Profile Photo

আফরিন ইনায়াত কায়াOffline

  • inayatkaya55
  • #মায়ানগরের_প্রেম
    #পার্ট০৫
    #আফরিন_ইনায়াত_কায়া
    .
    .
    বাবার এরকম ব্যবহারে আমি ভয় পেয়ে যাই। ইরিন আন্টিকে জড়িয়ে ধরে কাদতে থাকি।বারবার জিজ্ঞেস করতে থাকি আমার আম্মু কোথায়?আম্মু কেন আমাকে দেখতে আসেন না।ইরিন। আন্টি আমার চোখ মুখ মুছে দিলেন।তারপর যেটা বললেন সেটা শুনে আমার পুরো দুনিয়াটা থমকে গেল।
    .
    .
    ইনা উতকন্ঠা নিয়ে জিজ্ঞেস করল
    -কি বলেছিলেন উনি?
    -আমার বাবা পরকীয়ায় লিপ্ত ছিলেন।(নির্লিপ্তভাবে উত্তর দিল)।
    .
    .
    তার অফিসের সুন্দরী সেক্রেটারির প্রতি দূর্বল হয়ে পরেছিলেন।যদিও বাবা মায়ের বিয়েটা লাভ ম্যারেজ ছিল।ব্যাপারটা মায়ের কানে যাওয়ার পর মা মেনে নিতে পারেন নি।সিদ্ধান্ত নেন ডিভোর্সের।বাবা অনেক চেস্টা করেছিলেন মাকে ফেরানোর।কিন্তু মা তার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন।তার ধারনা যে একবার বিশ্বাস ভাঙতে পারে দ্বিতীয় বার সেটা করা তার কাছে কঠিন কিছুই না।মা আমার কাস্টাডি নেওয়ার চেস্টা করেছিলেন। কিন্তু বাবার টাকা আর ক্ষমতার কাছে হেরে যান।বাবা ভেবেছিলেন আমাকে রেখে দিলে মা তার কাছে ফিরে আসবেন।কিন্তু বাবার ধারনাকে ভুল প্রমান করে ডিভোর্সের এক সপ্তাহের মাথায় আমার জন্মদাত্রী মা বিদেশে পাড়ি জমান। আমার কথা ভুলেও তার মনে পরে নি। তবে বাবা মায়ের চিন্তার বাস্তবায়ন করে দুই মাস পর নিজের নতুন জীবনসঙ্গিনীকে বিয়ে করে আনেন।নতুন মা আমাকে কখনো আদর করেন নি।তবে কখনো দুর্ব্যবহার ও করেন নি।তারও একটা বিশেষ কারন ছিল।ডিভোর্সের সময় বাবা তার সমস্ত প্রোপার্টি আমার নামে করে দেন।যাতে আল্যুমনিতে মায়ের কাছে কিছু খোয়াতে না হয়। উইল মোতাবেক বাবার দ্বিতীয় সন্তান হলে অর্ধেক সম্পত্তি তার নামে আমাকে ট্রান্সফার করে দিতে হবে।সেই থেকে শুরু হল নতুন অধ্যায়।
    .
    .
    সময় কাটতে লাগল।সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়তে লাগল বাবার অবহেলা আর উদাসীনতা। আমি খেয়েছি কিনা ঘুমিয়েছি কি না সেটা দেখার অবসর তার কখনোই হয় নি।কখনো কেউ রাতের বেলা আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় নি।আমি অসুস্থ হলে কেউ রাত জেগে সেবা করে নি।সব কিছু থেকেও আমার কাছে কিছুই ছিল না।
    .
    কথাগুলো বলার সময় গলাটা ধরে আসছিল ছেলেটার।নিজেকে সামাল দিয়ে আবার বলতে লাগল
    .
    .
    -আমার বিশ বছর বয়সে বাবা পরপারে পাড়ি জমালেন। নতুন মা হাতে দলিল ধরিয়ে সাইন করার জায়গাটা দেখিয়ে দিলেন।তার কয়েকদিন পরেই উনি উনার ছেলেকে নিয়ে আমেরিকায় সেটেল হয়ে গেলেন।আমি আবার এতিম হয়ে গেলাম।আমার শৈশব আমার অতীত আবার আমার সামনে ফিরে আসল।তবে ততদিনে আমি নিজেকে সামলে নিয়েছি।একা থাকতে শিখে গেছি।অন্ধকার রাত আমাকে আর ভাবায় না।নিসঙ্গতা আমাকে আর পোড়ায় না।সব সময় চেস্টা করি নিজেকে ব্যস্ত রাখার। কিন্তু দিনশেষে একটা শূন্যতা থেকেই যায়।খুব করে ইচ্ছে হয় কেউ একজন আমার জীবনে আসুক। আমাকে ভালোবাসুক।আগলে রাখুক।গুছিয়ে দিক আমার অগোছালো জিবনটাকে।
    .
    .
    এতটুকু বলেই সে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলল।ইনা যেন থমকে আছে।মানুষ বড়ই বিচিত্র।বুকে হাজার কষ্ট লুকিয়ে ঠোটে হাসি রাখার অভিনয়টা সে কখনোই কারো কাছে শিখে না।পরিস্থিতি শিখিয়ে দেয়।তবে ইনার প্রশ্নটা এখনো রয়েই গেছে।
    .
    .
    -কিন্তু এতকিছুর মাঝে আপনি আমাকে বেছে নিলেন কেন?
    .
    .
    কফির মগটাতে চুমুক দিল সে।ঠোটে হাল্কা হাসির রেখা ফুটিয়ে বলতে লাগল
    -অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে সেদিন জ্যামের কারনে অন্য রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাত চোখ গেল রাস্তার পাশের এক ফার্মেসীর দোকানে।একটা মেয়ে বেবি ডায়পার,বেবি ফুড আর কিছু মেডিসিন নিয়ে পতিতাপল্লিতে গিয়ে ঢুকল।ব্যাপারটা একটু খটকা লাগল আমার।সেই গলিতে সন্তান জন্ম দিতে গিয়েই কত কাঠ খড় পোড়াতে হয় সেখানে এক্সপেন্সিভ বেবি ফুড ডায়পার। ব্যাপারটা হজম করা কষ্ট হচ্ছিল।তবে সেদিন খুব একটা আমলে নেই নি ব্যাপারটা। মাথা থেকে কথাটা ঝেড়ে ফেলার আগেই আবার সেই দৃশ্য দেখতে গেলাম।অন্য আরেকদিন সেই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আবার তাকে দেখতে পেলাম।ব্যাপারটা এড়িয়ে যাওয়া তখন কষ্টকর হচ্ছিল।কৌতূহল দমাতে না পেরে একরাতে মেয়েটার পিছু নিলাম।রাতের মায়ায় হঠাত সে পতিতাপল্লিতে হারিয়ে গেল।আমি ভিতরে ঢুকতে যাব এমন সময় একজন দালাল টাইপের লোক এসে বলল….
    চলবে

    8
    6 Comments
Skip to toolbar