-
অভিশাপ পর্ব ৪
ভাইয়ের সাথে এখানে সেখানে যাওয়া আমার জীবনে কাল হয়ে দাঁড়াবে ঘুর্নাক্ষরে বুঝতে পারিনি। ভাবি আমার বিরুদ্ধে এতবড় চক্রান্ত করছে সেটাও বুঝতে পারিনি।সারাদিন মন্টুর সাথে ভাবি কি যেন ঘুজুর ঘুজুর ফুসুর ফুসুর করছেন,এতকিছু আমার মাথায় আসার কথা নয় কারন মন্টু তো তাদেরই ভাড়াটিয়া কথা থাকতেই পারে।আমি আর রতন বাড়ির পাশের পেয়ারা গাছের নিচে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলাম ওরা দুজন মাঝে মাঝে আড় চোখে আমাদের দেখছিল।তখন সকাল সাতটা বাজে কিছুক্ষণ পরেই ওরা কাজে চলে যাবে, প্রতিদিনই রতন এভাবে আমার সাথে কথা বলে তারপরে কাজে যায়,যথারীতি আজকেও দেখা করতে এসেছে। কিছুক্ষণ পরে রতন চলে গেল আমি বাড়ির মধ্যে চলে আসলাম কিন্তু ভাবি আর মন্টুর আলাপ চারিতা চলছেই।সেদিন বাড়িতে নাস্তা তৈরি হয়নি,হোটেল থেকে নাস্তা আনা হল,সাথে মন্টুর জন্যেও আনা হল।
আমার হাতে নাস্তার প্লেট দিয়ে ভাবী বললেন যাও এটা ওই মন্টুর রুমে দিয়ে আসো, আমি ইতস্তত বোধ করছিলাম বললাম ভাবি মন্টু কে কেন?ভাবী বললেন সেটা তোমাকে ভাবতে হবেনা তোমাকে যা বলছি তাই কর।আমি নাস্তা প্লেটটা হাতে নিয়ে মন্টুর রুমে ঢুকলাম,সমস্ত মেস ফাঁকা মন্টু ছারা আর কেউ নেই। মন্টুকে নাস্তা দিতে যাব অমনি আমাকে জড়িয়ে ধরল,ওর চোখেমুখে হিংস্রতা,আমি হঠাৎই ঘাবড়ে গেলাম সমস্ত শরীর কাপতে শুরু করলো কি করব বুঝে উঠতে পারছিলাম না,হাত থেকে নাস্তার প্লেটটা পরে গেল,আমার দুই হাতে বড় বড় নখ ছিল সজোরে খামচে ধরলাম,ওর চোখ মুখ রক্তাক্ত হয়ে গেল উপায়ন্তর না দেখে আমাকে ছেড়ে দিলো আমি দৌড়ে বাড়ির মধ্যে চলে আসলাম। আমার সমস্ত শরীর তখনও কাঁপছিল,ভাবি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন কী হয়েছে আমি কথা বলতে পারছিলাম না।ভাবী আমাকে অনেক মন্দ কথা বললেন।আমি নাকি দুশ্চরিত্রা আমি ছেলেদের গায়ে পড়ে কথা বলি ,আমার চরিত্রের দোষ আছে তিনি আমাকেই দোষারোপ করলেন।আমি কান্না থামাতে পারলাম না ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়লাম চুপচাপ বসে কাঁদছি। এদিকে ভাবি মেসে গিয়ে কিছুক্ষণ পরে আবার ফিরে আসে আমি ভাবলাম হয়তো মন্টুকে ধমকাতে গেছেন। ধমকাতেই গেছেন তবে আমার গায়ে হাত দেওয়ার জন্য নয়,ওকে ধমকিয়েছেন ব্যর্থতার জন্য, সুবর্ণ সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও আমাকে কিছুই করতে পারলো না। কিছুক্ষণ পর ভাবি ফিরে আসলেন আমাকে বললেন কাঁদিস না ওকে যা বলার বলে এসেছি ও তোকে আর কিছুই বলবে না তোর দিকে তাকাতেও সাহস পাবেনা।জানিনা কি চলছে তাদের মনে হয়তো আমাকে কোন প্রকার দোষী বানিয়ে কিছু একটা করতে চাইছে,এতোটুকু বুঝতে পারছি। কিন্তু আমি নিরুপায় আমার কিছুই করার নেই।সেদিন গোসলের সময় তার দামি শ্যাম্পু বের করে দিলেন এবং পড়ার জন্য তার একখানা হলুদ শাড়ি আমাকে দিলেন,বুঝতে পারছিলাম না হঠাৎ ভাবির মধ্যে এত পরিবর্তন কেন?