-
#মায়ানগরের_প্রেম
#পার্ট০৪
#আফরিন_ইনায়াত_কায়া
.
তাহিয়া কিছু না বলে শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চলে গেল।ইনা উঠতে গেলেই হাতে টান পড়ল।ছেলেটা ঠিক এখনো তাকে শক্ত করে ধরে রেখেছে।ইনা তার মাথার কাছে গিয়ে বসল।হালকা হাতে ছেলেটার চুলগুলো হাতাচ্ছে ইনা।অনেক সফট চুলগুলো। তবে যত্নের অভাবে রুক্ষ। অনেকটা ঘোর লাগা চোখে ইনায়াত চেয়ে আছে তার পানে।
.
.
চোখের উপর তীব্র কিছুর অনুভুতি পেয়ে চোখ খুলল ইনা। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে সকাল ৮টা বাজে।জানালা ছাপিয়ে সোনালী রোদ ঘরের ভিতর আলোকিত করছে।মায়ানগরীরে শুরু হচ্ছে যান্ত্রিকতা।আশেপাশে চোখ বুলাতে লাগল ইনায়াত।এত সকাল সকাল কোথায় গেল ছেলেটা?ধ্যান ভাঙল ওয়াশরুমের দরজা খোলার শব্দে। তাকে বের হতে দেখে ইনায়াত বলে উঠল
-আরে আপনি এত সকালে ঘুম থেকে উঠলেন যে।ডাক্তার বলছে আপনার রেস্ট দরকার।আপনি বসুন আমি ব্রেকফাস্ট নিয়ে আসছি।
ছেলেটা ইনার সামনে এসে দাড়াল।
-বাহ। কয়েক ঘন্টার ব্যবধানে আমার ট্রিটমেন্ট ও করে ফেলেছেন দেখছি।
ইনা এবার না হেসে পারল না।।
-আমি কিছু করিনি।আমার প্রতিবেশি তাহিয়া আপু। উনি একজন ডাক্তার। আপনার কন্ডিশন খুব একটা ভাল ছিল না। তাই গতকাল রাতে উনাকে ইনফরম করি।উনি এসে আপনার চেকাপ করেছেন।আপনি অসুস্থ। রেস্ট নিন।আমি আসছি।
বিছানা ছেরে ওয়াশরুমের দিকে পা বাড়াল ইনায়াত।তখনি আবার পেছন থেকে হাতে টান পড়ল।ঘাড় ঘুড়িয়ে পিছনে তাকাল।
-অচেনা একটা মানুষের এতো সেবা যত্ন কেন করছেন?
-অসুস্থ মানুষের সেবা করলে আমার আল্লাহর নির্দেশ।
শুধু এতটুকু বলেই হাতটা ছারিয়ে নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল ইনায়াত।ফ্রেশ হয়ে এসে রান্নাঘরের দিকে পা বাড়াল।কিছুক্ষন পরেই একটা ট্রেতে হালকা নাস্তা আর দুই মগ কফি নিয়ে রুমে আসল সে।ছেলেটা এতক্ষন ইনার ঘরটাকে ঘুরে ঘুরে দেখছিল।ঘরটা খুব সিম্পিল ভাবে সাজানো।কিন্তু দেখে এক প্রকার মুগ্ধতা কাজ করে হালকা সবুজ রঙের দেওয়ালের যেন এক স্নিগ্ধ প্রকৃতির ছোয়া।
.
.
ইনাকে রুমে ঢুকতে দেখে সে সোফায় বসে পড়ল।ইনা টি টেবিলে ট্রেটা রেখে ধোয়া ওঠা কফির মগ এগিয়ে দিল তার পানে।তারপর নিজে থেকেই জিজ্ঞেস করল
-আপনার নামটাই তো জানা হল না।
-অথচ কয়েকঘন্টা আগেও আপনাকে কিনতে চেয়ে যে মানুষটা আপনার হাত ধরেছিল তার সেবাযত্মে আপনি বিন্দু মাত্র ত্রুটি রাখেন নি।
.
কফির মগে কেবল চুমুক দিবে এমন সময় কথাটা শুনে বিষম খেল ইনা।চোখ দুটো সরু করে জিজ্ঞেস করল
-খোটা দিচ্ছেন?
-উহুম। খোটা দিচ্ছিছি না।ভাবলাম আপনি হয়তো আমার অসুস্থতার কথা শুনে বিষয়টা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলেছেন।তাই মনে করিয়ে দিলাম।
– ভুলিনি আমি।কিন্তু এরকম প্রস্তাব দেওয়ার মানে টা কি?
কফির মগটা হাতে নিয়ে ধীর পায়ে জানালার দিকে এগিয়ে গেল ছেলেটা।জানালার দুপাশে সাদা আর নীল রঙের পর্দা ঝুলানো।মৃদু বাতাসে পর্দাগুলো উড়ছে।কফির মগে একবার চুমুক দিয়ে বলল
-তোমাকে আমার চাই।
-আপনার কথা শুনে মনে হচ্ছে আপনিই বরং রাতের কথাগুলো ভুলে গিয়েছেন।আপনার প্রশ্নের উওর আমি আগেও আপনাকে দিয়েছি।i am not for sale.
