-
কবি আবুলের ষাট হাজার
– আরসাদুল খান তুহিন
——————————————
অল্প কিছু কাব্য লিখে
রাখছে তুলে যতনে,
করবে প্রকাশ, কথা দিছে
গাঁয়ের ছেলে রতনে।দিনের পরে দিন চলে যায়
মাস চলে যায় গোটা দশ,
এতো দিনেও আমজনতা
জানলো না তার ফোঁটা যশ!মনে মনে রতন ব্যাটার
চড় মারে রোজ দুই গালে,
আক্রোশি সে বজ্র দুহাত
রাখছিলো তার পুঁইটালে।কল্পঘোরে মচকে দিলো
বউয়ের সাধের সবজি টাল,
বুঝে নিলো আবুল এবার
আপন গায়ের কবজি হাল।চোখ তুলে সে যেই তাকালো
সম্মুখের ও রাস্তাতে,
রতন ব্যাটা যাচ্ছে হেটে
চরম সুখের আস্থাতে।“এ রতইন্যা” বলে যখন
ডাকতে গেলো ঝলকে।
জোরালো সে কবজি এবার
চুপসে এলো পলকে।উল্টো তারে সালাম ঠুকে
বললো “আরে রতন ভাই!”
বদন খানি মলিন কেনো?
নিজের ওপর যতন নাই?”মুচকি হেসে বললো রতন,
“দুদিন ধরে সর্দি-জ্বর,
কাজ করে দে আবুল্যা ভাই,
বাজারে যা, ফর্দি ধর।আরেক কথা, বইয়ের কাজে
আর দুহাজার টাকা চাই,
দোয়া করিস, ছাপাখানা
একটু যেনো ফাঁকা পাই।”ফর্দি ধরে আবুল মিয়া
বাজার পথে পা বাড়ায়,
মনে মনে শক্ত পায়ে
রতন মিয়ার গা মাড়ায়।‘অভাবের এই সংসারে কই
আর দুহাজার টাকা পাই?
তারচে ভালো নিজে নাহয়
একটাবার ও ঢাকা যাই!ঢাকা যেয়ে হবেই বা কী,
সব শালারাই রতন ভাই,
এবার নাহয় কাব্য লিখি
প্রকাশনীর পতন চাই।’‘প্রকাশনীর পতন হলেই
আবুলের কী লাভ হবে?
রতন মিয়ার সাথেইবা আর
কেমন করে ভাব হবে!ছাপাখানা ফাঁকা পেলে
যদি রতন কাজ ধরে!’
হঠাৎ তখন আকাশ থেকে
বিকট স্বরে বাজ পড়ে।চমকে ওঠে আবুল মিয়া
থমকে ওঠে সারা গা,
ধমকে ওঠে, “রতন ব্যাটা
ঠাটার তলে মারা যা।”বাজার থেকে ফিরছে আবুল
ক্লান্ত গাধার মতন যেই।
মাইকে শুনে, “বজ্রাঘাতে
আপন গাঁয়ের রতন নেই।”মুর্ছা গেলো আবুল মিয়া
রইলো পড়ে হাট-বাজার,
গুঙ্গানিতে শুনা গেলো
“টাকা আমার ষাট হাজার!”
——————————————-
পুঁইটাল => পুঁইশাকের মাচা বা জাংলা
ফর্দি => বাজারের তালিকা
আক্রোশি => আক্রমণে ইচ্ছুক
——————————————-
23-04-2019
01:37 am
Tangail11 Comments
Friends
শাহাদাতুর রহমান সোহেল
@sr-sohel
ইফতিশা খানম
@eftishakhanam
আনোয়ার পারভেজ নূর শিশির
@anwar-parvez-nur-shishir
Md.Emamuzzaman Wahedi
@emamuzzaman
Shomik Adhikary Nandon
@shomikadhikarynandon
মুক্তা বুলবুলি
@chandra-mukta
Shoriful Shoron
@shoriful-shoron
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
@mohammad-shahzaman
রাজীব হাসান
@rajib21



কাব্যরসে ডুবে গেলাম। খুব ভালো লাগল। শুভেচ্ছা ও স্বাগতম কবি!