Profile Photo

Ally Jay KayOffline

  • @AllyJK
  • Profile picture of Ally Jay Kay

    Ally Jay Kay

    4 years, 6 months ago

    হাত
    অ্যালি জে.কে

    জুলাই ২২, ২০২০।
    রাত প্রায় তিনটে চল্লিশ।
    আমার বাসায় এমন দৃশ্য বিরল যে ভোর হবার আগে পরিবারের সব সদস্যরা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। যে রাতের কথা বর্ননা করছি সেটি ছিল ওই বিরলতম রাতগুলোর একটি। সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। আমি শুধু একা জেগে। আমার খুবই অদ্ভুত লাগছিল ব্যাপারটা। “আমি একাই জেগে! আর কেউ কোথাও নেই!” সত্যিই সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে কিনা যাচাই করবার জন্য প্রতিটি ঘরে ঘুরে ঘুরে দেখলাম। নাহ্! কেউই জেগে নেই! সত্যিই আমি একা। ফোনের ফ্ল্যাশ লাইট অন করেও পরীক্ষা করে দেখলাম আসলেই কেউ জেগে আছে কিনা। কেউ না। অন্ধকারে বাসার প্রতিটি ঘরে হেঁটে বেড়াতে দারুণ লাগছিল, নিজেকে কেমন রাজা রাজা মনে হচ্ছিল! কিন্তু শীঘ্রই একটা অপরিচিত অনুভূতি আমাকে ঘিরে ধরতে শুরু করলো। কেমন যেন আশ্চর্য আর অস্বস্তিকর সেটা। ঠিক ভয়ের নয় কিন্তু ভয় পাবার আগে যে মৃদু শিহরণ হয় তেমনি। আমি এই অনুভূতিটিকে মন থেকে মুছে ফেলতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু ক্রমশ সেটা একটু একটু করে শক্তিশালী হতে লাগলো প্রতি মুহূর্তে। আমার মনে হতে লাগলো ঘরের প্রতিটি দূরের কোনগুলো থেকে গাঢ় অন্ধকারের মধ্যে বসে কেউ আমাকে দেখছে। আমার প্রতিটি পদক্ষেপ, আমার প্রতিটি নিশ্বাস, আমার প্রতিটি চমকে উঠতে গিয়ে নিজেকে সামলে নেয়ার প্রচেষ্টা, ধীরে ধীরে ঘনীভূত হয়ে ওঠা আমার ভিতরে ভয়ের উপস্থিতি – এই সব কিছুই সে গভীর, তীব্র মনযোগ দিয়ে লক্ষ্য করছে, উপভোগ করছে, অপেক্ষা করছে কোনো কিছুর জন্য। আমি লক্ষ্য করলাম ভয়ের কালো মেঘ আমার মধ্যে পুঞ্জীভূত হয়ে উঠেছে। ভয় কাটাতে জোরে জোরে হাঁটতে শুরু করলাম। এ ঘর থেকে ও ঘর করে বেড়াচ্ছি। কিন্তু দারুণ তীব্র সেই অশরীরী দৃষ্টি কিছুতেই এড়াতে পারছি না। ক্রমেই মনে হতে লাগলো ওই দৃষ্টির অধিকারী এখন আর ঘরের কোন থেকে নয়, আমাকে দেখেছে অনেক কাছে থেকে। খুব কাছে, ঠিক যেনো ঘাড় ফেরালেই দেখা যাবে, হাত বাড়ালেই স্পর্শ পাওয়া যাবে তার। এই আতঙ্কের অনুভূতি অসহ্য হয়ে উঠলো। ভাবলাম সাহসের ভান করবো। কিছুক্ষণ পরেই ব্যার্থ হলাম। আমি যেনো তার ঘ্রাণ পাচ্ছিলাম, আর খুব মৃদু একটা পদধ্বনি, খুবই হালকা, বোঝা যায় আবার যায় না। মনে হচ্ছিল সে যেন মাটিতে তার পায়ের শুধুমাত্র সামনের অংশটাই স্পর্শ করে। তার পায়ের গোড়ালি মাটি ছোঁয় না। কারণ তার আগেই সে বাতাসে ভেসে ওঠে। অনেকটা যেনো স্প্রিং এর মতো বাতাসে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে সে। আমার সাথে সাথে সেও চলে বেড়াচ্ছে, আমার পাশে পাশে। একবার