ! তুমি এসো স্বাধীন ধরিত্রীর উর্বর বারান্দায়।
    দেখ, এ পৃথিবী কতো অসুস্থ্য আজ।
    বিবেকের দূষণে স্বার্থের দেনায় বিপুলা এ সবুজ পৃথিবী কুলষিত কার্বনে,
    মহাসমুদ্রেও বিষাক্ত ছোবল ঢেউয়ের তালে তালে,
    নিথর হয়ে পড়ে থাকে তিমি-ডলফিন-কত জীবন।

    হে তরুণ!
    তুমি কী জাগবে না?
    তোমার বাহু দু’টি আবার জাগাও,
    তোমার মুষ্ঠিবদ্ধ হাতে আবার আওয়াজ তোল,
    মানবতার জয় হোক, মানুষগুলো মানুষ হোক।
    তুমি অগ্নিগর্ভ হতে উঠে এসো স্বার্থের উপত্যকায়, তপ্ত মরু হতে সবুজ গ্রামে।
    তুমি পাল তোল তোমার তরীতে,
    উত্তাল মহাসমুদ্রে তোমার মাস্তুল আবার জাগাও।

    হে তরুণ!
    নষ্ট সমাজে ভ্রষ্টদের টুটি চেপে
    তুমি হত্যা কর ঐ হিংসুকদের; যারা বিনা পরিশ্রমে টাকা কামানোর স্বপ্ন দেখে দেখে পরিশ্রমী মানুষগুলোর গর্দানে পিস্তল রেখে ধনী হতে চায়।
    তুমি উঠে এসো প্রতিবাদের কবিতা নিয়ে;
    মাঠে-ঘাটে-পথে-প্রান্তরে-রাজপথ আর অলি-গলিতে তোমার বড্ডো প্রয়োজন।
    তুমি তোমার শক্তিতে জানিয়ে দাও;
    বৈষম্যের এ পৃথিবী কারো উত্তরাধিকার সম্পত্তি নয়,
    এ পৃথিবীর পুরো মালিকানা অসহায় আর বঞ্চিত পদদলিতের।

    হে তরুণ!
    তুমি উঠে এসো; তুমি উঠে এসে দাঁড়াও
    গার্মেন্টসের বদ্ধ বারান্দায়।
    কতো শত নর-নারীর হাত ধরে মেশিনে মেশিনে রেমিট্যান্সের ঘ্রাণ পাওয়া যায়,
    অথচ তাঁরা বঞ্চিত শ্রমের মূল্য হতে।
    তাদের মূল্য কাগজের নোটে নেই
    তাঁরা ঐ কোটিপতিদের স্বপ্নের বলি হয়ে বিলিয়ে দিচ্ছে রক্ত ফোঁটায় বিন্দু বিন্দু করে জীবনে-যৌবন-সর্বস্ব।
    রাষ্ট্র পাচ্ছে উন্নত হবার রসদ, শীতাতপে বসে বসে নীরব খেকো পাচ্ছে ডলার,
    মাস শেষে পরিবারের অনাথ মুখে দু’বেলা খাবার তুলে দিতে গার্মেন্টসের শ্রমিক পাচ্ছে বেঁধে দেওয়া হিসেবের ছকে কয়েকটা মুদ্রার দাক্ষিণ্য।
    হে তরুণ! তুমি তাদের জন্য গর্বের সমাজ গড়ে দাও।

    হে তরুণ!
    তুমি কী জান মানুষগুলো কেন যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে?
    তুমি কী বলতে পার উন্মুক্ত যৌনাচারে কেন মানুষের লজ্জা নেই?
    তুমি কী জান সর্বত্রই কেন এতো বিশৃঙ্খলা?
    দিনকে দিন অসভ্যতা খাবলে খাচ্ছে নৈতিকার পাকস্থলী,
    মানুষগুলো অন্যায়কে অন্যায় ভাবে না,
    বিচারের রায় টাকার ওজনে উঠানামা করে দাঁড়িপাল্লার স্নায়ুতে।
    তুমি ভেঙ্গে দাও বিচারহীনতার এই সমাজ,
    বুল ডোজারে পিষে ফেলো প্রজন্ম-খেকো দস্যুদের অন্যায় দর্প,
    তুমি ভেঙ্গে ফেলো বৈষম্যের লৌহ-কারাগার।

    হে তরুণ!
    তোমার নব যৌবনের উন্মাদনায় তুমি ভেঙ্গে দাও যত বিভেদের দেয়াল,
    তুমি চূর্ণ কর মুখোশধারী দানবের হাত,
    তুমি পিষে মিসমার করে দাও ভন্ডদের মসনদ।
    চির বৈষমের পাঁচিল আর বাড়তে দিও না;
    তোমার নতুন স্বপ্নে ছড়িয়ে দাও এ পৃথিবীর দহলিজ।

    17
    10 Comments
Skip to toolbar