Profile Photo

Shah KamalOffline

  • kuriparahs112384
  • Profile picture of Shah Kamal

    Shah Kamal

    4 years, 8 months ago

    গল্প
    ———
    মাস্ক
    — শাহ্ কামাল

    শেষ বিকেল। ক্ষীণ হয়ে যাওয়া সূর্য ডুবলো কি ডুবলো না তা বোঝবার উপায় নেই। ইটের শহরে সূর্যের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়, উদয়োস্ত বোঝা দায়। বন্ধুদের চায়ের আড্ডা কলেজ রোডে সমাপ্তি করে সান্ত্বনা মার্কেটের সামনে দাঁড়িয়ে আছে সোয়াদ।

    কারো জন্য একটু সামনেই অপেক্ষা করছে ছোঁয়া। সালোয়ার-কামিজ পরা ছোঁয়ার হাতে একটা পার্স। ওড়নাটা ঘোমটা করা হলেও ভাব-ভঙ্গি দেখে সহজেই অনুমান করা যায় সে শহুরে। হাতের কব্জি পর্যন্ত ঢাকা কামিজ। হাত ঘড়িটা তাঁর চলার সৌন্দর্য বাড়িয়ে তুলেছে। মুখে মাস্ক পরা বলে চেহারার পূর্ণ সৌন্দর্য না বোঝা গেলেও কপাল, চোখ আর ভ্রুর দিকে তাকালে বোঝা যায় সে অপরূপা সুন্দরী।

    সোয়াদ বার বার ছোঁয়ার দিকে তাকাচ্ছে। রাষ্ট্র বিজ্ঞানে এ বছর তাঁর অনার্স শেষ হবার কথা। ক্লাস নাইনে পড়ার সময় এক মেয়েকে প্রেমপত্র দিয়ে নাজেহাল হবার পর কাউকে ভাল লাগলেও সাহস করে তা আর বলা হয়নি কখনো। ছোঁয়াকে দেখে আজ তাঁর পা সড়ছে না। পাঁচ ফুট নয় ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের সোয়াদ দেখতে মন্দ না। জিম করার অভ্যেস না থাকলেও সে আপাদমস্তক ফিটফাট। মোবাইল দিয়ে সেলফি তোলার ফুরসতে সে ছোঁয়ার ছবি তোলার চেষ্টা করছে। পারছে না। মেয়েটি ওদিক ওদিক তাকাচ্ছিল। করোনার ধকল শেষে জনজীবন স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও মাস্ক পরার জন্য সরকারি বিধি নিষেধ আছে। কিন্তু সোয়াদ মাস্ক পরেনি। ছোট বাচ্চাদের লোলদানির মতো গলায় তাঁর মাস্ক ঝোলানো।

    হাঁটি হাঁটি পা পা করে সোয়াদ একটু এগিয়ে ছোঁয়ার কাছাকাছি দাঁড়ালো। পাশে না, পিছনে। তাঁর মনে নানান ভাবনা। মেয়েটিকে আগে কখনো দেখিনি। এ শহরেই থাকে মনেহয়। চোখ বলছে সে খুব সুন্দর। কী মায়াবী চোখ! মন দিয়ে দেখলে যে কেউ প্রেমে পড়ে যাবে।
    ছোঁয়া কাউকে খুঁজছে মনে মনে। বার বার এদিক ওদিক তাকাচ্ছে। পিছনে ফিরে তাকাতেই চোখ পরলো সোয়াদের দিকে। দুজনের চোখ দুজনের দিকে। ভাব বিনিময়ের চাহনি না হলেও এ চাহনি ভাবের সাগরে তৃষ্ণার্তকে ডোবায়। ছোঁয়া চোখ ঘুরিয়ে সামনে দৃষ্টি দিয়ে দাঁড়ালেও সোয়াদ সেখানেই ঠায় দাঁড়িয়ে। তাঁর ভাবনার বিস্তৃতি মগজে ছড়াচ্ছে। সাগর বেলায় ঢেউ যেমন আছড়ে পড়ে তেমনি বার বার ছোঁয়ার তাঁর বুকে আছড়ে পড়ছে। এ জীবনে কতো মেয়ে চোখের সামনে পড়লো। কারো জন্যই এমন লাগেনি। আজ কী হলো? তাঁর নামটা অন্তত জানা চাই। কিভাবে? কাউকে ভাল লাগলে হুট করে তো আর বলা যায় না। চোখের একটা ভদ্রতা আছে। আগে নামটা জানতে হবে। সাহস করে সে ছোঁয়ার পাশাপাশি দাঁড়ালো। এমন সময় ছোঁয়ার মোবাইলে একটা কল এলো। সে কলটা রিসিভ করে বলল, ওয়ালাইকুম আসসালাম।
    সে কার সাথে কথা বলছিল বোঝা যাচ্ছিল না। পরক্ষণেই ছোঁয়া বলল, আমি সান্ত্বনা মার্কেটের সামনে। তোর জন্য অপেক্ষা করছি। জলধি আয়।

