Profile Photo

আফরিন ইনায়াত কায়াOffline

  • inayatkaya55
  • #মায়ানগরের_প্রেম
    #পার্ট০৭
    #আফরিন_ইনায়াত_কায়া
    .
    .
    -প্রশ্নটা ঘুরে ফিরে সেখানেই এসে দাঁড়ায় মি. আরদ্ধ। এত মেয়ে থাকতে আমিই কেন?আপনি ভদ্র,শিক্ষিত,রিচ,ড্যাশিং। যেকোন মেয়ে আপনার জন্যে পাগল হতে দ্বিতীয় বার ভাববে না।
    -তার মানে আপনিও আমার জন্যে পাগল হবেন?ঠোটে বাকা হাসি ঝুলিয়ে জিজ্ঞেস করল আরদ্ধ|
    -জ্বি না।আমি অন্যদের মত না।
    -আপনার প্রশ্নের উত্তরতা আপনি নিজেই দিয়ে দিলেন মিস ইনা।
    আরদ্ধের ঠোটে বাকা হাসিটা এখনো ঝুলে আছে।স্তব্ধ হয়ে আছে ইনা।আরদ্ধের কথার জালে আটকে যাচ্ছে সে।পারছে না সে কোনভাবে আরদ্ধকে ঠেকাতে।হঠাত করে আরদ্ধ ইনার সামনে হাটু গেড়ে বসল।ইনার একটা হাত নিজের দুই হাতের মুঠোয় নিয়ে বলল
    .
    .
    -মেয়েরা পাগল তবে আমার জন্যে না।তারা আমার পিছনে ছোটে কিন্তু শুধুমাত্র আমার টাকার জন্যে।আমার নামের জন্যে।কিন্তু আপনি পরিচয়হীন একটা ছেলেকে ঘরে তুলে এনেছেন।ইনায়াত আমি চাই আপনি আমাকে ভালবাসেন।আমার লাইফটাকে গুছিয়ে দিন।আমার আর কিছুই চাই না ইনায়াত শুধু আপনার একটু ভালবাসা চাই।
    .
    .
    আরদ্ধের মুখে ভালবাসার কথা শুনে ইনার বুকটা হাহাকার করে উঠল।সে তো নিজেও ভালবাসার কাঙাল।সেও তো তৃষ্ণার্ত।সামান্য একটু ভালবাসা পাবার আশায় তার হৃদয় মরুভূমিও খা কজা করে আছে।কিন্তু এখন যে বড্ড দেরী হয়ে গেছে।সে পারবে না আরদ্ধের সাথে নিজেকে জড়াতে।পারবে না তাকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে
    .
    .
    আরদ্ধের হাত থেকে নিজের হাতটা ছাড়িয়ে নিল ইনা।
    -দেখুন আরদ্ধ। জোর করে ভালবাসা হয় না।
    -আমি জানি ইনায়াত।কিন্তু তুমি অন্য কাউকে ভালবাস না।চাইলেই পারবে তুমি আমাকে অনুভব করতে।আমার ভালোবাসা তোমাকে বাধ্য করবে আমাকে ভালবাসতে।
    .
    .
    ইনা বেশ বুঝতে পারছে সে আরদ্ধের সাথে পেরে উঠবে না।যে বুঝতে চায়না তাকে শত চেস্টাতেও বুঝাতে পারবে না।তাছাড়া ইনার মনেও কোথাও না কোথাও আরদ্ধের নামটা অজান্তেও গেথে গেছে।দুচোখে পানি চিক চিক করছে।
    -আমার দুই দিন সময় চাই আরদ্ধ।i need time.
    .
    .
    ইনার কথা শুনে আরদ্ধের চোখে মুখে খুশির আভা ফুটে উঠল।
    -ok then.আজ আমি আসি।দুই দিন পর আসব তোমার জবাব শুনতে আসব।
    বলে উঠে চলে গেল আরদ্ধ।দরজার কাছে গিয়ে থেমে গেল সে।ঘাড় ঘুড়িয়ে বলল
    .
    .
    -তোমার যতটা সময় লাগে তুমি নিতে পার।কিন্তু উত্তরটা আমি হ্যা অথবা অবশ্যই হ্যা চাই।
