Profile Photo

Mamtaz HasanOffline

  • Mamtaz
  • Profile picture of Mamtaz Hasan

    Mamtaz Hasan

    4 years, 6 months ago

    ধরিত্রিকে টেকসই ও নিরাপদ করতে জলবায়ু পরিবর্তন রোধকরা খুবই জরুরী।আমাদের অস্তিত্বের স্বার্থেই পৃথিবীকে নিরাপদ করা প্রয়োজন।ইংল্যান্ডের গ্লাসগোতে বিশ্ব জলবায়ু
    সম্মেলন হল,ফলাফল আগের মতই কিছু চুক্তি কিছু সমঝোতা ও কিছু অংগীকার। এসবে এখন অবধি কোন কাজ হয়নি।

    কাজ না হওয়ার কারণ প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা বেশ কঠিন। তাই কেবল আলোচনা ও সমঝোতা হয়।জলবায়ু পরিবর্তন রোধ করতে পৃথিবীর তাপমাত্রার বৃদ্ধি রোধ করতে হবে। এটা করতে দরকার তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য দায়ী গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানো। গ্রীন হাউস গ্যাস(কার্বন ডাই অক্সাইড মিথেন জলীয় বাষ্প প্রভৃতি) নিঃসৃত হয় কয়লা পেট্রোলিায়ম পোড়ালে। আর এসব পুড়িয়েই উৎপাদন করা হয় বিদ্যুৎ।

    বিদ্যুৎ কমাবো কীভাবে! বিদ্যুৎ বর্তমান সমাজ সভ্যতার প্রাণ প্রদীপ।কৃষি শিল্প সেবা ব্যবসা বাণিজ্য সব চলছে বিদ্যুতে।মানুষের জীবনের প্রতিটি কাজ প্রতিটি দিনক্ষণ নির্ভরশীল বিদ্যুতের উপরে। এর চাহিদা ও্র উৎপাদন কীভাবে কমানো সম্ভব।

    বিকল্প আছে তবে সেগুলি এখনও কোন প্রতিযোগীতাতেই আসেনি।সোলার জলবিদ্যুৎ বায়ু বিদ্যুৎ পারমানবিক বিদ্যুৎ খুব কম। মুল ধারার( কয়লা,তেল) সমান সামর্থ্য অর্জন এখনো অনেক দেরী।

    প্রয়োজন ছিল একটি রোড ম্যাপের – কোন কাজটা কখন ও কীভাবে হবে,কোথায় কোথায় হাত লাগাতে হবে – ইত্যদি।এ ব্যাপারে সম্মেলন নিরব।মনে হয় তারা রোড ম্যাপ বলে কিছু জানেই না।হাত লাগাবে কীভাবে ,হাত খোলা থাকলেতো।

    গ্রীন হাউস গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইড কমনোর সবচেয়ে ভাল উপায় বন সৃষ্টি করা ও বন ধ্বংস রোধ করা।বনের গাছপালা কার্বন ডাই অক্সাইড খেয়ে ফেলে।দেশে কেবলি বন উজার হচ্ছে।ছোট দেশ প্রচুর জনসংখ্যা;দরকার বেশী আবাসন বেশী খাদ্য বেশী শিল্প.সবকিছু বেশী বেশী দরকার।তাই বন উজাড় হচ্ছে। এছাড়া অবৈধ দখলকারীরাতো রয়েছেই।স্বল্প আয়তনে সব প্রয়োজন মেটাতে তাই দরকার একটি সুচারু পরিকল্পনা। গোটা দেশের স্থলভাগকে বিবেচনায় নিয়ে আগামী একশত বছরের কথা মাথায় রেখে একটি পরিকল্পনা করা প্রয়োজন যেখানে নির্দিষ্ট থাকবে আবাসন চাষবাস শিল্প বন বাজারঘাট প্রভৃতির এলাকা। কেউ এর পরিবর্তন বা ব্যতিক্রম ঘটাবেনা। কেবল তাহলেই মিটতে পারে বনের প্রয়োজন।কেবল বন কেন অন্যান্য বিষয়ের প্রয়োজনগুলোও মিটবে।পুরো দেশকে এভাবে একটি শৃংখলায় আনা ছাড়া ভবিষ্যতের চাহিদা মেটানোর অন্য কোন উপায় নাই।এজন্য দরকার সামাজিক অংগীকার মানুষের ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা।

