Profile Photo

মোর্ত্তূজা সুমনOffline

  • mourtuzasumon
  • জারিয়ানের মাস্টার্সের থিসিসের কাজ করতে হচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে থিসিস জমা দিতে হবে। রাত জেগে কাজ করতে করতে মাথা দপ দপ করছে। অনেক টেনশনের সময় একটা সিগারেটে ধরিয়ে কিছুক্ষণ পায়চারি করলে নাকি টেনশন কমে। জারিয়ান রাস্তায় বের হয়ে একটা সিগারেট ধরাল। রাস্তায় দু একটা কুকুর ছাড়া আর কাউকেই দেখা যাচ্ছে না। কুকুর গুলোও জারিয়ানের পিছে পিছে হাঁটছে কিন্তু কোন আওয়াজ করছে না। রাতের কুকুর গুলো নাকি লোক চেনে কে চোর আর কে সাধু। তারা লোক বুঝে ঘেউ ঘেউ করে। আশ্বিন মাস ভালই গরম পরছে। রাস্তায় একা একা হাটতে জারিয়ানের ভাল লাগছে। কুকুর গুলোও জারিয়ানের পিছু ছাড়ছে না তারাও জারিয়ানের সাথে পায়চারী করছে।

    রাত তিনটা চারিদিকে শুনশান নীরবতা। রাস্তায় ল্যাম্পপোস্ট গুলোতে আলো জলছে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় ল্যাম্পপোস্টের নিচে কুয়াশা পরছে। জারিয়ান দূর থেকে লক্ষ্য করছে ল্যাম্পপোস্টের নিচে কে যেন কিছু একটা খুলছে।

    জারিয়ান একটু ভয় পেয়ে পরক্ষনেই মনস্থির করল ভয় পাওয়া ঠিক হবে না। কারণ সাইকোলজিতে একটা কথা আছে ভয় পেলে শুধু ভয় বাড়তেই থাকে। ভয়কে ফেস করতে হয় তাহলে সেটা আর ভয় থাকে না। সে মনে মনে ঠিক করল লোকটার সাথে কথা বলবে।

