Profile Photo

আফরিন ইনায়াত কায়াOffline

  • inayatkaya55
  • #মায়ানগরের_প্রেম
    #পার্ট০২
    #আফরিন_ইনায়াত_কায়া
    .
    ছেলেটার কথায় ইনা প্রচন্ড বিব্রত অনুভব করছে।কি করবে সে এখন?কীভাবে ছাড়া পাবে এই ঝামেলা থেকে।আস্তে আস্তে ছেলেটার কথাগুলো জড়িয়ে আসছে। ধীরে ধীরে জড়িয়ে পরল ইনার কাধে।বুঝতে পারল ছেলেটা জ্ঞান হারিয়েছে।নিজের কাধে ভর দিয়ে ছেলেটাকে নিচে নামাল।তারপর একটা সিএনজি ভাড়া করে রওয়ানা হল বাসার দিকে।
    ছেলেটার মাথা নিজের কাধে রেখে ইনা আনমনে বাইরে তাকিয়ে আছে।হালকা বাতাসে খোলা চুলগুলো উড়ছে।কিছু অবাধ্য চুল উড়ে গিয়ে ছেলেটার মুখের সাথে লেপ্টে যাচ্ছে।ইনার চুলের ঘ্রানে বেহুশ হয়েও মাতাল হয়ে যাচ্ছে সে।ইনার। কাধে হালকা করে নাক ঘষে হাতটা আরও শক্ত করে চেপে ধরল।ইনা ঘাড় ঘুরিয়ে এক পলক দেখে নিল তাকে।ছেলেটার জ্ঞান হারালেও হাতের বাধন টা ঢিলে হয় নি।এমন ভাবে হাতটা ধরে আছে যেন ছেড়ে দিলেই বুঝি সে কোন দিন আর ইনাকে পাবে না।
    ইনা প্রথমে ভেবেছিল ছেলেটা হয়তো অভিনয় করছে।ছলে কৌশলে তাকে পাওয়ার চেস্টা করছে।কিন্তু সবটা ভুল প্রমানিত হল যখন সে পালস রেট চেক করল।স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম।তাই দ্বিতীয় বার ভাবেনি ছেলেটাকে সাথে নিতে।মুহুর্তের মধ্যে সব চিন্তা মাথা থেকে ঝেরে ইনা আবার বাইরে মন নিবেশ করল।
    .
    অটোওয়ালা অটো চালাচ্ছে আর লুকিং গ্লাসে বার বার আড় চোখে ইনাকে দেখছে ব্যাপারটা ইনার নজর এড়ায়নি। ঘাড় ঘুরিয়ে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল
    -অফিস থেকে ফিরতে না ফিরতেই জোড় করে মার্কেটে নিয়ে গেলাম।কেনাকাটা তো হলোই না উলটো উনি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে গেলেন।আসলে বিয়ের পর সব ছেলেরাই পালটে যায়।অফিস আর কাজ ছাড়া যেন কিছুই চিনে না।এই যে মামা আপনিও যে এত রাত অব্দি অটো চালাচ্ছেন।বলি বাসায় কি কেউ নেই নাকি অপেক্ষা করার?
    ইনার কথা শুনে অটোচালক অপ্রস্তুত হয়ে গেল। লজ্জার চোখ নামিয়ে নিল।তারপর কোন রকমে একটা দোষ লুকানো হাসি দিয়ে বলল
    -সবই পেটের দায় আফা।আমি গরীব মানুষ।
    ইনা আর কথা বাড়াল না। হালকা হেসে আবার বাইরের পানে চেয়ে রইল।
    .
    .
    মিনিট দশেক পরেই পৌছে গেল গন্তব্যে। ভাড়া মিটিয়ে বাসায় ঢুকল ইনা।ছেলেটাকে নিয়ে গিয়ে শোয়ালো নিজের বেডের উপর।পুরো বাসায় এই একটাই বেড রুম।হবেই না বা কেন। একলা মানুষের জেগে থাকা রাতের হিসেব থাকে না।
    ছেলেটাকে শুইয়ে দিয়ে বিছানার পাশের টেবিল ল্যাম্পটা জ্বালালো। আলো পরায় ছেলেটাকে এখন সে ভালো ভাবে দেখতে পেল।ছেলেটার চেহারাটা বেশ মায়াবী।যেকোন মেয়ে প্রেমে পরতে বাধ্য।কিন্তু মায়াবী চেহারাটা যেন বিষন্নতায় মাখা।মলিনিতা চেহারার উজ্জ্বলতাকে কমিয়ে দিয়েছে।রাত জাগার কারনে হালকা কালি জমেছে চোখের নিচে।হয়তো বড় কোন কষ্ট প্রতিনিয়ত তাকে কুড়ে কুড়ে খাচ্ছে। হয়তোবা সে বাবা মায়ের বখে যাওয়া সন্তান।সবটাই যেন এখন রহস্যাবৃত। হয়তোবার অধ্যায়টা আপাতত বন্ধ রেখে একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলল সে।কানে ফোনটা রাখতেই ওপাশ থেকে একজন ঘুম জড়ানো কন্ঠে বলে উঠল
    -কিরে ইনা?এতো রাতে কল দিলি যে!কোন সমস্যা হল নাকি?
    -আপু তুমি আসতে পারবে এখন প্লিজ? খুব ইমারজেন্সি।
    চলবে…….

    6
    3 Comments
Skip to toolbar