Profile Photo

অবাক রহমানOffline

  • Jahedi
  • Profile picture of অবাক রহমান

    অবাক রহমান

    4 years, 6 months ago

    ওর নাম অঙ্গুর -২
    আমি সবেমাত্র ইন্টার পাশ করেছি । এখন মোটামুটি বাড়ি থেকে একা একা বের হবার অনুমতি পাই। মন ছুটলো নানা বাড়ি যাবো। পরিকল্পনা মাফিক নতুন জামা কাপড় কিনে , সেই রকম মাঞ্জা মেরে ছুটলাম ।
    নান নানী মামা আমাকে পেয়ে খুব খুশি। সত্যিকারে নানা বাড়ির আনন্দ আমি এখানে পেয়েছি। আমার আপন নানা মারা গেছেন অনেক আগেই শুনেছি, আমার যখন ৩ বা ৪ বছর।
    অনেক রাত পর্যন্ত নানা নানী মামী ও আঙ্গুরের সাথে গল্প করতে করতে কেটে যেতো। আমার নানা খুব রসিক প্রকৃতির মানুষ। ওনার কথায় হাসতে হাসতে পেটে খিল লেগে যেতো। তার মাঝে আমি মাঝে মাঝে তাল দিতাম। নান একাক সময় একাক জনকে নিয়ে মজা করতো কখনো নানী , কখনো আঙ্গুর, কখনো বা মামা।
    গ্রামের গৃহস্ত পরিবার। তারউপর নান সরকারী অফিসার। বাড়িতে অনেক কাজ। মামা তেমন কাজে হাত লাগাতো না। আমার মামা ছিলো আরো সাদাসিদা সরল স্বভাবের। মামার একটা ঘনটা দিয়েই বুঝাই।
    মামার বিয়ের দিন আমরা বাড়ি ভর্তি মানুষ শুধু মামার কোন খোজ নাই। প্রতিদিনের মতো মামা গ্রাম বেড়াতে বেরিয়েছে। দুপুর বারোটা বাজে মামার কোন খোজ নাই। দুইটার সময় বরযাত্রী যেতে হবে, বরের খোজ নাই। সাড়ে ১২ টার দিকে মামা হন্তদন্ত করে বাড়িতে ডুকলো। আমার খালু মানে মামার একটি মাত্র বোন জামাই খুব ক্ষেপে গেলো । মামাকে বললো এই সবুর তুমি কোথায় ছিলে এতক্ষন। মামা ছোট করে উত্তর দিলো। এই মাঠে গিছিলাম। বলে মামা হনহন করে তার ঘরে ডুকে গেলো।
    সবাই গোসলের সরঞ্জাম যোগার করে মামাকে খুজছি। কেউ বলছে মামা কই, কেউ বলছে কাকা কই, কেউ বলছে সবুর কই ? গায়ে হলুদের সরঞ্জাম রেডি করে বাড়ির এবং গ্রামের মাহিলা ও তরুনীরা লাইন দিয়ে মামার অপেক্ষায়। এমন সময় মামা মাথা মুছতে মুছতে পুকুর পাড় থেকে বাড়ির ভিতর ঢুকলো।
    খালু বলল এই সবুর এদিকে আয় তোকে গোসল করাতে হবে। মামা বললো আমি তো এই মাত্র গোসল করলাম।
    কেউ হাসতে হাসতে হাসতে বেলে মাটির উঠানে লুটিয়ে পড়ছে , কেউ রাগে ক্ষোভে গোতগোত করছে।
    তখন মোবাইলের এতো বেশি প্রচলন ছিলো না। আমার নানী বিশ্বাসই করতো না যে, এক প্রান্তের মানুষ আরেক প্রান্তের মানুষের সাথে এভাবে কথা বলতে পারে। পল্লি বিদ্যুতের দয়ায় গ্রামের মানুষ বিদ্যুত লাইল পেয়েছিলো সত্যি । তবে মানুষ উল্টো করে বা মজা করে বলতো, কারেন্ট যায় না , মাঝে মাঝে আসে। তাই যতটুকু সময় কারেন্ট থাকতো চার্জার লাইট চার্জ দিয়ে না রাখলে। রাতে অন্ধকারে থাকতে হতো বা হ্যারিকেন জ্বালাতে হতো।
    আমি আর আঙ্গুর বসে টিভি দেখছিলাম এমন সময় নানী উঠান থেকে হাক ছেড়ে আঙ্গুরকে বললো – হে রে ওই আঙ্গুর তোর কাকার রুমে চার্জার লাইট আছে । জলদি চার্জে লাগিয়ে দে।
    আঙ্গুর -আচ্ছা দাদি এখনি দিচ্ছি বলে আঙ্গুর দৌড়ে মামার রুমে ডুকলো।
    আঙ্গুর ফিরে এলে দেখলাম ওর মুখটা একটু মলিন।
    আমি বললাম কি ব্যাপার তুমি কি শক খেয়েছে।
    আঙ্গুর ফ্যাল ফ্যাল চোখ আমার দিকে তাকিয়ে বললো -আপনি কিভাবে বুঝলেন ?
    আমি বললাম- তোমাকে দেখে মনে হলো তাই ……………..

    8
    4 Comments

যখন বুঝতে শিখেছি, তখন থেকেই অবুঝ হয়ে গেছি। যখন থেকে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি, তখন থেকেই না পাওয়ার বেদনা পিছু নিয়েছে। যখন সব হাতের নাগালে পেয়েছি, তখন ভোগের চেয়ে ত্যাগেই আত্মতৃপ্তি পেয়েছি। যখন সবাইকে নিয়ে থাকতে চেয়েছি তখনই আপনজন পরপারে পাড়ি জমিয়েছে।

Skip to toolbar