    -সামনে আসতেই লোকটা একটু থতমত খেল।
    -জারিয়ান পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য বলল ভাই কি করেন এত রাতে?
    -লোকটির স্বাভাবিক উত্তর খুলি
    -কি খোলেন?
    – দান বাক্স খুলি
    – ও আচ্ছা। আপনার নাম কি?
    – জগলু
    -তা জগলু ভাই বাক্সের মধ্যে কি?
    -ট্যাকা
    – কয় টাকা জগলু ভাই
    – ভাই বেশি না সাতশ টাকা। এই বাক্সটা অনেক দিন পরে খুললাম।
    – এই টাকা কি আপনার?
    – হ ভাই
    – তো আপনি কি কাজ করেন?
    – সংযোগ স্থাপন করি ভাই, সংযোগ
    – কিসের সংযোগ?
    – আল্লাহর সাথে বান্দার
    – মানে কি? কি ভাবে করেন?
    – এই দান বক্সের মাধ্যমে
    – দান বক্সের মাধ্যমে আল্লাহর সাথে বান্দার সংযোগ। কি ভাবে?
    – জগলু বলল ভাই আপনারে ভাল লাগছে। আমার আবার সাবাইকে ভাল লাগে না। কিন্তু আপনারে ভাল লাগছে।
    – এই সকল নিশাচর মানুষগুলো হয় খুবই ধুরন্ধর এরা খুব সহজেই অন্য কে হিপনোটাইজ করতে পারে। সে কথার জাদুতে জারিয়ানকেও হিপনোটাইজ করার চেষ্টা করছে।
    – তো জগলু ভাই বলেন কি ভাবে সংযোগ স্থাপন করেন?
    – শোনেন ভাই, মানুষের অভাবের শেষ নাই। তাদের মনে অনেক আশা, অনেক বাসনা, কেউ টাকা পেতে চায়, কেউ রাতারাতি ধনি হতে চায়। কেউ তার প্রেমিককে পেতে চায়, কেউ মামলা মকোদ্দমা জিততে চায়। কেউ বেহেস্ত পেতে চায়, কেউ আবার মানত করে। মানুষের চাওয়ার শেষ নাই। এই যে এত এত চাওয়া এইগুলো কিন্তু কেউ মানুষের কাছে চায় না। এই দান বাক্সের মধ্যে কিছু টাকা দিয়ে, আল্লাহ কে টাকার লোভ দেখায়ে তাঁদের মনের বাসনা পুরন করতে চায়। আমি তাঁদের এই বাসনা পুরন করার দায়িত্ব নিছি মাত্র।
    – ত কিভাবে এই দায়িত্ব নিছেন ভাই।
    – তেমন কিছু না। বাজার থেকে দশটা দান বাক্স বানাইছি। দান বাক্সের উপর লিখছি মির্জাগঞ্জ মরহুম ইয়ার উদ্দিন খলিফা, দান বক্স। এই দশটা দানবক্স দশ জায়গায় শিকল দিয়ে আটকায় রাখছি। আমার কাজ হল প্রতি রাত তিন টার দিকে যখন কেউ না থাকে তখন বাক্সগুলো খুলি টাকাগুলো নিয়ে আবার বাক্স আটকায় দিই।
    – ত জগলু ভাই কি রকম ইনকাম হয়।
    – ভাই আপনাদের দোয়ায় ভালই ইনকাম হয়। প্রতি বক্সথেকে প্রতিদিনই দুই তিনশো টাকা আয় হয়। দশ বক্স থেকে গড়পড়তায় দুই হাজার টাকা আয় হয়।
    – জগলু ভাই আপনারত মাসে প্রায় ষাট হাজার টাকার মত ইনকাম।
    – ঠিক অতনা কমবেশি হয় আরকি। আগে খুব টানাটানি ছিল, এখন আর নাই। ব্যবসাটায় পুঁজি কম কিন্তু লাভ বেশি।
    – এতে মানুষের মনের আশা কি ভাবে পুরন হয়?
    – তা জানি না। তবে পুরন না হলে কি কেউ দান বক্সে টাকা দেয়। ভাইজান শোনেন টাকা ইনকাম করতে বুদ্ধি লাগে। শুধু পরিশ্রম করলেই টাকা ইনকাম করা সম্ভব না। আর বাঙ্গালিদের একটু লোভ দেখালে এরা সব খায়। দেখেন না ইভ্যালি, ডেসটিনি, যুবক, ই-অরেঞ্জ। আর ধর্মের কথা বলে তো গো-মুত্র, উঠ-মুত্রও খাওয়ানো সম্ভব।
    – ভাইজান একটা সিগারেট খাবেন।
    -হুম, আপনার কথা শুনে আমার মাথা ভারি হয়ে আসছে।
    – জগলু ভাই আপনি কি বেনসন সিগারেট খান।
    – হ ভাই। আগে বিরি খাইতাম। এখন বেনসন খাই।
    – জারিয়ান সিগারেটে টান দিতে দিতে ভাবছে এই জগতে অনেক কিছুই শেখার আছে। জারিয়ানের পিছে পিছে কুকুর গুলোও হাঁটছে।

    বিঃদ্র- কারো ব্যবসার সাথে মিলেগেলে লেখক দায়ি নয়।
    মোরাল অব দ্যা স্টোরিঃ আমাদের চারপাশে বাজারে, ব্রিজে, রাস্তায় রিক্সার গ্যারেজের সামনে এরকম হাজার হাজার ইয়ার উদ্দিন খলিফা সহ অন্য অনেক দান বক্স ঝুলানো। প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এই দান বক্স গুলো অবিলম্বে খুলে ফেলা হোক।

    #Mourtuza_sumon

    5
    3 Comments
    • রাস্তায় এরকম দানবাক্স দেখে আমারো মাঝে মাঝে সন্দেহ হতো। আপনার লেখায় সে ব্যাপারটারই সত্যতা ফুটে উঠেছে। ভালো বিষয় নিয়ে লিখেছেন।

    • ছাত্র জীবনের গল্প। অভিনন্দন।

    • দারুণ লাগল জগলু ওস্তাদের কাহিনী। আশা করি নিয়মিত আপনার লেখা পড়তে পাব। শুভেচ্ছা নেবেন।

Skip to toolbar