    এতটুকু বলেই আরদ্ধ হনহন করে বের হয়ে গেল।
    .
    ইনা চুপচাপ বসে আছে।সে চাইলেও আরদ্ধকে তার কাঙখিত উত্তর দিতে পারবে না।সে যে বড্ড অসহায়।নিয়তি যেন আজ তাকে যেন সব দিয়েও কেড়ে নিল।
    আলমারি খুলে কাপা হাতে ফাইলটা নিল।ফাইলটা খুলতেই চোখ বেয়ে শ্রাবনের বারিধারা নামতে লাগল।কেন সবসময় এমনটাই হয় তার সাথে? খুশি যেন তার ভাগ্যে এক বিরল ঘটনা।
    .
    .
    **********
    ইনায়াতের বাসা থেকে সোজা অফিসে এসেছে আরদ্ধ।অনেক ফ্রেশ লাগছে তাকে।অফিসের সব কাজ আজ তার সময়েই আগে শেষ হয়ে যাচ্ছে।সময় যেন আর কাটতেই চাচ্ছে না।দুইদিন তার কাছে দুই মাসের মত মনে হচ্ছে।ভাবতেই ভাললাগছে কেউ একজন তার ঘরে থাকবে।তার সবকিছুতেই তার অধিকার থাকবে।তার ঘর,সব জিনিশ গুছিয়ে রাখবে।সে সারাদিনের ক্লানি শেষে অফিস থেকে ফিরে আসলে শাড়ির আচলে ঘাম মুছে দিবে।মাঝরাতে খারাপ স্বপ্ন দেখে আতকে উঠলে কেউ একজন তাকে শক্ত করে বুকের মাঝে জড়িয়ে নিবে।ভাবতেই ঠোটের কোনে হাসি ফুটে উঠল।আরদ্ধ বুঝতে পারছে সে ইনায়াতের প্রেমে পরে যাচ্ছে।যেন তেন না। এ এক ভালবাসার গভীর অনুভুতি। কিন্তু ইনা যদি না করে দেয়?কি করবে তখন সে?না ইনা না করবে না।কি যা তা ভাবছে।ইনা তার শুধুই তার।নিজেই নিজেকে শান্তনা দিচ্ছে আরদ্ধ।
    .
    .
    .
    সময় বহমান।কথায় বলে অপেক্ষার প্রহর দীর্ঘ হয়।দুটো দিন যেন কেটেও কাটছে।মাঝে মাঝে নিজেকে রাগ দেখাচ্ছে। কি দরকার ছিল ইনায়াতকে টাইমটা দেওয়ার তাহলে আজকে এই অপেক্ষা টা করতে হত না।
    উহু এই অপেক্ষাটা করছে বলেই ইনায়াতের প্রতি তার ভালবাসা গাঢ় হচ্ছে।দুই দিনের সাধনায় সে ইনায়াতকে সারাজীবনের জন্যে নিজের করে পাবে।আই লাভ ইউ ইনায়াত। রিয়েলি লাভ ইউ এ লট।
    নিজের মনে কথাগুলো আরদ্ধ ভাবছে আর হাসছে। বাড়ির কাজের লোকগুলোও আরদ্ধের ব্যবহার দেখে অবাক। যে আরদ্ধ সারাদিন মুখ গোমরা করে থাকত,কাজে একটু ভুল হলেই চিল্লিয়ে বাড়ি মাথায় তুলতো অথচ সেই আরদ্ধ কিনা এখন হেসে খেলে গুনগুনিয়ে বেরাচ্ছে।
    .
    .
    সকাল সকাল ঘুম ভেঙে যায় আরদ্ধের।আজকে সে ইনায়াতকে আনতে যাবে।রাতপরীকে নিজের করে নিবে।ফ্রেশ হয়ে নিচে নেমে আসল আরদ্ধ।ডার্ক ব্লু জিন্স,অফ হোয়াইট শার্ট, তার উপর চকলেট কালারের জ্যাকেট,হাতে গোল্ডেন চেনের ঘড়ি। সব মিলিয়ে পুরাই হিরো। ইনায়াত তাকে দেখে আজ চোখ ফিরাতে পারবে না।নাস্তা সেড়ে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পরল আরদ্ধ।
    চলবে

    6
    4 Comments
Skip to toolbar