    মোবাইল রেখে সে দাঁড়িয়ে। সোয়াদ ওর কথা শুনে ভাবলো ও কোন বন্ধু-বান্ধবের জন্য অপেক্ষা করছে। ওর কণ্ঠও চোখের মতো মায়াবী। বুকে লাগে। অবশ্য বিয়ের পূর্বে ভাল লাগার মানুষের সবকিছুই বিশেষভাবে ভাল লাগে। সোয়াদ হিসেব কষছে কিভাবে ছোঁয়ার সাথে একটু কথা বলা যায়। উপায় খুঁজে পাচ্ছে না। এ উপায় যে একা খোঁজবার নয় তা ও জানে না। ছোঁয়ার সৌন্দর্যে সব ভুলে আছে। প্রেমের শহরে পছন্দ নিজের কিন্তু উপায়ের চাবি বন্ধু-বান্ধবের হাতে। একা প্রেমে মৌলিকতা আছে, যন্ত্রণার ভার বেশি। সোয়াদের হিসাব মিলছে না। সে ডান হাতে মোবাইলটা উপরের দিকে তুলে সেলফি তুলতে চেষ্টা করলো। সেলফিতে পূর্ণরূপে না হলেও ছোঁয়া আংশিকভাবে থাকবে বলেই সেলফি তোলার চেষ্টা। পারলো না। ছোঁয়া বিষয়টি বুঝতে পেরে অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়ালো।

    রিক্সা থেকে একজন মেয়ে নামলো ছোঁয়ার সামনে। বয়স হবে আঠারো মতো। আড়ং এর একটি শপিং ব্যাগ ওর হাতে। চুলগুলো লম্বালম্বি ঝুলছে। মাথায় ঘোমটা নেই। ওড়না একদিকে সামনে পিছনে ভাজ হয়ে ঝুলছে। মুখে মাস্ক। রিক্সা হতে নেমেই সে ছোঁয়ার পাশে এসে দাঁড়ালো। ছোঁয়া বলল, এতো দেরী কেন, তোর? চল, সামনের দিকে।
    – চা খাবে না? তুমি তো এখানে তেঁতুল চা খাও।
    তাঁরা দুজনে পাশে চায়ের দোকানের দিকে যাচ্ছে।

    সোয়াদ কিছু বুঝতে পারছে না। একজন বলছে তুই আরেক জন তুমি করে। ওর ভাবনায় যেন ছেদ পড়ে। ও তাদের পিছু পিছু এগুতে থাকে। চায়ের দোকানের সামনে গিয়ে ছোঁয়া যখন মাস্ক খুলল ওর দিকে তাকাতেই সোয়াদের মাথায় বাজ পড়লো। এতক্ষণ সে যার ভাবনা ভেবে কল্প-সমুদ্রে সাঁতার কাটছিল সে তো তার মায়ের সমবয়সী। মাস্কের জন্য বয়স বোঝার কোন উপায় ছিল না।

    পাশের মেয়েটি চা দোকানদারকে বলল, আম্মু ঝাল বেশি খায়। মরিচটা বাড়িয়ে দিয়েন।

    মেয়েটির কথা শুনে সোয়াদের ধোঁয়াশা কাটলো। ছোঁয়া তাঁর মেয়ের সাথে তেঁতুল চা খাচ্ছে।

    সোয়াদ মুচকি হেসে তাঁর মাস্কটা মুখে আটকে ডান হাতে মাথার চুল ভাঁজ করতে করতে সামনের দিকে এগিয়ে যায়।

    13
    6 Comments
Skip to toolbar