-
কিশোরী_বয়সের_ভালোবাসা।
(না কি অপরিণত বয়সের ভুল )
লেখনীতে মেহের_মেহের_সীমা।
পর্বঃ ১৯এই সীমা তোর ফোন এসেছে নে ধর।
আসসালামু আলাইকুম,হ্যালো।
রাখ তোর হ্যালো ,ফুটানি মারাও?
ছোট লোকের গোষ্ঠী কোথাকার,
এই শীতের মধ্যে আমি গেঞ্জি পড়ে দাড়িয়ে থাকব,আর তুমি রঙ ঢঙ করে ভিডিও করবে?
রিফাত ছাড়া আর লোক ছিল না যে ওকেই লাগবে!
তোমাদের সমস্যা কি হ্যাঁ?
অসভ্য….
আরও অনেক খারাপ খারাপ কথা বলছিলেন,
আমার সেই মুহূর্তে বিশ্বাস হচ্ছিল না যে তিনি এসব কথা বলছেন।
বা তিনি এভাবে আদৌও কথা বলতে পারেন,
বরের এই রূপের সাথে আমি পরিচিত না।
তার কথাগুলো আমার হৃদয় চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিচ্ছিল,আমার দু’চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে।
আজ প্রথম কষ্টে বুকটা ফেটে যাচ্ছে কিন্তু কাউকে দেখাতে পারছিলাম না।এই তিন মাস দশ দিনের মত সময় ধরে বরের এতো কাছাকাছি থেকেও কখনো বুঝতে পারিনি তিনি এভাবে কথা বলতে পারেন।
সরকারি ভাবে রেজিস্ট্রি করার এক মাস পর
তার সাথে আবার ধর্মীয়ভাবে কবুল বলে বিয়ে হয়েছে।
তাও তিন মাস আগে,
এই তিন বরের সাথে কাটানো সময়গুলো ছিল স্বপ্নের মত।
একটু একটু করে নতুন জগৎ এ পদার্পণ করছিলাম,
সে সময়ে আমাকে আবিষ্কার করতে ব্যস্ত তিনি।
আমাদের প্রথম কাছাকাছি আসার পর আমি একটু অসুস্থ হয়ে পড়ি।
সে সময়গুলো এই মানুষটা দক্ষতার ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছেন।
আমার সুস্থির জন্য,
নিজেকে আমার সান্নিধ্যে থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন।
আমার প্রতি তার এই আদর যত্ন আমাকে বিমোহিত করছিল,
বর সাহেব আমার ভালো লাগা মন্দ লাগা বোঝার চেষ্টা করতেন।
অফিস ছুটি হলে কখনো ডিনার করতে বা শপিং নিয়ে যেতেন।
আমি ঢাকায় বড় হলেও সব সময় ঘরবন্দি থাকার কারণে আমার আসেপাশের মার্কেট বা রেস্টুরেন্ট কখনো চেনা হয়নি।
তাছাড়া ঈদ বা যে কোন অনুষ্ঠানে আমার জন্য জামা কাপড় মা কিনে এনেছেন।
মায়ের পছন্দ করে আনা যে কোন জিনিস আমার অতি প্রিয় ছিল।
শহরে বেড়ে উঠা হলেও স্কুল এবং তার আসেপাশে রাস্তা ছাড়া বাহিরের জগৎ ছিল আমার জন্য সম্পূর্ণ অপরিচিত।
তারেক আমাকে একটু একটু করে বাহিরের জগৎ এর সাথে পরিচয় করিয়েছেন।
তার সাথে প্রথম যখন বসুন্ধরা সিটিতে গেলাম আমি এস্ক্যালেটার উঠতে পারছিলাম না।
আমার ভয় করছিল।
(এস্ক্যালেটার মানে চলমান সিঁড়ি)
তারেক সেটা বুঝতে পেরে আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হেসে হাত ধরে এস্ক্যালেটার এ দাঁড়ায়।
এছাড়া আমাদের বাড়িতে আসলে এবং ফোন করে আমার ভালো মন্দের খোঁজ খবর নিতেন।
একসাথে থাকলে আমাকে ছাড়া নাস্তা হোক বা লাঞ্চ তিনি করতেন না।
তার এমন ব্যাবহার আমাকে এতটাই মুগ্ধ করেছিল যে দিনদিন আমার হৃদয়ে তার প্রতি ভালোবাসা বেড়েছে বহুগুণ।