দুপুরের খাওয়া শেষে সবাই বিশ্রাম নিচ্ছিলাম। দেখলাম ভাবি চুপিসারে মেসে গিয়ে ঢুকলেন প্রায় ১০ মিনিট পরে ফিরে আসেন,সোজা তার ঘড়ে ঢুকলেন। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হল,ভাবী তার ছোট মেয়েকে সাজিয়ে ভাইকে নিয়ে কোথায় যেন যাচ্ছেন আমাকে ডেকে বললেন রিন্টু রইল ওকে দেখে রাখিস। রিন্টু মানে তাদের ছেলে। আমি ওকে নিয়ে সারা বিকেল বাড়িতে ছিলাম কোথাও বের হই নাই।কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্ধ্যা হয়ে এলো,আমি ছেলেটাকে নিয়ে ঘরের মধ্যে এলাম আমি জানিনা মেন সুইচ অফ করা শত চেষ্টা করেও বাতি জ্বালাতে পারলাম না অথচ পাশের বাড়িতে বিদ্যুৎ আছে!অবশেষে দরজা বন্ধ করে ছেলেটাকে ঘুম পাড়িয়ে নিজের শুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই অন্ধকার নেমে আসে হঠাৎ খাট টা কেমন যেন নড়ে উঠলো কোন মানুষের উপস্থিতি অনুভব করতে পারছি । আমি উঠে বসতে যাব আর তখনই ক্ষিপ্র গতিতে কেউ একজন আমার বুকের উপরে চড়ে বসলো তার দুই হাত দিয়ে আমার হাত দুটো চেপে ধরেছে আমি আপ্রান চেষ্টা করছি নিজেকে ছাড়ানোর জন্য কিন্তু পারছিনা অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই রশি দিয়ে আমার দুই হাত বেঁধে ফেলল আমার মাথার উপরে দিকটায় খাটের সাথে। তারপর পা দিয়ে দিলাম এক লথি ছিটকে পড়লো দেয়ালের সাথে আবার উঠে এসে আমার পা দুটো বেঁধে ফেলল।তার পর যা হবার তাই হল। পারলাম না নিজেকে বাঁচাতে সব শেষ। যেন হিংস্র হায়েনা ঝাপিয়ে পরেছিলো নিরিহ হরিণ শাবকের উপর।তার পর আমার হাত-পা বাঁধন ছেড়ে যখন লোকটা বের হতে যাচ্ছে তখনি ভাই এবং ভাবী ঘরের মধ্যে প্রবেশ করল এবং সুইচ দিতেই বাতি জ্বলে উঠল দেখলাম লোকটা আর কেউ না মন্টু।আমি তখন খাটের উপর বসে হাঁটুর মধ্যে মাথা গুঁজে কাঁদছিলাম ভাইয়া মন্টুকে ধরে চড়-থাপ্পড় আর ঘুষি মারছে পেটের মধ্যে লাথি মারছে। ভাইয়ের হাত থেকে মনটু কে বাঁচিয়ে ভাবি ঘরের মধ্যে তালা বন্ধ করে রাখলেন,আর বললেন মামা মামিকে খবর দিয়ে নিয়ে আসো একটা ব্যবস্থা করতে হবে। খবর পেয়ে বাবা এবং ছোট মা আসলো,জানিনা ভাবি তাদেরকে কি বলেছেন বাবা আমার কাছে এসে দুই গালে শুধু চড় মেরে যাচ্ছেন ছোটমা এসে থামলেন আর বললেন কি হবে আর মেরে, যেমন মা তেমনি মেয়ে আমি আগেই বলেছিলাম ওকে বিয়ে দিয়ে দাও দেখলে তো গরিবের কথা বাসি হলে ফলে।এ দিকে রতন সবকিছু শুনে মনটুকে খুঁজছে মারার জন্য কিন্তু মন্টু তো ভাবীর হাতে বন্দি কোথায় পাবে তাকে। অবশেষে রতন আমার জানালার পাশে এসে আমাকে বলল তুমি কোন চিন্তা করো না তোমাকে নিয়ে আমি আমাদের বাড়িতে যাব মাকে সব খুলে বলবো নিশ্চয়ই মা কিছু একটা করবেন। ভাই ভাবি ছোট মা আর বাবা ঘরের মধ্যে কী যেন আলোচনা করছে তারপরে ভাই বেরিয়ে গেলেন কিছুক্ষণ পরে মৌলভী সাথে নিয়ে আসলেন। সাথে কিছু বিয়ের বাজার,বুঝতে আর বাকী রইল না, এই ছিল ভাবির মনে আর আমার কপালে।