    সম্মিলিত প্রয়াস ও সামগ্রিক ব্যবস্থার কথা উঠলেই অনেকে চোখ কপালে তোলেন-এটা কীভাবে সম্ভব! অথচ পঞ্চাশ বছর আগে আমরা এর চেয়েও অনেক শক্ত কাজটি সম্পন্ন করেছি।তখন প্রবল প্রতিপক্ষ ছিল। এখন প্রতিপক্ষ কারা? প্রচলিত জীবন দর্শনের কারণে আমরা পুর্বের নৈতিক -সামাজিক অবস্থান থেকে অনেকটা সরে গেছি।বিচ্যুতি কতটা তাও বোধ হয় অনুধাবন করিনা। এখন সময় আগের ঐক্যের সামাজিক অবস্থানে ফিরে যাওয়ার।

    সামগ্রিক পরিকল্পনা ছাড়াও আরেকটি দুঃসাধ্য কাজ সমাধা করতে হবে।প্রচলিত জীবন ধারা ও জীবন দর্শনের পরিবর্তন দরকার। বর্তমান সভ্যতাকে মনে হয় বর্তমান বাজার ব্যবস্থার একটি অতি বিকশিত রুপ।এই ব্যবস্থা নানাভাবে প্রয়োজন সৃষ্টি করে সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষকে ছুটিয়ে নিয়ে চলেছে।যদি মানুষ এভাবে না ছোটে চাহিদাকে সীমিত রাখে,অন্য কথায় প্রচন্ড ভোগবাদী ও পণ্যবাদী জীবন ধারাকে এড়িয়ে চলে তবে যনত্র ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমবে,কমবে গ্রীন হউস গ্যাস।পৃথিবী ভালো থাকবে।

    বর্তমান সভ্যতা ও অর্থনীতি পৃথিবী দখল করে ফেলা কিছু কোম্পানীর চারণ ক্ষেত্র হয়ে পড়েছে যেন। অনেক দেশে ক্ষমতাবান শ্রেণী এইসব কোম্পানীর অনুসারী -শিষ্য -সুফলভোগী।দীর্ঘকালের চর্চা। তাই হুটহাট পেছানো সম্ভব নয়,সবাই অসুবিধায় পড়বে।তাছাড়া ক্ষমতাবানদের পিছনে ব্যবসাখাতের বিনিয়োগও অনেক।কে কাকে ছাড়বে আর কীভাবেই বা ছাড়বে বুঝে
    উঠতে পারেনা। তাই কোন সিদ্ধান্তও নিতে পারেনা,কেবল আলোচনা ও সমঝোতা হয়। তারপর আবার সবাই মিলে সবকিছু ভুলে যায়।সামগ্রিক বিষয়টা নিশ্চই এত সরল নয়,আরো নানা ব্যবসায়িক ও ক্ষমতাকেন্দ্রিক হিসাব নিকাশ আছে।

    যার যত হিসাব নিকাশই থাকুক না কেন সমুদ্র পৃষ্ঠের জলের উচ্চতা কিছুটা বেড়ে গেলে সাগরের বুকে দাঁড়িয়ে থাকা দ্বীপদেশগুলির ডুবে যাওয়ার আশংকা, বাংলাদেশের ্একুশটি জেলার তলিয়ে যাওয়ার ভয় , অনেক দেশে সিডর আম্পান প্রভৃতির নিয়মিত আঘাত, সমভুমির মানুষদের কৃষিখাত সহ জীবন যাপনে বিপর্যয় ,ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন দেশে লাগাতার দাবানল ও প্রচন্ড তুষারপাত ,মেরু অঞ্চলের বরফ গলে যাওয়া সহ নানাভাবে জলবায়ু পরিবর্তন তার করাল থাবা বিস্তার করে চলেছে।এবং তাগিদ দিচ্ছে হাতে সময় নেই দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

    যারা ব্যবস্থা নিতে কালক্ষেপণ করছেন তাদের বিষয়েও চিন্তা ভাবনা করার তাগিদ আছে এই পরিস্থিতির মধ্যে।এটা যেন বলছে রাজনীতিবিদদের হাতে সবকিছু ছেড়ে দেয়া যাবেনা তাদের মুখটা জনগণের দিকে হলেও মাথাটা কোম্পানীর দিকে।মানুষের স্বতন্ত্র মঞ্চ দরকার,স্বতন্ত্র উদ্যোগ দরকার।

    9
    4 Comments
Skip to toolbar