-
২০ মিন ধরে জ্যামে আটকে আছি।রিক্সায় বসে বসে চুল ছিড়া ছাড়া কোন উপায় নেই।চুলের কথা মনে পরতেই মাথায় হাত দিলাম। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় চুলে জেল দিয়ে সুন্দর করেরে স্টাইল করে এসেছিলাম।কিন্তু এখন মনে হচ্ছে তেলের সাথে পানি মিশিয়ে মাথায় ঢেলে দিয়েছে কেউ।এই গরমে কালো শার্ট পরে আমার জান যায় অবস্থা। প্রখর রোদ জেনেও আজকে ইচ্ছে করেই কালো শার্ট টা পরে আসছি।কারন ইনায়াতের কালো শার্ট খুব পছন্দ।আমাকে নাকি কালো শার্ট পরলে খুব মানায়।ইনায়াতের সাথে দেখা করার কথা ছিল ১১টায় এখন বাজে ১০:৫০।এই পর্যন্ত যতবারই দেখা হয়েছে ইনায়াত আমার আগেই হাজির হয়েছে।সবাই বলে মেয়েরা নাকি কোথাও যাওয়ার আগে দুই ঘন্টা সাজবে তারপর একঘন্টা পিক তুলে ফেসবুকে আপলোড দিবে তারপর বাসা থেকে বের হবে।কিন্তু ইনায়াতের বেলায় উলটা।দেখা করার দিনে সবসময় সে সময়মতো হাজির হয়েছে। প্রতিবার আমারই কোন না কোন ভাবে দেরী হয়ে যায়। ইচ্ছে ছিল আজকের দিনটা অন্তত আগে যাব।কিন্তু শালার জ্যামের জন্যে মনে হচ্ছে আজকের দিনটাও ভেস্তে যাবে।মনে মনে আল্লাহর কাছে চাইছি আল্লাহ আগে না হোক অন্তত টাইমে যাতে যেতে পারি।দেখলাম জ্যাম ছুটে গেছে। মনে মনে আল্লাহকে শুকরিয়া জানিয়ে রিক্সাওয়ালা মামাকে বললাম
-মামা জলদি চলেন
রিক্সাওয়ালা প্যাডেল দিতে লাগল জোরে জোরে। কিন্তু বলে না অপেক্ষার প্রহর কাটে না।আমি বার বার রিক্সাওয়ালাকে তাগাদা দিতে লাগলাম জোরে চালানোর জন্যে।হুট করে রিক্সাওয়ালা রিক্সা থামিয়ে দিলেন।এক রাশ বিরক্তি নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম
-কি হল মামা?আপনাকে জোরে চালাইতে বললাম আর আপনি রিক্সা থামিয়ে দিলেন কেন?
রিক্সাওয়ালা চোখ মুখ কুচকে বলল
-মামা এইডা রিস্কা।হেলিকাপ্টার না যে উইড়া নিগামু আপ্নারে।মন চাইলে চলেন না চাইলে অইযে হেলিকাপ্টার(আকাশের একটা হেলিকপ্টার উড়ে যাচ্ছিল সেইটা দেখিয়ে) হেইডাতে চইড়া যান।রিক্সাওয়ালার কথা শুনে আর কিছু বলতে পারলাম না।এমনি দেরি হয়ে গেছে যদিও আর রাস্তা বেশি নেই কিন্তু হেটে যাওয়া সম্ভব না। মুখ গোমরা করে বললাম
-আচ্ছা মামা চলেন।রিক্সাওয়ালা মনের সুখে টানতে টানতে দুই মিনিটের রাস্তা পাচ মিনিটে পারি দিলেন।ভাড়া মিটিয়ে পার্কে ঢুকে দেখি ইনায়াত আসে নি এখনো। যাক বাবা বাচা গেল। আজকে অন্তত ভাব নিতে পারব যে আমি আগে এসেছি।পার্কের বেঞ্চটাতে বসে চুল ঠিক করছি কেউ একজন আমার পাশে বসে বলল
-তুমি কি সারা জীবন লেটুস পাতা থেকে যাবা?আজকের দিনটা কি একটু তাড়াতারি আসা যেত না?