-তোমাকে কিনতে নয়। নিজের করে নিতে চাই।কর্তৃত্ব নয় অধিকার চাই।
-মানে?
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ছেলেটা বলতে শুরু করল
.
.
-আমি তখন ক্লাস ফোরে পড়ি।বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট হাতে বাসায় ফিরে দেখি মা ব্যাগ গুছাচ্ছেন।মাকে গিয়ে বললাম মা আমরা কোথায় যাচ্ছি?নানু বাড়ি?বল না মা?মা কোন কথা না বলে নিজের মত করে কাপর গুছাচ্ছেন আর কাদছেন।
কিছুক্ষন পর মা বলে উঠল
-আরু নিজের ঘরে গিয়ে কাপড় গুছিয়ে নেও।আমরা আর এ বাড়িতে থাকব না।পিছন থেকে বাবা বলে উঠলেন
-আমার ছেলে কোথাও যাবে না। ওকে আমি তোমার সাথে নিয়ে যেতে দিব না।
-কখনো না। আমি ভুলেও আমার ছেলেকে এই বাড়িতে রেখে যাব না। তোমার সাথে থাকে সেও তোমার মতো….. ছি ভাবতেও ঘৃনা লাগে।
-দেখো স্নিগ্ধা যা হয়েছে ভুলে যাও।আমি তো বলছি ভুল হয়ে গেছে।প্লিজ সব ভুলে যাও।
-চাইলেই সব কিছু ভুলা যায় না। আমি আর এক মুহুর্তও এই বাড়িতে থাকব না।আর আরুও আমার সাথেই যাবে।
কথায় কথায় বাবা মায়ের মধ্যে তুমুল ঝগড়া বেধে গেল।এক পর্যায়ে মা ব্যাগ হাতে নিয়ে কাদতে কাদতে চলে গেলেন।বাবা নিজের ঘরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দিলেন।আমি যেন মূহুর্তের মধ্যে অস্তিত্বহীন হয়ে গেলাম তাদের কাছে।আমার আট বছরের মস্তিষ্ক পুরো ব্যাপারটাকেই একটা সিনেমা হিসেবে দেখছিল।রেজাল্ট শীটটা নিয়ে গিয়ে বিছানায় ম্যাট্রেসের নিচে রেখে দেই। কখনো ভাবি নি জীবনে প্রথম ফার্স্ট হওয়ার বিনিময় বাবা মা আমাকে এরক্কম কিছু উপহার দিবেন।এতটুকু বলেই সে শান্ত হল।একদৃষ্টিতে বাইরের দিকে তাকিয়ে আছে সে।
.
.
-তারপর কি হল?জিজ্ঞেস করে ওঠে ইনা।
.
.
সন্ধ্যায় ইরিন আন্টি এসে আমাকে ঘুম থেকে তুললেন।আমাদের বাসায় কাজ করতেন উনি। হাত মুখ ধুয়ে আমাকে খাবার খাইয়ে দিলেন।রাতে বাবার কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম
-বাবা মামনি কোথায় চলে গেল?কবে আসবে আবার?
বাবা কোন কথা বলেন না। শুধু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে আমার মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন
-আরদ্ধ রাত অনেক হয়েছে ঘুমিয়ে পর।
দিন নিজের মত গড়াতে লাগল।বেশ কয়দিন কেটে গেল।নতুন ক্লাস্র উঠলাম। একদিন স্কুল থেকে ফিরে সোফায় বসে টিভি দেখছি।বাবা কোথা থেকে যেন উদ্ভ্রান্তের মত এসে নিজের রুমে ঢুকে দরজা লাগায় দিলেন।
বাবার এরকম ব্যবহারে আমি ভয় পেয়ে যাই। ইরিন আন্টিকে জড়িয়ে ধরে কাদতে থাকি।বারবার জিজ্ঞেস করতে থাকি আমার আম্মু কোথায়?আম্মু কেন আমাকে দেখতে আসেন না।ইরিন। আন্টি আমার চোখ মুখ মুছে দিলেন।তারপর যেটা বললেন সেটা শুনে আমার পুরো দুনিয়াটা থমকে গেল।
.
.
ইনা উতকন্ঠা নিয়ে জিজ্ঞেস করল
-কি বলেছিলেন উনি?
-আমার বাবা…..
চলবে5 Comments
Friends
Tariqul Sazzib
@tariqulsazzib
Kabi Doctor Mohammad Zakir Hossain Biplob
@zakir-hossain
অরন্য হিল্লোল
@oronnyohillol
নাজমুল হক জুয়েল
@nazmulhoqjewel
Dr. Shaheen Mahmud
@shaheen
Suhas Barnabash Gomes
@barnabash
তানভীর তীব্র
@tanvir3
Drako Shajib
@drako
Emotionless Rima
@emotionless-rima


মায়ানগরের পঠে পথে ছড়িয়ে আছে অজশ্র প্রেম আর কাঁটা।