মনে হল ঠিক আমার কাঁধের উপরেই তার মুখ… সে যেনো অনেকটা ঝুঁকে আছে আমার উপর, আর তীব্র দৃষ্টিতে দেখছে আমার ভয় পাওয়া মুখ, আমার দিশেহারা চোখ… আমি কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলাম। আশা করছিলাম সে নিজেই হয়তো চলে যাবে। কয়েক মিনিট পেরিয়ে যায়, তবু এই ভয়ংকর পরিস্থিতির অবসান হয় না। মনে মনে প্রমাদ গুনলাম… “যা থাকে কপালে”, ভেবে আচমকা ঘুরে দাঁড়ালাম! সাথে সাথে কেউ হঠাৎ করে সরে গেলে তার পোশাক বাতাসের ঝাপটা লেগে যেমনটা শব্দ করবে তেমনি একটা শব্দ আমি শুনতে পেলাম! আর ওই আশ্চর্য গন্ধটা দ্বিগুণ বেড়ে গেলো হঠাৎ… আর আমি যেনো আমার কনুইয়ে একটা মৃদু কিসের আচর অনুভব করলাম। দারুণ ভয় আমাকে গ্রাস করলো। শিউরে উঠলাম আমি। এক মুহূর্তের মধ্যে ঠিক করলাম যে আমার প্রথম কাজ হবে ঘরের আলোটা জ্বালানো। ভুলেই গিয়েছিলাম আমার হাতে ফোনটা তো রয়ে গেছে। অন্ধকারের মধ্যেই সুইচের জন্য হাত বাড়ালাম। এতটাই ভয় পেয়েছিলাম যে সামান্য সুইচ অন করার কাজটাও অসম্ভব বলে মনে হচ্ছিল। তবুও সবটুকু অবশিষ্ট সাহস আর শক্তি সঞ্চয় করে সুইচ স্পর্শ করলাম এবং অন করলাম। টিউবলাইট প্রথম কয়েকবার চেষ্টা করার পর স্থির হয়। এই প্রথম কয়েকবার এটা অনেকটা বিদ্যুৎ চমকানোর মতো অন অফ হতে থাকে। এই আলো, এই অন্ধকার, আবার আলো, আবার গাঢ় অন্ধকার। সেই আলো আঁধারের খেলার মধ্যে আমি সবচেয়ে ভয়ংকর দৃশ্যটি দেখলাম… একটা হাত সুইচ গুলোর উপরে কি যেনো খুঁজে বেড়াচ্ছে! আমি বুঝতে পারলাম সে চাইছে লাইট অফ করে দিতে! কিন্তু সঠিক সুইচটা ঠিক খুঁজে পাচ্ছে না! ওই কয়েক মুহূর্তে আমি যতোটুকু দেখেছিলাম – আমার মনে হয়েছিলো হাতটা একজন ত্রিশোর্ধ মানুষের… আর সেটা একটা মহিলার হাত… আর সে যেন একটা সাদা পোশাক পরে ছিল কিন্তু সাদা কাপড় কিছুটা ময়লা হয়ে গেলে যেমন দেখায়, তেমনটি! কিন্তু আমি তার শরীরের আর কোনো অংশই দেখতে পাইনি। শুধু ওই হাতখানিই। এর মাঝে আমি একবার এক পলকের জন্য বিছানার দিকে তাকালাম… সবাই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন… পরবর্তী কয়েক মুহূর্তের কথা আমার ঠিক মনে নেই। যখন সম্বিত ফিরল তখন আমি আয়াত-আল-ক্বুদসির প্রায় শেষের অংশটা পড়ছি। তার মানে আরও আগেই পড়তে শুরু করেছিলাম। টিউবলাইট এর আলোটা স্থির হয়ে গেছে। সমস্ত ঘর ঝলমল করছে। কোথাও সেই অদ্ভুত, অশরীরী অস্তিত্বের ছিটেফোঁটাটিও নেই। নেই সেই আশ্চর্য ঘ্রাণ। আমি কিছুক্ষণ মাথা নিচু করে একই জায়গায় দাঁড়িয়ে রইলাম। কেমন যেন হাসিও পাচ্ছিল আমার। এবার প্রতিটি ঘরের লাইট অন করে আবারো পরীক্ষা করলাম। সবাই তখনও ঘুমিয়ে। ততক্ষণে প্রায় প্রথম আজানের সময় হয়ে গেছে। উযুর জন্য জলস্পর্শ করার সময় লক্ষ্য করলাম কনুইয়ের কাছে সামান্য জ্বালা করছে আর প্রায় চোখে দেখা যায় না এতটা মৃদু আচরের একটা দাগ।

    4
    3 Comments
Skip to toolbar