কন্ঠ শুনে বুঝলাম আমার পাশে বসা ব্যাক্তি আর কেউ না ইনায়াত ঘড়ির দিকে তাকিয়ে আমি বেলুনের মত চুপসে গেলাম কাটায় কাটায় ১৫মিন লেট। ভাবলাম আগে গিয়ে কোথায় একটু ভাব নিব তা আর হলো না।উলটো ম্যাডাম রেগে আছেন আজকে।অন্যদিন রাগ না করলেও আজকে কথাগুলোতে যে রাগ আর অভিমান মিশে আছে তা স্পষ্ট । থাকবেই বা না কেন।আজকের দিনটা যে স্পেশাল ।কথা ঘুরানোর জন্যে বললাম
-আরে ইনায়াত তুমি কখন এলে?
-পুরোপুরি ১১টায়।
কথাটা বলে ইনায়াত চুপ হয়ে গেল।কিভাবে ওর রাগ ভাঙাবো মনে মনে সেই ফন্দি আটতে লাগলাম।নীরবতা ভেঙে সেই আগে বলা শুরু করল
-আজ কোন অযুহাত দিলে না যে?দেরি কেন হল তোমার ফার্স্ট গার্লফ্রেন্ড নাকি সেকেন্ড গার্লফ্রেন্ড এর জন্যে?
(দেরি করে আসাতে একদিন ইনায়াতকে বলেছিলাম ঘুম থেকে উঠতে দেরী হয়ে গেছে।উঠে দেখি ফোনে চার্জ নেই।সেদিন থেকে ইনায়াত বলে ঘুম আমার ফার্স্ট গফ আর ফোন সেকেন্ড গফ।সেই থেকেই তার অভিযোগ সে আমার থার্ড গার্লফ্রেন্ড আর এই জন্যে নাকি আমি তার বেলায় অবহেলা করি)
-না মানে আজকে রাস্তায় জ্যাম ছিল তাই…
– থাক আর বলতে হবে না।
-সরি ইনা
-হু
-ইনা
-বল
-চলো না একটু হাটি।
-চলো
বলেই ইনা পা বাড়াল।
পাশে বসে থাকলেও আমি এতক্ষন ভালভাবে ওর দিকে তাকাই নি।আজকে হালকা গোলাপী রঙের একটা থ্রিপিছ পরেছে।কানে ম্যাচিং ছোট দুল,চোখে হালকা কাজল, ঠোটে হালকা গোলাপি লিপস্টিক পুরাই পিংক ওয়াইন লাগছে।পিংক কোন ওয়াইন হয় কিনা আমার জান নেই।কিন্তু ওকে যত দেখছি পুরো নেশা ধরে যাচ্ছে।এক দৃষ্টিতে ইনাকে দেখে আছি।যত দেখছি তত যেন কোন ঘোড়ের মধ্যে চলে যাচ্ছি।হাতে হঠাত টান পড়াত পিছনে ফিরে তাকালো।আমি হাটু গেড়ে ওর সামনে বসে আছি।হাতে ছোট একটা রিং বক্স।
-Happy birthday Ina.তোমার আরো ১০০টা বার্থডে এভাবে তোমার সাথে সেলিব্রেট করতে চাই।দিবে কি সেই সুযোগ?
ইনা হাতটা এগিয়ে দিল।আমি বিশ্বজয়ের হাসি দিয়ে রিংটা ওর হাতে পরিয়ে দিলাম।মনে মনে হালকা ভয় কাজ করছে ও যদি বুঝে যায়।ওর দিকে তাকালাম। ওকে দেখে মনে হচ্ছে না খুশি হয়েছে।রিংটা বিশেষ করে রিংএর উপরের পাথর টা খুটিয়ে খুটিয়ে দেখছে।
-রাজ
-হম বল
-আংটিটার দাম কত?
ওর প্রশ্ন শুনে আমি বিষম খেলাম।তোতলাতে তোতলাতে বললাম
-কেন ইনা কি হয়েছে?আংটিটা পছন্দ হয় নি?
আমার দিকে একবার আড় চোখে তাকিয়ে বলতে লাগল
-রাজ তুমি ভাল করেই জানো এত দামি গিফট আমার পছন্দ না।তারপরেও তুমি ডায়মন্ডের রিং কেন আনছ?