শুধু তার জন্যই কবুলের পর আমি গ্রামে থাকিনি বই পত্র নিয়ে শহরে এসে পড়ি।
কারণ তার কথা হচ্ছে সে শহরে থেকে ইচ্ছে করলেই গ্রামে যেতে পারবে না আমার সাথে দেখা করতে।
অফিস ছুটি তো সব সময় হয় না।
বিয়ের পর আমাকে রেখে আলাদা থাকতে তার কষ্ট হচ্ছে।
আমার মা তাকে আমাদের বাসায় আসতে ও বেড়াতে বললেও সে আসতে চায় না, এলেও থাকেন না আমি ওখানে নেয় বলে।
আমি এলে সে ওখানে বেড়াত।
এছাড়া আমি শহরে আমাদের বাসায় এলে তার সাথে সময় কাটাতে পারতাম।
এমনকি সংসার জীবন শুরু করার আগে একজন অপরজনকে জানার সুযোগ পাওয়া যেত।
তার এসব কথায় বিমোহিত হয়ে আমি বই খাতা নিয়ে শহরে এসে পড়লাম।
শহরে আসার পর আমাদের দিনগুলি বেশ ভালো কাটছিল।
এরমধ্যে দেশে গিয়ে নবম শ্রেণীর ফাইনাল পরীক্ষা দিয়ে আসি।
পরীক্ষা শেষে ঢাকায় এলে শুরু হয় রোজা।
ছোট থেকে রোজা রাখতে আমার খুব ভালো লাগে।
সবচেয়ে বেশি পছন্দ রোজার দিনে ইফতারের সময় মায়ের হাতের পিঁয়াজু, আলুর চপ,ডিমের চপ,বেগুনি, পেঁপে নি ও ছোলা বুট।
আমার মায়ের রান্নার হাত ছিল ভীষণ ভালো।
এবার রোজায় মায়ের হুকুম তার একমাত্র মেয়ের জামাইকে আমাদের সাথে ইফতার করতে হবে।
তাছাড়া আমার মায়ের কথা ছিল তার মেয়ের জামাই যেহেতু ঢাকা একা থাকে তাই আমাকে উঠিয়ে নেওয়ার আগ পর্যন্ত তাকে যেন আমি আমাদের বাসায় আসতে বলি।
আমার বর মানে তারেক সাহেব শ্বাশুড়ির প্রস্তাবে বাক বাকুম অবস্থা।
তিনি শ্বাশুড়ির কথা শুনে সপ্তাহে তিন চার দিন আমাদের বাসায় আসতেন।
আর আমাকে ইনিয়ে বিনিয়ে বুঝাতেন আমাকে ছাড়া তার একা থাকতে কতটা কষ্ট হয়।
তারেক যখনই আমাদের বাসায় আসতেন অনেক ফলমূল, মিষ্টি, কখনো মাছ, মুরগি আরও অনেক কিছু নিয়ে আসতেন।
মা নিষেধ করলেও তিনি শুনতেন না।
রোজার সময়ে গুলো মনে হচ্ছিল খুব দ্রুত চলে যাচ্ছিল।
আমার শ্বশুড়,শাশুড়ির এবং শ্বশুর বাড়ির সকলেই গ্রামে থাকতেন শুধু তারেক ছাড়া।
সেজন্য রোজার মধ্যে দুইবার বাড়িতে থেকে তারেক একাই ঘুরে এসেছিলেন।
তারমধ্যে একদিন মার্কেট নিয়ে আমাকে ঈদের মার্কেট করে দিয়েছে, দেশের জন্য, রিয়ার জন্যও কিনেন।
আমার বাবাও তাকে ছয় হাজার টাকা দেন ঈদের জামাকাপড় কিনতে।
এবং আমার শ্বশুড়ি ও শ্বশুরের জন্য জামা কাপড় কিনেন।
মা বাবার ইচ্ছে ছিল এবার আমি তাদের সাথে ঢাকায় ঈদ করব।
কারণ এরপর তো এমন সুযোগ নাও হতে পারে।মায়ের ইচ্ছের কথাটা আমি ওনাকে বলি ।
তারেক তখন কিছু বলেননি।
তবে ঈদের পাঁচদিন আগে সে মাকে অনুরোধ করেন আমাকে তার সাথে যেতে দিতে।
কারণ তার নাকি একা একা ঈদ করতে ভালো লাগবে না।
মা তাকে বলেন, তুমি তো তোমাদের বাড়িতে ঈদ করবে।
ও থাকবে ওর চাচার ওখানে।
এমনিতেও তো একসাথে ঈদ করতে পারবে না।
তার থেকে ও আমাদের সাথে থাকুক।
তারেক মা’কে বলেন,সে ঈদের দিন বিকালে আমাদের বাড়িতে এসে পড়বে।
তবুও সে একা যাবে না, তার কথা বিয়ের পর বৌ ছাড়া ঈদ নাকি পানসে হয়।
