Profile Photo

Md ZishanOffline

  • Md-Zishan
  • Profile picture of Md Zishan

    Md Zishan

    4 years, 6 months ago

    ।।লেবাস।।
    ———————————————
    ঘন্টা খানেক হলো,রাফিন মেডিকেল কলেজ থেকে আসল। আজ কার্ড ফাইনাল পরীক্ষা তারপর ক্লাস সব মিলিয়ে বেশ ক্লান্ত।

    এ ঘন্টা খানেক , শুধু কাজের মতো কাজ করেছে, দুপুরের খাওয়া আর নামাজ টুকু , বাকি সময় টুকু মোবাইল এ দিয়েছে।

    যেই না, মোবাইল রেখে মাগরিব এর সালাত পড়তে যাবে, এমনি একটা মেসেজ আসতেই ,রাফিনের মনটা খুবই বিগড়ে গেলো।

    মেসেজ টি এসেছে, তার কাছে না বরং তার ছোট বোন স্নেহার কাছে।

    স্নেহা ক্লাস নাইনে পড়ে। বেশ কিছুদিন হলো , রাফিনের নিকট আবদার করছে, একটা ফেসবুক একাউন্ট খুলে দেওয়া জন্য। আর, আবদার করবে নাই বা কেন? মা-বাবার বাইরে আপন কেউ বলতে তো ,ওর বড় ভাই রাফিন ই ।স্নেহা আর রাফিন পিঠাপিঠা না হলেও, ওদের খুনসুটি , ঝগড়া আর কথাবার্তায় বরাবরই যেকেউ পিঠাপিঠি ভাই বোন ই মনে করবে। তাই হয়তো, রাফিনের নিকট ওর আবদার একটু বেশিই।

    রাফিন ও কি আর ছোট বোনের আবদার ফেলতে পারে!

    ব্যাক্তি জীবনে , রাফিন থেকে স্নেহা অনেক বেশি ধার্মিক,যদি ও বয়সে রাফিন থেকে বছর পাঁচেক ছোট। যদিও ওর দ্বীন সম্পর্কে জানার হাতেখড়ি হয়েছিল রাফিনের হাতে।

    স্নেহার ফেসবুক প্রোফাইল এ , বেছে বেছে কয়েকজন পরিচিত ফ্রেন্ড এবং অপরিচিত দ্বীনি কয়েকটি আইডি রাফিন এড করে দিল। বেশ ভালো ভালো পেইজ এ লাইক ও দিয়ে দিল।যাতে, স্নেহার সম্পূর্ণ ফেসবুক জুড়ে একটা দ্বীনি পরিবেশ বজায় থাকে।

    বেশ ভালোই চলছিল সব।
    কিন্তু হঠাৎ, আজ রাফিন দেখলো স্নেহা কে “ইত্তেবায়ে সুন্নাহ” নামে একটি আইডি থেকে “hi”
    লিখে মেসেজ পাঠালো।

    রাফিন তো দেখার সাথে সাথে রেগে আগুন । আগুন হয়ে , আইডি টাকে ব্লক করে দিলো। অথচ,সে নিজেই স্নেহার ফেসবুকে ঐ আইডি কে এড করেছিলো ,দ্বীনি আইডি মনে করে।

    স্নেহা দেখার আগেই, রাফিন ঐ আইডি কে ডিলেট করে দিলো।

    এভাবে, এ নেট দুনিয়ায় দ্বীনের লেবাসে কত যে ভন্ড ছড়িয়ে আছে, আল্লাহ্ মালুম।
    রাফিন এসব ভাবতে ভাবতে নিজের উপর খুব রাগ হয়, তার খুব করে ইচ্ছে করে এসব ভন্ডদের মুশোখ টেনে ছিঁড়ে ফেলতে।

    মুছে ফেলতে চাই পরিশুদ্ধ দ্বীনের সাথে লেবাসে থাকা সব কালিমা।

    হঠাৎ, রাফিনের মনে পড়ে যায়, কোনো এক লেকচার এ শুনা একটা হাদিস এর কথা,
    রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজ বুকের দিকে আঙ্গুল নির্দেশ করে, তিন বার বলেছেন,
    “আত তাকওয়া হা’ হু’না”
    ভাবার্থ: তাকওয়া এখানে (বুকে)।

    আসলেই, তাকওয়া(আল্লাহ্ ভীতি ) মানুষের পোশাকে নয় বরং মানুষের অন্তরে থাকে। আল্লাহ্ আজ্জাওজাল্লাহ্ আমাদের বাহ্যিক এবং অভ্যন্তরীণ উভয় দিক দিয়ে দ্বীনের উপর চলার , বুঝার এবং মানার তৌফিক দান করুন। (আমিন)

    ছোটগল্প—১
    নাইম জামান জিসান।
    এম.বি.বি.এস- ১ম বর্ষ,
    ১ই রবিউস সানী,
    চট্টগ্রাম।

    4
    1 Comment
    • স্বাগত জানাই লেখক মনের সুন্দর ভাবনাগুলোকে। শুভেচ্ছা নেবেন।

Skip to toolbar