যা ভাবলাম তাই হল।আমি ভেবেছিলাম ইনায়াত বুঝতে পারবে না সে জন্যেই দোকানদারকে বলে সবচেয়ে ছোট পাথরের কিন্তু দামী আংটিটাই নিয়েছিলাম।কিন্তু ইনা যে এক দেখাতেই বুঝে যাবে এটা আমি কখনোই ভাবি নি।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বললাম
-ইনা কিসের ডায়মন্ড এটা তো….
-রাজ আমি ছোট বাচ্চা না যে ডায়মন্ড আর নরমাল পাথরের মধ্যে পার্থক্য বুঝবো না।
আমি হেসে বললাম
-বাদ দেও না ইনা প্লিজ।আমার তো পাচটা দশটা না একটা মাত্রই গার্লফ্রেন্ড তার জন্যে এতটুকু তো করতেই পারি।
-একটা না তোমার তিনটা গার্লফ্রেন্ড। আর আমি তিন নাম্বার।বলেই হাটতে লাগল।আমি দৌড়ে গিয়ে ওর হাত ধরে হাটতে লাগলাম।
-ইনা প্লিজ রাগ করো না।আচ্ছা বল তোমার কি বার্থডে গিফট চাই। আম সেটাই দিব তোমাকে।
-আমি যেটা চাইব সেটা তুমি দিতে পারবে না।
-পারব।আল্লাহ আমাকে সেই সামর্থ্য দিবেন ইনশাল্লাহ।যত দামই হোক তার আমি তোমাকে এনে দিব।
-উহু। পারবে না তুমি অনেক দামী
-আরে বাবা বলেই দেখ না।আমি যেখান থেকেই হোক তোমাকে এনে দিব।
চোখ সরু করে বলল
-পারবা তো দিতে?
-ইনশাআল্লাহ পারব(হাসি মুখে)
হঠাত করে আমার হাত দুটো দুই পাশে উঠিয়ে আমার বুকে ঝাপিয়ে পরল।ঘটনার আকস্মিকতায় আমি হতবাক।ইনায়ত কখনো আমাকে তার হাতটা ঠিক ভাবে ধরতে দেয় না।আমিও এই ব্যাপারে তাকে কখনো জোর করিনি।আজ সেই কি না আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে তাও এই ভর দুপুরে পার্কের মাঝে।
আমার বুক থেকে মাথা তুলে ইনায়াত বলল
-বলেছিলাম না দিতে পারবে না।প্রেমিকা বুকের মধ্যে কোথায় নিজের বাহুডোরে বন্দি করবে না উনি হ্যাবলা কান্তের মত দারিয়ে আছেন
ইনায়াতের কথা শুনে নিজেই কিছুটা লজ্জা পেলাম। সত্যিই তো মেয়েটা কত সাবলীলভাবে আমার বুকের মধ্যে হামলে পরল আমি অথচ তাকে জড়িয়ে না ধরে হা করে দাঁড়ায় আছি।মাথা চুল্কাতে চুলকাতে বললাম
-আরেকটা সুযোগ দেয়া যায় না কি?
আমার কথাটা শেষ হওয়ার আগেই সে আবার আমার বুকে মুখ লুকালো।আম পরম আবেশে তাকে নিজের করে নিলাম।
-একবার না হাজারবার সুযোগ দিতে রাজি।আমার শুধু তোমাকে চাই। আমার প্রতিটা বার্থডে তোমার সাথে কাটাতে চাই।তুমি আমার পাওয়া বেস্ট বার্থডে গিফট।
#বার্থডে গিফট
#আফরিন_ইনায়াত_কায়া5 Comments
Friends
Tariqul Sazzib
@tariqulsazzib
Kabi Doctor Mohammad Zakir Hossain Biplob
@zakir-hossain
অরন্য হিল্লোল
@oronnyohillol
নাজমুল হক জুয়েল
@nazmulhoqjewel
Dr. Shaheen Mahmud
@shaheen
Suhas Barnabash Gomes
@barnabash
তানভীর তীব্র
@tanvir3
Drako Shajib
@drako
Emotionless Rima
@emotionless-rima


খুব ভাল লাগল।