তারা আমাকে যেন তারেক এর সাথে যেতে দেন
কিন্তু মা আমাকে মনে মনে যেতে দিতে চাচ্ছিল না ।
মায়ের কথা হচ্ছে এবারের ঈদের পর থেকে তো আল্লাহ্ সুস্থ্য রাখলে তার মেয়ে সব ঈদ স্বামীর সাথেই থাকবে আর আমাকে যেহেতু এখনও উঠিয়ে নেওয়া হয়নি তাই মা আরো যেতে দিতে চাচ্ছে না।
কিন্তু আমার বর বারবার মা বাবাকে অনুরোধ করছিল। তার অবস্থা দেখে মনে হচ্ছিল,সে যেহেতু একবার বলেছে আমাকে সাথে নিবে তো এর নড়চড় হবে না।
মা’কে অনুরোধ করাত মা শেষ পর্যন্ত নিষেধ করতে পারেনি।
তবে বাবার কথা হচ্ছে আমাকে নিতে চাচ্ছে ভালো কথা কিন্তু তাদের বাড়িতে নিতে পারবে না।
আমি দেশে আমাদের বাড়িতে চাচা চাচীর কাছেই থাকবো।
সে ওখানে এসেই যেনো আমার সাথে দেখা করে।
আমার বর সে কথায় রাজিও হয়ে যায়।
ঈদের পাঁচ দিন আগে আমি ওর সাথে দেশে আসি ।
ও আমাকে আমাদের বাড়িতে দিয়ে চাচা চাচীর কাছে থেকে বিদায় নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে যায়।
তার পরের দিন রাতে আমার সাথে দেখা করতে আসলে চাচা চাচী তাকে রেখে দিলেন।
পরের দিন সকালে উঠেই বর মশাই নিজের বাড়িতে চলে গেলেন।
আবার এলেন ঈদের দুইদিন আগে।
সেদিন রাত থেকে পরের দিন সকালে আমাকে তার সাথে নিতে চাচ্ছেন তাদের বাড়িতে।
আমি কি বলবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না!
এদিকে চাচা চাচী বাবার
ভয়ে
রাজি হচ্ছিল না তাই আমার বর তাদের বলল, এখন নিয়ে যাবে বিকালে এসে আমাকে দিয়ে যাবেন।
আমি তখন অসহায়ের মত চাচা চাচীর দিকে তাকিয়ে আছি।
কিন্তু তারা আমার বরের কথা শুনে আর বাঁধা দেয়নি।
কারণ ইচ্ছে করলেও অনেক সময় কিছু করা যায় না,
সেদিন তিনি আমাকে তাদের ওখানে নিয়ে গেলেন।
নতুনদের ভীরে আমার তখন ভয়ে জান যায় অবস্থা।
ওদিকে এই বাড়িতে আমাকে নিয়ে সবাই যখন আনন্দে মেতে উঠেছে ঠিক সে সময় খবর এলো আমার বড় ননাশের মেয়ের শ্বশুর বাড়ির লোক আসছে নারায়ণগঞ্জ থেকে।
মূহুর্তে মধ্যে সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়ল বড় লোক মানুষ তারা।
তাদের তো য্যান ত্যান আপ্যায়ন করা যাবে না।
আমার তিনি চলে গেলেন বাজার করতে।
আমি সবার ব্যস্ততা দেখছি আর কষ্ট পাচ্ছি সবাই কত কাজ করছে সেজন্য।
কিছুক্ষণ পর যা শুনলাম তাতে এখন নিজের কাছে নিজেকেই অসহায় লাগছিল।
কারণ সবার কথা হচ্ছে আজকে সবকিছু আমাকে রান্না করতে হবে ।
তখন সবার কথা শুনে আমার মনে হচ্ছে, আমি আকাশ থেকে ধপাস করে মাটিতে পরলাম।
কারণ ছোট বেলা থেকেই দুই ভাইয়ের এক বোন হওয়াতে আদরেই ছিলাম,মা, ভাইয়েরা মুখে তুলে খাওয়াতেন।
কখনো নিজে থেকে এক গ্লাস পানি নিয়েও খেতে হয়নি।
তারপর বাসায় কাজের লোক ছিল তারা আমার কাপড চোপড়় পর্যন্ত ধুয়ে দিতেন।
এমনকি গ্রামে আসার পরও কখনো আমাকে দিয়ে চাচী রান্না করাননি।
আর সেই আমি কিনা রান্না করবো সবাই এটা কি বলছে?