কি ছিল আমার অপরাধ?আমার ফুপাত ভাই আমাকে পছন্দ করতো শুধু এই অপরাধে আজ আমাকে এত বড় শাস্তি ভোগ করতে হবে?এর জন্যতো আমি দায়ি ছিলাম না!কেউ কি নাই আমাকে আমাকে এই বিপদ থেকে বাচাবে?রতন কি আমাকে বাচাবে?এটাতো আর সিনমা নয় যে হিরোর মত আসবে আর আমাকে বাচিয়ে নিয়ে চলে যাবে।ওর বাড়ি সিরাজগন্জ কিইবা ক্ষমতা এখানে সে দেখাতে পারবে?তবুও নাকি থানায় যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলো,ভাবি লোক দিয়ে বেঁধে এনে আরেকটা ঘড়ে আটকে রাখে।এদিকে বিয়ের সমস্ত আয়োজন শেষ দুজন লোক আসলো আমার ইজাজত নিতে,অন্তরে আমার দুখিনি মায়ের মুখ খানা ভেসে উঠলো।বুকফাঠা আর্তনাদ বেরিয়ে এলো মুহুর্তেই জ্ঞান হারিয়ে ফেললাম,আমার হয়ে নাকি ভাবিই কবুল বলেছিল।আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় বাসর ঘরে পঠানো হলো।ওই হিংস্র হায়েনা টা যখন তার স্বামীর অধিকার ফলাতে আমার উপর ঝাপিয়ে পরল তখনই আমার জ্ঞান ফিরে আসে।
তখন দু’পা একত্রিত করে শরীরের সমস্ত শক্তি দিয়ে সজোরে এক লাথি হাকালাম।ছিটকে পড়লো খাটের এক কোনায় মাথায় কিছুটা চোট পেলো,অমনি মাথা ধরে বসে পরল।আমি উঠে খুঁজতে থাকলাম কি আছে খাটের নিচে ভাগ্যক্রমে খাটের নিচে কিছু বাটাম রাখা ছিল ছোট বড় সাইজের তা থেকে যুতসই একটা নিলাম নিয়ে শুরু করলাম চোখ বন্ধ করে বারি,এলো পাথারি বারি।মন্টু চিৎকার শুরু করল,চিৎকার শুনে ছুটে এল সবাই ওর ভাগ্য ভালো দরজা খোলা ছিলো,দরজা বন্ধ থাকলে সেদিন হয়তো আমার হাতে খুন হয়ে যেত।সবাই এসে আমাকে থামাল ততক্ষনে ওই শকুনটাকে রক্তাক্ত করতে পেরেছি।সবাই ওর সেবা শুশ্রূষা করছে,ভাবি কমরে হাতদিয়ে দাঁতে দাঁত রেখে আমার সামনে এসে বলছে।মাগি– মাগি তোর এত বড় সাহস ভাতারের গায়ে হাত দেস। বলেই আমার চুলের মুঠি ধরতে যাবে।আর তখনি সমস্ত রাগ গিয়ে পরলো ভাবির উপরে,আমিতো এমনিতেই মরা আমার আবার কিসের ভয়।হাতে থাকা বাটাম দিয়ে সজরে আঘাত করলাম তার হাতে,ভাবি মাগো বলে হাত ধরে বসে পরলেন।তার পরের আঘাত তার পিঠে এবার সে চিৎকার দিয়ে ফ্লোরে শুয়ে পরল কমর বরাবর মারলাম আরেক ঘাঁ।ছোট মা ছুটে আসল বান্দির ঝি তোর এত বর সাহস,যেই আমাকে ধরতে যাবে,অমনি তার মাথায় করলাম আঘাত কপাল কেটে ফিনকি দিয়ে রক্ত পরতে লাগলো।ছোট মা মাথা ধরে বসে পরলো তাকে সাপ পিটানোর মত পিটাতে থাকলাম।হৈচৈ শুনে মেসের সবাই চলে এসেছে।এই মুহুর্তে তিনজন ধরাশায়ি আমার সামনে যেই আসবে তার অবস্থাও ঠিক এমনই হবে,সে হোক আমার জন্মদাতা পিতা বা অন্য কেউ,সবার সামনে দারিয়ে আছে এক ক্ষ্যাপা বাঘিনী।কেউ সাহস করছেনা আমার সামনে আসার।(চলবে)4 Comments
Friends
Syeda Tahmin Ara
@tahmina-s
MD AKRAMUL HOQUE
@akramul-here
MD AMAN ULLA
@aman06
Farhana Nawrin (Sumi)
@nawrin
Omar Sani
@omar-sani
RITON MOSTOFA
@riton
Mustafa Nazmus Sakib (Zubair)
@mustafasakib
Md.Akram hosen
@hosen
Arefeen
@arefeen


সুন্দর