-
একজন মজিদ মিয়া এবং আমি
মজিদ মিয়া কে আমার
ভাল্লাগে ,লঞ্চের ভেতর এক হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে মজিদ মিয়া যখন ভাবলেশহীন মুখে উচ্চারণ করে -“চুইদা দিছেরে ” ; তখন সাঁতার না জানা ভয়ার্ত আমি এক নিমিষেই ভয় ভুলে হেসে দিতে পারি ,মজিদ মিয়াকে একটা সিগারেট অফার করে বসি ,মজিদ মিয়া সরু চোঁখে তাঁকিয়ে দেখে এবং ফিক করে হেসে ফেলে বলে -“ভয় পাইছো বাজান ?”তাঁর কাঁচাপাকা দাঁড়ির ভেতর থেকে ‘বাজান’ শব্দটা আমাকে চকিত করে ,একটু আগেও বুকের ভেতর সব কিছু শূন্য হয়ে যাচ্ছিল ,কল্পনাই গহীন পানির ভেতর বাতাস হীনতা কতটা কষ্ট দায়ক হতে পারে সেই ভাবনায় আমার হাটু অবশ হয়ে আসছিল এবং জীবনের শেষ সিগারেট টানার জন্যই আমি নিচে নেমে এসেছিলাম …
পদ্মার বুকে এপার থেকে ওপার যাবার জন্য ছোট লঞ্চ মাঝ নদীতে তাঁর ইঞ্জিন গেল থেমে আর তীব্র স্রোতে ক্রমাগত পাক খেতে থাকলে -লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ,আল্লাহ আকবর ধ্বনীর সাথে যখন বাতাসের শব্দ মিশে যেতে থাকলো ,আর দূর আসমানে এই শব্দ পৌঁছতে পারবে না জেনেই- আমার প্রবল সিগারেটের তেষ্টা পায় …
সেই সময় মজিদ মিয়ার চোঁখ ভরা উপহাস দেখে আমি চমকে উঠি ,মাঝ নদীতে প্রায় ডুবন্ত লঞ্চের হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে মৃত্যুকে উপহাস করা আমার ভাল্লাগে । সব কিছুর পরিসমাপ্তি তেও আমারা কি সুন্দর যৌনতা কে টেনে আনতে পারি ,চুইদা দিছে মানে সব খতম ,যেন ওই কর্ম করে ফেললেই আমাদের আর কিছু করার থাকে না ; এবং মজিদ মিয়াকে এই আসন্ন জীবনের পরিসমাপ্তির সম্ভাবনা কে রতি ক্রিয়ার প্রচলিত শব্দে বর্ণনা করতে দেখে – আমি যেন এক লহমায় -বাঙালী জাতের মনন কেই দেখে ফেলি …
মজিদ মিয়া সেই মুহূর্তে একজন দার্শনিক হয়ে যায় ,এবং সক্রেটিস এর সাথে তাঁর আকার গত মিল আমাকে বিমোহিত করে ,এক পুরো জীবন কে দেখে ফেলে মৃত্যুর সামনে দাঁড়িয়ে কি অবলীলায় মৃত্যু জীবন কে নিয়ে খেলা করে ঠিক যেন রমন ক্রীড়ার মতোই অশ্লীল কিন্তু সত্য এবং আনন্দদায়ক । মজিদ মিয়া যেন আমার দার্শনিক পিতা । তাঁর বাজান ডাকে মৃত্যুর দিকে পিছন ফিরে জীবনের দিকে তাকাতে আমি বাধ্য হই কিংবা সে আমাকে বাধ্য করে ।
লঞ্চ যখন ঘাটে ফিরল তাঁর আগেই আমি তাঁর নাম জেনে নেই ,এবং লঞ্চ থেকে নামতেই এক জেটি মানুষের ভিড়ে আমি আর কিছুতেই মজিদ মিয়াকে খুঁজে বের করতে পারিনা …এবং এখনো জীবন যখন ক্রমশ অর্থহীন হতে থাকে ,এবং মৃত্যুকে রমন কাতর পুরুষের মত এগিয়ে আসতে দেখি – তখনই আমি শুনতে পাই “ভয় পাইছো বাজান” ।
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 30 March 2023 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 09 October 2024 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
-
তুলটের পক্ষ থেকে অজস্র অভিনন্দন। আপনার এই লেখাটি আজ 23 July 2025 তারিখে ‘এডিটর’স চয়েস’ হিসাবে নির্ধারিত হয়েছে। আজ সারাদিনের জন্য এই লেখাটি লেখকমঞ্চের সকল সদস্যের দেয়ালে (বন্ধু/অবন্ধু নির্বিশেষে) প্রদর্শিত হবে। তুলটে আমাদের সাথে থাকার জন্য এবং আপনার চমৎকার কোয়ালিটির লেখা শেয়ার করে মঞ্চকে একটি সমৃদ্ধ স্থান হিসাবে গড়ে তোলাতে আপনার অবদানের জন্য আমরা কৃতজ্ঞ ও আনন্দিত!
Friends
সাকেরা মজুমদার
@shakera
Shomik Adhikary Nandon
@shomikadhikarynandon
Neel tripura
@neel
Drako Shajib
@drako
মোহাম্মদ আফজাল হোসেন মাসুম
@afjalhossain
হাবিবুল্লাহ
@habibulla
জাহিদ বিন হিকমত
@zahidbinhikmot
আলতাফ হোসেন
@hossainaltafbd
__ariyan__
@ariyan


সাঁতার জান বাবু? চমৎকার স্মৃতিকথা। সাবলিল গদ্য। অভিনন্দন।