সবার কথা শুনে আমি কিছুক্ষণ চুপচাপ থেকে তারপর আমার শ্বাশুড়ি ও বড় জাল কে এনিয়ে বিনিয়ে বললাম আমি রান্না করতে পারি না।
কিন্তু কেউ আমার কথা বিশ্বাস করলেন না।
আমার বড় জাল রেবা খালা আগে থেকেই আমাদের আত্মীয়।
তিনি সবার মধ্যে বলে উঠলেন, তোমাদের বাড়ির দাদু এবং মা ,চাচীদের রান্নার সুনাম আছে পুরো গ্রাম জুড়ে।
তাদের হাতের রান্না একবার যারা খায় তারা আবার খেতে চায়।
তুমি সে বাড়ির মেয়ে হয়ে রান্না করতে পার না।
তা বললেই তো আমরা সবাই বিশ্বাস করবো না।
তোমাকে আজকে রান্না তো করতেই হবে।
কারণ সবাইকে তো দেখাতে হবে আমি তোমাকে এমনি এমনি পছন্দ করিনি।
তার কথা শুনে হঠাৎ রাগ উঠে গেল।
তবুও তা চেপে গেলাম।
আর মনে মনে বরেকে ইচ্ছে মত বকে যাচ্ছি বুইড়া ব্যাটা আমাকে ঢাকা থেকে ফুঁসলিয়ে দেশে এনে এখন ফাঁসিয়ে দিচ্ছে।
আর নিজে দূরে দাঁড়িয়ে মজা নিচ্ছে।
বরকে বকা শেষে রান্না করতে গিয়ে আমার জন্য আরেকটি চমক অপেক্ষা করছিল।
তাহলো আমি ছোট থেকে মাকে গ্যাসের চুলাতেই রান্না করতে দেখছি।
আর চাচী মাটির চুলায় কত কষ্ট করে রান্না করতেন।
কিন্তু মাটির চুলায় নাকি আমাকে রান্না করতে হবে।
সেদিন আমার কান্না পাচ্ছিল।
কিন্তু আমি নতুন বৌ ইচ্ছে হলেই সব কিছু করতে পারব না।
তাই রান্না করতে বসে খেলাম।
রান্না করার আগে মা’কে ফোন করে জিজ্ঞেস করে নিয়েছি রোস্ট , পোলাও ,মাছ কিভাবে রান্না করতে হয়।
মা আমাকে রেসিপি বলছেন আর কাঁদছেন।
কারণ তিনি ভাবতে পারেনি তার মেয়ের জামাই আমাকে এভাবে নিয়ে আসবে।
মায়ের কাঁদার আওয়াজ শুনে মনটা খারাপ হয়ে গেল।
তবুও বাবা মায়ের সম্মান বাঁচাতে রান্নায় মনোযোগ দিলাম।
রান্না নামক যুদ্দ করতে করতে আমার বিকাল চারটা বেজে যায়।
যুদ্দ বললাম কারন রান্না করতে গিয়ে হাতের দুই তিন জায়গায় আগুনের সেঁকা লেগে ঠোস পড়ে গেছে।
কয়েক জায়গায় কেটে গেছে।
তবুও রান্না শেষ করতে পেরেছি এটাই ভালো।
তবে সেদিন মেহমান দেরিতে এসেছে তাই রান্না দেরিতে হওয়ার জন্য সমস্যা হয়নি।
রান্নার কথা না বললেই নয়, রোষ্ট বেশি ভেজেছি তাই একটু শক্ত হয়ে গেছে।
পোলাওয়ে পানি কম দিয়েছি তাই সেটা একটু শক্ত হয়ে গেছে।
বেগুন ভাজা,ইলিশ ভুনা, চিংড়ির দোপেঁয়াজা ,রুই মাছের কারি ও ডিম কোর্মা মোটামুটি ঠিকঠাক ছিল।
সবাই খেয়ে ভালো বলেছে ।
কিন্তু আমি খেয়ে বুঝতে পারলাম আমার রান্না মায়ের ধারের কাছেও ঘেঁষেণি।#চলবে
বিঃদ্রঃ আমার লেখা যদি আপনাদের ভালো লাগে তো লাইক ও আপনাদের মূল্যবান মতামত দিয়ে পাশে থাকবেন।
লেখায় ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন না হলে ভুলগুলো ধরিয়ে দিবেন।
গল্পটি পড়ার জন্য ধন্যবাদ সবাইকে।আগের পর্বের লিংক
13 Comments-
ধন্যবাদ #অভিমানী মন

Saifun nesa Shima
Housewife
Friends
Nahar moyna
@moyna
বিপুল চন্দ্র রায়
@sreebipulchondrorayraygmail-com
এমদাদ হোসেন
@emdad123
Jebunnesa jebu (জেবুন্নেছা জেবু)
@jebunnesa-jebu
TARIN
@tarin
Latifur-rahman-Pramanik
@latifur-rahman-pramanik
Md-Nadiruzzaman
@md-nadiruzzaman
Md. Habibur Rahman
@habib
তাওহীদ সুফিয়ান
@tawhidsufian


ভালো লাগলো প্রিয়